প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আগামীতে আরও দৃঢ় করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। গতকাল রবিবার (৯ জুন) সন্ধ্যায় মোদি সরকারের মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের পর দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একান্ত বৈঠকে এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
সোমবার (১০ জুন) সকালে দিল্লিতে সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘দুই নেতা আশা প্রকাশ করেছেন, বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আগামী দিনগুলোতে আরও গভীর হবে।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অত্যন্ত উষ্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্য নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানান।
হাছান মাহমুদ বলেন, শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদির দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পরে দুই প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি ভবনে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু আয়োজিত ভোজসভায় যোগ দেন।
হাছান মাহমুদ বলেন, ভারতের সিনিয়র মন্ত্রী, বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল, আমন্ত্রিত সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা নৈশভোজে অংশ নেন। সেখানে তারা সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাদের মধ্যে কুশল বিনিময় হয়।
নরেন্দ্র মোদি ১০ বছর ধরে তার রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন এবং শেখ হাসিনাও ইতোমধ্যে ১৫ বছর ধরে তার সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন। এখন একে অপরের কাছ থেকে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি সম্পর্কে এক প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বহুমুখী সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে অনেক বিষয় জড়িত। যেহেতু উভয় সরকার দেশ পরিচালনায় অব্যাহত রয়েছে, সেহেতু একসঙ্গে কাজ করার কিছু সুবিধা আছে।’
ব্রিফিংয়ের সময় অন্যান্যের মধ্যে ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. মুস্তাফিজুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব নাঈমুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।
পর্যটন খাতে শ্রীলঙ্কার বিনিয়োগ চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
এদিকে সোমবার সকালে নয়াদিল্লিতে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের পর্যটন খাতে শ্রীলঙ্কার বিনিয়োগ চেয়েছেন।
বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে জানান, ‘পর্যটন খাতে এগিয়ে থাকা শ্রীলঙ্কার বিনিয়োগ বাংলাদেশের পর্যটন খাতে কীভাবে আসতে পারে তা নিয়ে দুই নেতা আলাপ-আলোচনা করেন।’
তিনি বলেন, ‘দুই নেতা কৃষি এবং সমুদ্রে জাহাজ চলাচল সম্পর্কিত পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বৈঠকটি মূলত সৌজন্য সাক্ষাৎ হলেও দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।’
শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট তার দেশের সংকটময় মুহূর্তে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। শেখ হাসিনা শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
জবাবে বিক্রমাসিংহে বলেন, বাংলাদেশ সফরের ব্যাপারে তার আকাঙ্ক্ষা আছে, তবে সামনে তার দেশে নির্বাচন।
পররাষ্ট্রসচিব (সিনিয়র) মাসুদ বিন মোমেন এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব নাঈমুল ইসলাম খান ব্রিফিংয়ের সময় উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ জয়শঙ্করের
ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্কর সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার হোটেল কক্ষে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
বৈঠকের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জয়শঙ্কর বন্ধুপ্রতিম দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।’ তিনি বলেন, তারা আগামী দিনে এ সম্পর্ককে আরও উন্নীত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারতের মন্ত্রী হওয়ার জন্য জয়শঙ্করকে অভিনন্দন জানান এবং তাকে ঢাকা সফরের আমন্ত্রণ জানান।
জয়শঙ্কর বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
ব্রিফিংকালে সিনিয়র পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব নাঈমুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।
শেখ হাসিনার সঙ্গে সোনিয়া, রাহুল, প্রিয়াঙ্কার সাক্ষাৎ
এদিকে নয়াদিল্লিতে আইটিসি মৌর্য হোটেলে সোমবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন কংগ্রেসের সংসদীয় দলের চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী, কংগ্রেসের সাবেক প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধী এবং দলটির সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। এ সময় এক আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হয়। সূত্র: বাসস, হিন্দুস্তান টাইমস