সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা ও বোনের মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তীসহ অন্যদের বিরুদ্ধে বিচারাধীন প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির পৃথক তিন মামলায় আরও পাঁচজন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ নিয়ে মামলাগুলোতে তৃতীয় দিন সাক্ষ্য গ্রহণ হলো।
বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর ) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলম সাক্ষীদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। একই সঙ্গে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী তারিখ ধার্য করা হয়েছে।
সাক্ষীরা হলেন- গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অফিস সহকারী দেলোয়ার হোসেন, কর সার্কেল প্রধান সহকারী মোহাম্মদ লুৎফর রহমান, কর সার্কেলের কম্পিউটার অপারেটর মো. রেজাউল হক ও কর সার্কেলের নোটিশ সার্ভার মো. আবু তাহের। এরা সকলেই জব্দ তালিকার সাক্ষী।
আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের পক্ষে জেরা করা হয়নি। দুদকের প্রসিকিউটর খান মো. মঈনুল হাসান লিপন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত ২৮ আগষ্ট তিনজন ও গত ১৩ আগস্ট প্রথম দিনে তিন মামলায় তিনজন বাদী পৃথকভাবে সাক্ষ্য দেন।
গত ৩১ জুলাই মামলাগুলোতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। তিন মামলায় পৃথকভাবে শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, টিউলিপ সিদ্দিকসহ ১৭ জন আসামি। আরেক মামলায় শেখ হাসিনা, আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তী, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববিসহ ১৮ জন এবং অপরটিতে শেখ হাসিনা, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববিসহ ১৮ জন আসামি।
অন্য আসামিদের মধ্যে জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) কাজী ওয়াছি উদ্দিন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) কবির আল আসাদ, সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) তন্ময় দাস, সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) নুরুল ইসলাম, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, সাবেক সদস্য সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী, পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-২) শেখ শাহিনুল ইসলাম, উপপরিচালক হাফিজুর রহমান, হাবিবুর রহমান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব সালাউদ্দিন রয়েছেন।
প্লট বরাদ্দের দুর্নীতির অভিযোগে গত জানুয়ারিতে পৃথক ৬টি মামলা দায়ের করে দুদক। তদন্ত শেষে গত ১০ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
এম এ জলিল উজ্জ্বল/এসএন