ইসলামের প্রথম যুগে নারীরা মসজিদে এসে জামায়াতের সাথে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও জুময়ার নামাজ আদায় করতেন। রাসুল তাদেরকে নসিহত করতেন। নারীগণ একেবারে শেষ কাতারে অবস্থান করতেন। প্রথম প্রথম নারী ও পুরুষ সবাই যে দরজা দিয়ে সুযোগ হতো তা দিয়ে মসজিদে যাতায়াত করতেন। কিন্তু যাতায়াতের সময় ভিড় হতো বিধায় রাসুল (সা.) বললেন, 'তোমরা এ দরজাটি নারীদের জন্য রেখে দাও। আজও এ দরজাটির নাম 'বাবুন নিসা' তথা নারীদের প্রবেশপথ রয়ে গেছে।
নবুওয়তের যুগে নারীগণ জুময়ার নামাজে উপস্থিত হতেন। খুতবা শুনতেন। এমনকি কেউ কেউ সুরা কফ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মুখে শুনে শুনেই মুখস্থ করে ফেলেছিলেন। রাসুল (সা.) জুমার দিনে সুরা কফ পড়তেন। নারীগণ দুই ইদের নামাজেও উপস্থিত হতেন। ইসলামের সবচেয়ে বড় উৎসব ইদের দিন যেদিন ছোট-বড়, নর-নারী সবাই তাকবির ও তাহলিলের ধ্বনিতে পরিবেশ মুখরিত করে ইদগাহে আসতেন। সহিহ মুসলিমে বর্ণিত, উম্মে আতিয়্যাহ বলেন, রাসুল (সা.) আমাদের সকলকে দুই ইদের সময় ইদগাহে যাওয়ার আদেশ করতেন, এমনকি পর্দা যাদের জন্য ফরজ হয়েছে তাদেরও, কুমারি মেয়েদের ওপরও এ আদেশ ছিল।
আরেকটি বর্ণনায় এসেছে, রাসুল (সা.) আমাদেরকে ইদুল ফিতর ও ইদুল আজহাতে ইদগাহে আসতে নির্দেশ দিলেন। সকল তরুণী, ঋতুবতী, সদ্য পর্দার উপযুক্ত হওয়া নারীর ওপর এ আদেশ ছিল। ঋতুবতীগণ নামাজ থেকে বিরত থাকতেন; কিন্তু কল্যাণ এবং মুসলিমদের দোয়ায় শরিক হতেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল (সা) আমাদের একজনের জিলবাব নেই, সে কীভাবে ইদগাহে আসবে। রাসুল (সা.) বললেন, তার বোন নিজের জিলবাব তাকে পরিয়ে দেবে। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ইলমের দারসে উপস্থিত হতেন, দ্বীনি বিষয়ে নারীসংক্রান্ত প্রশ্নসহ এমন বিভিন্ন দিক জানতেন, যে সম্পর্কে জানার চেষ্টা না করে আজকের নারীরা অজ্ঞ থেকে যাচ্ছে। এমনকি আয়েশা (রা.) স্বয়ং আনসার নারীদের প্রশংসা করেছেন এ বিষয়টিতে। তাঁরা দ্বীনি বিষয়ে জিজ্ঞেস করতে মিছে লজ্জার ধার ধারতেন না। তাঁরা জানাবাত, স্বপ্নদোষ, ফরজ গোসল, হায়েজ, ইসতিহাজা প্রভৃতি বিষয়ে নিজেদের জিজ্ঞাসা তুলে ধরতেন।
রাসুল (সা.) থেকে ইলম শেখার তীব্র পিপাসা ছিল তাঁদের। সর্বসাধারণের পরিবেশের এ ইলমি দরস তাঁদের তৃপ্ত করতে পারেনি। তাই তো তাঁরা রাসুল (সা.)-এর কাছে আবেদন করলেন, তিনি যেন নারীদের জন্য একটি বিশেষ দিন নির্দিষ্ট করে দেন, যেদিন পুরুষরা আগ বেড়ে নিজেদের জন্য সময় নিতে পারবে না, পুরুষদের সাথে তাঁদের কোনো অসুবিধের সম্মুখীন হতে হবে না। তাঁরা এ বিষয়ে স্পষ্ট রাসুল (সা.) কে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! পুরুষরা আমাদের ওপর বিজয়ী হয়ে গেছে; তাই আমাদের জন্য একটি দিন নির্দিষ্ট করে দিন।' রাসুল (সা.) নারীদের জন্য একটি দিন নির্ধারণ করে দিলেন, এ দিনে তাদের সমাবেশে যেতেন তিনি, তাদের উপদেশ দিতেন, আদেশ করতেন।