নারায়ণগঞ্জে শিশু আহাদ হত্যা মামলায় একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে অন্য ধারায় তাকে সাজাসহ অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
রবিবার (১২ নভেম্বর) বিকালে নারায়ণগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক নাজমুল হক শ্যামল এ রায় ঘোষণা করেন। এ সময় মামলার একমাত্র আসামি আদালতে উপস্থিত ছিল।
দণ্ডপ্রাপ্ত নাজমুল হুদা লিয়ন (২৮) ফতুল্লার ভোলাইল শান্তিনগর এলাকার আবুল হোসেনের ভাড়াটিয়া। তার গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার পলাশবাড়ী বেলপোপা এলাকায়।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রকিব উদ্দিন জানান, লিয়নের রুমের পাশাপাশি রুমে থাকত পাঁচ বছরের শিশু আহাদের পরিবার। পাশাপাশি ঘরে থাকায় তাদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এতে প্রায় সময় তাদের বাড়িতে টিভি দেখতে যেত লিয়ন।
পিপি বলেন, ২০১৮ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর বিকালে শিশুটির বাবা মজিদ ও সাজাপ্রাপ্ত আসামি লিয়নের সঙ্গে বসে ঘরে টিভি দেখছিলেন। এ সময় রুমে থাকা শিশু আহাদকে লিয়নের সঙ্গে টিভি দেখতে রেখে মজিদ বাইরে যায়। এ সময় তার স্ত্রী বাইরে ছিলেন। আধঘণ্টা পর তারা বাড়িতে ফিরে দেখে তাদের সন্তান ঘরে নেই। লিয়নের খোঁজ করেও তাকে না পেয়ে আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেন।
পরে সন্তানের খোঁজ না পেয়ে রাতে থানায় গিয়ে সাধারণ ডায়েরি করেন তারা। পরদিন রাতে মুন্সীগঞ্জ থেকে লিয়নকে আটক করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায় শিশু আহাদকে নদীতে ফেলে হত্যা করেছে।
আদালতে পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান জানান, শিশুটিকে অপহরণের পর হত্যার অভিযোগে তার বাবা মজিদ ফতুল্লা থানায় মামলা করেন। পরে শিশুটিকে হত্যার কথা স্বীকার করে আসামি লিয়ন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। আদালতকে জানায় শিশুটির বাবার ওপর ক্ষোভ থেকে তাকে হত্যা করে। আদালতে আটজন সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষে আদালত সোমবার রায় দিয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান জানান, আদালত রায়ে মামলার একমাত্র আসামি লিয়নকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও আরেকটি ধারায় ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেন। এ ছাড়া লাশ গুম করার অপরাধে আরেকটি ধারায় সাত বছরের সাজা দেন আদালত। পাশাপাশি প্রতিটি ধারায় অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
বিল্লাল/ইন্দ্রজিৎ/অমিয়/