কোরবানির পশুর চামড়াকে জাতীয় সম্পদ অভিহিত করে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, একটি চামড়াও যেন নষ্ট না হয়। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন। সরকার একে জাতীয় দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে। যথাযথ সংরক্ষণে চামড়া শিল্প, রপ্তানি আয় ও এতিমখানা-মাদরাসার আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব। অসচেতনতায় প্রতিবছর বিপুল চামড়া নষ্ট হয়। এ পরিস্থিতি রোধে সরকার ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।
শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামসংলগ্ন মোহাম্মদ আলী জিমনেসিয়ামে বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সিলেট বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় দুই দিনব্যাপী এই মেলার আয়োজন করেছে।
বিজ্ঞান মেলা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্কতা ও মেধা বিকাশের চমৎকার ক্ষেত্র এই মেলা। বর্তমান যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ হতে হবে। উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের মূল ভিত্তি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার। তরুণ প্রজন্মকে উদ্ভাবনী চিন্তায় উদ্বুদ্ধ করতে এ ধরনের মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সরকার বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসারে সব সহায়তা দিতে বদ্ধপরিকর।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ও মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী বক্তব্য দেন। বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
অন্যদিকে আসন্ন ঈদুল আজহায় সিলেট নগরী পরিচ্ছন্ন রাখার প্রস্তুতি নিয়ে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রীকে সিলেট পরিচ্ছন্ন রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। কোরবানির ৮ ঘণ্টার মধ্যে নগর বর্জ্যমুক্ত করা হবে। আমরা এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে চাই।’
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মিরাবাজার-আগপাড়া প্রধান সড়কের উন্নয়নকাজ পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্ধারিত সময়ে নগর পরিষ্কার করতে সবার সহযোগিতা চেয়ে সিসিক প্রশাসক বলেন, ‘পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা দ্রুত বর্জ্য অপসারণ করবেন। সিটি করপোরেশন থেকে ব্লিচিং পাউডার ও পলিব্যাগ দেওয়া হবে। বর্জ্য ও রক্ত পলিব্যাগে রাখলে দ্রুত অপসারণ সুবিধা হবে। নগরবাসীর সহযোগিতায় ঈদের দিনই সিলেটকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরাতে চাই।’
উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রশাসক বলেন, ‘আধুনিক ও বাসযোগ্য নগর গড়তে অনেকটি বড় প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। গত ২ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিলেটে ৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। পর্যায়ক্রমে সব এলাকায় উন্নয়নকাজ চলবে।’
তিনি আরও জানান, প্রায় আড়াই শ কোটি টাকার উন্নয়নকাজের টেন্ডার হয়েছে। এর মধ্যে মিরাবাজার এলাকাতেই ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকার প্রকল্প রয়েছে। শিগগিরই এসব কাজ শুরু হবে।
পরিদর্শন শেষে জনসংযোগ দপ্তর জানায়, মিরাবাজার-আগপাড়া প্রধান সড়কের কাজ শেষ। শিগগিরই এটি উদ্বোধন করা হবে। রাস্তার পাশের ড্রেনও সংস্কার করা হবে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও এলাকাবাসীর প্রশংসা করেন প্রশাসক।