চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার মনিপুর গ্রামে প্রবাসীর বাড়ির ছাদে মাইকম্যান আলমগীর হোসেন (৩৫) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সন্দেহভাজন মা-মেয়েকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৭ মার্চ) গভীর রাতে পিবিআই-এর এডিশনাল ডিআইজি মোস্তাইন হোসাইন ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তাদের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তবে তদন্তের স্বার্থে তিনি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
আটকরা হলেন- ওই বাড়ির মালিক আবুল হোসাইন মানিকের স্ত্রী খোদেজা বেগম (৫০) ও মেয়ে মাহমুদা আক্তার সোনিয়া (২৭)।
এর আগে সোমবার রাত ৮টার দিকে ওই গ্রামের ছোলাইমান মাস্টারের বাড়ির সৌদি প্রবাসী আবুল হোসাইন মানিকের বাড়ির ছাদে আলমগীরের মরদেহ পাওয়া যায়।
আলমগীর হোসেন ওই গ্রামের নতুন বাড়ির মৃত মো. শহিদ উল্লাহর ছেলে। তিনি পেশায় ভটভটিচালক ও মাইকম্যান। তার এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।
প্রবাসী মানিকের স্ত্রী খোদেজা বেগম বলেন, ওই বাড়ির শিপন এশার নামাজ আদায় করে ফেরার সময় বাড়ির ছাদে কারও উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের জানায়। এরপর তারা ছাদে এসে আলমগীরকে এলোপাতাড়ি জখম অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার গলাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে।
নিহত আলমগীরের নিকটাত্মীয় মো. জাহিদ হাসান বলেন, ঘটনাস্থল থেকে মোবাইল ফোনে বিষয়টি আমাকে জানালে তাৎক্ষণিক সেখানে উপস্থিত হই। পরে ৯৯৯ ফোন দিয়ে ঘটনাটি পুলিশকে জানানো হয়। এরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। খবর পেয়ে বহু মানুষ এসে এখানে ভিড় জমায়।
খবর পেয়ে রাত ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। তারা ওই বাড়ির লোকের সঙ্গে কথা বলে ঘটনা জানার চেষ্টা করছেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি মাঝারি সাইজের ছুরি পাওয়া গেছে।
চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. লুৎফর রহমান বলেন, আটকদের জিজ্ঞাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এর চেয়ে বেশি কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে আশাকরি খুব শিগগিরই ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তার সম্ভব হবে।
এদিকে আলমগীরের খুনের ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা গেছে। এ ঘটনার নেপথ্যে তারা পরকীয়া ও আর্থিক কেলেঙ্কারির ইঙ্গিত করছেন।
ফয়েজ আহমেদ/জোবাইদা/অমিয়/