স্বর্ণ চোরাচালান নিয়ে যশোরের বেনাপোল থেকে ওমর ফারুক ওরফে সুমনকে (২৬) অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আটক তিনজন পুলিশের কাছে এই স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।
শুক্রবার (১৭ নভেম্বর) যশোর ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুপন কুমার সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, সুমনকে অপহরণের ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে ঢাকার শাঁখারীবাজার এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে গত ১১ নভেম্বর বেনাপোল থেকে অপহৃত হয় সুমন। এরপর ১৬ নভেম্বর মাগুরার রামনগর থেকে নিখোঁজ সুমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
আটকরা হলেন- কুমিল্লার চন্দিনা উপজেলার আলীকুমড়া গ্রামের সুনীল চন্দ্র দাসের ছেলে ডালিম কুমার দাস (৩৩), দেবিদ্বার উপজেলার রসুলপুর গ্রামের ঠাকুরদাস নিয়োগীর ছেলে অঞ্জন (৪৯), পটুয়াখালী দশমিনা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের দৌলত মুন্সির ছেলে মোহাম্মদ রিয়াজ (৩৮)।
নিহত সুমন শার্শা উপজেলার টেংরালি গ্রামের ওসমান গনির ছেলে।
তিনি আরও জানান, সুমনকে অপহরণ করে হত্যার ঘটনাটি ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হওয়ায় যশোর পুলিশ সুপারের নির্দেশে মাঠে নামে যশোর ডিবি পুলিশ। ডিবির একটি টিম ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা ও আসামিদের মোবাইল ফোনের তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার শাঁখারীবাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে হত্যায় ব্যবহৃত মাইক্রোবাসসহ গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় ডিবি পুলিশ।
ডিবির ওসি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানিয়েছেন স্বর্ণ চোরাকারবারিদের ২৫টি স্বর্ণের বার (৩ কেজি) খোয়া যাওয়ায় চোরাকারবারিচক্রের কামাল গং সুমনকে সন্দেহজনকভাবে আটকে রেখে মারধর করে। অতঃপর সুমনের কাছে স্বর্ণ না পেয়ে তাকে হত্যা করে লাশ মাগুরার রামনগর এলাকায় ঝিনাইদহ-মাগুরা মহাসড়কের পাশে ঝোপের মধ্যে ফেলে দেয়।
তুহিন/জোবাইদা/অমিয়/