আবু সাঈদ সাদ ইবনে মালিক ইবনে সিনান আল-খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘ক্ষতি করাও যাবে না, আবার ক্ষতির প্রতিশোধও নেওয়া যাবে না।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, ২৩৪১)। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ক্ষতি করাও যাবে না, আবার ক্ষতির প্রতিশোধ নেওয়াও যাবে না।
উক্ত হাদিসের মাঝে ‘যারার’ এবং ‘যিরার’ দুটি শব্দ পাওয়া যাচ্ছে, উভয়টির অর্থ কাছাকাছি হলেও এই দুটি শব্দের মাঝে কোনো পার্থক্য আছে কি? কেউ কেউ বলেন, কোনো পার্থক্য নেই, বরং এটি তাগিদ বা জোর দেওয়ার জন্য এসেছে। আবার কেউ বলেন, পার্থক্য রয়েছে। ‘যারার’ হলো এমন ক্ষতি, যা দ্বারা আপনি নিজে উপকৃত হচ্ছেন, কিন্তু অন্যের ক্ষতি হয়। আর ‘যিরার’ হলো এমন ক্ষতি, যা দ্বারা আপনি নিজে উপকৃত হচ্ছেন না, কিন্তু অন্যের ক্ষতি হচ্ছে।
মোট কথা, কোনো মুসলিমের উচিত নয় অন্যের ক্ষতি করা। পক্ষান্তরে, যদি কেউ তার ক্ষতি করে, তবে তার প্রতিশোধেও ক্ষতি করা উচিত নয়। বরং ইহসান, ক্ষমা ও মার্জনার পথ বেছে নেওয়াটাই শ্রেয়। এটিই তো মুমিনদের চরিত্র। আল্লাহতায়ালা বলেন, সুতরাং যে ক্ষমা করে ও আপস করে তার পুরস্কার আল্লাহর কাছে রয়েছে। (সুরা শুরা, ৪০)
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কেউ তোমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করলেও, তুমি তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবে না। এর অর্থ এই নয় যে, আপনি প্রতিশোধ নেবেন না। ইসলামি শরিয়ায় প্রতিশোধ নেওয়া বৈধ হলেও, ক্ষমা করা তার চেয়ে উত্তম। আল্লাহতায়ালা বলেন, আর মন্দের প্রতিদান তো তারই অনুরূপ মন্দ। কিন্তু এরপরই তিনি বলেন, ‘সুতরাং যে ক্ষমা করে ও আপস করে তার পুরস্কার আল্লাহর কাছে রয়েছে।’
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক