মানবজীবনের মৌলিক চাহিদাগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য প্রয়োজন পরিচ্ছন্নতা ও সুষ্ঠু স্যানিটেশন ব্যবস্থা। স্যানিটেশন বলতে বোঝায় নিরাপদ পায়খানা ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য নিষ্কাশন, বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার, হাত ধোয়া, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং রোগজীবাণু প্রতিরোধের সব কার্যক্রম। আধুনিক বিশ্বে স্যানিটেশন শুধু স্বাস্থ্য রক্ষার উপায় নয়, বরং এটি সামাজিক উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মানবিক মর্যাদা রক্ষার অন্যতম স্তম্ভ।
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা হিসেবে পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে। ফলে স্যানিটেশন বিষয়টি ইসলামের শিক্ষা ও নির্দেশনার সঙ্গে অতি নিবিড়ভাবে যুক্ত। অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন ডায়রিয়া, কলেরা, টাইফয়েড, হেপাটাইটিসসহ অসংখ্য সংক্রামক রোগের প্রধান কারণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বৈশ্বিকভাবে প্রায় ৮০ শতাংশ রোগ দূষিত পানি ও অপর্যাপ্ত স্যানিটেশনের সঙ্গে সম্পর্কিত। উন্নয়নশীল দেশে শিশু মৃত্যুর বড় একটি অংশ ডায়রিয়াজনিত রোগের কারণে ঘটে। স্যানিটেশন নিশ্চিত হলে এসব রোগ কমে যায়, পরিবার ও সমাজ সুস্থ থাকে। অপরিষ্কার পায়খানা, ড্রেনেজ সমস্যায় পানি-ভূমি দূষিত হয়। সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধ করে এবং একটি সুস্থ ও বাসযোগ্য সমাজ নিশ্চিত করে। ইসলামে পরিচ্ছন্নতা শুধু স্বাস্থ্যগত প্রয়োজনই নয়, বরং এটি ঈমানের অংশ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অর্ধেক। (মুসলিম)
এ থেকে বোঝা যায়, ইসলাম স্যানিটেশনকে ধর্মীয় অনুশাসন হিসেবে গুরুত্ব দিয়েছে। ইসলামে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আগে অজু করা বাধ্যতামূলক। এছাড়া নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে গোসল করা ফরজ, যা ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার প্রতি ইসলামের বিশেষ গুরুত্ব নির্দেশ করে। কোরআনে বলা হয়েছে, আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং ভালোবাসেন অধিক পবিত্রতা অর্জনকারীদের। (সুরা বাকারা, ২২২)
রাসুল (সা.) মসজিদে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করার কাজকে অত্যন্ত সওয়াবের কাজ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইসলামের শৌচাগার ব্যবহারের নিয়মগুলোও স্যানিটেশনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। যেমন–নির্জন ও নিরাপদ স্থানে প্রয়োজন সারার নির্দেশ। প্রবেশের আগে দোয়া। ডান হাতে অশুচি কাজ না করা। শৌচকর্ম শেষে ভালোভাবে পরিশুদ্ধ হওয়া। এসব নিয়ম শুধু ধর্মীয় আদবই নয়, স্বাস্থ্য বিজ্ঞানও এগুলোকে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বলে মনে করে। ইসলামে অজুর সময় পানি অপচয় করা নিষিদ্ধ—স্রোতবাহী পানি থেকেও বেশি ব্যবহার নিষেধ করা হয়েছে। এটি পরিবেশ সংরক্ষণ ও স্বাস্থ্য সচেতনতার অনন্য নির্দেশনা।
লেখক: সহকারী শিক্ষক, নাদির হোসেন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, রাজবাড়ী