প্রতারণা ও কারসাজির মাধ্যমে শেয়ারবাজার থেকে প্রায় ২৫৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান এবং সমবায় অধিদপ্তরের উপনিবন্ধক আবুল খায়ের হিরুসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন হিরুর স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসান, হিরুর বাবা আবুল কালাম মাদবর, বোন কণিকা আফরোজ, দুই ভাই মোহাম্মদ বাশার ও সাজেদ মাদবর, আলেয়া বেগম, নিকটাত্মীয় কাজী ফুয়াদ হাসান, কাজী ফরিদ হাসান, শিরিন আক্তার, জাভেদ এ মতিন, মো. জাহেদ কামাল, মো. হুমায়ুন কবির ও তানভির নিজাম। মামলাটি করেন দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন।
মামলায় হিরুকে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের গ্যাম্বলার (কারসাজিকারক) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর কারসাজির মাধ্যমে সাকিব আল হাসান ২ কোটি ৯৫ লাখ ২ হাজার ৯১৫ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলা হয়েছে। এ ছাড়া স্ত্রী সাদিয়ার সহায়তায় হিরু অন্তত ২৯ কোটি ৯৪ লাখ ৪২ হাজার ১৮৫ টাকার উৎস গোপন করে বিভিন্ন খাতে স্থানান্তর করেছেন। আর হিরু নিজে তার ১৭টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৫৪২ কোটি ৩১ লাখ ৫১ হাজার ৯৮২ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান দুদকের মুখপাত্র ও মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন। তিনি বলেন, ‘আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে পরিকল্পিতভাবে নির্দিষ্ট কিছু শেয়ারের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে সংঘবদ্ধ এবং ক্রমাগতভাবে ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শেয়ারে বিনিয়োগ করতে প্রলুব্ধ করেন। পরে আসামিরা প্রতারণার মাধ্যমে শেয়ারবাজার থেকে কোটি কোটি সরিয়ে নেন। এভাবে আসামিরা শেয়ারবাজার থেকে ২৫৬ কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজার ৩০৪ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়েছে।’
মামলায় সমবায় অধিদপ্তরের আবুল খায়ের ওরফে হিরুকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। তিনি গ্যাম্বলার হিসেবে শেয়ারবাজারে কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দাম বাড়িয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রলুব্ধ করতেন। এই কারসাজির অংশ হিসেবে সাকিব আল হাসান প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড এবং সোনালী পেপারস লিমিটেডের শেয়ারে বিনিয়োগের মাধ্যমে ম্যানিপুলেশনে সরাসরি যুক্ত হন। সাকিব শুধু বিনিয়োগকারী ছিলেন না, বরং এই কেলেঙ্কারির সক্রিয় অংশীদার ছিলেন।