ঢাকা ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
পটিয়ায় বন্যা, ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি ‘চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে প্রধানমন্ত্রী’ ইংল্যান্ডের হয়েও খেলতে পারতেন হালান্ড, এখন তিনিই প্রতিপক্ষ সাঙ্গু থেকে লোকালয়ে ঢুকছে পানি, বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে ৩ কোটি টাকার মোবাইলফোনের ডিসপ্লে জব্দ বন্যাদুর্গত ফটিকছড়িতে ত্রাণ সহায়তা শক্তিশালী হয়ে ফিরবেন লামেন্স: কোর্তোয়া ‘ইয়েস ফ্যাশন’র ট্রেন্ডি জুব্বা হবিগঞ্জে বন্যার পানি কমেছে, ভেসে গেছে মানুষের স্বপ্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল কামড়ের পর মৃত সাপ নিয়ে হাসপাতালে হাজির রোগী মেহজাবীনের হাত ধরে ওসান লাইফস্টাইল মিরপুরে বন্যার শঙ্কায় সুনামগঞ্জ পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল মৌলভীবাজারে ভয়াবহ বন্যা, পানিবন্দি ৪০ হাজার মানুষ ভূমিরূপ পরিবর্তন অধ্যায়ের ১০টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র গ্রিল ভেঙে পালিয়েও রক্ষা হয়নি, কেরানীগঞ্জে আটক আসামি ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ভিয়েতনামে পর্যটকবাহী নৌকা ডুবে ১৫ জনের মৃত্যু ত্রাণ পৌঁছাতে সব বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী টেকসই সবুজায়ন ও শতবর্ষী বৃক্ষ সংরক্ষণে শুধু রোপণ নয়, চাই দীর্ঘমেয়াদি যত্ন আড়াই বছরে ১০ হাজার ৮৩০ ধর্ষণ মামলা: শিশুর জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ কোথায় চকরিয়া-পেকুয়ায় পানিবন্দি লাখো মানুষ, কাটেনি দুর্ভোগ আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন সেনেগাল তারকা সাদিও মানে ফটিকছড়িতে বন্যাদুর্গতদের পাশে সেনাবাহিনী প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ রবিবার রেশন সুবিধা পাবেন যেসব সরকারি চাকরিজীবীরা সেপ্টেম্বরের মধ্যে আরও ৫ শিশু হাসপাতাল চালুর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসায় বিদেশনির্ভরতা কমাতে ইন্টার্নরাই মূল ভরসা: প্রধানমন্ত্রী বর্ষায় জয়েন্ট পেইন কমাতে ‘হলুদ চা’ গোল নয়, দলের জয়ই ইয়ামালের কাছে বড়

কবি আল মাহমুদের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:০৩ এএম
কবি আল মাহমুদের মৃত্যুবার্ষিকী আজ
আঁকা: নিয়াজ চৌধুরী তুলি

আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি আল মাহমুদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৫ ফেব্রুয়ারি। ২০১৯ সালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। 

আল মাহমুদ বহুমাত্রিক স্বতন্ত্র কাব্যভাষায় বাংলা কবিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্পকার, শিশুসাহিত্যিক ও সাংবাদিক–এসব পরিচয়ে তিনি ছিলেন সমান সক্রিয়।

ষাটের দশকে ‘লোক লোকান্তর’, ‘কালের কলস’ কাব্যগ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে তিনি বাংলা কবিতায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। পরবর্তী কাব্যগ্রন্থ ‘সোনালি কাবিন’ (১৯৭৩) তাকে প্রথম সারির কবি হিসেবে প্রতিষ্ঠা দেয়। ভাটি বাংলার নদী, চরাঞ্চলের জীবন, গ্রামীণ প্রেম-বিরহ ও লোকজ ভাষার ব্যবহারে তার কবিতা পেয়েছে স্বতন্ত্র মাত্রা। আঞ্চলিক শব্দের স্বতঃস্ফূর্ত প্রয়োগ এবং নারী-প্রেমের দ্যোতনা তার কাব্যের বৈশিষ্ট্য হিসেবে বিবেচিত হয়।

কাব্যগ্রন্থ ছাড়াও তার গল্পগ্রন্থ ‘পানকৌড়ির রক্ত’, উপন্যাস ‘কবি ও কোলাহল উপন্যাস’ এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘কাবিলের বোন’ তাকে কথাসাহিত্যিক হিসেবেও স্বীকৃতি দেয়।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসী সরকারের দায়িত্ব পালন করেছেন আল মাহমুদ। স্বাধীনতার পর তিনি দৈনিক গণকণ্ঠ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। 

আল মাহমুদ একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ বহু সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

কবি আল মাহমুদের ৯১তম জন্মদিন আজ

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম
কবি আল মাহমুদের ৯১তম জন্মদিন আজ
কবি আল মাহমুদ। ছবি: সংগৃহীত

আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি আল মাহমুদের ৯১তম জন্মদিন আজ ১১ জুলাই।

১৯৩৬ সালের এই দিনে ব্রাক্ষণবাড়িয়া সদর উপজেলার মৌড়াইল গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। দ্রোহ, প্রেম, প্রকৃতি ও প্রার্থনার কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।

আজ আলোচনা, স্মরণসভা ও আবৃত্তিসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কবি আল মাহমুদের জন্মদিন পালন করবেন তার ভক্ত-অনুরাগীরা।

আল মাহমুদের সবচেয়ে বিখ্যাত ও সাড়া জাগানো জনপ্রিয় কাব্যগ্রন্থ হলো ‘সোনালী কাবিন’। ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত এই গ্রন্থটি বাংলা কবিতার ইতিহাসে সাহিত্যের একটি অনন্য সৃষ্টি হিসেবে সমাদৃত। এ ছাড়া ‘অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না’, ‘বখতিয়ারের ঘোড়া’, ‘আরব্য রজনীর রাজহাঁস’, ‘লোক লোকান্তর’, ‘কালের কলস’, ‘মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো’ তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ।

শিশুদের জন্য লেখা ‘পাখির কাছে ফুলের কাছে’ তার অন্যান্য জনপ্রিয় বই। তার বিখ্যাত গল্পগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘পানকৌড়ির রক্ত’। তার উল্লেখযোগ্য ছোটগল্পের মধ্যে রয়েছে ‘গন্ধ বণিক’, ‘ভেজা কাফন’, ‘জলবেশ্যা’ ও ‘পশর নদীর গাঙচিল’।

আল মাহমুদ কবি হিসেবে সর্বাধিক পরিচিত হলেও তিনি বেশ কিছু অসাধারণ উপন্যাস রচনা করেছেন। তার বিখ্যাত উপন্যাসগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘উপমহাদেশ’। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত তার অন্যতম জনপ্রিয় এ উপন্যাস বাংলা কথাসাহিত্যে এক অনন্য সংযোজন। এ ছাড়া ‘কাবিলের বোন’, ‘ডাহুকী; কবি ও কোলাহল তার উল্লেখযোগ্য উপন্যাস।

কবি আল মাহমুদ ১৯৬৮ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার এবং ১৯৮৬ সালে একুশে পদক লাভ করেন।

আল মাহমুদ ২০১৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তার মরদেহ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দক্ষিণ মৌড়াইল কবরস্থানে দাফন করা হয়।

ময়মনসিংহে লালনের গানে শেকড়ের সংস্কৃতি তুলে ধরল ‘ভাব তরঙ্গ’

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১২:২৫ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম
ময়মনসিংহে লালনের গানে শেকড়ের সংস্কৃতি তুলে ধরল ‘ভাব তরঙ্গ’
ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহে শেকড়ের সংস্কৃতি ও বাউল দর্শনের শুদ্ধ রূপ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয়ে ময়মনসিংহ নগরীর জয়নুল উদ্যানের বধ্যভূমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হলো ব্যতিক্রমী বাউল গানের আসর ‘ভাব তরঙ্গ’।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে সমাজ রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘের উদ্যোগে শুরু হয় এই আয়োজন। চলে রাত ১০টা পর্যন্ত।

নগরীর উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই আসরে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা মনোযোগ দিয়ে বাউল গান উপভোগ করেন।

আয়োজকদের ভাষ্য, বাউল গান কেবল সংগীত নয়, এটি বাংলার লোকজ দর্শন। জীবনবোধ ও মানবিক চেতনার এক অনন্য প্রকাশ। সেই ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে যথাযথভাবে তুলে ধরতেই ভবিষ্যতেও নিয়মিত আয়োজন করা হবে ‘ভাব তরঙ্গ’। প্রতিটি পর্বে স্থান পাবে একজন করে বাউল সাধকের জীবনদর্শন ও গানের বাণী।

উদ্বোধনী পর্বটি উৎসর্গ করা হয় সাধকশিরোমণি লালন ফকিরকে।

অনুষ্ঠানে লালনের গান পরিবেশন করেন বাউল স্বদেশ তালুকদার, নুর ইসলাম মিয়া, মো. দুলাল সরকার, দুলাল নাগ ও গোপাল চন্দ্র কর। তাদের কণ্ঠে একের পর এক পরিবেশিত হয় মানবতা, প্রেম, সহমর্মিতা ও আত্মঅন্বেষণের বাণীবাহী লালনের গান।

হারমোনিয়ামে স্বদেশ তালুকদার, ঢোলে শিপন বর্মন, দোতারায় বিপ্লব সরকার এবং মন্দিরায় গোপিনাথের সংগত পরিবেশনাকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

বাউল গান শোনতে আসা ছামাদ মন্ডল বলেন, আধুনিক বিনোদনের ভিড়ে এ ধরনের আয়োজন লোকসংস্কৃতির প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়াবে।  শেকড়ের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সংযোগ আরও দৃঢ় করবে।

অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ’বাংলার লোকসংস্কৃতির অন্যতম শক্তিশালী ধারক বাউল সাধকেরা তাদের গানের মধ্য দিয়ে মানবতা, সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও অসাম্প্রদায়িক সহাবস্থানের শিক্ষা দিয়ে গেছেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাণিজ্যিকতার চাপে সেই শুদ্ধ ধারাটি ক্রমেই আড়ালে চলে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, আজ সংস্কৃতির নামে অনেক ক্ষেত্রেই সঙ্গীত বাণিজ্যিক বিনোদনের উপকরণে পরিণত হচ্ছে। ফলে শেকড়ের সংস্কৃতির প্রকৃত রূপ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাউল সাধকদের গানের বাণী ও দর্শনের শুদ্ধ রূপ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই ‘ভাব তরঙ্গ’-এর যাত্রা শুরু হয়েছে।

কামরুজ্জামান মিন্টু/খাদিজা রুমি/

আবুল কাসেম ফজলুল হক নীতিবাদী রাজনৈতিক দার্শনিক: ন্যাপ মহাসচিব

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম
আবুল কাসেম ফজলুল হক নীতিবাদী রাজনৈতিক দার্শনিক: ন্যাপ মহাসচিব
স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখছেন ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া। ছবি: সংগৃহীত

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক একজন নীতিবাদী রাজনৈতিক দার্শনিক বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া। তিনি বলেছেন,অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের সব চিন্তা ও লেখায় উন্নত ভবিষ্যৎ সৃষ্টির চিন্তা ও আশার প্রকাশ থাকে। 

তিনি বলেন, আবুল কাশেম ফজলুল হক কর্মমুখী চিন্তাশীলতা অনুশীলনের সাথে যুক্ত ছিলেন। রাষ্ট্র, সমাজ, মানুষ, রাজনীতি, অর্থনীতি, দর্শন, মনোবিজ্ঞান, নীতিবিজ্ঞান, জ্ঞানতত্ত্ব, ইতিহাস প্রভৃতি বিষয়ে তার যুক্তিগ্রাহ্য বুদ্ধিদীপ্ত গবেষণামূলক রচনা আমাদের চেতনা ও বিবেচনাবোধকে শাণিত ও সমৃদ্ধ করছে। 

শুক্রবার (১০ জুলাই) বাংলামোটরের দলীয় কার্যালয়ে বাংলাদেশ কংগ্রেস আয়োজিত অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হকের স্মরণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আবুল কাশেম ফজলুল হক দেশের শ্রমিক-কৃষক, গরিব মেহনতি মধ্যবিত্ত সাধারণ জনগণের একজন বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য প্রথম সারির রাজনৈতিক সচেতন ব্যক্তিত্ব। তিনি বাংলাদেশের মানুষের মুক্তি, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও উন্নতির জন্য লিখতেন এবং দেশ ও সমাজের অগ্রগতির বিষয়ে চিন্তাশীল ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হকের মৃত্যু আমাদের সমাজের বিশ্বস্ত রাষ্ট্র চিন্তকের যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে তা পূরণ হবার নয়।

বাংলাদেশ কংগ্রেস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলামের সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় অংশগ্রহণ করেন দলের মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. ইয়ারুল ইসলাম, গণমুক্তি জোটের মহাসচিব মো. আখতার হোসেন, বাংলাদেশ গণমুক্তি পার্ট সভাপতি এম এ আলিম সরকার, কম্বাইন্ড লায়ন এম সোহেল আহমেদ মৃধা, বাংলাদেশ কংগ্রেস অর্থ সম্পাদক প্রভাষক মোস্তফা আনোয়ার রিপন, দপ্তর সম্পাদক মো. তুষার রহমান, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম রেজা বাচ্চু, যুগ্ম ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মওলানা গোলাম কিবরিয়া রাকিব, যুগ্ম যুব বিষয়ক সম্পাদক মো. সালমান খান প্রমুখ।

এসএন/

চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার গ্রহণ করলেন ৬ লেখক

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫১ পিএম
চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার গ্রহণ করলেন ৬ লেখক
ছবি: খবরের কাগজ

নানা উৎসবমুখর আয়োজনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হলো চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমির লেখক সম্মেলন ২০২৬। একাডেমির ৮ম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশের ৬ জন বিশিষ্ট লেখকের হাতে ২০২৫ ও ২০২৬ সালের 'চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার' তুলে দেওয়া হয়।

শুক্রবার (১০ জুলাই) বেলা ১১টায় চাঁদপুর শহরের ফিতা কেটে এই বর্ণাঢ্য সম্মেলনের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব, প্রখ্যাত কবি ও গবেষক আমিনুল ইসলাম।

এবারের সম্মেলনে দেশের ৬ বিশিষ্ট সাহিত্যিকের হাতে চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের পুরস্কার পেয়েছেন— কবিতায় রহমান হেনরী, কথাসাহিত্যে আকিমুন রহমান ও শিশুসাহিত্যে এনায়েত রসুল। ২০২৬ সালের পুরস্কার পেয়েছেন— কবিতায় জরিনা আখতার, প্রবন্ধসাহিত্যে প্রণব মজুমদার ও নাটকে মোস্তফা কামাল যাত্রা।

এছাড়া নারী শিক্ষার উন্নয়ন ও সামাজিক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত হন ইয়ূথ ফোরাম বাংলাদেশের কো-অর্ডিনেটর অ্যাডভোকেট আলেয়া বেগম লাকী।

উদ্বোধকের বক্তব্যে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘চাঁদপুরের সাহিত্য অঙ্গন অনেক শক্তিশালী। চর্যাপদের এবারের পুরস্কারপ্রাপ্তদের নামের তালিকা দেখে বুঝেছি কতটা নিখুঁতভাবে এখানে পুরস্কার প্রদান করা হয়।’

এছাড়া দেশের সামগ্রিক সাহিত্য চর্চা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘সাধারণত আমাদের দেশের সাহিত্য অঙ্গনের মানুষগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক বাড়াবাড়ির কারণে চর্চার জায়গাটা দিন দিন নিরস হয়ে পড়ছে। এই সংকট কাটিয়ে ওঠা জরুরি।’

এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী ও জলছবি সম্পাদক কবি জামসেদ ওয়াজেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন 'বিজয়ী'-এর ফাউন্ডার তানিয়া ইশতিয়াক খান। একাডেমির সভাপতি আয়েশা আক্তার রুপার সভাপতিত্বে এবং মহাপরিচালক রফিকুজ্জামান রণির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উদযাপন আহ্বায়ক শিউলী মজুমদার।

অনুষ্ঠানে জয়ন্তী ভৌমিক, আইরিন সুলতানা লিমা, কামরুন্নাহার বিউটি, পিএম বিল্লাল, মিজানুর রহমান স্বপন ও ঐশী ঘোষ বিজয়ীদের শংসাপত্র পাঠ করেন। দিপান্বিতা দাস, নাজমুল ইসলাম, প্রাপ্তি ও রাসেল ইব্রাহীমসহ বেশ কয়েকজন প্রতিশ্রুতিশীল কবি ও বাচিকশিল্পী কবিতা আবৃত্তি করেন।

আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণের পাশাপাশি অনুষ্ঠানস্থলে ছিল জমকালো সাংস্কৃতিক আয়োজন। দিলীপ ঘোষের হাওয়াইন গিটার ও বেলাল শেখের বাঁশির সুরেলা মূর্ছনায় মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মিলনায়তন। এছাড়া একাডেমির ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটা ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়।

একাডেমির মহাপরিচালক রফিকুজ্জামান রণি বলেন, ‘২০১৯ সাল থেকে চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি নিয়মিত পুরস্কার প্রদান করে আসছে। এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন জেলার লেখক ও শিল্পীদের পদচারণায় আমাদের চাঁদপুর শহর মুখরিত হয়ে ওঠে’।

এবারের অনুষ্ঠানেও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শতাধিক লেখক, শিল্পী ও সমাজকর্মী সরব উপস্থিতি ছিলেন বলে জানান তিনি।

ফয়েজ/এএফ

সফরের ১০৫ বছর: চাঁদপুরে নেই নজরুলের স্মৃতিচিহ্ন

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০১:০২ পিএম
সফরের ১০৫ বছর: চাঁদপুরে নেই নজরুলের স্মৃতিচিহ্ন
চাঁদপুর শহরের রোটারি ভবনের সামনে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ঐতিহাসিক তথ্যফলকটি ছিঁড়ে পড়ে আছে। ছবি: খবরের কাগজ

১৯২১ সালের ৮ জুলাই কুমিল্লা থেকে লাকসাম হয়ে প্রথমবার চাঁদপুরে এসেছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। রাত কাটিয়েছিলেন শহরের তৎকালীন ডাকবাংলোতে। সেই ঐতিহাসিক সফরের ১০৫ বছর কেটে গেছে। অথচ কবির স্মৃতি সংরক্ষণে সেখানে কোনো স্মৃতিফলক বা প্রতিকৃতি স্থাপন করা হয়নি। এ নিয়ে ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন সাহিত্য-সংস্কৃতিকর্মী ও গবেষকরা।

সাহিত্য গবেষকদের মতে, চাঁদপুরে আসা কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যজীবনের শুরুর দিকের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। সে সময় তিনি বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে বেড়িয়ে মানুষের জীবন, প্রকৃতি ও সমাজ বাস্তবতার সঙ্গে পরিচিত হচ্ছিলেন। চাঁদপুর সফরও ছিল সেই ধারাবাহিকতার অংশ।
বর্তমানে চাঁদপুর শহরে জাতীয় কবির স্মৃতি বহন করে কেবল ‘কাজী নজরুল ইসলাম সড়ক’। একসময় তার সাহিত্য ও সংগীতচর্চা নিয়ে নজরুল গবেষণা পরিষদ এবং নজরুল সংগীত সম্মেলন পরিষদ বিভিন্ন অনুষ্ঠান করত। তবে প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে এখন তাদের কার্যক্রম অনেকটাই কমে গেছে।

চাঁদপুরের গণমাধ্যমকর্মী মাইনুল ইসলাম জানান, কবি যে ডাকবাংলোতে ছিলেন, সেই সড়কটি তার নামে নামকরণ করা হয়েছে। এই ডাকবাংলো থেকে কিছুটা পশ্চিমে রোটারি ভবনের সামনে নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত একটি বড় তথ্যফলক আছে। সেখানে তার চাঁদপুর সফরের সময়, অবস্থান ও নানা স্মৃতিরণাণমূলক তথ্য লেখা ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তথ্যফলকটির অর্ধেকের বেশি অংশ ছিঁড়ে যায় এবং লেখাগুলো অস্পষ্ট হয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, এর ফলে নতুন প্রজন্ম এই ঐতিহাসিক স্থানের গুরুত্ব ও নজরুলের চাঁদপুর সফরের ইতিহাস জানার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এটি সংরক্ষণের কোনো পরিকল্পনা বা উদ্যোগ দেখা যায়নি।

স্থানীয় সাংবাদিক ও কবি ফরিদ হাসান নজরুলের এই সফর নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করেছেন। তিনি ‘কাজী নজরুল ইসলাম ও চাঁদপুর’ নামে একটি বইও প্রকাশ করেছেন। বইটিতে কবির সফর, অবস্থান ও চাঁদপুরের নানা ঐতিহাসিক তথ্য রয়েছে।

ফরিদ হাসান জানান, চাঁদপুরে কবির স্মৃতি বলতে এখন শুধু নজরুল সড়কটিই আছে। তিনি যখন এখানে আসেন, তখন সে সময়ের কোনো মানুষ তার সফরের তথ্য বা স্মৃতি সংরক্ষণ করে যাননি। ফরিদ হাসান তার গবেষণায় কবির সফরসঙ্গী মুজাফ্ফর আহমেদের একটি বর্ণনা পেয়েছেন। সেখানে

উল্লেখ আছে, নজরুল কুমিল্লা থেকে ট্রেনে চাঁদপুরে এসে ডাকবাংলোতে রাত কাটান এবং পরের দিন সকালে চলে যান।

চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমির মহাপরিচালক অ্যাডভোকেট কবি রফিকুজ্জামান রণি বলেন, চাঁদপুরের কৃতী সন্তান ও ‘সওগাত’ পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের সঙ্গে কবির খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। সওগাত কার্যালয়ে তাদের সাহিত্য আড্ডার অনেক স্মৃতি আছে। তাই চাঁদপুরের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা জাতীয় কবির নামে নামকরণ করলে তার স্মৃতি ধরে রাখতে সুবিধা হবে।

চাঁদপুর বর্ণচোরা নাট্যগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক ও সাংস্কৃতিক চর্চা কেন্দ্রের আহ্বায়ক অভিনেতা শরীফ চৌধুরী বলেন, ‘স্মরণে রাখার মতো একটি সড়ক ছাড়া চাঁদপুরে আর কোনো স্থায়ী স্মারক নেই। স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে ডাকবাংলো এলাকায় একটি সুন্দর ম্যুরাল বা স্মৃতিফলক তৈরি করা দরকার। তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জানতে পারবে যে জাতীয় কবি একসময় এই শহরে এসেছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘চাঁদপুরের এমপি ও জেলা প্রশাসন আন্তরিক হলে একটি স্থায়ী স্মারক নির্মাণ করা সম্ভব। আমরা শুধু দিবসভিত্তিক আলোচনা নয়, দীর্ঘস্থায়ী সংরক্ষণমূলক উদ্যোগ দেখতে চাই।’

স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মীদের মতে, কবি যে ডাকবাংলোতে ছিলেন সেখানে একটি স্মৃতিফলক ও তার সফরের ইতিহাস তুলে ধরে তথ্য বোর্ড নির্মাণ করা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে প্রতিবছর ৮ জুলাই সরকারি উদ্যোগে স্মরণসভার আয়োজন করা হলে নতুন প্রজন্ম চাঁদপুরের এই ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবে।

চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শেখ মহিউদ্দিন রাসেল বলেন, ‘বিভিন্ন সূত্রে আমরা জেনেছি কাজী নজরুল ইসলাম চাঁদপুরে এসেছিলেন। সে সময়ের জেলা পরিষদের ডাকবাংলোটি বর্তমান ডাকবাংলোর পশ্চিম পাশে ছিল। সেটি তখন কুমিল্লা জেলা পরিষদের অধীনে পরিচালিত হতো। তবে ওই সময়ের কোনো পরিদর্শন বই বা সরকারি নথিপত্র এখন আর সংরক্ষিত নেই।’