পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর জন্য ত্যাগের মহিমা ও আনন্দের এক অনন্য দিন। এই দিনে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করে থাকেন। কোরবানির গোশত বিতরণের একটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে, যেখানে গরিব-দুঃখী, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের হক রয়েছে। তবে একটি প্রশ্ন অনেকের মনেই জাগে যে, কোরবানির গোশত কি অমুসলিমদের দেওয়া যাবে? ইসলামি শরিয়ত এই বিষয়ে কী বার্তা রেখেছে ।
অন্য ধর্মের লোকদের দেওয়া
ইসলামি ফিকহের কিতাবসমূহে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, কোরবানির গোশত অন্য ধর্মাবলম্বীকে দেওয়া জায়েজ। এটি ইসলামি ভ্রাতৃত্ববোধ ও মানবতাবাদের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ইসলাম শুধু মুসলিমদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির জন্য শান্তি ও কল্যাণের ধর্ম। তাই কোরবানি ইবাদত হলেও এর সামাজিক প্রভাব অনেক ব্যাপক।
কোরআনের নির্দেশনা এবং সুন্নাহর আলোকে প্রমাণিত হয় যে, ইসলামে অমুসলিমদের প্রতি সহানুভূতি, সদ্ব্যবহার ও দান-খয়রাত করার অনুমতি রয়েছে, যতক্ষণ না তারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত থাকে। কোরবানির গোশত বিতরণও এই উদারতারই অংশ। এর মাধ্যমে মুসলিমরা নিজেদের আনন্দ ও প্রাচুর্য অন্য ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারে, যা সামাজিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধিতে সহায়ক।
কেন এই অনুমতি?
কোরবানির গোশত অমুসলিমদের দেওয়ার অনুমতি দেওয়ার পেছনে বেশ কিছু যৌক্তিক ও মানবিক কারণ বিদ্যমান:
১. মানবতার সেবা: ইসলামে মানবতার সেবা একটি মহৎ গুণ। কোরবানি যেমন আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম, তেমনি এর মাধ্যমে মানুষের প্রতি দয়া ও সহানুভূতির প্রকাশ ঘটে। অমুসলিমরাও আল্লাহর সৃষ্টি, তাই তাদের প্রতিও দয়া করা ইসলামের শিক্ষা।
২. সম্প্রীতি ও সদ্ভাব বৃদ্ধি: কোরবানির গোশত বিতরণের মাধ্যমে মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নত হয়। এটি অমুসলিমদের কাছে ইসলামের সৌন্দর্য ও উদারতাকে তুলে ধরে। এর ফলে সমাজে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং সম্প্রীতির বন্ধন আরও মজবুত হয়।
৩. দাওয়াতের সুযোগ: কোরবানির গোশত প্রদানের মাধ্যমে অমুসলিমদের কাছে ইসলামের সুন্দর বার্তা পৌঁছে দেওয়ার একটি সুযোগ তৈরি হয়। তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে ইসলামের উদারতা ও মানবিক মূল্যবোধ সম্পর্কে তাদের ধারণা স্পষ্ট হয়। যা তাদের ইসলাম সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব তৈরিতে সাহায্য করতে পারে।
গোশত বিতরণের গুরুত্ব
কোরবানির গোশত বিতরণের ক্ষেত্রে প্রথমত গরিব-মিসকিন, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের অধিকারকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। এরপর যদি গোশত অবশিষ্ট থাকে বা মুসলিমরা তাদের প্রয়োজন পূরণের পর অন্য ধর্মাবলম্বীদের দিতে চায়, তবে তা জায়েজ। এতে কোরবানির সওয়াবে কোনো কমতি হয় না, বরং সামাজিক সম্পর্ক উন্নত হয় এবং মুসলিম সমাজের উদারতা প্রকাশ পায়।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক