ঢাকা ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
গোলের গর্জনে চাপা ব্যাট-বল আর র‌্যাকেটের শব্দ গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ের আড়ালে বিশ্বকাপের অন্য গল্প জার্মানি–প্যারাগুয়ে ম্যাচ শুরু হলিউডের মঞ্চে নায়ক ইউস্তাকিও শেষ মুহূর্তের বজ্রভলি জাপানকে কাঁদিয়ে জিতল ব্রাজিল গোল পরিশোধ করল ব্রাজিল প্রথমার্ধে ১-০ গোলে এগিয়ে জাপান ২৯ মিনিটে জাপানের প্রথম গোল হেক্সা মিশনের নকআউট পর্ব শুরু: জাপানি প্রাচীর ভাঙতে পারবে তো ব্রাজিল? চাঁদপুরে দীর্ঘ ৩৯ বছরের শিক্ষাসেবা শেষে সম্মানজনক বিদায় শিক্ষকের ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সুদের টাকা নিয়ে ফের সংঘর্ষ, ওসিসহ আহত ২৫ ভেনেজুয়েলাকে ১৪ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা দেবে চীন তাইজুলের আলো ছড়ানো দিনেও জিম্বাবুয়ের বিশাল লিড এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হলেন আহসান হাবিব ব্রাজিলের শুরুর একাদশে নেই নেইমার ৪ বছর পর ৩৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল দেশের রিজার্ভ ঢাবির সিনেটে ১৪২২ কোটি টাকার বাজেট পেশ, নেই ইউজিসির গবেষণা বরাদ্দ বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগ করতে চায় বাংলালিংকের মূল কোম্পানি ভিওন পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী সোনারগাঁয় অবৈধ গ্যাস সংযোগে পরিচালিত দুই চুনা কারখানা উচ্ছেদ এফএলজি খাতে ডিজিটাল প্রোডাক্ট পাসপোর্টের রূপরেখা নিয়ে সেমিনার বাংলাদেশসহ বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় নরওয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ: রাষ্ট্রদূত অর্থবিল-২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস তামিম ইকবাল এমসিসির আজীবন সদস্যপদ পাওয়ায় বেঙ্গল টাইগার্সের অভিনন্দন ভেনেজুয়েলায় জীবিত উদ্ধারের আশা ক্ষীণ, তল্লাশি অব্যাহত বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি, তবে কিছুদিন থাকবে লোডশেডিং: বিদ্যুৎমন্ত্রী চীন সফরে প্রাপ্তি-প্রতিশ্রুতি কী মিললো, স্পষ্ট করুন: রুমিন ফারহানা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা চলবে, আপাতত হামলা বন্ধে সম্মত দুই পক্ষ চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ১৯৮ কোটি টাকা কর আদায় চসিকের

হজ না করলে ইসলামের দৃষ্টিতে তার শাস্তি কী?

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ০৭:৩৫ পিএম
আপডেট: ১৬ মে ২০২৬, ০৩:৫৫ পিএম
হজ না করলে ইসলামের দৃষ্টিতে তার শাস্তি কী?
ছবি: সংগৃহীত

হজ ইসলাম ধর্মের স্তম্ভগুলোর মধ্যে অন্যতম। প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের জীবনে একবার হজ করা ফরজ। তবে, হজ ফরজ হওয়ার জন্য কিছু শর্ত রয়েছে, যেমন– মুসলমান হওয়া, সুস্থ থাকা, আর্থিক সামর্থ্য থাকা এবং হজ পালনের জন্য নিরাপদ পথে মক্কায় পৌঁছানোর সক্ষমতা থাকা।

যদি কোনো মুসলমান হজ করার মতো শারীরিক ও আর্থিক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও এই ফরজ ইবাদত পালনে অবহেলা করেন, তবে ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে তিনি গুনাহগার হবেন। কোরআন ও হাদিসে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।

কোরআনুল কারিমে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আর আল্লাহর জন্য মানুষের ওপর হজ করা ফরজ, যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে।’(সুরা ইমরান,আয়াত:৯৭) এই আয়াত স্পষ্টভাবে সামর্থ্যবানদের জন্য হজ ফরজ হওয়ার কথা উল্লেখ করে এবং যারা এই নির্দেশ অমান্য করে, তারা আল্লাহর অবাধ্য হিসেবে গণ্য হবে।

আরো পড়ৃন: হাজিদের জন্য যে ভুলগুলো হতে পারে মারাত্মক

হাদিসেও হজ পালনের গুরুত্বের কথা বলা হয়েছে। সহিহ মুসলিমের একটি হাদিসে উল্লেখ আছে, ‘যে ব্যক্তি ইবাদত করার জন্য সক্ষম অথচ হজ করেনি, তার যদি মৃত্যু হয়, তবে সে যেন ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো অবস্থায় মারা গেল।’ (নাউজুবিল্লাহ)। এই হাদিস দ্বারা বোঝা যায়, হজ পালনে সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তা ত্যাগ করা অত্যন্ত গর্হিত কাজ।

হজ ফরজ হওয়ার পর তা আদায় না করলে আখিরাতে এর কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে। আল্লাহতায়ালা কারো ওপর তার সাধ্যের বাইরে কোনো দায়িত্ব চাপান না (সুরা বাকারাহ, ২৮৬)। সুতরাং, যখন কোনো মুসলমান শারীরিক, আর্থিক ও পথের নিরাপত্তার দিক থেকে হজের জন্য সক্ষম হন, তখন তা পালন করা তার অবশ্যকর্তব্য। ইচ্ছাকৃতভাবে হজ না করলে আল্লাহর কাছে এর জবাবদিহি করতে হবে এবং কঠিন শাস্তি পেতে হবে ।

শুধু তাই নয়, হজ ফরজ হওয়ার পরও যারা তা দীর্ঘদিন ধরে এড়িয়ে চলেন, তারা আল্লাহর দয়া ও কৃপা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। ফরজ ইবাদত পালনে ইচ্ছাকৃত অবহেলা করা, আধ্যাত্মিক দিক থেকেও ক্ষতির কারণ হয়ে থাকে ।

আরো পড়ুন: ভাইদের যে লোভে কারণে বোনদের চোখে জল

ইসলামি চিন্তাবিদগণ এ বিষয়ে বিভিন্ন মতামত পোষণ করেন। কেউ মনে করেন, হজ ফরজ হওয়ার পর তা পালন না করলে কঠোর শাস্তি অবধারিত। আবার কারো মতে, এর চূড়ান্ত পরিণতি আল্লাহর ইচ্ছাধীন, তবে এমন ব্যক্তির জন্য পরকালে কঠিন বিপদ অপেক্ষা করছে।

মনে রাখা হবে যে, হজ একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম প্রত্যেক মুসলমানের উচিত দ্রুততম সময়ে হজ পালনের জন্য উদ্যোগী হওয়া। হজ পালনে অবহেলা করা ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত নিন্দনীয় ও তার পরিণতি ভয়াবহ। তাই, সুযোগ থাকা সত্ত্বেও হজ না করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

বান্দার হৃদয়ে আল্লাহ কেন মোহর মারেন?

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৩:১৭ পিএম
আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম
বান্দার হৃদয়ে আল্লাহ কেন মোহর মারেন?
ছবি: সংগৃহীত

সুরা বাকারার ৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহতায়ালা সত্যকে অস্বীকারকারীদের চূড়ান্ত পরিণতির কথা বলেছেন। আল্লাহ তাদের অন্তরে ও কানে মোহর করে দিয়েছেন এবং তাদের চোখের ওপর পর্দা পড়ে গেছে; আর তাদের জন্য রয়েছে ভয়াবহ শাস্তি। এই মোহর বা সীলগালা কেন এবং কীভাবে পড়ে, তা নিয়ে মুফাসসিরগণ গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা করেছেন।

হযরত মুজাহিদ (র.) অন্তরের এই অবস্থাকে একটি চমৎকার উদাহরণের মাধ্যমে বুঝিয়েছেন। তিনি বলেন, মানুষের অন্তর হলো হাতের তালুর মতো। যখন সে একটি পাপ করে, তখন একটি আঙুল বন্ধ হয়ে যায়। এভাবে ক্রমাগত পাপ করতে করতে একসময় পুরো হাতটি মুষ্টিবদ্ধ হয়ে যায়। এই রুদ্ধ মুষ্টির ভেতরে যেমন কোনো কিছু প্রবেশ করতে পারে না, তেমনি নিরন্তর পাপের ফলে কালো পর্দায় ঢাকা অন্তরে হিদায়াতের আলো আর প্রবেশ করতে পারে না। একেই কুরআনের ভাষায় ‘খাতাম’ বা মোহর বলা হয়েছে।

হযরত কাতাদাহ (র.)-এর মতে, যখন শয়তান কোনো মানুষের ওপর পুরোপুরি জয়লাভ করে, তখন সে তার আজ্ঞাবহ দাসে পরিণত হয়। এর ফলে তার শ্রবণশক্তি ও অন্তর্দৃষ্টির ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে মোহর লেগে যায়। তারা সত্যের বাণী শুনলেও তা হৃদয়ে জায়গা দেয় না এবং চাক্ষুষ নিদর্শন দেখেও তা থেকে শিক্ষা নেয় না। এটি তাদের ইচ্ছাকৃত সত্যবিমুখতারই এক অনিবার্য প্রতিফল।

একটি প্রশ্ন জাগতে পারে—আল্লাহ কেন মোহর মারেন? তাফসিরকারকগণ এর উত্তরে বলেছেন, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো জুলুম নয়, বরং সরাসরি সুবিচার। মানুষ যখন বারবার সত্যকে তুচ্ছজ্ঞান করে এবং স্বেচ্ছায় মিথ্যার পথে পা বাড়ায়, তখন আল্লাহ তাদের সেই বক্র পথেই ছেড়ে দেন। হাদীস অনুযায়ী, প্রতিটি পাপের ফলে অন্তরে একটি করে কালো দাগ পড়ে। তওবা করলে তা মুছে যায়, কিন্তু পাপ চালিয়ে গেলে পুরো অন্তর মরিচা ধরা লোহার মতো কালো হয়ে যায়। এই অবস্থাকেই বলা হয় রীন বা মরিচা।

আয়াতের শব্দবিন্যাস লক্ষ্য করলে দেখা যায়, মোহর মারা হয়েছে অন্তর ও কানের ওপর, আর চোখের ওপর দেওয়া হয়েছে পর্দা। এর অর্থ হলো, তাদের বোঝার ক্ষমতা এবং সত্য শোনার আগ্রহ শেষ হয়ে গেছে। আর চোখের সামনে সত্যের হাজারো প্রমাণ থাকলেও মোহের চাদর বা অহংকারের পর্দা তাদের দৃষ্টিকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। যেমন একটি পাত্রের মুখ মোহরবদ্ধ থাকলে তাতে কিছু ঢোকানো অসম্ভব, তেমনি এই মোহরবদ্ধ হৃদয়ে ঈমানের প্রবেশাধিকার রুদ্ধ হয়ে যায়।

জীবনের শুরুতে কেউ কাফির বা মোহরবদ্ধ হয়ে জন্মায় না। বরং ক্রমাগত অহংকার, সত্যের সাথে উপহাস এবং পাপের পথে অবিচল থাকাই মানুষকে এই দুর্ভাগ্যের দিকে ঠেলে দেয়। তাই আমাদের উচিত সামান্যতম পাপকেও তুচ্ছ না ভাবা এবং অন্তরে মরিচা পড়ার আগেই তওবার মাধ্যমে তা পরিষ্কার রাখা।

 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

শামায়েল রাসুল (সা.) কিভাবে জুতা পরতেন?

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ১০:০০ এএম
আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬, ১২:০৭ পিএম
রাসুল (সা.) কিভাবে জুতা পরতেন?
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিদিনের খুব সাধারণ একটি কাজ জুতা পরা এবং খোলা। অথচ চৌদ্দ শত বছর আগে এই সামান্য অভ্যাসটির মধ্যেও এক চমৎকার শৃঙ্খলা ও শিষ্টাচার ফুটিয়ে তুলেছেন রাসুল (সা.)। আজ আমরা জানব জুতা ব্যবহারের সেই অনন্য নববি নির্দেশনা এবং ইসলামের ইতিহাসে জুতার ফ্যাশনে আসা একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তনের কথা।

আমরা অনেকেই হয়তো খেয়াল না করেই যেকোনো পায়ে আগে জুতা গলিয়ে দিই। কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ আমাদের প্রতিটি কাজে ইতিবাচক ও সুশৃঙ্খল হওয়ার শিক্ষা দেয়। জুতা পরা ও খোলার ক্ষেত্রে তিনি একটি চিরন্তন নিয়ম বেঁধে দিয়েছেন।

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যখন তোমাদের কেউ জুতা পরিধান করে, তখন সে যেন ডান দিক থেকে আরম্ভ করে। আর যখন খোলে, তখন যেন বাম দিক থেকে আরম্ভ করে। অর্থাৎ পরিধানের সময় ডান পা প্রথমে থাকবে এবং খোলার সময় বাম পা প্রথমে থাকবে।’ (সহিহ বুখারি, ৫৮৫৫; মুয়াত্তা মালিক,১৬৩৪)

উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রা.)-এর বর্ণনা থেকে জানা যায়, এটি কেবল জুতার ক্ষেত্রেই নয়, বরং ভালো কাজের প্রতি নবিজি (সা.)-এর এক চিরন্তন ভালোবাসা ছিল। তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর চুল আঁচড়ানো, জুতা পরিধান করা এবং পবিত্রতা অর্জনের মতো (সব ভালো) কাজের ক্ষেত্রে ডান দিক থেকে শুরু করা পছন্দ করতেন।’ ( বুখারি, ৪২৬; ইবনে হিব্বান, ১০৯১)

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জুতার গঠন কেমন ছিল, তা আমরা জানি। কিন্তু খেলাফতের যুগে এসে জুতার এই নকশায় যে একটি ঐতিহাসিক ও কাঠামোগত পরিবর্তন এসেছিল, তা অনেকেরই অজানা। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.), আবু বকর (রা.) এবং উমর (রা.) প্রমুখের জুতায় দুটি করে ফিতা ছিল। অতঃপর (আমিরুল মুমিনিন) উসমান (রা.)ই সর্বপ্রথম এক ফিতাবিশিষ্ট জুতো পরিধান করেন।’ (আল-মুজামুল কাবীর, ১২৮)

এই তথ্যটি আমাদের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। জুতায় দুটি ফিতা থাকা কোনো অলঙ্ঘনীয় ধর্মীয় নিয়ম ছিল না, বরং তা ছিল তৎকালীন আরবের সংস্কৃতি। তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান (রা.) যখন এক ফিতার জুতা পরা শুরু করলেন, তখন মুসলিম সমাজ বুনেছিল প্রগতি ও ব্যবহারের সহজীকরণের এক নতুন পাঠ।

ডান পা দিয়ে জুতা পরা আর বাম পা দিয়ে খোলা বাইরে থেকে দেখতে সাধারণ মনে হলেও এটি একজন মুমিনের মনস্তাত্ত্বিক শৃঙ্খলা তৈরি করে। আর উসমান (রা.)-এর একক ফিতার জুতার ইতিহাস প্রমাণ করে, ইসলাম সংস্কৃতির সুন্দর ও সুবিধাজনক পরিবর্তনকে কতটা উদারভাবে গ্রহণ করে। বৈচিত্র্যময় এই নববি সিরিজটি বইয়ের পাতায় বা পত্রিকার কলামে আধুনিক পাঠককে প্রাত্যহিক জীবনের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয়েও সচেতন হতে অনুপ্রাণিত করবে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

২৯ জুন ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
২৯ জুন ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

আজ ২৯ জুন ২০২৬, শুক্রবার । ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০৪ মিনিট

আসর

৪.৪০ মিনিট

মাগরিব

৬.৫৩ মিনিট

এশা

৮.১৯ মিনিট

 

ফজর (২৫ জুন)

.৪৫মিনিট

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কোনো বিষয়ে ভয় অনুভব করলে যে আমলটি করবেন

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
কোনো বিষয়ে ভয় অনুভব করলে যে আমলটি করবেন
ছবি: সংগৃহীত


মানুষের যখন সব দরজা বন্ধ হয়ে যায়, তখনও হতাশাগ্রস্ত মানুষের জন্য রবের দ্বার উন্মুক্ত রয়। রবের সেই উন্মুক্ত দ্বার থেকে প্রাপ্তির মাধ্যম হলো দোয়া। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে সৃষ্টিই করেছেন অতি দুর্বল ভাবে। আর সেই দুর্বলতার প্রকাশ ঘটে, কোনো বিষয় গ্রহণ ও ত্যাগ করতে ভয় অনুভব করা মাধ্যমে। আর জীবনের এই পথকে সহজ করতে রাসুল (সা.) আমাদেরকে কিছু দোয়া শিখিয়েছেন যা আমলে সহজ আর প্রতিদানে ব্যাপক। তাই কোনো কাজে ভয় পেলে রাসুল (সা.) এর আমলকৃত এই দোয়াটি আমাদের পাথেয় হতে পারে। 

হজরত সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন কিছু দেখে ভয় অনুভব করতেন, তখন তিনি এ দোয়া পড়তেন-
দোয়াটির আরবি উচ্চারণ : هُوَ اللَّهُ، اللَّهُ رَبِّي لَا شَرِيكَ لَهُ

বাংলা উচ্চারণ: হুয়াল্লাহু, আল্লাহু রাব্বি লা-শারিকালাহ।
অর্থ: তিনিই আল্লাহ, তিনি আমার প্রভু, তাঁর কোন শরিক নেই।

ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু হলে ইসলামের বিধান কী?

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৩:১১ পিএম
ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু হলে ইসলামের বিধান কী?
ছবি: সংগৃহীত

জীবন বাঁচানোর তাগিদে আমরা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হই কিন্তু কখনো কখনো সেই জীবনদাতার অনিচ্ছাকৃত ভুলেই নিভে যায় রোগীর জীবনপ্রদীপ ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর এমন ঘটনা হরহামেশাই খবরের শিরোনাম হয় কিন্তু আপনি কি জানেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের ব্যাপারে ইসলামি শরিয়াহর অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট আধুনিক আইনি কাঠামো রয়েছে? চিকিৎসকের দক্ষতা, অভিভাবকের অনুমতি এবং প্রেসক্রিপশনের ধরনের ওপর ভিত্তি করে এখানে নির্ধারিত হয় অপরাধ দণ্ড

ইসলামি ফিকাহর বিধান অনুযায়ী, একজন চিকিৎসক যদি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাপ্রাপ্ত, দক্ষ অভিজ্ঞ হন, তবেই তার জন্য চিকিৎসা করা বৈধ এই ধরনের স্বীকৃত চিকিৎসক যদি রোগীর অভিভাবকের অনুমতি নিয়ে এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের সমস্ত স্বীকৃত নীতিমালা (Medical Protocol) মেনে চিকিৎসা করেন, আর এর পরও দুর্ভাগ্যবশত রোগীর মৃত্যু হয়–তবে সেই চিকিৎসকের ওপর কোনো ধরনের আইনি বা আর্থিক দায় বর্তাবে না একে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হবে

তবে দক্ষ চিকিৎসকও যদি রোগীর অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া কিংবা স্বীকৃত নীতিমালার বাইরে গিয়ে খামখেয়ালিপূর্ণ চিকিৎসা করেন, তবে তাকে অবশ্যই দায় নিতে হবে এক্ষেত্রে:

সম্পূর্ণ ভুল পদ্ধতি হলে: তাকে পূর্ণদিয়তবা রক্তপণ (ক্ষতিপূরণ) দিতে হবে

আংশিক ভুল পদ্ধতি হলে: তাকে অর্ধেক দিয়ত দিতে হবে

বর্তমানে দেশে ভুয়া এবং অদক্ষ চিকিৎসকদের দৌরাত্ম্য বাড়ছে ইসলামি আইনের দৃষ্টিভঙ্গি এক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর যিনি চিকিৎসার উপযুক্ত নন বা অদক্ষ, তার জন্য চিকিৎসা পেশায় আসাই সম্পূর্ণ নাজায়েজ বা হারাম

রাসুলুল্লাহ (সা.) সুনানে আবু দাউদের ৪৫৮৬ নম্বর হাদিসে স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন, যে ব্যক্তি চিকিৎসাবিদ্যা না জেনে (অনভিজ্ঞ হওয়া সত্ত্বেও) কারও চিকিৎসা করে, (আর এতে রোগীর কোনো ক্ষতি হলে) তবে তাকেই এর ক্ষতিপূরণ দিতে হবে

তাই কোনো অদক্ষ ব্যক্তির চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু হলে, রোগীর অভিভাবকের অনুমতি থাকুক বা না থাকুক এবং তিনি নীতিমালা মানুন বা না মানুন–তাকে অপরাধী সাব্যস্ত করেপূর্ণ দিয়তবা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে

ইসলামি আইনে অপরাধের প্রত্যক্ষ পরোক্ষ ভূমিকার ওপর ভিত্তি করে সাজার ভিন্নতা রয়েছে এই বিধানটি তখনই প্রযোজ্য হবে, যখন চিকিৎসায় ডাক্তারের হাত সরাসরি ব্যবহৃত হয়েছে; যেমন- সার্জারি বা অপারেশন করা, ইনজেকশন পুশ করা কিংবা নিজ হাতে রোগীকে ভুল ওষুধ খাওয়ানো

কিন্তু ডাক্তার যদি শুধু কাগজে প্রেসক্রিপশন লিখে দেন এবং পরে রোগী নিজে বা তার অভিভাবক বাজার থেকে এনে সেই ওষুধ সেবন করেন–তবে সেই ভুল ওষুধের কারণে মৃত্যু হলেও ডাক্তারের ওপর সরাসরিযামানবা দিয়ত ওয়াজিব হয় না তবে রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী অবহেলার জন্য তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে

চিকিৎসার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে ইসলামের এই সুষম ভারসাম্যপূর্ণ আইনি রূপরেখা একদিকে যেমন দক্ষ চিকিৎসকদের সুরক্ষা দেয়, অন্যদিকে রোগীদের অধিকার নিশ্চিত করে অদক্ষদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করে

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক