নগরে দুর্ঘটনা ঘটে, বিষয়টি নিয়ে কিছুদিন আলোচনা হয়। তারপর সব থেমে যায়। ঢাকাসহ দেশের নগর এলাকাগুলোয় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না করেই বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। কোনো ধরনের অকুপেন্সি সার্টিফিকেট ছাড়াই ব্যবহার করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোট (বিএনবিসি) আইন করা হয় ১৯৯৩ সালে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০০৬ সালে আইনটি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। এই আইনটি বাস্তবায়নে একটি আলাদা কর্তৃপক্ষ গঠন করার কথা বলা হয়। তারপরও দীর্ঘ দেড় যুগেও আলাদা কর্তৃপক্ষ গঠন করা সম্ভব হয়নি। আইনও সেভাবে কার্যকর হয়নি। নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, এখন পর্যন্ত বহুতল ভবনের সংজ্ঞাই নির্ধারণ করা হয়নি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০০৬ সালে গেজেট হলেও ২০১১ সালের বিএনবিসি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সে অনুযায়ী কিছু অগ্রগতির পর সংশোধিত বিএনবিসি আবার স্থবির হয়ে পড়ে। আলাদা কর্তৃপক্ষ না থাকায় এখন যে বিএনবিসি কার্যকর আছে সেটা কেউ মানছে, আবার কেউ মানছে না। কর্তৃপক্ষ থাকলে এমন হতো না বলে মনে করেন তারা।
অপরিকল্পিত নগরী এবং অগ্নিদুর্ঘটনায় সব সময়ের জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকায় দুর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি বেশি হচ্ছে বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা। বেশির ভাগ ভবন নির্মাণ ইমারত বিধিমালা না মেনেই করা হয়েছে। বিধি লঙ্ঘন করা বেশির ভাগ ভবনের বিরুদ্ধেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।
নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে বিএনবিসি বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। এজন্য দ্রুত বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি অথরিটি গঠন করতে হবে। রাজউকের এলাকায় ৬৯ ইউনিয়ন পরিষদ, চারটি করপোরেশন ও সাতটি পৌরসভা ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেয়। এসব সংস্থা বিএনবিসি মানে না। এ ছাড়া ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড ভবন নির্মাণের অনুমতি দেয়। ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী সাত তলার বেশি উচ্চতার ভবন নির্মাণের আগে ভবনটির সামনে কমপক্ষে ২৫ ফুট ও সাত তলার উচ্চতার ক্ষেত্রে ভবনটির সামনে কমপক্ষে ২০ ফুট চওড়া রাস্তা থাকতে হবে। এই রাস্তার সীমানা থেকে ১.৫ মিটার দূরে ভবন নির্মাণ করতে হবে।
ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আদিল মোহাম্মদ খান খবরের কাগজকে বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বহুতল ভবনের সংগ্রাম সুস্পষ্ট করতে হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি অথরিটি অনতিবিলম্বে গঠন করতে হবে। রাজধানীতে ভবন নির্মাণের অনুমতি এবং নজরদারির জন্য সরকারের অনেকগুলো বিভাগ রয়েছে। তাদের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকা জরুরি।
ভবনগুলোতে রিখটার স্কেলে কমপক্ষে ৭ মাত্রার ভূমিকম্পন প্রতিরোধক হতে হবে। সাত তলা পর্যন্ত ভবন নির্মাণের আগে ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর, গ্যাস, ওয়াসা ও বিদ্যুৎ বিভাগের ছাড়পত্র নিতে হবে। বিএনবিসিতে ভবন নির্মাণকৌশল মেনে চলতে হবে। বিল্ডিং কোড মেনে ভবন নির্মাণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নজরদারি বাড়াতে হবে। নিয়ম না মানলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।