চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের গৃদকালিন্দিয়া হাজেরা হাসমত ডিগ্রি কলেজে ও গল্লাক আদর্শ ডিগ্রি কলেজের এডহক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুপক্ষের দ্বন্দ্বে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এতে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা ও কর্মসূচির কারণে গৃদকালিন্দিয়া হাজেরা হাসমত ডিগ্রি কলেজে অনির্দিষ্টকালের জন্য শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
অপরদিকে গল্লাক আদর্শ ডিগ্রি কলেজে এডহক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে এক পক্ষ কলেজের মূল ফটক ও শ্রেণিকক্ষে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। ফলে বছরের শেষ প্রান্তে এসে দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি মোহাম্মদ শামছুল হক ভূঁইয়ার স্ত্রী ডা. আনোয়ারা হককে গৃদকালিন্দিয়া হাজেরা হাসমত ডিগ্রি কলেজে এডহক কমিটির সভাপতি মনোনীত করা ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গৌরী রানি সাহার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে গত রবিবার (১৭ নভেম্বর) সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে বিএনপির একটি অংশ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে।
বিক্ষোভকারীরা কলেজের সিসিটিভি ক্যামেরার যন্ত্রাংশ, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে বের করে দিয়ে তার কক্ষে তালা মেরে দেন। এ সময় কলেজের শিক্ষকদেরও লাঞ্ছিত করা হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে পরের দিন সোমবার সকালে কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা কলেজ গেটে তালা দিয়ে আন্দোলন করে। একই সময়ে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একটি অংশ শ্রেণিশিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে।
এ সময় তাদের মধ্যে কয়েক দফায় হাতাহাতি হয়। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। এই ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ কলেজের পাঠদান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রেখেছে।
অপরদিকে গত ৬ নভেম্বর স্থানীয় বিএনপি নেতা মাহবুব মোরশেদ কচিকে সভাপতি ও কলেজ অধ্যক্ষ হরিপদ দাসকে সদস্যসচিব করে তিন সদস্য বিশিষ্ট গল্লাক আদর্শ ডিগ্রি কলেজে এডহক কমিটি ঘোষণা করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
এতে বিএনপির অপর একটি গ্রুপের নেতা আবুল কালাম আজাদ ও তার অনুসারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। গত রবিবার এডহক কমিটির সভাপতি মাহবুব মোরশেদ কচি সভা করার ঘোষণা দিলে আজাদের লোকজন কলেজ ক্যাম্পাসে অবস্থান নেন।
এদিকে বিএনপি নেতা এম এ হান্নান ও সাবেক এমপি লায়ন হারুনুর রশিদ গ্রুপের পাল্টাপাল্টি কঠোর অবস্থান এবং তাদের মারমুখী পরিস্থিতিতে কলেজের শিক্ষকরা তাদের ও শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা চিন্তা করে অনির্দিষ্টকালের জন্য শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয়।
কলেজ দুটির অধ্যক্ষরা জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিরাপত্তার স্বার্থে তারা শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন।
এই বিষয়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন বলেন, ‘কোনো অভিযোগ থাকলে আইনি সহযোগিতা নিতে পারেন। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে আমরা অবশ্যই কঠোর অবস্থানে আছি।’