ঢাকা ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
জিরো রিটার্নের গ্যাঁড়াকল ওভারব্রিজ দ্রুত সংস্কার করা হোক ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইউরোপের আধিপত্য চীনে কাঁঠাল রপ্তানি করতে চায় সরকার: সংসদে প্রধানমন্ত্রী বিএসএফের ঠেলে পাঠানো ৪ ভারতীয় নাগরিক ফিরলেন ভারতে ঘরে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু খুলনায় ভালো কাজের পুরস্কার পেলেন ট্রাফিকের ৩১ সদস্য বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল স্বামী-স্ত্রীর কোষ ও এর গঠন অধ্যায়ের ১৫টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির জীববিজ্ঞান ১ম পত্র উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাদরাসায় পাহাড়ধস, নিহত ৮ ইবি ছাত্রদলের নতুন কমিটি, নেতৃত্বে যারা মাদারীপুরে ‘পদ্মা পাড়ে জীবন যুদ্ধ’ মাঠ মহড়া বঙ্গোপসাগরে ৩ ট্রলারডুবি, নিখোঁজ ১৩ জেলে অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা ফ্রি করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী নালা-নর্দমা পরিষ্কার রাখা সিডিএর মূল দায়িত্ব নয়: সিডিএ চেয়ারম্যান ছায়া বৃক্ষের নীরব বিদায় কাঁচপুর বাস টার্মিনালে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প নীতিগত অনুমোদন নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রচারণা, পঞ্চগড়ে ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা পেনাল্টি মিসের কষ্ট নিয়ে মুখ খুললেন ব্রুনো গুইমারায়েস টুয়েলভ ক্লদিংয়ে বিশেষ অফার ঢাকার খালগুলো পুনরুদ্ধার হবে কবে এইউএসটি ও জার্মানির UNU-FLORES-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর উত্তাল নদী, বিচ্ছিন্ন হাতিয়ার জনজীবন সিলেট সীমান্তে জিরা, চা পাতা ও চিনিসহ কোটি টাকার চোরাইপণ্য জব্দ গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন জাককানইবি ছাত্রদলের নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন বিপৎসীমার ওপরে সাঙ্গুর পানি, বান্দরবানে বন্যা-আতঙ্ক হাতিরঝিলে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী উখিয়ায় মাদরাসার উপর পাহাড়ধস, কয়েকজনের মৃত্যুর শঙ্কা

সাক্ষাৎকারে ড. আলী রীয়াজ সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় আশা করছি বাকিরাও সই করবে

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:২৫ এএম
আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২৫, ০৪:৩৪ পিএম
সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় আশা করছি বাকিরাও সই করবে
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ

শুক্রবার ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শেষ হলেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দল এখনো সনদে স্বাক্ষর করা থেকে বিরত রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে জুলাই জাতীয় সনদে এখনো সই না করা দলগুলোর ব্যাপারে কমিশনের অবস্থান, সনদের বিভিন্ন ধারায় সংশোধন, সনদ বাস্তবায়নে কমিশনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাসহ নানা বিষয়ে খবরের কাগজের সঙ্গে কথা বলেছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন খবরের কাগজের সিনিয়র রিপোর্টার শাহনাজ পারভীন এলিস। 

খবরের কাগজ: গতকাল ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান সম্পন্ন হলো। ওই দিন গণফোরাম সই না করলেও আজ সনদে স্বাক্ষর করবে বলে জানা গেছে। তবে এনসিপি এবং চারটি দল এখনো স্বাক্ষর করেনি। তাদের ব্যাপারে কমিশনের পরিকল্পনা কীভাবে এগোচ্ছে?
অধ্যাপক আলী রীয়াজ: আমরা ওই সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ক্রমাগত যোগাযোগ রাখছি। তাদের অনুরোধ করছি যেন তারা স্বাক্ষর করেন এবং বিশেষ করে যারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তাদের বিষয়গুলো আমরা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় কীভাবে মিটিয়ে নিতে পারি, সে কথাবার্তাই চলছে। এনসিপি ও বাকি চারটি দলের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ আলোচনা চলছে। আমাদের লক্ষ্য হলো একটি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া তৈরি করা, যা সবার উদ্বেগ দূর করবে। গণফোরাম ইতোমধ্যে জানিয়েছে তারা স্বাক্ষর করতে রাজি, এ জন্য আমরা তাদের ধন্যবাদ জানাই।

খবরের কাগজ: গণফোরামের পক্ষ থেকে দাবি ছিল- ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ও বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ঘোষণার স্বীকৃতি সনদে থাকা চাই। কমিশন এ বিষয়ে কিছু নমনীয়তা দেখালেও পূর্ণভাবে তাদের দাবি অন্তর্ভুক্ত হয়নি, যার ফলে তারা সনদে স্বাক্ষর থেকে বিরত থেকেছে। এ বিষয়ে কমিশনের ভূমিকা কী হবে?
অধ্যাপক আলী রীয়াজ: গণফোরামের ঐতিহাসিক দাবি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা তাদের উদ্বেগ বুঝি এবং সেগুলো আমাদের আলোচনার ক্ষেত্রেও এসেছে। যদিও সনদে পুরোপুরি তা প্রতিফলিত হয়নি, আমরা নমনীয়তার সঙ্গে বিষয়গুলো বিবেচনা করেছি। এ জন্য সংবিধানের সপ্তম তফসিলে থাকা ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের জারি করা স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সংযোজন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে আলোচনায় পঞ্চম ও ষষ্ঠ তফসিলের বিষয়ে একমত হওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে পঞ্চম তফসিলে শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণ এবং ষষ্ঠ তফসিলের ১৯৭১ সালের ‘২৫ মার্চ মধ্যরাতের শেষে অর্থাৎ ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে’ তার দেওয়া স্বাধীনতার ঘোষণা যুক্ত করা সম্ভব নয়। গণফোরাম আমাদের সঙ্গে সংলাপ অব্যাহত রাখবে বলে আশা করছি এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজনে সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় তাদের মতামত গ্রহণ করা হবে।

খবরের কাগজ: বাকি দলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনার কোনো পরিকল্পনা আছে কি?
অধ্যাপক আলী রীয়াজ: আনুষ্ঠানিক নয়, মূলত অনানুষ্ঠানিক আলোচনার মাধ্যমে আমরা তাদের উদ্বেগ বোঝার চেষ্টা করছি। আজকের মতো আমরা চারটি দলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি এবং আশা করছি খুব শিগগির তাদের সঙ্গে বসার সুযোগ হবে। আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত থাকবে, যাতে তারা সনদে স্বাক্ষর করতে পারেন।

খবরের কাগজ: এনসিপি আগে বলেছে, তারা কমিশনের ডাকে আসতে রাজি। আপনারা কি দলটির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনার উদ্যোগ নেবেন?
অধ্যাপক আলী রীয়াজ: এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। এনসিপির সঙ্গে আমরা অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি এবং রাখব। আমাদের মনোভাবই হলো, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা।

খবরের কাগজ: বামপন্থি চার দলও স্বাক্ষর করেনি। তাদের সঙ্গে আলোচনা হবে?
অধ্যাপক আলী রীয়াজ: হ্যাঁ, তাদের সঙ্গেও কথা বলছি। আমাদের লক্ষ্য তাদের উদ্বেগ বুঝে সেগুলো মিটিয়ে নেওয়া। আমরা আশাবাদী, তারাও শেষ পর্যন্ত সনদে স্বাক্ষর করবে।

খবরের কাগজ: জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শুরুর আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা, বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের বিষয়ে আপনার মন্তব্য জানতে চাই?
অধ্যাপক আলী রীয়াজ: রাজনৈতিক উত্তেজনা স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু আমরা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের দাবি সনদের ৫ নম্বর দফায় অন্তর্ভুক্ত করেছি। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সব পক্ষের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছি।

খবরের কাগজ: বর্ধিত মেয়াদে আপনাদের ঐকমত্য কমিশনের কোনো কর্মপরিকল্পনা আছে কী?
অধ্যাপক আলী রীয়াজ: কমিশনের মেয়াদ ১৫ দিন বাড়ানো হয়েছে, যাতে আমরা সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সুস্পষ্ট করে সরকারের কাছে সুপারিশ দিতে পারি। আশা করছি নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে সময়োপযোগী এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ সরকারকে আমরা দিতে পারব।

খবরের কাগজ: জুলাই সনদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আপনি কতটা আশাবাদী?
অধ্যাপক আলী রীয়াজ: আমরা সব সময় আশাবাদী। সনদে স্বাক্ষর হওয়ায় ইতোমধ্যেই জাতীয় ঐক্যের একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি হয়েছে। বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। বাকি দলগুলোর উদ্বেগ আমরা গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছি এবং আশা করছি তাদেরও সহযোগিতা পাব।

খবরের কাগজ: সনদে স্বাক্ষর না করা দলগুলোর অবস্থা নিয়ে আপনার মন্তব্য কী?
অধ্যাপক আলী রীয়াজ: স্বাক্ষরের সুযোগ এখনো রয়েছে। যাদের স্বাক্ষর হয়নি, তারাও সনদের স্টেকহোল্ডার হিসেবে গণ্য হবেন। আমরা তাদের সঙ্গে সংলাপ অব্যাহত রাখব।

খবরের কাগজ: জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আপনার প্রত্যাশা জানতে চাই?
অধ্যাপক আলী রীয়াজ: আমাদের উদ্দেশ্য জাতীয় ঐকমত্য সুসংহত করা এবং সনদে প্রতিশ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। সবাইকে একত্রিত করে শান্তিপূর্ণ এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এগোতে হবে। কারণ জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরিত হওয়ায় আমরা একটি ঐতিহাসিক অগ্রগতি অর্জন করেছি, যদিও এখনো কিছু অস্পষ্টতা ও মতবিরোধ রয়ে গেছে; তবে আমরা বিশ্বাস করি এই সনদ বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কারের পথ সুগম করবে। আমাদের কাজ হলো সেই পথে স্থিতিশীল ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।

খবরের কাগজ: অনেক ব্যস্ততার মধ্যেও আমাদের সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ: খবরের কাগজের জন্য শুভকামনা।

চীনে কাঁঠাল রপ্তানি করতে চায় সরকার: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৭ পিএম
চীনে কাঁঠাল রপ্তানি করতে চায় সরকার: সংসদে প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বাংলাদেশের কাঁঠাল চীনে রপ্তানি করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে চীনের সঙ্গে একটি চুক্তিও স্বাক্ষর হয়েছে বলে সংসদে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কাঁঠাল রপ্তানির মাধ্যমে দেশ উল্লেখযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে সক্ষম হবে।

বুধবার (৮ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২১তম দিনে সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ময়মনসিংহ-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুল হাসান ফুলবাড়িয়ায় লেবু, আনারস ও কাঁঠালভিত্তিক কৃষিশিল্প অঞ্চল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে আলাদা শিল্পাঞ্চল গঠনের পরিকল্পনা সরকারের নেই। তবে অতীতে স্থাপিত আনারস প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানাসহ বন্ধ কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি চীন সফরে দেশটির সঙ্গে কাঁঠাল রপ্তানিবিষয়ক একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। চীনের মানুষের কাছে বাংলাদেশের কাঁঠালের ভালো চাহিদা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, আমরা চীনে কাঁঠাল রপ্তানি করব।’

তিনি আরও জানান, মালয়েশিয়া সফরের সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম তাকে জানিয়েছেন, মালয়েশিয়া প্রতিবছর চীনে বিলিয়ন ডলারের ডুরিয়ান রপ্তানি করে। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারা যদি পারে, নিশ্চয়ই আমরা কাঁঠালও রপ্তানি করতে পারব। এর মাধ্যমে বড় অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে।’

এলিস/এএফ

অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা ফ্রি করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৪ পিএম
অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা ফ্রি করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হবে নারী শিক্ষার আরও বিস্তার এবং তাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি। এ লক্ষ্যে অনার্স (ডিগ্রি) পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা সম্পূর্ণ অবৈতনিক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (৮ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২১তম দিনে সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকার মেয়েদের ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করেছিল। সেই উদ্যোগকে আরও সম্প্রসারণ করে বর্তমান সরকার অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা ফ্রি করার পরিকল্পনা নিয়েছে।

তিনি বলেন, নারী শিক্ষার পাশাপাশি তাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতেও সরকার কাজ করছে। এ উদ্দেশ্যে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সংসদের দর্শক গ্যালারিতে উপস্থিত নারী শিক্ষার্থীরা সরাসরি অধিবেশন পর্যবেক্ষণ করছেন। ভবিষ্যতে অনার্স পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করার পাশাপাশি যে-সব শিক্ষার্থী ভালো ফলাফল করবে, তাদের জন্য বৃত্তি চালুরও পরিকল্পনা রয়েছে। এতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষায় আরও উৎসাহিত হবে।

মহিলা আসনের সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তারের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্যও সরকার নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পর্যায়ক্রমে স্কুল ড্রেস ও স্কুল ব্যাগ প্রদান করা হবে।

তিনি জানান, দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা প্রায় ৬৫ হাজার এবং এসব বিদ্যালয়ে প্রায় এক কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। পর্যায়ক্রমে সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছে এই সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার জন্য সরকার কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে দক্ষ, শিক্ষিত ও আত্মনির্ভরশীল প্রজন্ম গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।

এলিস/নাঈম

কাঁচপুর বাস টার্মিনালে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প নীতিগত অনুমোদন

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:১২ পিএম
কাঁচপুর বাস টার্মিনালে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প নীতিগত অনুমোদন
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর। ছবি: সংগৃহীত

অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত  মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিইএ) ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) অধীন কাঁচপুর বাস টার্মিনালে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত চলতি বছরের সিসিইএ এর ২১তম বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় সরকার বিভাগ কাঁচপুর বাস টার্মিনালে যাত্রীসেবামূলক ও পরিচালনাগত সুবিধা বাড়াতে শেড, টিকিট কাউন্টার, টয়লেট, অফিস কক্ষ ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণের প্রস্তাব কমিটিতে উপস্থাপন করে। কমিটি প্রকল্পটি সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে।

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অধীন প্রতিষ্ঠান চিটাগাং ড্রাই ডক লিমিটেড (সিডিডিএল) প্রকল্পটির অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করবে। কর্মকর্তারা জানান, কাঁচপুর বাস টার্মিনালে যাত্রীসেবা উন্নয়ন ও পরিচালনাগত সক্ষমতা জোরদার করাই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

এএফ/

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৭ পিএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৮ পিএম
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
সংসদে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে মায়ানমারের জান্তা সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগ ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারিতে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং পুঁজিবাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি...

বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২১তম কার্যদিবসে পৃথক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার সংকটের শান্তিপূর্ণ ও দ্রুত সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যে দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।

তিনি জানান, প্রত্যাবাসনের ভিত্তি হিসেবে রোহিঙ্গাদের তথ্য যাচাই (ভ্যারিফিকেশন) কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মায়ানমারের জান্তা সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগ ও আলোচনার বিষয়টিও সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অগ্রাধিকার ইস্যু হিসেবে ধরে রাখতে জাতিসংঘ, বিভিন্ন দেশ ও দাতা সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে। রাখাইনে প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলার প্রতি বাংলাদেশের নৈতিক সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে শেয়ারবাজারে ধারাবাহিক পতন ও বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির পেছনে বাজার কারসাজি, আইপিওতে অনিয়ম, নিয়ন্ত্রক সংস্থার দুর্বল তদারকি, কর্পোরেট সুশাসনের ঘাটতি, নীতিগত অসঙ্গতি ও আস্থার সংকটসহ একাধিক কারণ কাজ করেছে।

তিনি জানান, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন অনুসন্ধান চালিয়ে কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলাসহ আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে। আরও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান জড়িত রয়েছে কি না, তা উদঘাটনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাজার কারসাজি ও অনিয়মে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ইতোমধ্যে ১ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করেছে। এ ছাড়া তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট বিষয় দুদকে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে সরকার নতুন বিএসইসি কমিশন নিয়োগ, বাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত, শক্তিশালী নজরদারি, পুঁজিবাজার সংস্কার, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতি বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।

এলিস/নাঈম

৪২ বছরের ইতিহাসে চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ বৃষ্টির রেকর্ড

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৭ পিএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:১০ পিএম
৪২ বছরের ইতিহাসে চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ বৃষ্টির রেকর্ড
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামে গত ৪২ বছরের মধ্যে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড হয়েছে। মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে টানা ভারী বর্ষণে বৃষ্টিপাতের রেকর্ড ভেঙেছে। পানিতে তলিয়ে গেছে নগরের বিস্তীর্ণ এলাকা, স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন, ব্যাহত হয়েছে যোগাযোগ ও স্বাস্থ্যসেবা। একই সঙ্গে বেড়েছে পাহাড়ধসের আশঙ্কা। বিভিন্ন সড়ক জলাবদ্ধতায় তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। 

টানা ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামে সোমবার (৬ জুলাই) বিকেল ৩টা থেকে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেল ৩টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ৪১২ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত, যা গত ৪২ বছরের মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ। এর আগে ১৯৮৩ সালের ৪ আগস্ট ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৫১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছিল।

বুধবার (৮ জুলাই) ভোর থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন নিচু এলাকায় পানি জমে জনদুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমর সমান পানি জমে ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল। এতে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ বশির আহমদ বলেন, টানা ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪১২ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এটি গত ৪২ বছরের মধ্যে বন্দরনগরীতে এক দিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড। ভারী বর্ষণের কারণে নগরীর নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, আগ্রাবাদ এক্সেস রোড, বাদামতলী, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, মোহরা, কাতালগঞ্জ, হালিশহর, পতেঙ্গা, চকবাজার ও বন্দর এলাকার নিম্নাঞ্চলে বিভিন্ন সড়কে পানি জমে আছে। অনেক স্থানে সড়ক ও ড্রেন একাকার হয়ে যাওয়ায় যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছে। কিছু এলাকায় ছোট যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ভারী বৃষ্টির কারণে অনেক বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও পানি ঢুকে পড়েছে।

আবহাওয়া অফিস জানায়, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আগামী কয়েক দিন ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি বজায় থাকবে।

এদিকে, জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন এলাকায় খাল, নালা ও ড্রেন পরিষ্কার এবং পানি নিষ্কাশনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারাও মাঠে রয়েছেন।

টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ঘেঁষা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি প্রয়োজন হলে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়ার এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভারী বৃষ্টির কারণে সম্ভাব্য জলাবদ্ধতা ও অন্যান্য ঝুঁকি এড়িয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসন থেকে।

এর আগে, মঙ্গলবার (৮ জুলাই) নগরীর পাঁচলাইশ এলাকায় পাহাড়ের পাদদেশে দেওয়াল ধসে শফিকুল ইসলাম নামে একজন নিহত ও আরও চারজন আহত হয়েছেন।

অন্তরা/