ঢাকা ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলার ধৈর্যই আমাদের জয়ের চাবিকাঠি:  স্পেনের কোচ দে লা ফুয়েন্তে জবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষ, সাংবাদিকসহ আহত ১৩ বিরতি ভেঙে ফিরছেন বুবলি নামাজের শেষ মুহূর্তের এক মহামূল্যবান সুযোগ তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সমীক্ষা সম্পন্ন: পানিসম্পদ মন্ত্রী কলকাতার নন্দনে নন্দিত বাংলাদেশের ‘সম্পর্ক’ মহাকালের পটে এক ঋজু পদচ্ছাপ: আবুল কাসেম ফজলুল হক ও বাঙালির মননবিশ্বের বিবর্তন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৫৪ গবেষকের পিএইচডি-এমফিল ডিগ্রি অর্জন এআই অ্যান্ড ডেটা সায়েন্সে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রাম চালু করল আইএসইউ মির্জা শরফউদ্দীন বেগ (রহ.)-এর স্মরণে বরিশালে দোয়া মাহফিল মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আক্ষেপ থেকেই যাবে! যাত্রীসেবায় আরও যত্নশীল হোক রেলওয়ে বাজেট প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা নাকি সংস্কারের হারানো সুযোগ ঢলে ভাসছে চকরিয়া-পেকুয়া, পাহাড়ধসে শিশুর মৃত্যু ‘বিড়ালের অভিশাপে’ বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছে ব্রাজিল রাঙামাটিতে পাহাড়ধস ও ভূমিধসের শঙ্কা, প্রস্তুত ৪৪ আশ্রয়কেন্দ্র মেসি ও সালাহর সামনে রেকর্ডের হাতছানি জয়পুরহাটে ট্রাক-অটোরিকশা মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৫ ভূমিরূপ পরিবর্তন অধ্যায়ের ১১টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র সদাচারী জ্ঞানসাধক আবুল কাসেম ফজলুল হক কিনব্রিজের পাদদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর উদযাপন চট্টগ্রামে দেয়ালধসে নিহত ১, শিশুসহ আহত তিন টানা বৃষ্টির প্রভাব, চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল ব্যাহত বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সংস্থার সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম অধ্যায়ের ১টি সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, এইচএসসির সমাজকর্ম ২য় পত্র অবিরাম বৃষ্টিতে ঝুঁকিতে বান্দরবান, খোলা হলো ২২০ আশ্রয়কেন্দ্র কারণ জানুন বিশ্ববাজারে ব্যবসা বাড়াতে নতুন রূপে ‘টিপসই’ মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জার্সিতে যেভাবে শুরু হয়েছিল মেসি-অধ্যায় এআই ও ডেটা সায়েন্সে স্নাতক প্রোগ্রাম চালু করল আইএসইউ

নারীর উমরার বিধান

প্রকাশ: ০৫ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৬:৩০ পিএম
আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৭:১৪ এএম
নারীর উমরার বিধান
কাবাঘরের দিকে অপলক তাকিয়ে আছেন একজন নারী। ইন্টারনেট

মাহরাম ছাড়া নারীদের যেকোনো সফরের ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। (বুখারি, ৩০০৬, ৫২৩৩)

 

অধিকাংশ ফকিহদের মতে, মাহরাম ছাড়া নারীর জন্য উমরা করা জায়েজ নয়। (সুনানে দারাকুতনি, ২/১৯৯)

 

কোনো নারী যদি মাহরাম ছাড়া উমরা পালন করেন, মাকরুহে তাহরিমির সঙ্গে তা বিশুদ্ধ হবে। (দুররে মুখতার, ৩/৪৬৫)

 

এ ছাড়া কোনো ধরনের ফেতনার আশঙ্কা থাকলে কারও সঙ্গে উমরার সফরে যাওয়া বৈধ হবে না। (ফতোয়ায়ে তাতারখানিয়া, ৩/৪৭৫)

 

কোনো নারীর ওপর হজ ফরজ হওয়ার পর নির্ভরযোগ্য মাহরাম না পাওয়া পর্যন্ত হজ পালন আবশ্যক নয়। মাহরামের জন্য অপেক্ষায় থাকতে হবে। এ বিলম্বের কারণে তার গুনাহ হবে না। (ইমদাদুল ফতোয়া, ২/১৫৬) অধিকাংশ ফকিহ বলেছেন, উমরার ক্ষেত্রেও একই বিধান

 

ওষুধ খেয়ে নারীর মাসিকে পরিবর্তন ঘটানো উচিত নয়। তবে ওষুধ খেয়ে মাসিক বন্ধ রাখারও অবকাশ রয়েছে। (কিতাবুল মাসায়েল, ৩/৪৩৮)

 

অনেকে বলেন, উমরার সফরে কোনো পর্দা নেই—এটা ভুল কথা। তাওয়াফকালীন মুখ খোলা রাখা ছাড়া সব সময় পর্দার প্রতি যত্নবান থাকা উচিত। (ফতোয়ায়ে শামি, ৩/৪৪৮)

 

হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করা, মুলতাজামে দাঁড়িয়ে দোয়া করা কিংবা মাকামে ইবরাহিমের কাছে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ার জন্য অনেক নারী পাগলামি করেন, নির্দ্বিধায় পুরুষদের ভিড়ের ভেতর ঢুকে যান। চার দিক থেকে পুরুষের ধাক্কা খাওয়ার পরও এসব করেন। নারীদের জন্য পরপুরুষের মধ্যে এভাবে ঢোকা হারাম। এসব কাজ করতে গিয়ে কোনো ধরনের গুনাহে জড়ানো উচিত নয়। (কিতাবুল মাসায়েল, ৩/৪৪০)

 

মসজিদে হারামে এবং মসজিদে নববিতে নারীদের নামাজের আলাদা জায়গা রয়েছে। নারীরা নির্ধারিত স্থানে নামাজে দাঁড়াবেন। কোনোভাবেই পুরুষের সঙ্গে মিলেমিশে নামাজে দাঁড়াবেন না। এ ছাড়া মসজিদে নববিতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর রওজা জিয়ারতে ও রিয়াজুল জান্নাহতে নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে মসজিদ কর্তৃপক্ষর নির্দেশনা মেনে চলা আবশ্যক। 

 

মসজিদে হারাম ও মসজিদে নববিতে নারীরা জানাজায় শরিক হতে পারবেন। (ফতোয়ায়ে শামি, ৩/৯৮)

 

নারী উমরাযাত্রীদের পোশাক নিয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সৌদি আরবের হজ ও উমরাবিষয়ক মন্ত্রণালয়। সুতরাং এ বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে উমরার জন্য নারীদের পোশাক নির্বাচন করতে হবে। 

 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

 

নামাজের শেষ মুহূর্তের এক মহামূল্যবান সুযোগ

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
নামাজের শেষ মুহূর্তের এক মহামূল্যবান সুযোগ
ছবি: সংগৃহীত

সবচেয়ে প্রিয় কোনো মানুষের সামনে দাঁড়ালে আমরা কত কথাই না বলতে চাই! মনের ভেতরের জমে থাকা কষ্ট, চাওয়া-পাওয়া কিংবা গোপন অভিমানগুলো উজাড় করে দিতে মন ব্যাকুল হয়ে ওঠে। অথচ মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় সম্রাট, আমাদের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহর সামনে আমরা দৈনিক পাঁচবার দাঁড়াই। কিন্তু আফসোস, সালাম ফিরিয়েই আমরা বড্ড তাড়াহুড়ো করে জায়নামাজ ছেড়ে দিই।

আমরা কি জানি, নামাজের ভেতরেই এমন এক মাহেন্দ্রক্ষণ রয়েছে, যখন মহান আল্লাহ বান্দার মনের যেকোনো বৈধ চাওয়া পূরণ করতে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন? সেটি হলো–নামাজের শেষ বৈঠকে সালাম ফেরানোর ঠিক পূর্বমুহূর্ত।

সালাম ফেরানোর আগে নিজের পছন্দমতো দোয়া করা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এক অনন্য ও অবহেলিত সুন্নাহ। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা যখন নবি করিম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পিছনে নামাজ পড়তাম (তখন তিনি তাশাহহুদের নিয়ম শেখাতেন)। শেষে বললেন, অতঃপর (তাশাহহুদ ও দরুদের পর) প্রত্যেকে নিজের পছন্দমতো দোয়া বেছে নিয়ে দোয়া করবে। (বুখারি, ৮৩৫)

অনেকেই মনে করেন, নামাজের ভেতরে শুধু নির্দিষ্ট আরবি দোয়াই পড়তে হবে। কিন্তু এই হাদিসটি আমাদের শেখায় যে, তাশাহহুদ ও দরুদ পাঠের পর বান্দা তার ইহকাল ও পরকালের যেকোনো কল্যাণকর বিষয় আল্লাহর কাছে চাইতে পারে। কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত দোয়ার পাশাপাশি নিজের মনের আকুতিগুলো দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর দরবারে পেশ করার এটাই শ্রেষ্ঠ সময়।

ব্যস্ত এই জীবনে আমাদের চাওয়ার শেষ নেই–কারও প্রয়োজন রিজিকের বরকত, কারও মনের শান্তি, আবার কারও বা মা-বাবার সুস্থতা। এসব চাওয়া পূরণের জন্য নামাজের শেষের এই সময়টুকু এক মোক্ষম সুযোগ। তাই আসুন, নামাজের শেষ বৈঠকে তড়িঘড়ি না করে, অন্তত কয়েকটা মিনিট সময় নিয়ে হৃদয়ের সবটুকু আবেগ ঢেলে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি। সুন্নাহর এই সুন্দর আমলটি আমাদের জীবনকে বদলে দিতে পারে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

‘আল্লাহ কোথায় আছেন?’

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম
‘আল্লাহ কোথায় আছেন?’
ছবি: সংগৃহীত

একটুখানি ভুলের জন্য কি অনুশোচনায় আপনার বুকটা কখনো ভেঙে এসেছে? মনে হয়েছে, ইশ! যদি অতীতটা বদলে দেওয়া যেত! সাহাবি মুয়াবিয়াহ ইবনুল হাকাম (রা)-এর জীবনেও তেমন একটা মুহূর্ত এসেছিল, যখন তিনি রাগের মাথায় নিজের দাসীকে আঘাত করে বসেন। এই ভুলের কাফফারা হিসেবে তিনি তাকে মুক্ত করতে চাইলেন।

কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সা.) মুক্তির আগে দাসীটির ঈমান পরীক্ষা করতে চাইলেন। রাসুল (সা.) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আল্লাহ কোথায় আছেন? দাসীটি হাত উঁচিয়ে আকাশের দিকে ইশারা করে বলল, আকাশে। আল্লাহর রাসুল (সা.) তখন বললেন, ওকে মুক্ত করে দাও, কারণ সে মুমিনা। (আবু দাউদ, ৩২৮২)।

এই ছোট্ট ঘটনাটি আমাদের সামনে এক অনন্য ও জীবন্ত সুন্নাহর দুয়ার খুলে দেয়। দৈনন্দিন জীবনে আমরা যখনই কোনো সংকটে পড়ি, তখন চারপাশের মানুষের কাছে ছুটে যাই। কিন্তু এই হাদিস আমাদের শেখায়, আমাদের সমস্ত আকুতি, আশা আর ভরসার মূল কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত ঊর্ধ্বমুখী।

রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে সিজদায় গিয়ে বলতেন, অর্থাৎ পবিত্র মহান আমার রব, যিনি সর্বোচ্চ (মুসলিম)। যখনই কোনো মজলুমের চোখ থেকে জল ঝরে, সে কিন্তু আকাশের দিকেই তাকায়। কারণ, মানব ফিতরাত বা সহজাত স্বভাবই বলে দেয়–সাহায্য ওপর থেকেই আসে।

পবিত্র কোরআনেও আল্লাহতায়ালা বলেছেন, যিনি আসমানে আছেন, তিনি তোমাদেরসহ জমিন ধসিয়ে দেওয়া থেকে কি তোমরা নিরাপদ হয়ে গেছ? (সুরা আল-মুলক, ১৬)।
এই সুন্নাহর বাস্তব আমল হলো যেকোনো পরিস্থিতিতে অন্তরে এই বিশ্বাস রাখা যে, আমার রব আরশের ওপর সমুন্নত থেকে আমাকে দেখছেন (বুখারি, ৭৪৫৩)।

কষ্টের মুহূর্তে মানুষের দ্বারে দ্বারে না ঘুরে, হাত দুটো ওপরে তুলে আল্লাহর কাছে সমর্পণ করাই হলো রাসুলের শেখানো পথ। এই বিশ্বাস অন্তরে লালন করে জীবনের প্রতিটি সংকটে আকাশের মালিকের দিকেই মুখ ফিরাই।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

সাহাবিদের গল্প-০৫ বিলাসী যুবক থেকে ছেঁড়া চাদরের শহিদ

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ১১:০২ এএম
বিলাসী যুবক থেকে ছেঁড়া চাদরের শহিদ
ছবি: সংগৃহীত

মক্কার অলিগলিতে যখন তিনি হেঁটে যেতেন, মানুষ ঘুরে তাকাত। দামি পোশাক, উন্নত সুগন্ধি, পরিপাটি চুলধনাঢ্য পরিবারের আদরের সন্তান মুসআব ইবনে উমাইর ছিলেন মক্কার তরুণদের মধ্যে সবচেয়ে পরিপাটি বিলাসী। সিরাত ও ইতিহাসগ্রন্থগুলো (তাবাকাতে ইবনে সাদ) তার এই বিলাসী জীবনের বিবরণ দিয়েছে, মা তাকে রাখতেন রাজপুত্রের মতো করে।

তারপর একদিন তিনি শুনলেন কোরআনের আহ্বান। ঈমান আনলেন। আর সঙ্গে সঙ্গে হারালেন সব মা তাকে বন্দি করলেন, সম্পদ থেকে বঞ্চিত করলেন, ঘর থেকে তাড়িয়ে দিলেন। সেই কোমল শরীরে উঠল মোটা, তালি দেওয়া কাপড়। কিন্তু অন্তরে? অন্তরে তখন এমন ঐশ্বর্য, যা মক্কার সব সোনা দিয়েও কেনা যায় না।

এই যুবকই হলেন ইসলামের প্রথম রাষ্ট্রদূতহিজরতের আগে মদিনায় গিয়ে যিনি ঘরে ঘরে ইসলামের আলো পৌঁছে দিয়েছিলেন। তারপর উহুদের ময়দান। ইসলামের পতাকা হাতে লড়তে লড়তে শহিদ হলেন মুসআব।

দাফনের সময় ঘটল হৃদয়বিদারক ঘটনাটি। খাব্বাব ইবনুল আরাত রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ‘মুসআব উহুদের দিন শহিদ হলেন, অথচ তাকে কাফন দেওয়ার মতো একটি চাদর ছাড়া কিছুই পেলাম না। সেই চাদরে মাথা ঢাকলে পা বেরিয়ে যায়, পা ঢাকলে মাথা। তখন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, চাদরে তার মাথা ঢেকে দাও, আর পায়ের ওপর ইজখির ঘাস বিছিয়ে দাও।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস ১২৭৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৯৪০)

যে যুবকের একেকটি পোশাকের দাম ছিল বিপুল, তার কাফনের কাপড়টুকুও পুরো হলো না! দুনিয়ার হিসাবে এ কী ভয়ংকর ‘লোকসান’। অথচ আখিরাতের পাল্লায়? খাব্বাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলছেন, আমাদের কেউ কেউ পুরস্কারের কিছুই দুনিয়াতে ভোগ না করে চলে গেছেন; মুসআব তাদেরই একজন। তার পূর্ণ প্রতিদান জমা রইল আল্লাহর কাছে।

আজ আমাদের সারা জীবন কাটে ব্র্যান্ড, ব্যালান্স আর স্ট্যাটাসের পেছনে ছুটে। মুসআব রাদিয়াল্লাহু আনহু প্রশ্ন রেখে গেলেন, যে পোশাক কবরে যাবে না, তার জন্য এত আয়োজন; আর যে আমল কবরে সঙ্গী হবে, তার জন্য কতটুকু?

হে আল্লাহ! দুনিয়াকে আমাদের হাতে রাখুন, অন্তরে নয়। আমাদের শেষ পরিণতি মুসআবের মতো সম্মানের করুন। আমিন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

সাহাবিদের গল্প-০৪ শূলের মঞ্চে দুই রাকাত নামাজ

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩০ এএম
আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১১:২০ এএম
শূলের মঞ্চে দুই রাকাত নামাজ
ছবি: সংগৃহীত

মক্কার অদূরে তানইম প্রান্তর। উৎসবের আমেজে জড়ো হয়েছে কুরাইশরা–আজ বদরের প্রতিশোধ নেবে তারা। শূলের মঞ্চে দাঁড় করানো হয়েছে এক বন্দিকে। মৃত্যু নিশ্চিত জেনে বন্দি মানুষটি ঘাতকদের কাছে শুধু একটিই আবেদন করলেন, ‘আমাকে দুই রাকাত নামাজ পড়ার সুযোগ দাও।’

তিনি খুবাইব ইবনে আদি রাদিয়াল্লাহু আনহু। রাজি গোত্রের বিশ্বাসঘাতকতায় বন্দি হয়ে বিক্রি হয়েছিলেন মক্কায়, যেখানে বদরে নিহতদের স্বজনরা প্রতিশোধের আগুনে ফুঁসছিল।

অনুমতি মিলল। ধীরস্থির, প্রশান্ত দুই রাকাত নামাজ পড়লেন তিনি। সালাম ফিরিয়ে বললেন সেই ঐতিহাসিক কথা, ‘তোমরা যদি মনে না করতে যে আমি মৃত্যুর ভয়ে ভীত, তবে আমি নামাজ আরও দীর্ঘ করতাম!’ এরপর আবৃত্তি করলেন, ‘মুসলিম হিসেবে যখন আমার মৃত্যু হচ্ছে, তখন কোন পাশে আমি ঢলে পড়লাম তাতে কিছুই যায় আসে না। যখন এই মৃত্যু আল্লাহরই পথে...’

সহিহ বুখারিতে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনায় এসেছে, মৃত্যুদণ্ডের আগে দুই রাকাত নামাজ পড়ার এই সুন্নত খুবাইবই সর্বপ্রথম চালু করেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস ৩০৪৫)

একবার ভাবুন। সামনে নিশ্চিত মৃত্যু। সেই মুহূর্তে মানুষ কী চায়? প্রাণভিক্ষা? শেষবার প্রিয়জনের মুখ? খুবাইব চাইলেন নামাজ। কারণ তিনি জানতেন, কিছুক্ষণ পরেই তিনি যার সামনে দাঁড়াবেন, তার সামনে সিজদারত অবস্থায় শেষ প্রস্তুতিটুকু নিয়ে যাওয়াই সবচেয়ে বড় পাওয়া।

আর আমরা? সুস্থ শরীর, নিরাপদ ঘর, হাতে অফুরন্ত সময়। তবু আজানের ডাক শুনে বলি, ‘আর একটু পরে।’ মিটিং, ট্রাফিক, ঘুম–হাজারটা অজুহাতে নামাজ পেছাতে থাকি। খুবাইব রাদিয়াল্লাহু আনহু শূলের মঞ্চ থেকে আমাদের শিখিয়ে গেলেন; নামাজ বোঝা নয়, নামাজই মুমিনের শেষ আশ্রয়, শ্রেষ্ঠ প্রশান্তি। হে আল্লাহ! আমাদের জীবনের শেষ আমল যেন হয় নামাজ, আর অন্তরের শেষ কথা যেন হয় আপনার জিকির। আমিন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

৬ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ এএম
৬ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুলাই, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুলাইর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুলাইর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ৬ জুলাই ২০২৬, সোমবার ঢাকা পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০ মিনিট

আসর

৪.৪৩ মিনিট

 

মাগরিব

৬.৪ মিনিট

এশা

৮.২০ মিনিট

 

ফজর (৭ জুলাই)

.৫১ মিনিট

 

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: মিনিট

সিলেট: মিনিট

যোগ

খুলনা: মিনিট

রাজশাহী: মিনিট

রংপুর: মিনিট

বরিশাল: মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন