অপচয় ও অপব্যয় মন্দ স্বভাবের অন্তর্ভুক্ত। অপচয় হচ্ছে বৈধ কাজে প্রয়োজনাতিরিক্ত ব্যয় করা; যাকে আরবিতে ‘ইসরাফ’ বলে। আর অপব্যয় হচ্ছে, অবৈধ কাজে ব্যয় করা; যাকে আরবিতে ‘তাবজির’ বলে। শুধু রমজানে নয়; অপচয় ও অপব্যয় সবসময়ের জন্যই নিষিদ্ধ। আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘এবং আহার করবে ও পান করবে। কিন্তু অপচয় করবে না। তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না।’ (সুরা আরাফ, ৩১)
অপচয়ের মতো অপব্যয়কে নিষিদ্ধ করে পবিত্র কোরআন মাজিদে বর্ণিত হয়েছে, ‘আর কিছুতেই অপব্যয় করবে না। যারা অপব্যয় করে, তারা শয়তানের ভাই এবং শয়তান তার প্রতিপালকের প্রতি অতিশয় অকৃতজ্ঞ।’ (সুরা বনি ইসরাইল, ২৬-২৭)
অপরদিকে কোরআনে আল্লাহতায়ালা খাঁটি বান্দাদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করে এরশাদ করেছেন, ‘এবং যখন তারা ব্যয় করে তখন অপচয় করে না; কার্পণ্যও করে না। বরং তারা আছে এতদুভয়ের মাঝে মধ্যম পন্থায়।’ (সুরা ফুরকান, ৬৭)
ব্যয়ের ক্ষেত্রে কৃপণতা যেমন দোষনীয়; তেমন অপচয়-অপব্যয়ও দোষনীয়। কোরআন ও হাদিসে অপচয় ও অপব্যয়কে নিষিদ্ধ করা হলেও মানুষ এ থেকে বিরত থাকছে না। আর রমজান হচ্ছে সংযমের মাস। এ সংযমের মাসেও মানুষ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সংযমী হয় না! রমজান কি অপচয়-অপব্যয়ের আর কেনাকাটায় প্রতিযোগিতার জন্য আসে? অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ আর মাত্রাতিরিক্ত কেনাকাটার জন্য কি রমজানের আগমন হয়? অন্য মাসের তুলনায় রমজান মাসের বাজারের তালিকা ছোট হওয়ার কথা ছিল কিন্তু হচ্ছে উল্টোটা।
ইফতারপার্টির নামে শত পদ রান্না করে যে শো-ডাউনের আয়োজন করা হয়, তা কি আমাদের রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নতের মধ্যে পড়ে? হাজারো লাখো টাকা খরচ করে আমরা যেসব ঈদের কাপড় কিনি, তা কি ইসলামসম্মত?
আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন আহার করতেন, আহার শেষে তিনবার আঙুল চেটে খেতেন এবং বলতেন, তোমাদের খানার বাসন থেকে কিছু পড়ে গেলে উঠিয়ে পরিষ্কার করে খেয়ে নাও, তা শয়তানের জন্য ছেড়ে দিও না।’ (আবু দাউদ, ৩৮৪৫)
অথচ বর্তমানে রমজানে ইফতারপার্টির নামে খাবারের অপচয় করা ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। রেস্তোরাঁ থেকে বস্তা বস্তা খাবার ফেলে দেওয়া হচ্ছে, এমন ছবিও সংবাদপত্রে ছাপা হয়েছে। কত মানুষ এই শহরে অভুক্ত থাকে। পেট ভরে খেতে পারে না।
ইসলাম ব্যয়ের ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থাকে গ্রহণ করেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ব্যয় করার ক্ষেত্রে মধ্যমন্থা অবলম্বন করা বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক।’ (মুসনাদে আহমাদ, ২১৬৯৫)
রমজানে রোজা ভালোভাবে পালনের জন্য শারীরিক সুস্থতা আবশ্যক। রোজা পালনের জন্য প্রয়োজন সঠিক ডায়েট নির্বাচন, শারীরিক সুস্থতা, মানসিক শক্তি এবং অদম্য ইচ্ছা ও আনুগত্য। এমতাবস্থায় সাহরি ও ইফতারে খাবার-দাবার এবং স্বাস্থ্যের বিষয়ে অন্য সময়ের চেয়ে বেশি সচেতন থাকতে হবে। সাহরি ও ইফতারের খাবার নির্বাচনে রোজাদারের বয়স ও শারীরিক অবস্থাকে বিবেচনায় রাখতে হবে। সাহরিতে সহজপাচ্য খাবার স্বাস্থ্যসম্মত। আর সারা দিন অভুক্ত থেকে রোজাদার সূর্যাস্তের সময় আহার করে। ইফতারের সময় খেজুর দ্বারা আহার শুরু করা মুস্তাহাব। কোনোভাবেই ভারি খাবার গ্রহণ করে অস্বস্তিতে পড়া উচিত নয়।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক