ঢাকা ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাসের সামনে মেসি বিশ্বকাপে বিরল কীর্তি গড়ল সেমিফাইনালের ৪ দল আর্জেন্টিনা নাকি ইংল্যান্ড, ফাইনালে কে উঠবে? জানাল সুপারকম্পিউটার ইংল্যান্ডকে ‘অপূর্ণ কাজ’ শেষ করার আহ্বান হ্যারি কেইনের ২০৩০ বিশ্বকাপে ৬৪ দলের পরিকল্পনা ফিফার স্পেনকে ভয় পায় না ফ্রান্স: ইব্রাহিমা কোনাতে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো মরদেহ ভাসানোর খবর গুজব: ইউএনও ইউএস-বাংলার বহরে যুক্ত হচ্ছে ২১ নতুন বোয়িং, বিনিয়োগ ১৪ হাজার কোটি টাকা সোনারগাঁয়ে বাবা ছেলেকে কুপিয়ে জখম হরমুজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণা ইরানের রাজধানীতে দুর্ঘটনার শিকার জবি শিক্ষকদের বাস, আহত  ৩ নৌবাহিনীর বৃক্ষরোপণ অভিযান উদ্বোধন বরিশাল সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী বাস্তুচ্যুতদের পুনর্বাসনে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগের কথা জানালেন প্রতিমন্ত্রী আগৈলঝাড়া থানায় হামলার প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ৬ বৃষ্টি আর উজানের ঢলে বাড়ছে কাপ্তাই হ্রদের পানি, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত চট্টগ্রামে প্রকাশ্যে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে আহত বিশ্বমঞ্চে ইল্লিয়ীন, ডি-৮ হালাল এক্সপোতে উজ্জ্বল বাংলাদেশের ফ্যাশন ঝিনাইদহে ফি দিতে দেরি, পরীক্ষার হল থেকে বের করে দেওয়া হলো শিক্ষার্থীকে ত্রাণ ও সহায়তা নিয়ে বন্যাদুর্গতদের পাশে যুবদল আনোয়ারায় ত্রাণ বিতরণে নাহিদ, বেড়িবাঁধ নির্মাণে লুটপাটের অভিযোগ জমিরউদ্দিন সরকারকে শেষ শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে বন্যা পরিস্থিতি: ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখের বেশি মানুষ, নিহত ৫১ নাটোরে সরকারি হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যু, চিকিৎসককে মারধর চট্টগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, পানিবন্দি দেড় লাখ যে আমল ৩৬০ জোড়ার সদকা টেলিটক বিক্রি নয়, বরং আপগ্রেড করা হচ্ছে: আইসিটি মন্ত্রী রাজস্ব ফাঁকি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কোনো ছাড় নয়: অর্থমন্ত্রী ওসমানী বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী নারী গ্রেপ্তার রাজনীতির প্রতিশ্রুতি বৃক্ষরোপণ ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ

বেরোবিতে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ৩

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৫, ০১:৩০ এএম
আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:৩৩ এএম
বেরোবিতে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ৩
ছবি: খবরের কাগজ

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে মার্কেটিং, পরিসংখ্যান ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শ্রেণিকক্ষ ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। এতে তিন শিক্ষার্থী আহত হন। তাদের মধ্যে প্রান্ত নামে এক শিক্ষার্থীর মাথায় গুরুতর জখম হলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সোমবার (১৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

আহতরা হলেন পরিসংখ্যান বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জনি ও প্রান্ত এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ইউসুফ।

ঘটনাস্থলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ফেরদৌস রহমান, রেজিস্ট্রার ড. হারুন অর রশীদ এবং ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. ইলিয়াস প্রামাণিকসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘জেন-জি ফুটবল টুর্নামেন্ট’-এর সেমিফাইনাল খেলায় মার্কেটিং বিভাগের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার অপুর সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। এর জের ধরে সোমবার রাতে চকবাজার এলাকায় মার্কেটিং বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী পরিসংখ্যান বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে মারধর করে।

প্রত্যক্ষদর্শী পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তুহিন রানা বলেন, ‘মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী রোহান ও অপুর সঙ্গে পরিসংখ্যান ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের কয়েকজনের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা দলবেঁধে হামলা চালায়।’

বেরোবি প্রক্টর ফেরদৌস রহমান বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তিন বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী বলেন, ‘এ ঘটনায় জড়িতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া হবে।’ তিন দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।’

আজম/নাঈম

রাজধানীতে দুর্ঘটনার শিকার জবি শিক্ষকদের বাস, আহত  ৩

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ১০:১৪ পিএম
রাজধানীতে দুর্ঘটনার শিকার জবি শিক্ষকদের বাস, আহত  ৩
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মালিবাগ মোড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষকদের বহনকারী একটি এসি বাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় দুই শিক্ষক ও একজন মোটরসাইকেল চালক আহত হয়েছেন। 

রবিবার (১২ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মালিবাগ ফ্লাইওভারের নিচে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) পরিবহন সম্পাদক মাহিদ হোসেন বলেন, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মালিবাগ মোড়ে শিক্ষকদের বাড্ডা রুটের এসি কোস্টার বাসটি সদরঘাট টু বাইপাইল রুটের ভিক্টর ক্লাসিক বাসের সাথে দুর্ঘটনার শিকার হয়। প্রথমদিকে হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া না গেলেও বাসটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।

জবি শিক্ষকদের উক্ত বাসে উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক ড. তারেক বিন আতিক জানান, শিক্ষকদের বাড্ডা বসুন্ধরা রুটের বাসটি মালিবাগ ফ্লাইওভারের ওপর থেকে নামার সময় একটি ভিক্টর ক্লাসিক পরিবহনের ফিটনেসবিহীন বাস এসে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে শিক্ষকদের বাসের পেছনের অংশ দুমড়ে মুচড়ে যায়।

তিনি বলেন, আমাদের বাসে দুইজন শিক্ষক ও একজন মোটরসাইকেল চালক আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার সময় সামনে যে মোটরসাইকেলটি ছিলো আরেকটু হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এসএন/

নোবিপ্রবির সৈকতের অনন্য প্রত্যাবর্তন

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম
নোবিপ্রবির সৈকতের অনন্য প্রত্যাবর্তন
নাজমুল আবেদীন সৈকত

অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে একসঙ্গে ছয়টি বিষয়ে ব্যাকলগ এবং সিজিপিএ মাত্র ২.৪৫– এমন বিপর্যয়কর ফলাফল থেকেও ঘুরে দাঁড়িয়ে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ফলিত গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুল আবেদীন সৈকত এখন অনেকের অনুপ্রেরণা। কঠোর পরিশ্রম ও অটুট আত্মবিশ্বাসের জোরে তিনি ৪৭তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।
ভোলার পশ্চিম উকিলপাড়ার বাসিন্দা চিকিৎসক ডা. মো. নাসির উদ্দিন ও নার্গিস বেগমের ছোট সন্তান সৈকত ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে সাময়িক বিপর্যয়ে পড়লেও তা কাটিয়ে সিজিপিএ ৩-এর ওপরে নিয়ে স্নাতক শেষ করেন।
পরিকল্পিত প্রস্তুতির জন্য তিনি ঢাকায় বিসিএস পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে মেসে থাকা শুরু করেন এবং প্রিলি ও লিখিত পরীক্ষার জন্য সমন্বিত নোট তৈরি করেন। ৪৬তম বিসিএসে ব্যর্থ হলেও প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে নিজের দুর্বলতা দূর করেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত।
সৈকত তার এই সাফল্যের পেছনে বাবা-মায়ের সীমাহীন ত্যাগ ও প্রিয়জনদের সমর্থনের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। অনুজদের উদ্দেশ্যে তার পরামর্শ, সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে লেগে থাকলে সফল হওয়া সম্ভব, তবে স্বপ্নের চেয়ে জীবন বড় হওয়ায় বিকল্প প্রস্তুতিও রাখা উচিত। ভবিষ্যতে সততার সঙ্গে মানুষের সেবা করাই সৈকতের মূল লক্ষ্য।

রাজশাহী কলেজ সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সামাজিক স্কুল

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম
রাজশাহী কলেজ সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সামাজিক স্কুল
সমাজবিজ্ঞান বিভাগ পরিচালিত ‘সামাজিক স্কুল’

‘জ্ঞানই শক্তি, শিক্ষাই মুক্তি’– এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের আলো ছড়াচ্ছে রাজশাহী কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ পরিচালিত ‘সামাজিক স্কুল’। প্রখর মেধা ও তীব্র আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে যে শিশুরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত, তাদের স্বপ্ন দেখাতেই এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটির পথচলা।
২০১৬ সালের ২৫ অক্টোবর সমাজবিজ্ঞান বিভাগের একঝাঁক তরুণের উদ্যোগে রাজশাহীর নামোভদ্রা রেলওয়ে মাঠ এলাকায় স্কুলটি যাত্রা শুরু করে। এর প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন যথাক্রমে আলমগীর কবির সবুজ এবং মো. রাকিবুল ইসলাম। বর্তমানে এই দায়িত্ব পালন করছেন মনিমা খানম ও ফাতেমা-তুজ-জোহরা।
রেলওয়ে পাড় বস্তির প্রায় শতাধিক শিশুকে মৌলিক, নৈতিক ও জীবনমুখী শিক্ষা দেওয়াই এর লক্ষ্য। এ পর্যন্ত প্রায় ৩০০ শিশুকে শিক্ষার আলো দিয়েছে সংগঠনটি। বর্তমানে এখানে অর্ধশত শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক হিসেবে স্বেচ্ছাশ্রম দিচ্ছেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ৪০ শিক্ষার্থী। সপ্তাহে শনি ও মঙ্গলবার বিকেল ৪টা থেকে ৬টা পর্যন্ত এখানে ক্লাস নেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের বই, খাতা, কলম, ব্যাগ ও দুই ঈদে উপহারসহ যাবতীয় খরচ বহন করে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ।
স্কুলের বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মতে, সঠিক সুযোগ পেলে এই প্রতিভাবান শিশুরাও দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবে। শিশুদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করাই তাদের লক্ষ্য। আগামীতে এই শিশুরা সুশিক্ষিত হয়ে দেশের সেবায় নিয়োজিত হবে– এটাই সবার প্রত্যাশা।

লেখিকা: শিক্ষার্থী, রাজশাহী কলেজ, রাজশাহী

বাকৃবি অধ্যাপক আব্দুল বাতেনের রাজকীয় বিদায়

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম
বাকৃবি অধ্যাপক আব্দুল বাতেনের রাজকীয় বিদায়

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ইনস্টিটিউট অব এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল বাতেনকে লাল গালিচা ও ঘোড়ার গাড়ির শোভাযাত্রার মাধ্যমে রাজকীয় সম্মানে বিদায় জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকতার দীর্ঘ ৩৮ বছরের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের পর প্রিয় শিক্ষকের বিদায়কে স্মরণীয় করে রাখতেই গত বুধবার এ আয়োজন করেন তারা।
অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল বাতেন ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। জাপান থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করার পর তার শতাধিক গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। তার তত্ত্বাবধানে পাঁচজন শিক্ষার্থী পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
শিক্ষার্থীদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল বাতেন বলেন, এই অনুভূতিটি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। শিক্ষার্থীরা আমাকে এতটা ভালোবাসে, তা আমি কখনো কল্পনাও করিনি। আনন্দে আমার চোখে জল চলে এসেছিল। তারা আমার চেম্বারের সামনে লাল গালিচা বিছিয়ে দেয় এবং ঘোড়ার গাড়িতে করে আমাকে বিদায় জানায়।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা আবেগঘন পরিবেশে ঢোল-বাদ্য বাজিয়ে আমাকে বিদায় দিতে চেয়েছিল। তবে ক্যাম্পাসে চলমান ক্লাসের যেন কোনো ব্যাঘাত না ঘটে, সে কারণে আমি তাদের শব্দ করতে নিষেধ করি। পরে তারা অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে আমাকে ঘোড়ার গাড়িতে করে আমার বাসভবনে পৌঁছে দেয়।

নোবিপ্রবির ২০ বছর পাঠ্যপুস্তকের বাইরের এক জীবন্ত ক্যাম্পাসের গল্প

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম
পাঠ্যপুস্তকের বাইরের এক জীবন্ত ক্যাম্পাসের গল্প

উচ্চশিক্ষা শুধু পাঠ্যপুস্তকের চার দেয়ালের অধ্যয়ন বা পরীক্ষার ফলাফলেই সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে জীবনের নানা অভিজ্ঞতা, ভাঙা-গড়ার গল্প আর অমলিন কিছু অনুভূতি। উপকূলীয় অঞ্চলের অন্যতম শীর্ষ বিদ্যাপীঠ নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) গত দুই দশকে যেমন গবেষণা ও জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে, ঠিক তেমনি এটি হয়ে উঠেছে হাজারও শিক্ষার্থীর আবেগ ও স্বপ্নের এক জীবন্ত ক্যানভাস। 


ক্লাস, ল্যাব আর অ্যাসাইনমেন্টের চিরচেনা ব্যস্ততার ফাঁকে শিক্ষার্থীরা এখানে খুঁজে নিয়েছে কিছু প্রিয় আশ্রয়, যা তাদের বন্ধুত্ব, প্রেম আর সৃষ্টিশীলতার নীরব সাক্ষী। বিকেল নামলেই শিক্ষার্থীদের সরব উপস্থিতিতে জমে ওঠে শহীদ মিনার গোল চত্বর। রাজনীতি, সাহিত্য, সংস্কৃতি থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত জীবনের নানা আলোচনা কিংবা গভীর রাত পর্যন্ত বন্ধুদের গিটারের সুর ও আড্ডায় এটি হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। 
আবার প্রকৃতির কাছাকাছি একটু মানসিক প্রশান্তির খোঁজে শিক্ষার্থীরা ছুটে যায় ক্যাম্পাসের পেছনের সবুজাভ পরিবেশে অবস্থিত ‘ময়না দ্বীপ’-এ, যা চারপাশের জলধারা ও নির্জনতার কারণে একটি ‘গোপন স্বর্গ’। মেছোবাঘ, রেসাস বানর, সোনালি শেয়াল কিংবা বেগুনি কালিম ও তুলা হাঁসের মতো বিরল বন্যপ্রাণী ও পাখির দেখা মেলায় এটি ক্যাম্পাসের এক অনন্য বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যও বটে। এখানেই গোধূলিবেলায় বন্ধুরা মিলে সূর্যাস্ত দেখার আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়। 


ঠিক একইভাবে কেন্দ্রীয় মাঠের একপাশে অবস্থিত ছায়াঘেরা ‘শান্তিনিকেতন’ কবিতা আবৃত্তি, মেঠো সংস্কৃতি ও গিটারের তারে নতুন সুর তোলার এক পরম আশ্রয়স্থল। এর অনতিদূরে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাশে শান্ত রূপ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ‘নীলদীঘি’, যার জলরাশি দুপুরের সূর্যের আলোয় নীলাভ আভা ছড়িয়ে দেয় এবং লাইব্রেরির পড়া শেষে শিক্ষার্থীরা এখানে এসে মৃদু বাতাস ও জলের আয়নায় নিজেকে নতুন করে খুঁজে পায়। 
অন্যদিকে, ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের পাশের ‘প্রশান্তি পার্ক’ বিশাল বৃক্ষের শীতল ছায়া আর সারি সারি চায়ের টং নিয়ে শিক্ষার্থীদের অন্যতম মিলনমেলা। এখানে সকাল থেকে মধ্যরাতের চায়ের আড্ডায় অনেক আজীবন বন্ধুত্বের সূচনা হয় এবং ক্যারিয়ারের হতাশা ভুলে শিক্ষার্থীরা কিছুটা স্বস্তি পায়। 
তারুণ্য ও উদ্দীপনার প্রতীক নোবিপ্রবির ‘কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ’ প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখর থাকে। কুয়াশাঘেরা সকালে শরীরচর্চা, বিকেলে আন্তঃবিভাগীয় ফুটবল-ক্রিকেট খেলা কিংবা জ্যোৎস্না রাতে গোল হয়ে গান গাওয়ার এই মাঠটি সমাবর্তন ও বড় বড় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চ। 


ক্যাম্পাস জীবনের এই কোলাহলের মাঝেও আত্মিক প্রশান্তি ও মানসিক স্থিরতার এক নিরিবিলি পরিসর হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কেন্দ্রীয় মসজিদ’। আর শিক্ষার্থীদের প্রাত্যহিক লড়াইয়ের আরেক নাম ‘গ্যারেজ’, যা শুধু বাস টার্মিনাল নয়, বরং ক্লাস শেষে শহরের বাসের সিট ধরার হুড়োহুড়ি, যান্ত্রিক জীবনে ছুটে চলা এবং সন্ধ্যার অবসরে টঙের দোকানে চা-নাশতার আড্ডায় সেরা সব স্মৃতি তৈরির স্থান। 
দুই দশকের এই দীর্ঘ পথচলায় নোবিপ্রবি শুধু একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি হয়ে উঠেছে হাজারও শিক্ষার্থীর স্মৃতির নোঙর। যুগের পর যুগ শিক্ষার্থীরা ডিগ্রি শেষ করে ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যাবে, কিন্তু এই চিরসবুজ প্রাঙ্গণগুলো তাদের তারুণ্যের দিনগুলোর নীরব সাক্ষী হয়ে রয়ে যাবে। কারণ নোবিপ্রবির প্রকৃত সৌন্দর্য এর অবকাঠামোয় নয়, বরং এর প্রতিটি কোণে ছড়িয়ে থাকা মানুষের গল্প ও আত্মিক সম্পর্কের স্পন্দনে।

লেখক: শিক্ষার্থী, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী