গত বছরের জুলাই-আগস্টে দেশে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় গণহত্যার নির্দেশ ও এতে সহযোগিতার অভিযোগে ৭৫ জনের পাসপোর্ট বাতিল করেছে সরকার। আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে শাসক দলের সমালোচনা করায় গত প্রায় ১৬ বছরের বিভিন্ন সময়ে সারা দেশে গুম ও খুন হন বিরোধী রাজনীতিক এবং তাদের সমর্থক-অনুসারীরা। এই গুম ও খুনের নির্দেশ এবং সহযোগিতার অভিযোগে আরও ২২ জনসহ মোট ৯৭ জনের পাসপোর্ট বাতিল করেছে সরকার। এর মধ্যে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রয়েছেন।
গত ৭ জানুয়ারি ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।
সরকার যাদের পাসপোর্ট বাতিল করেছে সেই ৪৪ জনের নামের দুটি তালিকা খবরের কাগজের হাতে এসেছে। এ ছাড়া কয়েকটি সূত্রে পাওয়া গেছে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও আরও কয়েকজন সংসদ সদস্যের নাম। যারা এই গুম-খুনের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে ও তাদের পাসপোর্ট বাতিল হয়েছে।
পাসপোর্ট বাতিলসংক্রান্ত আদেশ দুটিতে বলা হয়েছে, গুমসংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারি থেকে পাওয়া চিঠির অনুরোধ অনুযায়ী কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে গুমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগ পাওয়া যাওয়ায় এবং তদন্তের প্রয়োজনে তালিকায় উল্লিখিত ব্যক্তিরা যাতে দেশ ত্যাগ করতে না পারে, সে লক্ষ্যে তাদের পাসপোর্ট বাতিলসহ পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো।
তালিকায় যাদের নাম পাওয়া গেছে তারা হলেন ১. মেজর জেনারেল মোল্লা ফজল আকবর, এনডিসি, পিএসসি। ২. লে. জেনারেল মোল্লা ফজল আকবর, এনডিসি, পিএসসি। ৩. মেজর জেনারেল সেখ মামুন খালেদ, এসইউপি, আরএসডিএস, পিএসসি। ৪. ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আকবর হোসেইন, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, জি+। ৫. মেজর জেনারেল মো. আকবর হোসেইন, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, জি+। ৬. মেজর জেনারেল মো. শফিউল আবেদীন, বিএসপি, এসজিপি, এনডিসি, পিএসসি। ৭. মেজর জেনারেল মো. শফিউল আলম এসবিপি, এসইউপি, এডব্লিউসি, পিএসসি, পিএইচডি। ৮. মেজর জেনারেল আহমেদ তাবরেজ সামস চৌধুরী, এসবিপি, এনডিসি, পিএসসি। ৯. মেজর জেনারেল হামিদুল হক, এনএসডব্লিউসি, পিএসসি। ১০. ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক (সিটিআইবি) লে. জেনারেল (অব.) এস এম মতিউর রহমান। ১১. র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মোমেন। ১২. ডিজিএফআইয়ের সাবেক সিটিআইবি মেজর জেনারেল সুলতানুজ্জামান মো. সালেহ উদ্দিন। শিগগির এই সেনা কর্মকর্তার যুক্তরাজ্যে চলে যাওয়ার আশঙ্কা আছে বলে তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। ১৩. ডিজিএফআইয়ের (সিটিআইবি) সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল কবির আহমেদ। ১৪. ডিজিএফআইয়ের (সিটিআইবি) সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল সেখ মোহাম্মদ সারোয়ার হোসেইন। ১৫. ডিজিএফআইয়ের (সিটিআইবি) সাবেক পরিচালক ব্রি. জেনারেল আহমেদ তানভীর মাজহার সিদ্দিকী। ১৬. ডিজিএফআইয়ের (সিটিআইবি) ওআইসি জেআইসি মেজর রাহাত-উস-সাত্তার। ১৭. ডিজিএফআইয়ের সাবেক মেডিকেল অফিসার কর্নেল মোহাম্মদ কামার উজ্জামান সাবেরী খান। ১৮. র্যাব-১-এর সাবেক কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল কিসমাত হায়াত। ১৯. র্যাব-১-এর সাবেক কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ, বিপিএম। ২০. র্যাব-২-এর সাবেক কোম্পানি কমান্ডার পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুকী। ২১. র্যাব-১১-এর পুলিশ সুপার মো. আলেপ উদ্দিন। ২২. লে. কর্নেল মাহাদী হাসান। ২৩. ওয়ারেন্ট অফিসার মো. জিয়াউর রহমান। ২৪. ওয়ারেন্ট অফিসার ইমরুল কায়েস।
অপর একটি তালিকায় ১. র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক (অতিরিক্ত আইজিপি) মো. মোখলেসুর রহমান। ২. র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক (অতিরিক্ত আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ। ৩. র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক (অতিরিক্ত আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন। ৪. র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) কর্নেল জিয়াউল আহসান। ৫. র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) কর্নেল তোফায়েল মুস্তফা সরোয়ার। ৬. র্যাবের সাবেক সিও লে. কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ। ৭. র্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক লে. কর্নেল মো. মাহবুব আলম। ৮. র্যাবের সিও (অতিরিক্ত ডিআইজি) খন্দকার লুতফুল কবির। ৯. র্যাব-১০-এর সাবেক সিও (অতিরিক্ত ডিআইজি) মো. সাহাবুদ্দিন খান। ১০. র্যাব-১১-এর সাবেক সিও লে. কর্নেল মো. কামরুল হাসান। ১১. র্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লে. কর্নেল মো. সারোয়ার-বিন-কাশেম। ১২. পুলিশের গোয়েন্দা শাখার প্রধান (অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার) মো. মনিরুল ইসলাম। ১৩. পুলিশের গোয়েন্দা শাখার প্রধান (অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার) মোহাম্মদ হারুন-অর-রশিদ। ১৪. সিটিটিসিপ্রধান (অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার) মো. আসাদুজ্জামান। ১৫. পুলিশের গোয়েন্দা শাখার যুগ্ম কমিশনার শেখ মুহাম্মদ মারুফ হাসান। ১৬. পুলিশের গোয়েন্দা শাখার উপ-পুলিশ কমিশনার মশিউর রহমান। ১৭. সিটিটিসি শাখার এডিসি মো. তৌহিদুল ইসলাম। ১৮. ডিজিএফআইয়ের সাবেক সিটিআইবি পরিচালক ব্রি. জেনারেল (অব.) আবু তাহের মোহাম্মদ ইব্রাহিম। ১৯. ডিজিএফআইয়ের সাবেক সিটিআইবি পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদ-উল-ইসলাম। ২০. ডিজিএফআইয়ের সাবেক সিটিআইবি পরিচালক ব্রি. জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিক।
এ ছাড়া পাসপোর্ট বাতিলের তালিকায় বিগত সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ওবায়দুল কাদের, আ ক ম মোজাম্মেল হক, হাছান মাহমুদ, আসাদুজ্জামান খান, মোহাম্মদ এ আরাফাত, মহিবুল হাসান চৌধুরী, নসরুল হামিদ, মাহবুবউল আলম হানিফ, বাহাউদ্দিন নাছিম, মির্জা আজম, শামীম ওসমান, মৃণাল কান্তি দাস, ইলিয়াস মোল্লা, বেনজির আহমেদ, মাইনুল হোসেন খান, ওয়াকিল উদ্দিন ও সোলাইমান সেলিমের নাম রয়েছে বলে সূত্রের দাবি।