সম্পদের তথ্য গোপন ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের দায় থেকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি খালাস পেয়েছেন।
বুধবার (২৩ জুলাই) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এর বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষ আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে রায়ের আদেশে বলা হয়।
রায় ঘোষণার সময় এ্যানি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
২০১৪ সালের ৯ অক্টোবর শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির বিরুদ্ধে রাজধানীর রমনা থানায় বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. মঞ্জুর মোর্শেদ।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, এ্যানি দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ১৩ লাখ ১৩ হাজার ৯৪০ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে মোট ১ কোটি ৪০ লাখ ৪২ হাজার ৬৭০ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশনে এ্যানির দেওয়া তথ্য অনুসারে স্থাবর-অস্থাবর ও অপ্রদর্শিত সম্পদ মিলিয়ে মোট তিন কোটি ৭৫ লাখ ৩৫ হাজার ২৬৬ টাকার সম্পদের মালিকানা অর্জন করেছেন। যার মধ্যে দায় হিসেবে ৫০ লাখ টাকা দেখিয়েছেন। অর্থাৎ দায় বাদ দিলে তার নিট সম্পদের পরিমাণ হয় তিন কোটি ২৫ লাখ ৩৪ হাজার ২৫৭ টাকা।
এছাড়া, জমি ক্রয়ে রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ তিন লাখ ১৩ হাজার ৯৪০ টাকা এবং লক্ষ্মীপুরের কুশখালীতে এ্যানি তার নামে স্কুলে অনুদান বাবদ ১০ লাখ টাকা অর্থাৎ মোট ১৩ লাখ ১৩ হাজার ৯৪০ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন।
যেখানে ২০১৩ সালের ৩০ জুন দেওয়া সম্পদ বিবরণী অনুসারে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত এক কোটি ৭৬ লাখ ৯১ হাজার ৫৮৭ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।
মামলায় অভিযোগপত্র দাখিলের পর ২০১৬ সালের ২৪ মে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত এ মামলায় এ্যানির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট মামলার কার্যক্রম স্থগিত করার পাশাপাশি কেন মামলাটি বাতিল করা হবে না, তা জানতে রুল জারি করেন।
পরে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ১৪ মে হাইকোর্ট মামলাটির ওপর স্থগিতাদেশ তুলে নিয়ে ছয় মাসের মধ্যে মামলাটি শেষ করতে বিচারিক আদালতকে নির্দেশ দেন। পরে ফের মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। বিচার চলাকালীন চার্জশিটভুক্ত ১২ জনের মধ্যে ৯ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।
গত ১৬ জুলাই এই মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়।
জলিল উজ্জ্বল/অমিয়/