ঢাকা ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
খাদ্যে ভেজাল নিয়ে সংসদে এমপিদের অসন্তোষ, খাদ্য প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাস আহসান হাবীব: কবিতায় নিবিড়, গভীর অর্থায়নের সূচনা অধ্যায়ের ২০টি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বিমা ১ম পত্র ব্র্যাক ব্যাংকের ৫০ হাজার কোটি টাকার রিটেইল ডিপোজিট মাইলফলক শিশুশিক্ষায় প্রয়োজন জলবায়ু সহনশীল শিক্ষাব্যবস্থা মালা নয়, হাতে উঠল হাতকড়া শিক্ষার্থীদের সফট স্কিল বাড়াতে প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালুর উদ্যোগ ইউজিসির টানা বৃষ্টিতে কেরানীহাট-বান্দরবান মহাসড়ক পানির নিচে সীতাকুণ্ডে শিশু ইরা হত্যা: পাঁচ মাস পর বাবু শেখের মৃত্যুদণ্ড রক্ত পরীক্ষায় ভয় নয় দেশজুড়ে ফ্লেক্সিবল ডেলিভারি অপশন নিয়ে এলো পাঠাও পার্সেল সিলেট সীমান্তে বিএসএফের অবৈধ পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ, সতর্ক বিজিবি দুর্গত মানুষের নিরাপত্তা ও ত্রাণ সহায়তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি: ত্রাণমন্ত্রী মুখ দেখালেই বোর্ডিং পাস আইস্ক্রিনে ফুটবলের সেরা দুই সিনেমা ‘দামাল’ ও ‘জাগো’ রাজবাড়ীতে কোরআন পোড়ানোর অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার শেরপুরে বাসচাপায় নিহত ১, আটক ২ উর্মি খানের নতুন গান ‘ভাবনার মিছিল’ দেশের বাজারে ভিভোর নতুন স্মার্টফোন বাবার মামলায় ছেলের জেল, হাজতেই আত্মহত্যা মাদক ও বিচারহীনতার বিষবৃক্ষ সন্দ্বীপে টর্নেডোয় ব্যাপক ক্ষতি বিশ্ব পরিবেশ দিবসে টেকসই ভবিষ্যতের ছয় দিকনির্দেশনা নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে আমদানি সহজীকরণসহ বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার রাজনীতির পালাবদলে বদলে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ চুয়েট সাংবাদিক সমিতির নেতৃত্বে গালিব ও ফাইয়াজ খবরের কাগজের সংবাদের পর মেট্রোরেল স্টেশনে উচ্ছেদ অভিযান চালায় ডিএমটিসিএল ‘বাঘে ধরলে ছাড়ে, কিন্তু আমি ধরলে ছাড়ি না’ সাংবাদিকদের বিএনপি নেতার হুমকি হাতিয়ায় জোয়ার-বৃষ্টিতে জনদুর্ভোগ, ৫ হাজার পরিবার পেল খাদ্যসহায়তা প্রবল স্রোতে বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ, দুর্ভোগে হাতিয়ার লক্ষাধিক মানুষ

ওমানে বাংলাদেশি শ্রমিকরা দুদেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৪, ০৯:৫৯ পিএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৪, ১০:০৪ পিএম
ওমানে বাংলাদেশি শ্রমিকরা দুদেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে: প্রধানমন্ত্রী
ওমানের রাষ্ট্রদূত আবদুল গাফফার বিন আবদুল করিম আল-বুলুশি শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে সাক্ষাৎ করেন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওমানে বাংলাদেশি শ্রমিকদের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেছেন, ‘তারা উভয় দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখছে। উভয় দেশের অর্থনীতিই এই শ্রমশক্তির দ্বারা উপকৃত হচ্ছে।’

বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) ওমানের রাষ্ট্রদূত আবদুল গাফফার বিন আবদুল করিম আল-বুলুশি শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশিদের ওপর ভিসা ইস্যুতে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আল-বুলুশি বলেন, ‘প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশি জনশক্তি আমাদের শ্রমবাজারে কাজ করছে। আমরা শ্রমের চাহিদা পূরণের জন্য পর্যায়ক্রমে শ্রমবাজার পর্যালোচনা করি। সেই পর্যালোচনার ভিত্তিতে কখনো কখনো আমরা দেশগুলোতে স্থগিতাদেশ দিয়ে থাকি। বিধিনিষেধের উপায় দেখে মনে হচ্ছে, বাংলাদেশের ওপর ব্যাপক ভিসা নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। আসলে কিন্তু তেমন নয়। জনশক্তি ভিসা ছাড়া বাকি সব ভিসা যেমন ফ্যামিলি ও ট্যুরিস্ট ভিসা খোলা আছে। বাংলাদেশিদের জন্য ওমানের ১০টি ক্যাটাগরির ভিসা এখন উন্মুক্ত।’ 

সার আমদানির বিষয়ে রাষ্ট্রদূত জানান, তার সরকার ব্যবস্থাটি জি-টু-জি ভিত্তিতে করার প্রস্তাব করেছেন। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার প্রস্তাবটি খতিয়ে দেখবে।’

এই প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তার সরকারের কাছে একটি অনুরোধপত্র পাঠানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, এতে তিনি বাংলাদেশের পক্ষে তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে সক্ষম হবেন। এ সময় অ্যাম্বাসেডর এট লার্জ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ ও স্পেনের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধির প্রত্যাশা প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পারস্পরিক সুবিধার জন্য বাংলাদেশ ও স্পেনের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ ও স্পেনের মধ্যে ব্যবসা বাড়াতে চাই।’

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৃহস্পতিবার তার সরকারি বাসভবন গণভবনে স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল মারিয়া সিস্তিয়াগা ওচোয়া ডি চিনচেত্রু সৌজন্য সাক্ষাতে এলে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে স্প্যানিশ বিনিয়োগকারীদের সেখানে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে স্পেনের সমর্থন চান।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব নাইমুল ইসলাম খান বলেন, বৈঠকে জানানো হয় যে, দুই দেশের মধ্যে অংশীদারত্ব চুক্তির জন্য আলোচনা হবে, যা আগামী সেপ্টেম্বরে শুরু হবে। স্পেনে বর্তমানে প্রায় ৬০ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করে। প্রধানমন্ত্রী স্পেনের প্রতি বিশেষ করে আইটি খাত থেকে আরও বেশি বাংলাদেশি নেওয়ার আহ্বান জানান।

স্পেনের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বর্তমানে তার দেশ বাংলাদেশ থেকে শুধু তৈরি পোশাক (আরএমজি) আমদানি করে এবং বাংলাদেশের সিমেন্ট খাতে স্পেনের বিনিয়োগ রয়েছে। তিনি চলতি অর্থবছরের জন্য বাংলাদেশের বাজেটের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, সরকার শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীকে গুরুত্ব দিয়েছে।’

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীতে আপনার বর্ধিত আগ্রহ ও বরাদ্দ আমাদের দেশের সঙ্গেও মিলেছে।’ 

রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে তাকে স্পেন সফরের আমন্ত্রণ জানানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্পেনের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। বাসস

দুর্গত মানুষের নিরাপত্তা ও ত্রাণ সহায়তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি: ত্রাণমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম
দুর্গত মানুষের নিরাপত্তা ও ত্রাণ সহায়তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি: ত্রাণমন্ত্রী
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। ছবি: ছবি: সংগৃহীত

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম ও পার্বত্যাঞ্চলে সৃষ্ট দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের নিরাপত্তা ও ত্রাণ সহায়তাকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে পাহাড়ের ঢালে ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসন করে তাদের জন্য সরকারি উদ্যোগে বাড়ি নির্মাণ করা হবে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে মন্ত্রী জানান, পাহাড়ধস ও বন্যায় এখন পর্যন্ত কক্সবাজারে ১৯ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন, বান্দরবানে ৫ জন এবং রাঙ্গামাটিতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্গত এলাকায় চট্টগ্রামে ৪১টি, কক্সবাজারে ৬৪০টি, রাঙ্গামাটিতে ২১টি, খাগড়াছড়িতে ১৩৫টি এবং বান্দরবানে ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেখানে আশ্রিতদের জন্য বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন, শিশু খাদ্য ও তিনবেলা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি জানান, প্রথম দফায় পাঁচ জেলায় ১০ লাখ টাকা করে জিআর (নগদ) ও ২০০ মেট্রিক টন করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরে চট্টগ্রামে ২৫ লাখ, কক্সবাজারে ২০ লাখ এবং রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে ১০ লাখ টাকা করে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি চট্টগ্রামে ৩০০, কক্সবাজারে ২৫০ এবং বাকি তিন জেলায় ২০০ মেট্রিক টন করে চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকেও প্রতিটি দুর্গত জেলায় ২০ লাখ টাকা করে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

ত্রাণমন্ত্রী বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হচ্ছে। পাহাড়ধসে বারবার প্রাণহানি রোধে খাসজমি ও অন্যান্য সরকারি জমিতে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর জন্য ঘর নির্মাণ করবে সরকার।

এ কাজে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, সম্মিলিত উদ্যোগে ভবিষ্যতে পাহাড়ধসে প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।

এলিস/এএফ

নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে আমদানি সহজীকরণসহ বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম
নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে আমদানি সহজীকরণসহ বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর। ছবি: সংগৃহীত

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সরকার আমদানি সহজীকরণ, শুল্ক-কর যৌক্তিকীকরণ, বাজার তদারকি ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা জোরদারসহ বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল, পেঁয়াজ, আটা ও চালসহ গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী আমদানি সহজীকরণ, বিকল্প উৎস অনুসন্ধান এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে শুল্ক ও করহার সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, নিত্যপণ্যের উৎপাদন, আমদানি, মজুদ, সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সংস্থা ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

কৃত্রিম সংকট, মজুতদারি ও অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি রোধে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্য আয়ের মানুষের জন্য টিসিবির মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপণ্য বিক্রি চলমান রয়েছে।

সংসদে অপর এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিশ্বের ২০২টি গন্তব্যে বাংলাদেশের ৮১২টি পণ্য (চার ডিজিট এইচএস কোড) রপ্তানি হয়েছে। প্রধান রপ্তানি পণ্য থেকে আয় হয়েছে ৪৪ হাজার ১৬৭ দশমিক ৮৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা মোট রপ্তানি আয়ের ৯১ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

উল্লেখযোগ্য রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে ওভেন পোশাক, নিটওয়্যার, হোম টেক্সটাইল, হিমায়িত ও জীবন্ত মাছ, কৃষিজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত দ্রব্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাদুকা এবং প্রকৌশল পণ্য।

এদিকে চা খাত নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধির কারণে রপ্তানি কমেছে। ২০২৫ সালে ৯৪ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদিত হয়; দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে ১ দশমিক ৬৪ মিলিয়ন কেজি রপ্তানি এবং মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য ৫ মিলিয়ন কেজি চা আমদানি করা হয়েছে। উৎপাদন বৃদ্ধিতে ভর্তুকিতে সার, ক্ষুদ্র চাষিদের প্রশিক্ষণ এবং টাস্কফোর্স গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এলিস/এএফ

খবরের কাগজের সংবাদের পর মেট্রোরেল স্টেশনে উচ্ছেদ অভিযান চালায় ডিএমটিসিএল

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৮ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম
খবরের কাগজের সংবাদের পর মেট্রোরেল স্টেশনে উচ্ছেদ অভিযান চালায় ডিএমটিসিএল
ছবি: খবরের কাগজ

‘দৈনিক খবরের কাগজ’ এ প্রকাশিত সংবাদের পর রাজধানীর মেট্রোরেল স্টেশন ও সংলগ্ন এলাকায় অবৈধ দখল-ভাসমান দোকানের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উত্তরা উত্তর থেকে পল্লবী মেট্রোরেল স্টেশন পর্যন্ত চারটি স্টেশন এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।

ডিএমটিসিএলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে এমআরটি পুলিশ, তুরাগ থানা পুলিশ এবং আনসার সদস্যরা সহযোগিতা করেন।

এর আগে গত ৮ জুলাই দৈনিক খবরের কাগজ-এ ‘স্বপ্নের মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে এখন হাটবাজার’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়, মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে নিয়মিত হাটবাজার ও ভাসমান দোকান বসায় যাত্রীদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে যানজট এড়িয়ে দ্রুত যাতায়াতের জন্য মেট্রোরেলের ওপর নির্ভরশীল যাত্রীরা এ পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

ডিএমটিসিএল জানিয়েছে, অভিযানে ২০ থেকে ২৫টি অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দোকানদার ও স্থানীয়দের মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয় এবং ফুটপাত দখলমুক্ত রেখে মেট্রোরেলের যাত্রীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে সচেতন করা হয়।

অভিযান চলাকালে স্টেশনসংলগ্ন এলাকার অবৈধ দখল, ভাসমান দোকান ও অননুমোদিত স্থাপনা অপসারণ করা হয়। ডিএমটিসিএলের দাবি, অভিযানের ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলো দখলমুক্ত হয়েছে এবং যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় চলাচলের পরিবেশ নিশ্চিত হয়েছে।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, মেট্রোরেল স্টেশন ও এর আশপাশের এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অবৈধ দখল প্রতিরোধে এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে।

রাজু/এএফ

৫ বছরে ১ কোটি দক্ষ কর্মী বিদেশে পাঠাবে সরকার

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম
৫ বছরে ১ কোটি দক্ষ কর্মী বিদেশে পাঠাবে সরকার
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

আগামী পাঁচ বছরে বিদেশে ১ কোটি দক্ষ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ তথ্য জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণে থাইল্যান্ড, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াসহ এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জনশক্তি রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, সরকারের ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বর্তমানে ১০৪টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) ও ৬টি ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজিসহ ১১০টি প্রতিষ্ঠানে ৫৫টি স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ভাষা দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগও জোরদার করা হয়েছে।

তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে বিকল্প শ্রমবাজারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। থাইল্যান্ডের সঙ্গে কর্মী নিয়োগ চুক্তির খসড়া পাঠানো হয়েছে।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং নর্থ মেসিডোনিয়া, সার্বিয়া, মরিশাস ও পর্তুগালসহ ইউরোপের নতুন বাজারে দক্ষ কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ চলছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় মৌসুমি কর্মী পাঠাতে ছয়টি সমঝোতা স্মারক সইয়ের কার্যক্রমও এগিয়ে যাচ্ছে।

অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে ডিজিটাল ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্ম (ওইইপি) চালু, দালাল ও সাব-এজেন্টদের আইনি কাঠামোর আওতায় আনা এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ে অভিবাসন সমন্বয় কমিটি গঠনের কথাও জানান মন্ত্রী।

সংসদে অপর এক প্রশ্নের জবাবে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এ পর্যন্ত ১২ জন বাংলাদেশি মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ৯ জনের মরদেহ দেশে আনা হয়েছে এবং নিহতদের পরিবারকে দাফন ও বিশেষ অনুদান দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ইরান থেকে ১২ জন নারী ও ৮ শিশুসহ মোট ১৮৬ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

এলিস/এএফ

সবুজ ও জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৬ পিএম
সবুজ ও জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

সব সৃষ্টি থেকে উপকার ভোগ করতে হলে, মানুষ হিসেবে আমাদের অবশ্যই কিছু দায়িত্ব এবং কর্তব্য রয়েছে। যথানিয়মে সব সৃষ্টির যত্ন এবং পরিচর্যা করা মানব সমাজের দায়িত্ব। একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন, জলবায়ু সহনশীল টেকসই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৬’ এবং ‘জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পে বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রে বড়সড় জালিয়াতির বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম থেকে হাটহাজারী-ডুলাহাজারা হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত যে ট্রেন লাইন গেছে, সেখানে কয়েক লাখ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। সরকারি হিসাবে বলা হয়েছে সেখানে সাত লাখ গাছ রোপণ করা হয়েছে, কিন্তু আমি নিজে যাচাই করে দেখেছি সেখানে বড়জোর দুই লাখের মতো গাছ হবে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।

তিনি জানান, উন্নয়ন ও পরিবেশকে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে না দেখে, প্রকৃতির সঙ্গে সম্প্রীতি বজায় রেখে সমৃদ্ধি গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছে সরকার। সেই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে দেশে নতুন করে ২৫ কোটি গাছ রোপণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

বর্তমান সরকারের লক্ষ্য তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন, জলবায়ু সহনশীল টেকসই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। এ লক্ষ্যে আমরা ‘ক্লাইমেট ইয়ুথ ফেলোশিপ’ এবং ‘এনভায়রনমেন্ট স্টার্টআপ ফান্ড’সহ বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আগামী ৫ বছরে নতুন করে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছে।

অযৌক্তিকভাবে গাছ না লাগানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ইচ্ছামতো গাছ রোপণ করলে আমাদের লক্ষ্য সফল হবে না। কোন পরিবেশে, মাটিতে ও আবহাওয়ায় কোন প্রজাতির গাছ রোপণ করা প্রয়োজন, সেই সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। নব্বইয়ের দশকে লাগানো ইউক্যালিপটাস বা আকাশমণি গাছ পরিবেশের জন্য খুবই ক্ষতিকারক। এর বদলে দেশীয় প্রজাতির ওষুধি, অর্কিড, বাঁশ জাতীয় বনজ, ফলদ বা বিপন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করা বেশি দরকার।

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় সরকার সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন এবং পুনঃখননের কর্মসূচি শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তনের তাগিদ দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, এটি শুধু নগর প্রশাসন বা পুলিশ দিয়ে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন। 

যেখানে সেখানে বর্জ্য বা উচ্ছিষ্ট না ফেলার অনুরোধ জানিয়ে তিনি নিজের একটি অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় এক যুবকের রাস্তায় প্যাকেট ছুড়ে ফেলার কথা উল্লেখ করে তিনি পরিবেশকর্মীদের সাধারণ মানুষকে এসব বিষয়ে সচেতন করার আহ্বান জানান।

জীববৈচিত্র্য রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পশুপাখি, কীটপতঙ্গ— এগুলোকে আমাদের রক্ষা করতে হবে। কোনো একটি পোকা বা মাকড়সা দেখলে আমরা মেরে দেই। ও তো আপনাকে কামড়াচ্ছে না, কী দরকার ওকে মারার? একটা পাখি দেখলে আমরা ঢিল মারি। এসব জিনিস আমাদের বাচ্চাদের শেখানো উচিত।

উন্নয়ন ও পরিবেশের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, উন্নয়ন ও পরিবেশ একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। প্রকৃতির সঙ্গে সম্প্রীতি বজায় রেখে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি গড়ে উঠুক এটিই বর্তমান সরকারের প্রত্যাশা। দেশ হোক সব প্রাণী এবং প্রাণের নিরাপদ আবাসস্থল।

অন্তরা/