ঢাকা ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
বেলজিয়ামের বিপক্ষে প্রথমার্ধে এগিয়ে সেনেগাল কোর্তোয়াকে পরাস্ত করে বেলজিয়ামের জালে সেনেগালের গোল লিটন-তাসকিনকে ছাড়াই বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা, অধিনায়ক হৃদয় বিশ্বকাপে পেলের রেকর্ড ভাঙলেন হ্যারি কেইন শেষ ষোলোয় মেক্সিকোর মুখোমুখি ইংল্যান্ড, ম্যাচ কবে? জোড়া গোল করে ইংল্যান্ডকে শেষ ষোলোয় তুললেন হ্যারি কেইন ইংল্যান্ডের সামনে ৬০ বছরের দুঃস্বপ্ন সোনারগাঁয় সেতুর নিচের ময়লার ভাগাড়, অতিষ্ট জনজীবন এমপাসির সেভে স্তব্ধ ইংল্যান্ড, প্রথমার্ধে এগিয়ে ডিআর কঙ্গো ইবির আইসিটি বিভাগে প্রভাষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ বর্ষার আগেই ডেঙ্গুর অশনিসংকেত: বাড়ছে রোগী, ভয়াবহতার আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের শুভেন্দু অধিকারীকে ৫০০ কেজি আম উপহার পাঠালো বাংলাদেশ সপ্তম মিনিটেই ইংল্যান্ডের জালে কঙ্গোর গোল টঙ্গীতে অস্ত্র নিয়ে মোটরসাইকেল মহড়া, গ্রেপ্তার ৩ নকআউটে ডিআর কঙ্গোর মুখোমুখি ইংল্যান্ড, একাদশে কারা? ঢাকার ৪ বাস টার্মিনাল স্থানান্তরে সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন উদ্ধারে ধীরগতি, ভেনেজুয়েলায় গভীর মানবিক বিপর্যয় জন্মহার বাড়াতে মা-বাবার জন্য অতিরিক্ত ছুটি চালু করল ফ্রান্স ভুয়া ইঞ্জিনিয়ার সেজে মোবাইল টাওয়ারে ডাকাতির ছক, গ্রেপ্তার ৪ টেকনাফে জেলের জালে মিলল ৫ কোটি ১০ লাখ টাকা মূল্যের ইয়াবা ইরানের সঙ্গে ‘খুব ভালো’ আলোচনা হয়েছে : ট্রাম্প চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব আদায় ৮১৪৭১ কোটি টাকা, প্রবৃদ্ধি ১২.৩৭ শতাংশ আখাউড়ায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ জয়পুরহাটে প্রায় ৫৩ লাখ টাকা মূল্যের যৌন উত্তেজক সিরাপ ধ্বংস রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড, এক বছরে ৩৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা কিম জং উনের সিলেটে ধর্ষণ মামলার ১৪ বছর পর আসামিদের মৃত্যুদণ্ড দিলেন আদালত নোবিপ্রবির সঙ্গে জাপানের শিজুওকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর টাঙ্গাইলে নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ মিলল পাটখেতে নতুন ৩ উপজেলা ও ১ থানা অনুমোদন, পূর্বাচলকে ঢাকায় অন্তর্ভুক্ত

রাসুলুল্লাহ (সা.) কখন, কীভাবে মেসওয়াক করতেন?

প্রকাশ: ২৫ নভেম্বর ২০২৩, ০৯:২৫ এএম
আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৭:১২ এএম
রাসুলুল্লাহ (সা.) কখন, কীভাবে মেসওয়াক করতেন?
গাছের ডাল দিয়ে বানানো মেসওয়াক। ইন্টারনেট

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মতো মেসওয়াক ব্যবহার করা সুন্নত। আসুন তার ব্যবহারের পদ্ধতি জেনে নিই। জাইতুন ও খেজুর গাছের ডাল দিয়ে মেসওয়াক করেছেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। এগুলো দিয়ে মেসওয়াক করা উত্তম। এ ছাড়া তিক্ত স্বাদযুক্ত গাছের ডাল (নিম) হলেও ভালো। মেসওয়াকে বাড়তি ফায়দা হাসিলের জন্য কাঁচা ও নরম ডাল হওয়া ভালো। মেসওয়াক হাতের আঙুলের মতো মোটা ও এক বিঘত পরিমাণ লম্বা হওয়া মুস্তাহাব; এটা আবশ্যকীয় নয়।

 

মেসওয়াক ধরার সুন্দর একটি পদ্ধতি বলেছেন সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)। তিনি বলেছেন, ডান হাতের কনিষ্ঠাঙ্গুলি মেসওয়াকের নিচে থাকবে। মধ্যমা ও তর্জনীর ওপরে ও বৃদ্ধাঙ্গুলি নিচে রেখে মেসওয়াক ধরা। এতে করে মুখের ভেতর ভালোভাবে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে মেসওয়াক করা যায়।

 

মেসওয়াক করার সুন্নতসম্মত পদ্ধতি

 

ডান হাতে মেসওয়াক নিয়ে ডান দিক থেকে মেসওয়াক শুরু করা। দাঁতে প্রস্থে ও জিহ্বায় লম্বালম্বি মেসওয়াক করা সুন্নত। (ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া, খণ্ড: , পৃষ্ঠা: ; আল বিনায়া, খণ্ড: , পৃষ্ঠা: ২০৪, আদ্দুররুল মুখতার, খণ্ড: , পৃষ্ঠা: ১১৩)

 

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা মেসওয়াক করো। কারণ মেসওয়াক মুখ পবিত্র ও পরিষ্কার করে এবং এটা মহান প্রভুর সন্তুষ্টি লাভের উপায়। আমার কাছে যখনই জিবরাইল (.) এসেছেন, তখনই আমাকে মেসওয়াক করার উপদেশ দিয়েছেন। শেষে আমার আশঙ্কা হয়, তা আমার ও আমার উম্মতের জন্য ফরজ করা হবে। আমি যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর হওয়ার আশঙ্কা না করতাম, তাহলে তাদের জন্য তা ফরজ করে দিতাম। আমি এত বেশি মেসওয়াক করি, আমার মাড়িতে ঘা হওয়ার আশঙ্কা হয়।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২৮৯, ইবনে খুজাইমা, হাদিস: ১৩৫)

 

রাসুলুল্লাহ (সা.) যে সময় মেসওয়াক করতেন: হাদিসের আলোকে জানা যায়, রাসুলুল্লাহ (সা.) দিন-রাতের বিভিন্ন সময় মেসওয়াক করতেন। যথা

. ঘুম থেকে উঠেই বা তাহাজ্জুদ আদায়ের আগে: হুজাইফা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) রাতের বেলা যখন তাহাজ্জুদ নামাজের জন্য উঠতেন, তখন মেসওয়াক দ্বারা মুখ পরিষ্কার করে নিতেন।’ (বুখারি, হাদিস: ১১৩৬; মুসলিম, হাদিস: ৫১৬)

 

. ঘরে প্রবেশ করে মেসওয়াক করতেন: আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘরে প্রবেশ করে প্রথমে মেসওয়াক করতেন (মুসলিম, হাদিস: ২৫৩)

 

. শয্যার পাশে মেসওয়াক রাখতেন: আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) শয্যার পাশে মেসওয়াক রেখে ঘুমাতেন। ঘুম থেকে উঠে প্রথমে মেসওয়াক করতেন।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ৫৯৬৯)

 

. অজুর আগে মেসওয়াক করতেন: আয়েশা (রা.) বলেন, ‘দিনে বা রাতে যখনই রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘুম থেকে জাগ্রত হতেন, অজু করার আগে মেসওয়াক করে নিতেন।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ২৪৯০০)

 

. নামাজ ও অজুর সময় মেসওয়াকের গুরুত্ব: রাসুলুল্লাহ (সা.) অজুর আগে মেসওয়াক করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। কোনো কোনো বর্ণনার ভাষ্য এমন, ‘আমার উম্মতের ওপর যদি (অধিক) কষ্টের আশঙ্কা না হতো; তাহলে আমি তাদের ওপর প্রত্যেক অজুর সময় মেসওয়াক করাকে আবশ্যকীয় করে দিতাম।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ৯৯২৮)

 

. জুমার দিনে মেসওয়াক: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির জন্য জুমার দিন গোসল ও মেসওয়াক করা কর্তব্য এবং সে সামর্থ্য অনুযায়ী সুগন্ধিও ব্যবহার করবে।’ (মুসলিম, হাদিস: ১৮৪৫)

 

মুখ অপরিষ্কার বা গন্ধযুক্ত থাকলে, কোরআন তেলাওয়াতের আগে, মসজিদে প্রবেশের আগে, কারও সঙ্গে সাক্ষাতের আগে, কোনো দ্বীনি মজলিসে বসা বা যাওয়ার আগে মেসওয়াক করার কথা বিভিন্ন হাদিস থেকে পাওয়া যায়।

 

রাসুলুল্লাহ (সা.) মৃত্যুর আগমুহূর্তেও মেসওয়াক করেছেন। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) আমার ঘরে আমার বুকে মাথা রাখা অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। তিনি অসুস্থ হলে আমাদের মধ্যকার কেউ দোয়া পড়ে তাঁকে ঝাড়ফুঁক করতেন। আমি তাকে ঝাড়ফুঁক করছিলাম এ সময় আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর এলেন। তার হাতে মেসওয়াকের একটি তাজা ডাল ছিল। রাসুলুল্লাহ (সা.) তখন সেদিকে তাকালেন। আমি বুঝতে পারলাম, তিনি মেসওয়াকের প্রয়োজন বোধ করছেন। আমি সেটি নিয়ে চিবিয়ে প্রস্তুত করে তাঁকে দিলাম। তিনি এর দ্বারা সুন্দরভাবে মেসওয়াক করলেন, যেমনটি তিনি (সুস্থতার সময়) করে থাকেন। অতঃপর তিনি তা আমাকে দিলেন। পরক্ষণই তার হাত ঢলে পড়ল। দুনিয়ার জীবনের শেষ দিনে এবং আখেরাতের প্রথম দিনে আল্লাহতায়ালা আমার থুথুকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর থুথুর সঙ্গে মিলিয়ে দিলেন। (বুখারি, হাদিস: ৪৪৫১)

 

মেসওয়াক সঙ্গে রাখা উচিত

 

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নতের অনুসরণে আমাদের সঙ্গে সব সময় মেসওয়াক রাখা উচিত। আবু সালামা (রহ.) বলেন, ‘আমি জায়েদকে (রা.) দেখেছি, তিনি মসজিদে বসে থাকতেন, আর মেসওয়াক তার কানের ওই স্থানে থাকত; যেখানে লেখকের কলম থাকে। যখনই তিনি নামাজের জন্য যেতেন মেসওয়াক করে নিতেন।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ৪৭)

 

সালেহ ইবনে কায়সান (রহ.) বলেন, ‘উবাদা ইবনে সামেত (রা.)-সহ এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অন্য সাহাবিরা চলাফেরা করার সময় তাদের কানের ওপর মেসওয়াক গুঁজে রাখতেন।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হাদিস: ১৮০৫)

 

রাসুলুল্লাহ (সা.) অজুর পানি দিয়ে দাঁতন (ভিজিয়ে) (মেসওয়াক) করতেন। (মুসনাদে আবু ইয়ালা, কানজ, খণ্ড: , পৃষ্ঠা: ২৫) তারপর তিনি আড়াআড়ি দাঁত ঘষতেন, খাড়াখাড়ি নয়; কিন্তু জিহ্বটা খাড়াখাড়ি ঘষতেন। (আবু নোয়াইম আহমাদ, তালখিস, পৃষ্ঠা: ২৩) এরপর তিনি সেটাকে ধুয়ে কানে কলম রাখার মতো কানের ওপর রাখতেন। (তাবারানি, তালখিস, পৃষ্ঠা: ২৫)

 

লেখক : আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক

 

যেভাবে চিনবেন একজন অহংকারী মানুষকে

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
যেভাবে চিনবেন একজন অহংকারী মানুষকে
ছবি: সংগৃহীত

সকালের চায়ের টেবিলে বসে কিংবা ফেসবুকের নিউজফিড স্ক্রল করতে করতে আমরা প্রায়ই ভাবি, সমাজটা এত অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে কেন? আসলে এই অসহিষ্ণুতার শেকড় লুকিয়ে আছে এক অদৃশ্য ব্যাধিতে—যার নাম অহংকার। আমরা ভাবি অহংকার মানেই হয়তো কোটি টাকার দম্ভ। কিন্তু প্রতিদিনের যাপনে, আমাদের খুব চেনা মানুষের আচরণে, এমনকি নিজের অজান্তেই এই আত্মগর্বের বিষবাষ্প ছড়িয়ে পড়ছে।

ইসলামি পরিভাষায় একে কিবির, তাকাব্বুর বা ইস্তিকবার বলা হয়। ইমাম রাগিব আল-আসবাহানির মতে, অহংকার হলো নিজের প্রতি এমন এক মুগ্ধতা, যা মানুষকে অন্যদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ভাবায়। আর এর চূড়ান্ত রূপ হলো সত্যকে অস্বীকার করে স্রষ্টার অবাধ্য হওয়া। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) খুব চমৎকারভাবে বলেছেন, মানুষের সব নিন্দনীয় চরিত্রের মূল উৎসই হলো অহংকার ও হীনতা।

বাস্তব জীবনে একটু লক্ষ্য করলেই অহংকারের নানা রূপ আমাদের চোখে পড়বে। এর সবচেয়ে বড় লক্ষণ হলো সত্যকে মেনে না নেওয়া। পবিত্র কোরআনে সুরা আন-নামলের ১৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, মানুষ অন্যায় ও অহংকারবশত সত্যকে অস্বীকার করে। আবার সমাজে অনেকে নিজের ক্ষমতা, পদবি বা শক্তির দম্ভ দেখান, যেমনটা করেছিল প্রাচীন আদ জাতি (সুরা ফুসসিলাত: ১৫)। এছাড়া অন্যের সাফল্যে হিংসা করা, অবজ্ঞাভরে পথ চলা (সুরা আল-ইসরা: ৩৭) কিংবা নিজের আমলকে সবসময় শ্রেষ্ঠ মনে করাও অহংকারের স্পষ্ট রূপ। এমনকি রাসুলুল্লাহ (সা.) সতর্ক করেছেন, কেউ যদি নিজের সম্মানে অন্যদের দাঁড়িয়ে থাকা পছন্দ করে, সে যেন জাহান্নামে নিজের আসন অবধারিত করে নেয় (আবু দাউদ, ৫২২৯)।

কিন্তু যাপিত জীবনে একজন অহংকারী মানুষকে আপনি চিনবেন কীভাবে? মনস্তাত্ত্বিক ও আচরণগত কিছু চেনার উপায় নিচে দেওয়া হলো:

জনসমক্ষে একা চলতে অপছন্দ করা এবং সবসময় পেছনে অনুসারী বা চামচাবৃত দল রাখতে চাওয়া।

গরিব বা সাধারণ মানুষের দাওয়াত এড়িয়ে চলা এবং সমমানের না হলে অন্যের বাড়িতে যেতে অস্বস্তি বোধ করা।

অসুস্থ, দুর্বল বা নিম্নবিত্ত মানুষের পাশে বসলে নিজের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার ভয় পাওয়া।

তর্কে নিজের ভুল প্রমাণিত হওয়ার পরও তা মেনে না নেওয়া এবং ভুল ধরিয়ে দেওয়া ব্যক্তিকে শত্রু মনে করা।

নিজের সাধারণ কাজ বা বাজার নিজে বহন করতে লজ্জাবোধ করা।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, অহংকার হলো এক প্রকার মিথ্যা শ্রেষ্ঠত্বের মরিচীকা, যা মানুষকে মানুষের থেকে এবং পরিশেষে স্রষ্টার রহমত থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। এর একমাত্র প্রতিষেধক হলো—নিজের ক্ষুদ্রতা অনুধাবন করা, বিনয়ী হওয়া এবং সত্যকে অবলীলায় মেনে নেওয়ার মানসিকতা তৈরি করা।

 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

কবরের ৩ পরীক্ষা ছাড়াই পার পেয়ে যাবেন যারা

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
কবরের ৩ পরীক্ষা ছাড়াই পার পেয়ে যাবেন যারা
ছবি: সংগৃহীত

পরীক্ষার হলে বসার আগেই যদি জানা যায় কিছু বিশেষ কারণে পুরো প্রশ্নপত্রই মাফ হয়ে গেছে, তবে কেমন লাগবে? দুনিয়ার পরীক্ষায় এমনটা না ঘটলেও, পরকালের প্রথম স্টেশন ‘কবর’-এর চূড়ান্ত পরীক্ষায় কিন্তু এই সুযোগ রয়েছে। ইসলামি আকিদা অনুযায়ী, অন্ধকার কবরে প্রত্যেক মানুষকে তার রব, দীন ও নবী সম্পর্কে তিনটি মৌলিক প্রশ্ন করা হবে। যার উত্তর মিললে কবর হবে জান্নাতের বাগান, নতুবা জাহান্নামের গর্ত।

ব্যস্ত এই নাগরিক জীবনে আমরা কতশত পরীক্ষার প্রস্তুতি নিই। কিন্তু মাটির নিচের সেই অনিবার্য পরীক্ষার প্রস্তুতি কতটুকু? তবে আনন্দের কথা হলো, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস অনুযায়ী এমন কিছু সৌভাগ্যবান মানুষ রয়েছেন, যাদের কবরে এই কঠিন জেরার মুখোমুখি হতেই হবে না।
রেফারেন্সসহ দেখে নেওয়া যাক সেই মহান ব্যক্তিদের তালিকা:

১. নবি-রাসুলগণ: বিখ্যাত ইসলামিক স্কলার ইবনুল কায়্যিম জাওজি (রহ.) তার 'আর-রুহ' কিতাবের ১১০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন, অধিকাংশ আলেমের মতে, নবি-রাসুলদের কবরে কোনো প্রশ্ন করা হবে না। কারণ তাঁরা নিজেই ছিলেন দুনিয়াতে আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষক।

২. জীবন উৎসর্গকারী শহিদ: যারা আল্লাহর জমিনে দ্বিন প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে শহিদ হন, তাঁদের কোনো প্রশ্ন করা হবে না। সুনানে নাসায়ির ২০৫৩ নম্বর হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে এর কারণ জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, যুদ্ধের মাঠে শহীদের মাথার ওপর তরবারির ঝলকানিই কবরের পরীক্ষা থেকে নিরাপদ থাকার জন্য যথেষ্ট।

৩. দেশের সীমান্ত প্রহরী: দেশের বা ইসলামি রাষ্ট্রের সীমানা পাহারা দেওয়া অবস্থায় যাদের মৃত্যু হয়, তাঁরাও এই দায় থেকে মুক্ত। সুনানে নাসায়ির ৩১৬৭ নম্বর হাদিস অনুযায়ী, সীমান্ত পাহারা দেওয়া অবস্থায় মৃত ব্যক্তি কবরের যাবতীয় ফিতনা ও জিজ্ঞাসাবাদ থেকে সুরক্ষিত থাকবেন।

৪. জুমার দিনে মৃত্যু: সপ্তাহের সেরা দিন জুমার বার। এই দিনে বা রাতে কোনো মুসলিম মারা গেলে তিনি বিশেষ সুবিধা পান। সুনানে তিরমিজির ১০৭৪ নম্বর হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, জুমার দিনে বা রাতে কোনো মুসলিম মারা গেলে আল্লাহ তাকে কবরের আজাব ও ফিতনা থেকে রক্ষা করেন। কবর হলো অনন্তকালের প্রবেশদ্বার। দুনিয়ার সাময়িক জীবনের আমলই নির্ধারণ করবে এই প্রবেশদ্বারটি আমাদের জন্য শান্তির হবে নাকি শাস্তির।

৫. পেটের পীড়ায় মৃত্যু: শুনতে অবাক লাগলেও পেটের অসুখে ভুগে মারা যাওয়া ব্যক্তিও এই ছাড় পাবেন। মুসনাদে আহমদের ১৮৩১০ নম্বর হাদিসে নবীজি (সা.) স্পষ্ট করেছেন যে, যাকে পেটের রোগ হত্যা করেছে, কবরে তাকে শাস্তি বা জেরার মুখোমুখি হতে হবে না।

৬. সুরা মুলকের নিয়মিত পাঠক: যারা প্রতি রাতে নিয়ম করে সুরা মুলক তিলাওয়াত করেন, এই সুরাটি স্বয়ং কবরে এসে তাদের পাহারা দেবে। সুনানে তিরমিজির ২৮৯০ নম্বর হাদিসে এই সুরাটিকে ‘নাজাত দানকারী’ বা মুক্তিদাতা বলা হয়েছে, যা পাঠককে কবরের আজাব থেকে বাঁচায়।

মৃত্যু চিরন্তন সত্য। তবে আমরা যদি সুরা মুলক তিলাওয়াতের মতো আমলগুলো জীবনে নিয়মিত করতে পারি, তবে কবরের সেই অন্ধকার প্রকোষ্ঠেও মিলতে পারে পরম মুক্তি। আল্লাহ আমাদের সেই তাওফিক দিন। আমিন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

বিয়ের রাতে সবচেয়ে বড় অবিচার হয় যে কাজে

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ১০:১৬ এএম
বিয়ের রাতে সবচেয়ে বড় অবিচার হয় যে কাজে
ছবি: সংগৃহীত

বিয়ের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ। কাবিননামায় লেখা হলো কয়েক লাখ টাকার দেনমোহর। কিন্তু এর পরই শুরু হয় এক অদ্ভুত বাস্তবতা–কেউ বলেন, এই টাকা মেয়ের বাবার কাছে থাকবে; কেউ বলেন, সংসারের প্রয়োজনে স্বামীই ব্যবহার করবে; আবার কোথাও মেয়েটি নিজেই জানে না, এই টাকার প্রকৃত মালিক আসলে কে!

অথচ ইসলাম আজ থেকে চৌদ্দ শত বছর আগেই এ প্রশ্নের সুস্পষ্ট উত্তর দিয়ে দিয়েছে। দেনমোহর কোনো পারিবারিক উপহার নয়, এটি একজন নারীর সম্মান, নিরাপত্তা এবং তার ব্যক্তিগত অধিকার। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, ‘সুতরাং তাদের মধ্যে তোমরা যাদেরকে বিবাহ করেছ, তাদের নির্ধারিত মোহর তাদেরকে প্রদান করো।’ (সুরা আন-নিসা, ২৪)

এ আয়াতে তাদেরকে শব্দটি সরাসরি স্ত্রীদের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থাৎ, দেনমোহরের মালিক স্ত্রী নিজেই। তার বাবা-মা, ভাই-বোন কিংবা অন্য কোনো আত্মীয়ের এতে কোনো স্বত্ব নেই, যদি না স্ত্রী স্বেচ্ছায় কাউকে তা প্রদান করেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনেও এই সৌন্দর্যময় নীতি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি নারীর আর্থিক স্বাধীনতাকে সম্মান করতেন এবং কখনো দেনমোহরকে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কোনো প্রথা চালু করেননি। বরং দেনমোহর ছিল নারীর প্রতি সম্মান ও ভালোবাসার প্রতীক।

এ কারণেই আল্লাহতায়ালা আরও বলেন, তোমরা তাদেরকে যা প্রদান করেছ, তার কোনো অংশ ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য তাদেরকে বাধ্য করো না। (সুরা আন-নিসা, ১৯)
এই আয়াত প্রমাণ করে, একবার দেনমোহর স্ত্রীর হাতে পৌঁছে গেলে সেটি তার ব্যক্তিগত সম্পদে পরিণত হয়। স্বামী চাইলে জোর করে তা ফেরত নিতে পারেন না, এমনকি স্ত্রীর পরিবারও তার অনুমতি ছাড়া এর ওপর কোনো দাবি করতে পারে না।

বর্তমান সমাজে অনেক নারী নিজের অধিকার সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে দেনমোহরের টাকা থেকে বঞ্চিত হন। কেউ সামাজিক চাপে তা বাবা-মায়ের হাতে তুলে দেন, আবার কেউ স্বামীর প্রয়োজনে দিয়ে পরে আর ফেরত পান না। অথচ ইসলামের দৃষ্টিতে দেনমোহর নারীর অর্থনৈতিক মর্যাদার এক অনন্য স্বীকৃতি।

বিয়ে শুধু দুটি হৃদয়ের বন্ধন নয়; এটি অধিকার ও দায়িত্বেরও চুক্তি। আর সেই চুক্তির সবচেয়ে সুন্দর দিকগুলোর একটি হলো–ইসলাম একজন নারীকে বিয়ের মুহূর্তেই এমন একটি সম্পদের মালিক বানিয়েছে, যার ওপর তার একচ্ছত্র অধিকার প্রতিষ্ঠিত। এই অধিকার রক্ষা করাই সুন্নাহ, আর তা অস্বীকার করা অন্যায়।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

১ জুলাই ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ এএম
১ জুলাই ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুলাই, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুলাইর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুলাইর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ১ জুলাই ২০২৬, বুধবার ঢাকা পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০ মিনিট

 

আসর

৪.৪২ মিনিট

মাগরিব

৬.৪ মিনিট

 

এশা

৮.২০ মিনিট

 

ফজর (২ জুলাই)

.৪৮ মিনিট

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: মিনিট

সিলেট: মিনিট

যোগ

খুলনা: মিনিট

রাজশাহী: মিনিট

রংপুর: মিনিট

বরিশাল: মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ঋণের নামে আধুনিক বিলাসিতা কী বলে ইসলাম

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
ঋণের নামে আধুনিক বিলাসিতা কী বলে ইসলাম
ছবি: সংগৃহীত

বুকের ওপর পাহাড়সম ঋণের বোঝা নিয়ে রাতে শান্তিতে ঘুমানো যায় না—এ কথাটি কেবল কোনো প্রবাদ নয়, এটিই চরম বাস্তব। অথচ আজকের যুগে আমাদের চারপাশে তাকালে সম্পূর্ণ উল্টো এক চিত্র দেখা যায়। পকেটে টাকা নেই, কিন্তু ক্রেডিট কার্ড ঘষে আইফোন কেনা চাই; সামর্থ্য নেই, তবুও ব্যাংক লোন নিয়ে ধুমধাম করে কোটি টাকার বিয়ের আয়োজন চাই। আগে ভোগ, পরে পরিশোধ’—এই করপোরেট সংস্কৃতির জোয়ারে ভেসে ঋণ নেওয়াটাকে আজ আমরা বড্ড মামুলি বা ফ্যাশন বানিয়ে ফেলেছি। কিন্তু আমাদের এই তথাকথিত আধুনিক লাইফস্টাইল ইসলামের চিরন্তন বিধানের সাথে কতটা সাংঘর্ষিক, তা কখনো ভেবে দেখেছি কি?

পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা হিসেবে ইসলাম সমাজে পারস্পরিক সহযোগিতার জন্য করজে হাসানা বা সুদমুক্ত ঋণের চমৎকার ব্যবস্থা রেখেছে। সুরা তাগাবুনের ১৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘কে সে, যে আল্লাহকে করজে হাসানা প্রদান করবে, ফলে তিনি তা বহুগুণে বৃদ্ধি করে দিবেন।’ এমনকি অভাবীর কষ্ট লাঘবের সওয়াব সম্পর্কে মুসলিম শরিফের ২৬৬৯ নম্বর হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের দুনিয়াবী বিপদ দূর করবে, আল্লাহ তার আখিরাতের বিপদ দূর করবেন। ইসলাম ঋণকে উৎসাহিত করে, তবে তা কেবলই প্রকৃত অভাবগ্রস্তদের জন্য, বিলাসিতার জন্য নয়। আর সেই লেনদেনও সুরা বাকারার ২৮২ নম্বর আয়াত অনুযায়ী লিখিতভাবে করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজকের সমাজে ঋণ আর অভাবের তাড়নায় সীমাবদ্ধ নেই। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাই আয়ের বাইরে গিয়ে আয়েশী জীবন কাটাতে ব্যাংক, এনজিও বা ফাইন্যান্স কোম্পানির সুদের জালে জড়াচ্ছে। অথচ শরিয়তে ঋণ পরিশোধ না করার ব্যাপারে এসেছে শিউরে ওঠার মতো হুঁশিয়ারি। বুখারি শরিফের ২৪৫ নম্বর হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি পরিশোধের নিয়তে ঋণ নেয়, আল্লাহ তাকে সাহায্য করেন; আর যে আত্মসাতের উদ্দেশ্যে নেয়, আল্লাহ তাকে ধ্বংস করেন। অন্য এক হাদিসে (বুখারি, ২২৯৫) দেখা যায়, কোনো মৃত ব্যক্তির ঋণ থাকলে আল্লাহর রাসুল (সা.) স্বয়ং তাঁর জানাজা পড়াতে অস্বীকৃতি জানাতেন এবং সাহাবিদের বলতেন তোমরা তোমাদের সঙ্গীর জানাজা পড়ে নাও।

একজন মানুষ আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হওয়ার পর যদি পুনরায় জীবিত হয়ে আবারও শহীদ হয়, তবুও ঋণ পরিশোধ না করা পর্যন্ত সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। (মুস্তাদরাকে হাকিম, ২২১২)। বান্দার হক বা ঋণ এমন এক বিষয়, যা অন্য কোনো নেক আমল দিয়ে মাফ হয় না, যতক্ষণ না পাওনাদার তা মাফ করেন। তবে কেউ যদি ঋণ থেকে মুক্তি চায়, তবে তাকে হালাল উপার্জনে যত্নশীল হতে হবে।

সুনানে তিরমিজির ৩৫৬৩ নম্বর হাদিসে হযরত আলী (রা.) রাসুল (সা.)-এর শেখানো একটি দোয়া উল্লেখ করেছেন, যা নিয়মিত পড়লে পাহাড় সমান ঋণও আল্লাহ নিজ দায়িত্বে পরিশোধের ব্যবস্থা করে দেন: ‘আল্লাহুম্মাকফিনি বিহালালিকা আন হারামিকা, ওয়া আগনিনি বিফাদলিকা আম্মান সিওয়াকা।’

অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি হারাম থেকে বাঁচিয়ে হালালকে আমার জন্য যথেষ্ট করুন এবং আপনার অনুগ্রহ দ্বারা আমাকে অন্য সবার মুখাপেক্ষী হওয়া থেকে মুক্ত করুন।
চাদর বুঝে পা ফেলার মাঝেই আসল শান্তি। আসুন, অপ্রয়োজনীয় বিলাসিতা ও ঋণের ফাঁদ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখি এবং সমাজের প্রকৃত অভাবীদের পাশে দাঁড়াই। আল্লাহ আমাদের ঋণমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন জীবন দান করুন। আমিন।


লেখক: মুফতি ও মুহাদ্দিস জামিয়া ইমাম বুখারী,উত্তরা,ঢাকা