ঢাকা ২০ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
খামেনির জানাজায় ১৪ মাস বয়সি নাতনির ছোট্ট কফিন ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পে ২৬৪৫ মৃত্যু, আহত ১২ হাজার ৬৬৬ খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু আয়াতুল্লাহ খামেনির শেষ বিদায়: লাখো মানুষের ঢল, আবেগাপ্লুত শীর্ষ ইরানি নেতৃত্ব শেরপুরে নিখোঁজের ১ দিন পর ইজিবাইকচালকের মরদেহ উদ্ধার বিশ্ব এখন আমাদের চেনে: ডিফেন্ডার পিকো লোপেস দুপুরের মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা শৈলকুপায় ইজিবাইক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে যুবক নিহত কঠিন লড়াইয়ের মানসিকতা থাকতে হবে: মার্তিনেস ফ্রান্সের দুর্ধর্ষ আক্রমণভাগ বনাম গিল প্রাচীর ‘আহাদ! আহাদ!’ ঘানাকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় কলম্বিয়া নগরকান্দায় প্রবাসীর বাড়ি দখল করে তালা, পুলিশের হস্তক্ষেপে উদ্ধার কেপ ভার্দের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা বুবিস্তার নাটোরে ৩৫ ফুট কালী প্রতিমা ঘিরে পূজা ও মেলা মায়ানমারে বিমান হামলার আতঙ্কে টেকনাফ সীমান্তের মানুষ পদ্মায় শতাধিক ড্রেজারে বালু উত্তোলন ডাকসুর উদ্যোগে দুই মাসব্যাপী আবৃত্তি-অভিনয় ও সঙ্গীত কর্মশালার উদ্বোধন ঢাকার বাতাস আজ ‘সহনীয়’, দূষণের শীর্ষে কিনশাসা খবরের কাগজ ‘বন্ধুজন’ শৈলকুপা উপজেলা কমিটি গঠিত সহজ প্রতিপক্ষ বলা সমালোচকদের জবাব দিলেন স্কালোনি ইতিহাসের সাক্ষী জিগাগাড়ী জামে মসজিদ জুলাই শহিদদের স্মরণে আজ বিশেষ সভায় থাকবেন প্রধানমন্ত্রী কেপ ভার্দেকে প্রশংসায় ভাসালেন মেসি আদালতের রায়ে বদলে গেল চট্টগ্রাম-৪ এর রাজনৈতিক সমীকরণ তিব্বতের পতাকা নিয়ে জাতিসংঘের সামনে আত্মহত্যা বাড়ছে জমি নিবন্ধনের খরচ ভারতে ইনস্টাগ্রামে শিশু যৌন নির্যাতনের বিজ্ঞাপন অভিজ্ঞতার ঢাল, গতির তলোয়ার ফিলিস্তিনের পতাকা উড়িয়ে যে বার্তা দিলেন মিশরের কোচ

আ.লীগ নেতাদের নিয়ে বিএনপি নেতার সভার ছবি ভাইরাল

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৫, ০৫:৩০ পিএম
আ.লীগ নেতাদের নিয়ে বিএনপি নেতার সভার ছবি ভাইরাল
ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের নিয়ে বিএনপির সহ-পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক বজলুল করিম চৌধুরী আবেদের একটি সভার ছবি ভাইরাল হয়েছে। এনিয়ে দলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

রবিবার (২০ জুলাই) রাত থেকে ওই সভার ভিডিও ও কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।

এর আগে শনিবার (১৯ জুলাই) দুপুরে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের সানকেন মিডোজ স্টেট পার্কে এই সভা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার রামপুর-মুছাপুর ইয়াংস্টার নামে ওই গেট টুগেদারের আয়োজন করে। এতে মুছাপুর ও রামপুর ইউনিয়নের প্রবাসীরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরর ঘনিষ্ঠ সহচর মুছাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান ও নিউইর্য়ক স্টেট আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী এবং রামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল বাহার চৌধুরীকে একই সারিতে বসিয়ে বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ। 

আওয়ামী লীগের ওই দুই নেতা ৫ আগস্টের পর দেশ থেকে পালিয়ে যান। তাদের নামে নানা অপকর্মের একাধিক মামলা রয়েছে। 

ওই বৈঠকের ছবি ও ভিডিও ভাইরালের পর নোয়াখালী জেলা বিএনপির রাজনীতিতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া, আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে বিএনপি নেতা বজলুল করিম চৌধুরীর ওই ছবি জুড়ে ফেসবুকে নানা মন্তব্য করছেন।

তাফসির হোসেন নামে এক বিএনপি সমর্থক নিজের ফেসবুকে লিখেছেন, ‘প্রিয় আবেদ ভাই। নোয়াখালী-৫ আসনের নেতা-কর্মীরা আপনার থেকে এমন কিছু আশা করে নাই। আওয়ামী দোসরদের সাথে আপনার ছবি দেখে হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।’

জিয়াউর রহমান নামে আরেকজন লিখেছেন, ‘নোয়াখালী-৫ আসনের এমপি প্রার্থী আবেদ সাহেব কি আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের দায়িত্বে নিয়েছেন নাকি। ভালো খুব ভালো, এগিয়ে যান।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছয় মামলার পলাতক আসামি আইয়ুব আলী আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনাসহ দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের পরিবারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। এসব পরিচয়ে তিনি নানান অপকর্মে জড়িত ছিলেন। এছাড়া ওবায়দুল কাদেরের ছোটভাই পলাতক আবদুল কাদের মির্জার অবৈধ অর্থ পাচার, মুছাপুর ক্লোজার থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, ওই এলাকার ৬০০ একর খাস জমি দখল করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। 

আরেক আসামি ইকবাল বাহার চৌধুরীও অবৈধভাবে রামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হয়ে দলের সভাপতি পদ দখল করেন এবং এলাকার লোকজনের উপর অন্যায় অত্যাচার করেন। তার বিরুদ্ধে চারটি মামলা রয়েছে।

জানতে চাইলে বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ বলেন, ‘গত ১২ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রে এসেছি। ছাত্রদলের ওই অনুষ্ঠানে যাই। সেখানে আর কারা থাকবে এ বিষয়ে তারা আমাকে কিছুই বলেনি। তবে পরে আমি জেনেছি ওরা দুজনই কাদের মির্জার ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং সন্ত্রাসী। আয়োজকরা আগে সতর্ক করলে এ ছবি উঠতো না। দু’একজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি পোস্ট করেছে বলে শুনেছি।’

নোয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্যসচিব হারুনুর রশীদ আজাদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘এমন ঘটনায় দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। বিষয়টি আমি বজলুল করিম চৌধুরী আবেদকে ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করব।  কারও জন্য দল বিতর্কিত হোক সেটা আমরা চাই না।’

ইকবাল হোসেন/অমিয়/

আদালতের রায়ে বদলে গেল চট্টগ্রাম-৪ এর রাজনৈতিক সমীকরণ

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৬ এএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৬ এএম
আদালতের রায়ে বদলে গেল চট্টগ্রাম-৪ এর রাজনৈতিক সমীকরণ
বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগে বাতিল হওয়ার পর আসনটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। আদালতের এই চূড়ান্ত রায়ের পর বেসরকারিভাবে নির্বাচিত আসলাম চৌধুরীর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পথ এক প্রকার বন্ধ। অন্যদিকে চট্টগ্রাম-২ ফটিকছড়ি আসন নিয়েও চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। ফটিকছড়ি আসন থেকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত সরোয়ার আলমগীর ঋণখেলাপি মামলার কারণে এখনো শপথ গ্রহণ করতে পারেননি। আগামী ৯ জুলাই তার মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। 

আদালতের রায় আসলাম চৌধুরীর বিপক্ষে গেছে। এখন রায়ের অপেক্ষায় আছেন সরোয়ার আলমগীর। আসলাম চৌধুরীর শপথ নেওয়ার পথ বন্ধ হওয়ার পর সাধারণ ভোটার এবং কর্মী-সমর্থকদের মাঝেও দেখা দিয়েছে নানা শঙ্কা। আবার কেউ কেউ আশাবাদী। 

আসলাম চৌধুরীর মামলার রায়ের পর জামায়াতে ইসলামীর আইনজীবী ব্যারিস্টার শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘কমনসেন্সে বলে যিনি দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছেন তাকেই বিজয়ী ঘোষণা করা উচিত। এখন আদালত কী বলেন তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।’

দেশের প্রধান আইন কর্মকর্তা তথা অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেছেন, এই আসনে উপনির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইনি ও সাংবিধানিক ব্যাখ্যা অনুযায়ী যেহেতু আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিনেই তিনি ঋণখেলাপি ছিলেন এবং সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সেই মনোনয়ন বা প্রার্থিতাই চূড়ান্তভাবে বাতিল করে দিয়েছেন। তবে এর মানে এই নয় যে দ্বিতীয় স্থানে থাকা জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকীকে সরাসরি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ এবং বাংলাদেশের নির্বাচনি আইন অনুযায়ী কোনো আসনে বিজয়ী প্রার্থীর প্রার্থিতা যদি শুরু থেকেই অবৈধ বা অযোগ্য ঘোষিত হয়, তবে সাধারণত নির্বাচন কমিশন ওই আসনটিকে ‘শূন্য’ ঘোষণা করে নতুন তফসিল জারি করে উপনির্বাচনের আয়োজন করে। ভোটারদের ভোটাধিকার পুনঃপ্রয়োগের সুযোগ দেওয়াটাই এখানে গণতান্ত্রিক ও আইনি রেওয়াজ। প্রায় একই ধরনের একটি জটিলতা তৈরি হয়েছিল ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) আসনে। চট্টগ্রাম-৪ আসনের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে তা অত্যন্ত সাদৃশ্যপূর্ণ।

সে সময় ওই আসনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের মেজর (অব.) মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বিজয়ী হয়েছিলেন। নির্বাচনের পর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ আদালতের শরণাপন্ন হন। ওই মামলার অভিযোগে বলা হয়, মেজর (অব.) জসিম উদ্দিনকে ২০০৪ সালের ৩১ আগস্ট সেনাবাহিনী থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ও নির্বাচনি আইন অনুযায়ী, সরকারি চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে যাওয়ার পাঁচ বছর পার না হওয়া পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার যোগ্য হন না।
উচ্চ আদালত এবং পরবর্তীতে ২০০৯ সালের অক্টোবরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ জসিম উদ্দিনের প্রার্থিতাকে শুরু থেকেই ‘অবৈধ ও অযোগ্য’ হিসেবে রায় দেন। যে কারণে তিনি সংসদ সদস্য পদ হারান এবং ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন কমিশন আসনটি শূন্য ঘোষণা করলেও দ্বিতীয় স্থানে থাকা বিএনপির মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদকে সরাসরি বিজয়ী ঘোষণা করা হয়নি। আইন অনুযায়ী আসনটি শূন্য করে ২০১০ সালের এপ্রিলে সেখানে উপনির্বাচন দেওয়া হয়। ওই আসনে তখন আওয়ামী লীগের নতুন প্রার্থী নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন বিজয়ী হন। সীতাকুণ্ড আসনেও উপনির্বাচনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। 

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আসলাম চৌধুরীর মনোনয়ন পাওয়ার প্রক্রিয়াটি ছিল চরম নাটকীয়তায় ভরা। ঋণখেলাপি হওয়ার কারণে বিএনপি শুরুতে তাকে মনোনয়ন দেয়নি। তখন মনোনয়ন পান বিএনপির আরেক প্রভাবশালী নেতা কাজী সালাউদ্দিন। কিন্তু পরে আসলাম চৌধুরীর সমর্থক ও কর্মীদের বিক্ষোভ মিছিল, চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধসহ রাজনৈতিক চাপের মুখে কাজী সালাউদ্দিনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। নতুন করে মনোনয়ন দেওয়া হয় আসলাম চৌধুরীকে। একদম শেষ মুহূর্তে আদালতের আদেশে শর্ত সাপেক্ষ বৈধতা নিয়ে তিনি নির্বাচনে অংশ নেন এবং সীতাকুণ্ডের মানুষ তার প্রতি আস্থা রেখে বিপুল ভোটে তাকে জয়ী করেন। কিন্তু ঋণখেলাপির দায় থেকে মুক্ত হতে না পারায় তিনি শপথ নিতে পারেননি। এতে সীতাকুণ্ডের জনগণও হতাশ। একই সঙ্গে এটি তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্যও একটি বড় নৈতিক পরাজয়।

আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়ের পর গত মঙ্গলবার সীতাকুণ্ডের ছোট দারোগারহাট এলাকায় আসলাম চৌধুরীর সমর্থকরা মহাসড়কের ধারের গাছ কেটে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে গিয়ে এভাবে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করা এবং দেশের প্রধান লাইফলাইন খ্যাত মহাসড়কে তীব্র যান চলাচল বিঘ্নিত করার ঘটনা জনমনে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। এ ঘটনায় অবশ্য সড়ক ও জনপথ বিভাগ মামলা করেছে। দুজন আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তারও করেছে। তাতে কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়, আদালতের রায়ের প্রতি দলের হাইকমান্ডের সম্মান রয়েছে।

পরে অবশ্য আদালতের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছেন আসলাম চৌধুরী। তিনি চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কের গাছ কেটে বিক্ষোভকারীদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে বোঝা যায় আদালত সম্পূর্ণ স্বাধীন। পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পাওয়ার পর তিনি করণীয় নির্ধারণ করবেন। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনও বলেছে পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সম্পাদক অ্যাডভোকেট আকতার কবির চৌধুরী খবরের কাগজকে বলেন, রাষ্ট্রীয় আইনে ঋণখেলাপি নির্বাচন করতে পারবেন না। তবুও আসলাম চৌধুরী আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। আদালতের রায় মেনে নিতে হবে। যারা তার পক্ষে জনদুর্ভোগ তৈরির কাজ করেছেন তার দায় তাকেই নিতে হবে। যারা কষ্ট পেয়েছেন তারা সবাই তার মতোই নাগরিক। এটা ঠিক যে, অনেক সময় সাধারণ মানুষ বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে প্রতিবাদ করেন। কিন্তু একজন ঋণখেলাপির মনোনয়ন বাতিল হয়েছে এই ঘটনার প্রতিবাদে সাধারণ মানুষ কখনোই প্রতিবাদ করবেন না। যারা কাজটি করেছেন তারা তার অনুসারী। বাস্তবতা হলো এটা অপরাধ। ঋণখেলাপি সংসদে কেন যাবেন। তিনি আগে তার ঋণ পরিশোধ করুন। এই রায় ঋণখেলাপিদের হতাশ করবে। দৃষ্টান্তমূলক এই রায়ের জন্য তিনি আদালতকে সাধুবাদ জানান।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসলাম চৌধুরী বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। গত ৩ ফেব্রুয়ারি শুনানি শেষে আপিল বিভাগ আসলাম চৌধুরীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুমতি দিলেও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম-৪ আসনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ না করার নির্দেশ দেন। সেই আদেশের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আনোয়ার সিদ্দিকী আপিল করেন। তার অভিযোগ ছিল, ঋণখেলাপি হওয়ায় আসলাম চৌধুরীর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আইনগত সুযোগ ছিল না। পরে ১৫ জুন রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করা হয় এবং মঙ্গলবার আপিল বিভাগ চূড়ান্ত রায়ে তার প্রার্থিতা বাতিল করেন।

শরীয়তপুরে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১০:২৬ পিএম
শরীয়তপুরে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল
ছবি: সংগৃহীত

শরীয়তপুরের জাজিরায় ঝটিকা মিছিল করেছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

শুক্রবার (৩ জুলাই) একটি মিছিলের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ধারণা করা হচ্ছে দুপুরে উপজেলার কাজিরহাট এলাকার শরীয়তপুর-ঢাকা সড়কে মিছিলটি হয়।

ভিডিওতে দেখা যায় ৩০-৫০ জন নেতাকর্মী অংশ এ মিছিলে অংশ নেন। মিছিল থেকে তারা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে প্রত্যাবর্তন এবং আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

এ সময় শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা ও শরীয়তপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেনের নামে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।

ভিডিওটি আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের আত্মগোপনে থাকা কয়েকজন নেতাকর্মী ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শেয়ার করা হয়। পরে ছাত্রলীগের ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজেও ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়।

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহমদ বলেন, আমরা ইতমধ্যে মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি। এটি কোন স্থানে হয়েছে সেটি খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।

বিধান মজুমদার/এএফ

ঝিনাইদহে বাইসাইকেল বিতরণে জালিয়াতি, উপজেলা জামায়াতের আমির অব্যাহতি

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৩ পিএম
ঝিনাইদহে বাইসাইকেল বিতরণে জালিয়াতি, উপজেলা জামায়াতের আমির অব্যাহতি
কোটচাঁদপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা তাজুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে এডিপির বরাদ্দে কেনা বাইসাইকেল বিতরণে অনিয়ম ও জালিয়াতির খবর প্রকাশের পর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা তাজুল ইসলামকে তিন মাসের জন্য দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাবেক শিক্ষক আজিজুর রহমান মাস্টারকে নতুন ভারপ্রাপ্ত আমির হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) কোটচাঁদপুর শহরের দুধসর সড়কের আল-ফালাহ সেন্টারে আয়োজিত এক রুকন সম্মেলনে জেলা আমির ও সংসদ সদস্য (এমপি) আলী আজম মোহাম্মদ আবু বকর এ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রুকন সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন বিদায়ী উপজেলা আমির মাওলানা তাজুল ইসলাম। তবে জুমার নামাজের বিরতির পর দ্বিতীয় অধিবেশনে তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। তার অনুপস্থিতিতেই জেলা আমির আলী আজম মোহাম্মদ আবু বকর তদন্ত ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার স্বার্থে তাজুল ইসলামকে তিন মাসের জন্য সাময়িক বরখাস্তের ঘোষণা দেন।

খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা আমির আজিজুর রহমান জানান, সরকারিভাবে বিতরণ করা বাইসাইকেল নিয়ে সাবেক আমিরের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় প্রাথমিকভাবে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি কোটচাঁদপুরে এডিপির অর্থে কেনা সরকারি বাইসাইকেল বিতরণে জালিয়াতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হলে জেলা জামায়াত এ সাংগঠনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে জামায়াত নেতা মোয়াবিয়া, শরিফুল ইসলাম ও আব্দুর রাজ্জাকসহ প্রায় দুই শতাধিক রুকন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

মাহফুজ/রিফাত/

বরিশালে নারী ব্যবসায়ীদের মারধর, ছাত্রদল নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৪ পিএম
বরিশালে নারী ব্যবসায়ীদের মারধর, ছাত্রদল নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল
ঝাড়ু মিছিল ও বিক্ষোভ করেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা। ছবি: খবরের কাগজ

বরিশাল নগরে একটি রেস্তোরাঁয় হামলা–ভাঙচুরসহ দুই নারীকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিনসহ তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে।

হামলার সময় দোকানের ক্যাশবাক্স থেকে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা। এ ঘটনার প্রতিবাদে নতুন বাজার এলাকায় ঝাড়ু মিছিল ও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন ভুক্তভোগীরা। পরে পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন বিক্ষোভকারীরা।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে নগরীর নতুন বাজারের মড়কখোলা পুল এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীরা বলেন, ঘটনার কয়েক দিন পার হলেও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। দ্রুত জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে বিচার করার দাবি জানান তারা।

ঝাড়ু মিছিল শেষে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারাও একাত্মতা প্রকাশ করে নতুন বাজার সড়ক অবরোধ করেন। এতে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পুলিশ ও মহানগর ছাত্রদলের নেতারা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৯ জুন) রাতে নতুন বাজারের মড়কখোলা পুল এলাকায় একটি রেস্তোরাঁয় হামলা চালানো হয়। সেই হামলার নেতৃত্বে ছিলেন বিএম কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিন এমন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। হামলায় রেনু বেগম ও মালা আক্তার নামে দুই নারী ব্যবসায়ী আহত হন।

অভিযোগের বিষয়ে বিএম কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিন বলেন, সোমবার দুপুরে তাদের কর্মী আব্দুল্লাহকে মরকখোলা পুল এলাকায় একদল সন্ত্রাসী মারধর করে হাসপাতালে পাঠায়। সন্ধ্যায় ওই ঘটনার অভিযোগ দিতে যাওয়ার সময় একই স্থানে তাদের আরেক শিক্ষার্থীর ওপরও হামলা হয়। তার দাবি, হামলাকারীদের মধ্যে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী ছিলেন। তিনি বলেন, ছাত্রদলের কেউ ওই রেস্তোরাঁয় হামলা চালায়নি এবং তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।

বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক এনামুল হাসান তাসনিম বলেন, ছাত্রদল কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সমর্থন করে না। যদি ছাত্রদলের নাম ব্যবহার করে কেউ নারীর ওপর হামলা বা শ্লীলতাহানির ঘটনায় জড়িত থাকেন, তাহলে সংগঠনের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মঈনুল/এএফ

বেরোবিতে জুলাই শহিদদের স্মরণে ছাত্রদলের মোমবাতি প্রজ্বালন

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৯ এএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ১০:০৬ এএম
বেরোবিতে জুলাই শহিদদের স্মরণে ছাত্রদলের মোমবাতি প্রজ্বালন
শহীদদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বালন। ছবি: খবরের কাগজ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) শাখা ছাত্রদল মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করেছে।

বুধবার (১ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী শহিদ মিনারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় ছাত্রদলের সহসভাপতি তুহিন রানা বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে যেসব শহিদ নিজেদের জীবনের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদমুক্ত, বাকস্বাধীনতা ও বহুদলীয় গণতন্ত্রভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় অবদান রেখেছেন, আমরা তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। তাদের স্মরণেই আজকের এই মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জুলাইয়ের চেতনা যেন আমাদের থেকে হারিয়ে না যায়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। যতদিন জুলাইয়ের চেতনা বেঁচে থাকবে, ততদিন বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে না।’

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাফায়েল ইমতিয়াজ ইয়ামিন বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের সেই অগ্নিঝরা ও রক্তঝরা দিনগুলোর শহিদদের স্মরণে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের উদ্যোগে শহিদ মিনারে স্মরণসভা ও মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জুলাইয়ের চেতনাকে আমরা সংরক্ষণ করব। জুলাইকে কখনো বিক্রি হতে দেব না, জুলাইকে নিয়ে কোনো ধরনের ব্যবসাও করতে দেব না। জুলাইয়ের আদর্শ রক্ষা করতে পারলে এ দেশে আর কখনো ফ্যাসিবাদ বা স্বৈরাচারের উত্থান ঘটবে না।’

তিনি বলেন, ‘মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু জুলাইয়ের প্রশ্নে আমরা সবাই এক। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান সবসময় আপসহীন।’

গাজী আজম/তামান্না রুপা/