টাঙ্গাইলে ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া শিশুর বাবা নন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম কিবরিয়া ওরফে বড় মনির।
সোমবার (৯ অক্টোবর) আপিল বিভাগে জমা দেওয়া শিশুর ডিএনএ টেস্ট রিপোর্টের ভিত্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট আসার পর মনিরকে দেওয়া হাইকোর্টের জামিন বহাল রেখেছেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতির বেঞ্চ।
শুনানিতে বড় মনিরের পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট সারোয়ার আহমেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুজিত চ্যাটার্জী বাপ্পী।
কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে গত ৫ এপ্রিল রাতে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা করা হয়। এতে গোলাম কিবরিয়া ওরফে বড় মনির ও তার স্ত্রী নিগার আফতাবকে আসামি করা হয়।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে। প্রমাণ পেয়ে অন্তঃসত্ত্বার সার্টিফিকেটও দিয়েছে মেডিকেল বোর্ড। ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা ঘটনা জানিয়ে ওই কিশোরী আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছে। পরে ওই কিশোরীর সন্তানের জন্ম হয়।
ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করে জামিন চেয়ে গত ১৫ মে টাঙ্গাইলের সংশ্লিষ্ট আদালতে জামিন চেয়ে আবেদন করেন বড় মনির। আদালত আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর বড় মনিরের পক্ষে জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করলে গত ১১ জুলাই হাইকোর্টের বিচারপতি শেখ জাকির হোসেনের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।
পরে জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করলে ১২ জুলাই এক আদেশে জামিন স্থগিত করেন চেম্বার জজ আদালতের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম। একই সঙ্গে ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরীর গর্ভে জন্ম নেওয়া নবজাতকের ডিএনএ টেস্টের নির্দেশ দেওয়া হয়।
২১ আগস্ট ডিএনএ টেস্টের রেজাল্ট আপিল বিভাগে দাখিল করতে বলা হয়েছিল। পরে এই সময় বাড়িয়ে ৯ অক্টোবরের মধ্যে দাখিল করতে বলেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ। একই সঙ্গে জামিন স্থগিতাদেশ ৯ অক্টোবর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে বলে জানানো হয়।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট দাখিল হয়। এতে প্রমাণ হয় যে, কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুটির বাবার বড় মনির নয়। বিধায় ১১ জুলাই হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশ বহাল রাখলেন আপিল বিভাগ।