হাসিনার সরকার গত ১৫ বছরে ভারতের সঙ্গে যেসব গোপন চুক্তি করেছে তা বাতিল করতে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
শনিবার (২৪ আগষ্ট) সকালে কাফরুল থানা বিএনপির উদ্যোগে আন্দোলনে নিহত শহিদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হতাহতদের পরিবারকে অনুদান দেন রিজভী।
সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘ভারত জানে, গত ১৫ বছরে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের জনগণকে কি পরিমাণ অত্যাচার করেছে। ২০১৪, ১৮ ও ২৪ সালের ৭ জানুয়ারি প্রহসনের নির্বাচন করেছে। তারপরও শেখ হাসিনার প্রতি আপনাদের (ভারত) এত দরদ কেন? আপনারা বাংলাদেশকে, বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে মর্যাদা দিতে চান না?’
ভারতের পক্ষে একটা দেশ ছিল, তাও হাতছাড়া হয়ে গেল- এক অভিনেত্রীর এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ ভারতের পক্ষে ছিল না, একজন ব্যক্তি (শেখ হাসিনা) ছিল। শেখ হাসিনা এদেশের গণতন্ত্র হত্যা করেছে, একতরফা ভোট ছাড়া নিজেদের লোককে এমপি বানিয়েছে। আর সেই শেখ হাসিনাকে ভারত সমর্থন করে কিন্তু বাংলাদেশের জনগণকে সমর্থন করে না।’
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতারা এখন খুবই আফসোস করছে। আওয়ামী লীগকে এখন মানুষ বলছে আফসোস লীগ। এদেশের মানুষের সহায় সম্পদ লুট করার তাদের যে প্রবণতা সেটা যুবলীগ-ছাত্রলীগ এখন করতে পারছে না, তাই তারা আফসোস করছে। কিন্তু বিএনপি জনগণের দল। বিএনপি দেশের খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের দল। গত ১৫ বছরে সীমাহীন অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করেছে বিএনপি নেতারা। বছরের পর বছর গুম হয়ে থেকেছে তারপরও আমরা গণতান্ত্রিক সংগ্রাম করেছি।’
রিজভী বলেন, ‘শেখ হাসিনা মানুষের রক্তের ওপর দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চেয়েছেন। রাস্তায় লাশ ফেলে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চেয়েছেন। সেজন্য ছাত্র-জনতা তার পদত্যাগ চেয়েছে। সর্বশেষ শিশু কিশোরদের হত্যা করে সে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছে।’
বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘যারা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতি বিশ্বাস করেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আদর্শকে বিশ্বাস করেন, তাদেরকে এই সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে। খালেদা জিয়া কয়েকদিন আগেই বলেছেন, আমরা শান্তির সমাজ নির্মাণ করতে চাই। আমরা আওয়ামী শাসনামলের বাড়িঘর দখল, জায়গা-জমি দখল ও প্রতিশোধের রাজনীতির সংস্কৃতি পুনরাবৃত্তি করব না।’
আকরাম হোসেন বাবুলের সভাপতিত্বে এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সাইফুল আলম নিরব, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য তারিকুল আলম তেনজিং, মাহবুবুল ইসলাম, যুবদলের সাবেক সহসভাপতি রুহুল আমিন আকিল, মেহেবুব মাসুম শান্ত, জাকির হোসেন, তালুকদার রুমীসহ স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।
শফিকুল/পপি/