সরকারি মাতব্বরেরা এসে দিয়ে গেছে বাঁশ আর টিন
ছালা দিয়ে ঘর ঘিরেছেন বৈকুণ্ঠনাথ
তাঁকে সাহায্য করেছে বড় ছেলেটি, ঘর বাঁধতে লাগিয়েছে হাত
কলার খোল ছেঁড়া সুতো, বন থেকে কেটে আনা শাখাপ্রশাখা
আর চিন্তামণি? তিনি বানিয়ে চলেছেন এক অবিনাশী আখা
বানিয়ে চলেছেন এক ক্ষুধাপৃথিবী, সসপ্যানে সেদ্ধ হচ্ছে প্রাণ
মনে পড়ে গোয়ালন্দে ভেসে যাওয়া তাঁর বাবার সাম্পান
লক্ষ্মণ রায়ের গোয়াল থেকে মেয়েটি এনেছে গোবরের তাল
নিকোনো উঠোনে পদছাপ রেখে গেছে ভরদুপুরেই চতুর শেয়াল
চিন্তামণি চুপে প্রাণ সেদ্ধ করে, চারপাশে ঘুরে ফেরে ডাহুকের দল
মেজো ছেলেটি পথেই গেছে মরে, তবু কেন চোখে নেই জল?
শুধু মাঝে মাঝে ‘অজয় অজয়’ করে বড় ছেলেটি হঠাৎ চিৎকার করে
তার পর চারটি ছেলেমেয়েই কেঁদে চলে তীব্র সমস্বরে
চিন্তামণি ভেবে যান ফখরুর কথা, মন তাঁর পড়ে থাকে দূর মান্দ্রা গ্রামে
সাইকেল চালিয়ে এলেন ফখরুমাস্টার, তখন রাত নামে-নামে
‘রায়ট লাগছে ভাইগ্যকুলে, এই গেরামেও আসতে বাকি নাই
চিন্তামণি, হকলে মিল্লা চলো আমাগো ঘরে চইল্যা যাই’
খবর নিয়ে এদেশে এসেছে হরেন ঢালি, তাঁর মামাতো ভাই
চিন্তামণি রে, আশ্রয় দিছিল বইল্যা তোর ফখরু আর নাই
খুন হয়েছেন অঙ্কের মাস্টার, জ্বালিয়ে দিয়েছে তাঁর গোলা আর ঘর
বোনেদের তুলে নিয়ে গেছে, ধর্ষণ করে গেছে কতগুলি দাঙ্গাবর্বর
‘অজয় অজয়’ করে মাটিতে আছড়ে পড়ে কাঁদে চার ভাইবোন
বড় হোক জ্ঞানবুদ্ধি হোক, ফখরুমাস্টারের জন্যও ওরা কাঁদবে তখন।