মাহরাম ছাড়া নারীদের যেকোনো সফরের ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। (বুখারি, ৩০০৬, ৫২৩৩)
অধিকাংশ ফকিহদের মতে, মাহরাম ছাড়া নারীর জন্য উমরা করা জায়েজ নয়। (সুনানে দারাকুতনি, ২/১৯৯)
কোনো নারী যদি মাহরাম ছাড়া উমরা পালন করেন, মাকরুহে তাহরিমির সঙ্গে তা বিশুদ্ধ হবে। (দুররে মুখতার, ৩/৪৬৫)
এ ছাড়া কোনো ধরনের ফেতনার আশঙ্কা থাকলে কারও সঙ্গে উমরার সফরে যাওয়া বৈধ হবে না। (ফতোয়ায়ে তাতারখানিয়া, ৩/৪৭৫)
কোনো নারীর ওপর হজ ফরজ হওয়ার পর নির্ভরযোগ্য মাহরাম না পাওয়া পর্যন্ত হজ পালন আবশ্যক নয়। মাহরামের জন্য অপেক্ষায় থাকতে হবে। এ বিলম্বের কারণে তার গুনাহ হবে না। (ইমদাদুল ফতোয়া, ২/১৫৬) অধিকাংশ ফকিহ বলেছেন, উমরার ক্ষেত্রেও একই বিধান।
✓ওষুধ খেয়ে নারীর মাসিকে পরিবর্তন ঘটানো উচিত নয়। তবে ওষুধ খেয়ে মাসিক বন্ধ রাখারও অবকাশ রয়েছে। (কিতাবুল মাসায়েল, ৩/৪৩৮)
✓অনেকে বলেন, উমরার সফরে কোনো পর্দা নেই—এটা ভুল কথা। তাওয়াফকালীন মুখ খোলা রাখা ছাড়া সব সময় পর্দার প্রতি যত্নবান থাকা উচিত। (ফতোয়ায়ে শামি, ৩/৪৪৮)
✓ হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করা, মুলতাজামে দাঁড়িয়ে দোয়া করা কিংবা মাকামে ইবরাহিমের কাছে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ার জন্য অনেক নারী পাগলামি করেন, নির্দ্বিধায় পুরুষদের ভিড়ের ভেতর ঢুকে যান। চার দিক থেকে পুরুষের ধাক্কা খাওয়ার পরও এসব করেন। নারীদের জন্য পরপুরুষের মধ্যে এভাবে ঢোকা হারাম। এসব কাজ করতে গিয়ে কোনো ধরনের গুনাহে জড়ানো উচিত নয়। (কিতাবুল মাসায়েল, ৩/৪৪০)
✓মসজিদে হারামে এবং মসজিদে নববিতে নারীদের নামাজের আলাদা জায়গা রয়েছে। নারীরা নির্ধারিত স্থানে নামাজে দাঁড়াবেন। কোনোভাবেই পুরুষের সঙ্গে মিলেমিশে নামাজে দাঁড়াবেন না। এ ছাড়া মসজিদে নববিতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর রওজা জিয়ারতে ও রিয়াজুল জান্নাহতে নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে মসজিদ কর্তৃপক্ষর নির্দেশনা মেনে চলা আবশ্যক।
✓মসজিদে হারাম ও মসজিদে নববিতে নারীরা জানাজায় শরিক হতে পারবেন। (ফতোয়ায়ে শামি, ৩/৯৮)
✓নারী উমরাযাত্রীদের পোশাক নিয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সৌদি আরবের হজ ও উমরাবিষয়ক মন্ত্রণালয়। সুতরাং এ বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে উমরার জন্য নারীদের পোশাক নির্বাচন করতে হবে।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক