ঢাকা ২২ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
দারাজে ৭.৭ সুপার সেভিংস সেল: বিশাল ছাড়, জ্যাকপট পুরস্কার ও কেনাকাটার দারুণ সুযোগ হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু সাঙ্গু নদীর উজানে ভ্রমণে সতর্কতা, আটকা দেড় শতাধিক পর্যটক নিম্নচাপের প্রভাবে হাতিয়ায় ফিরেছে শত শত মাছ ধরার ট্রলার পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ অধ্যায়ের ১৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, এইচএসসির ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র আজ বিশ্ব চুমু দিবস মেঘদূতের বার্তা নিয়ে আসে কদম চাঁদপুরে শর্টগান ও ১২ রাউন্ড গুলি জব্দ ঈশ্বরদীতে র‍্যাবের অভিযানে দেশি-বিদেশি অস্ত্র জব্দ, গ্রেপ্তার ৪ প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ যুবরাজের ক্রিশ্চিয়ান সার্ভিস সোসাইটিতে চাকরির সুযোগ, পদ ৩৫০ ঈশ্বরগঞ্জে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপিত শেখ হাসিনার দেশে ফিরতে আইনি বাধা নেই: রুমিন ফারহানা গাজায় যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েলের হামলা, নিহত ৪ ইয়ামাল জানালেন তার কঠিন প্রতিপক্ষের নাম ধামরাইয়ে গ্যাসের দাবিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ পানছড়িতে ইউপিডিএফ-জেএসএসের গোলাগুলি, ৩ জন নিহত চারঘাট-বাঘায় কোনো কাঁচা রাস্তা থাকবে না: এমপি চাঁদ চিটাগাং চেম্বার সভাপতির সাথে বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিনিধিদলের মতবিনিময় শ্রীলঙ্কায় কারাগারে সংঘর্ষে নিহত ২৫, আহত শতাধিক ইনডোর প্লেগ্রাউন্ডগুলোর কাছে একজন মায়ের অনুরোধ বাঁশখালীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ১ যুবকের মৃত্যু মৃত্যুর পর মরদেহ এফডিসিতে না নেওয়ার অনুরোধ রোজিনার পূর্বপ্রস্তুতি ও সতর্কতা জরুরি শিক্ষার উন্নয়নে সর্বোচ্চ কাজ করব: এমপি হাবীবা নওগাঁয় ছেলের হাতে বাবা খুন লংগদুতে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুর মৃত্যু, আহত ৭ স্বস্তি ফেরাতে পদক্ষেপ নিন মিরসরাইয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আনসার কর্মকর্তা নিহত জীবননগরে বিএনপি নেতার ফোনালাপ ভাইরাল

পদত্যাগ করছেন না চসিক মেয়র

প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:৫৭ পিএম
আপডেট: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৩৮ পিএম
পদত্যাগ করছেন না চসিক মেয়র
চট্টগ্রাম সিটি করপরেশন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

পদত্যাগ করছেন না চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার শীর্ষে ছিল মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের মেয়াদ কি শেষ হচ্ছে। নাকি তিনি পাঁচ বছর থাকতে চান। 

রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হালিশহর এইচ ব্লকে পার্ক ও ওয়াকওয়ের সৌন্দর্যবর্ধন কাজের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মেয়র পদত্যাগ না করার কথা নিশ্চিত করেন। 

এ সময় তিনি বলেন, একটা স্বৈরাচার সরকারের স্বৈরাচারী মেয়রের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। ২০২৯ সালের নভেম্বরের ৩ তারিখ আমার মেয়াদ শেষ হবে। এর আগে নয়।

তবে তিনিও নির্বাচন চান উল্লেখ করে বলেন, তফসিল ঘোষণা হলে যদি দল তাকে প্রার্থী ঘোষণা করে তখন তিনি পদত্যাগ করবেন। 

নিজেকে অত্যন্ত গণতান্ত্রিক মানুষ উল্লেখ করে চসিক মেয়র শাহাদাত বলেন, ১৬ বছর আন্দোলন করেছি, সংগ্রাম করে যুদ্ধ করে এ পর্যায়ে এসেছি। আদালত ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন। ২০২১ সালে তার এজেন্ট, নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেসময় আমাকে হাত-পা বেঁধে সাঁতার কাটতে দিয়েছিল। 

ভোট দিতে গিয়ে কেন্দ্রে দেখি নারী অ্যাজেন্টদের মেরে বের করে দিয়েছে। তারা কান্নাকাটি করতে দেখেছি। পুলিশের সামনে এসব ঘটনা ঘটেছে। ভীতিকর পরিস্থিতির নির্বাচন যখন নির্যাতনে পরিণত হয়েছিল তখন আমি ফাইট করেছি।

২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তাকে জেলে ঢুকিয়ে দেওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মেয়র বলেন, ২০২১ সালের নির্বাচন আরও ভীতিকর ছিল। ইভিএমে ভোট হয়েছিল, প্রিন্টেড কপি না দিয়ে তারা হাতে লিখে রেজাল্ট দিয়েছিল। আমি বলেছি প্রিন্টেড কপি দাও, যদি আমি হারি গ্রহণ করব। তারা দিতে পারেনি। তাই আমি মামলা করেছিলাম। আমি তিন বছর ফাইট করেছি। তারা হার্ডডিস্কসহ সব পুড়িয়ে ফেলেছিল। ইলেকশনের দিন রাতেই নাকি তারা পুড়িয়ে ফেলেছিল।

রোগীর দেখার সময় হাসপাতাল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করার কথা উল্লেখ করে বলেন, এমনকি ‘আমার পিএস মারুফক কথা বলতে এসেছিল, তাকেসহ জেলে ঢুকিয়ে দিয়েছিল।’ 

আদালতের রায়ের বর্ণনা দিয়ে মেয়র বলেন, রেজাউল করিমের আমল সম্পূর্ণ অবৈধ। তার অর্থ আমি যেদিন শপথ নিয়েছি সেদিন থেকে পাঁচ বছরের জন্য আমাকে মনোনীত করেছে। আমাকে সরকার পাঁচ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমেটিক পাসপোর্ট দিয়েছে। ২০২৯ সালের নভেম্বরের ৩ তারিখ আমার মেয়াদ শেষ হবে। এর আগে নয়। তারপরও আমি নির্বাচন চাই। প্রায় চার দশকের নিজের রাজনৈতিক জীবনের কথা উল্লেখ করে মেয়র বলেন, ছাত্রদলের সভাপতির পদ দিয়ে রাজনীতি শুরু করেছিলাম। সদস্য থেকে না। আমার জীবনে একটা অনুশোচনা এখনো পর্যন্ত উৎসবমুখর নির্বাচন ফেইস করতে পারিনি। গত ১৬ বছর নির্বাচনের পরিবেশ ছিল না। ১৬ বছরে দুটো নির্বাচন করেছিলাম, সেখানে নির্বাচনের নামে নির্যাতন করা হয়েছে।

জনপ্রিয়তা যাচাই করার ইচ্ছে পোষণ করে মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম শহরে ২২ লাখ ভোটার আছে। আমি এখনো জানি না, আমাকে শহরের ২ লাখ মানুষ চায়, নাকি ১০ লাখ মানুষ চায়। পুরো রাজনীতি করে এটাই হবে আমার প্রাপ্তি কত লাখ মানুষ আমাকে চায়। অথবা আদৌ চায় কিনা। তাই গণতান্ত্রিক পরিবেশে ভোট চাই।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ইতিহাসে অন্যতম চমৎকার নির্বাচন হয়েছে। আজকে অনেকে বলে বিএনপি ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করেছে। আমি স্পষ্ট বলতে চাই, আমি সরকারের একটি অংশে ছিলাম এবং আছি। আমি দেখেছি, সরকারের অনেক উপদেষ্টা চেষ্টা করেছিলেন বিএনপিকে কীভাবে হারানো যায় সে জন্য ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করতে চেয়েছিল। কিন্তু মহান রাব্বুল আলামিন নির্ধারিত করে রেখেছে দেশনায়ক তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করবেন। জনগণ ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে দেখিয়ে দিয়েছে বিএনপিকে কতটুকু জনপ্রিয়। তারেক রহমান পলোগ্রাউন্ড মাঠে ২৩টি আসনের সমাবেশ করেছে, ২১টি আসনে জিতেছে। বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকলে বাঁশখালীতেও বিএনপি জিতত। তারেক রহমানের ক্যারিশমাটিক পাওয়ার আছে। উনি যদি কুড়িগ্রাম, নীলফামারী যেতেন সেখানেও অনেক ভোট পেত বিএনপি। 

এক প্রশ্নের মেয়র বলেন, আমিই বাংলাদেশের একমাত্র মেয়র। আদালত আমাকে অর্ডার দিয়েছে ২০২৯ সাল পর্যন্ত। আমি বলছি, নির্বাচন চাই। এখন দায়িত্ব এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের। আমার আবেদনের প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছেন। শুধু চট্টগ্রাম নয়, ঢাকায় নির্বাচন হওয়া উচিত, কারণ কাউন্সিলর না থাকাতে জনগণ বঞ্চিত হচ্ছে। এলজিআরডি মন্ত্রণালয় পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত থাকতে হবে। আমি না থাকলে চালাবে কে। শহরটাতো এতিম হয়ে যাবে। প্রশাসক দেওয়ার সুযোগ নেই। প্রশাসক বদলি করে মেয়র দিয়েছে। মেয়র বদল করে প্রশাসক দেওয়ার সুযোগ নেই। জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে আমি চাই সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। যে নির্বাচনের প্রতীক্ষা আমি করছি। ২০২১ সালে যখন আমি নির্বাচন করেছিলাম তখন আমার দলের সেক্রেটারি আবুল হাশেম বক্কর, বর্তমান সভাপতি এরশাদ উল্লাহসহ একজন নারী প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছিল। সবার রাইট আছে। দল কাকে দিচ্ছে সেটি দলের চিন্তাভাবনা আছে। সবাইকে তো এমপি মনোনয়ন দেয়নি। যাচাই বাছাই করে দিয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করবেন। দল যদি আমাকে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করে, আমি প্রস্তুতি নিয়েছি। আমি মনে করি, ১৬ বছর জনগণের সঙ্গে খুব ক্লোজলি থেকেছি। জনগণ নির্ধারণ করবে কাকে ভোট দেবেন। 

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী রেজাউল করিম ৩ লাখ ৬৯ হাজার ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। পরে ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি একটি মামলা করেন শাহাদাত। তার অভিযোগ, নির্বাচনের ফলাফলে ইসি কর্মকর্তারা কারচুপি করেছিলেন। 

মামলায় ইভিএমের মাধ্যমে নির্বাচনের ফল কারচুপির অভিযোগে তৎকালীন সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী, নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. হাসানুজ্জামান, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদাসহ ছয় জনকে আসামি করা হয়।

৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে ১ অক্টোবর চট্টগ্রামের প্রথম যুগ্ম জেলা জজ ও নির্বাচনি ট্রাইবুনালের বিচারক খাইরুল আমিন ডা. শাহাদাতকে মেয়র ঘোষণা করে রায় দেন। এছাড়া আওয়ামী লীগের রেজাউল করিম চৌধুরীর মেয়র নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করেন। পাশাপাশি ১০ দিনের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারির জন্য নির্বাচন কমিশন সচিবকে নির্দেশ দেন। রায় ঘোষণার সাতদিন পর ৮ অক্টোবর শাহাদাত হোসেনকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ঘোষণা সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন।

এসএন/

সাঙ্গু নদীর উজানে ভ্রমণে সতর্কতা, আটকা দেড় শতাধিক পর্যটক

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৯ পিএম
সাঙ্গু নদীর উজানে ভ্রমণে সতর্কতা, আটকা দেড় শতাধিক পর্যটক
ছবি: খবরের কাগজ

বান্দরবানের থানচিতে টানা বৃষ্টিতে সাঙ্গু নদীর উজানে পানি বেড়ে যাওয়ায় তিন্দু, রেমাক্রী ও নাফাখুম এলাকায় পর্যটকদের ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার জন্য মৌখিক সতর্কতা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। বৃষ্টিতে ওই এলাকায় দেড় শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন।

সোমবার (৬ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেন থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল।

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ জুলাই থেকে এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এতে সাঙ্গু নদীসহ আশপাশের ছোট ছোট পাহাড়ি ছড়াগুলোতে পানির প্রবাহ দ্রুত বেড়েছে। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় আপাতত তিন্দু, রেমাক্রী ও নাফাখুমে পর্যটকদের ভ্রমণ না করার অনুরোধ জানিয়েছে প্রশাসন।

এদিকে, তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেন জানান, তিন্দুর বড় পাথর এলাকায় পর্যটকবাহী একটি নৌকা তীব্র স্রোতে ডুবে যায়। তবে নৌকার মাঝি আগে থেকেই পর্যটকদের নিরাপদে নামিয়ে দেওয়ায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

থানচি পর্যটক গাইড সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশীদ বলেন, সাঙ্গু নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় তিন্দু, রেমাক্রী ও নাফাখুম এলাকায় দেড় শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন। এর মধ্যে শুধু নাফাখুম এলাকাতেই সোমবার প্রায় ৭০ জন পর্যটক অবস্থান করছেন। তাদের সঙ্গে থানচি পর্যটক গাইড সমিতির সভাপতিও রয়েছেন। বৃষ্টি কমে নদীর পানি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাদের ফিরে আসা সম্ভব হবে না।

তবে পর্যটক আটকা পড়ার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন ইউএনও মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল।

তিনি বলেন, ‘অতিবৃষ্টিতে ছোট ছোট খাল এবং সাঙ্গু নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সম্ভাব্য প্রাণহানি এড়াতে আপাতত তিন্দু, রেমাক্রী ও নাফাখুম ভ্রমণের বিষয়ে মৌখিক সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের এসব এলাকায় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।’

রিজভী রাহাত/অমিয়/

নিম্নচাপের প্রভাবে হাতিয়ায় ফিরেছে শত শত মাছ ধরার ট্রলার

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৮ পিএম
নিম্নচাপের প্রভাবে হাতিয়ায় ফিরেছে শত শত মাছ ধরার ট্রলার
ছবি: খবরের কাগজ

গভীর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের কারণে নোয়াখালীর হাতিয়ায় মাছ শিকার কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলায় উপজেলার উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকার শত শত মাছ ধরার ট্রলার গভীর সাগর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে এসেছে। এতে চরম অনিশ্চয়তা ও আর্থিক সংকটে পড়েছেন জেলে ও ট্রলার মালিকরা।

সোমবার (৬ জুলাই) সরেজমিনে হাতিয়ার চেয়ারম্যানঘাট, বাংলাবাজার, বৌবাজার, কাজীর বাজার, সূর্যমুখী, রহমত বাজার, কাদিরা সুইজ, বুড়িরদোনা, জঙ্গলিয়া, রাতারখাল, এম আলী সুইজ, নিঝুমদ্বীপ, কাটাখালী, চরচেঙ্গা, তমরদ্দি, সুখচর ও নলচিরাসহ বিভিন্ন মাছঘাট ঘুরে দেখা যায়, শত শত মাছ ধরার ট্রলার সারিবদ্ধভাবে নোঙর করে রাখা হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে জেলেরা গভীর সাগরে মাছ শিকারে যেতে পারছেন না।

জেলেরা জানান, ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে আশানুরূপ ইলিশ ও অন্যান্য মাছ না পাওয়ায় অধিকাংশ ট্রলার লোকসানের মুখে পড়ে। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অনেকেই ঋণ ও ধারদেনা করে আবার ট্রলার নিয়ে সাগরে যান। কিন্তু নিম্নচাপের কারণে সাগর উত্তাল হয়ে ওঠায় মাত্র দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই তাদের ফিরে আসতে হয়েছে। একটি ট্রলার সাগরে পাঠাতে এক লাখ থেকে চার লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হলেও সেই অর্থের বড় অংশই ওঠেনি।

ট্রলার মালিক আকবর হোসেন বলেন, ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে দুই দফায় ট্রলার সাগরে পাঠিয়েছি। দুইবারই লোকসান হয়েছে। পরে ঋণ করে আবার ট্রলার পাঠালেও গভীর সাগরে উত্তাল ঢেউয়ের কারণে মাত্র দুই দিনের মাথায় ফিরে আসতে হয়েছে। এখন আবার ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি হওয়ায় নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সূর্যমুখী এলাকার ট্রলার মাঝি মো. সেলিম বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষে কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাওয়ায় ট্রলার মালিকরা এমনিতেই লোকসানে ছিলেন। এর মধ্যে বৈরী আবহাওয়া পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে জেলেরা আবার সাগরে যেতে পারবেন বলে আশা করছি।

স্থানীয় মৎস্যসংশ্লিষ্টরা জানান, কয়েকদিন ধরে উত্তাল সাগর ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে মাছ শিকার কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে শুধু জেলেরাই নন, মাছের আড়ৎ, বরফকল, পরিবহন ও মাছ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হাজারো মানুষের জীবিকায়ও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

উল্লেখ্য, হাতিয়া উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রায় সাত লাখ মানুষের বসবাস। সরকারি হিসাবে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ২৫ হাজার ৯৯৫ জন। তবে মাছ ধরা, আড়ৎ, বরফকল, পরিবহন ও মাছ ব্যবসার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত মানুষের সংখ্যা লক্ষাধিক। বৈরী আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে তাদের আর্থিক সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

হানিফ/নাঈম

চাঁদপুরে শর্টগান ও ১২ রাউন্ড গুলি জব্দ

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৭ পিএম
আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৪:২০ পিএম
চাঁদপুরে  শর্টগান ও ১২ রাউন্ড গুলি  জব্দ
দেশীয় শর্টগান ও শর্টগানের ১২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে র‍্যাব-১১/ ছবি: খবরের কাগজ

চাঁদপুরের মতলব উত্তর বেলতলি নয়াকান্দি এলাকায় প্লাস্টিকের ব্যাগ থেকে দুটি শর্টগান ও ১২ রাউন্ড গুলি জব্দ করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

সোমবার (৬ জুলাই) রাত আনুমানিক ১টা ৪৫ মিনিটে র‍্যাব-১১ সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এসব অস্ত্র ও গুলি জব্দ করে।

র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, বেলতলি নয়াকান্দি এলাকার একটি মুরগির খামারে ঝোপের মধ্যে সন্দেহজনকভাবে একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ পড়ে রয়েছে, এমন খবরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে তল্লাশি চালানো হয়। জব্দ করা অস্ত্র ও গুলি থানায় হস্তান্তর করা হবে।

মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান জানান, জব্দ অস্ত্র ও গুলি এখনো থানায় জমা দেওয়া হয়নি। জমা দিলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফয়েজ আহমেদ/তামান্না রুপা/

ঈশ্বরদীতে র‍্যাবের অভিযানে দেশি-বিদেশি অস্ত্র জব্দ, গ্রেপ্তার ৪

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৬ পিএম
আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৬ পিএম
ঈশ্বরদীতে র‍্যাবের অভিযানে দেশি-বিদেশি অস্ত্র জব্দ, গ্রেপ্তার ৪
গ্রেপ্তার চার আসামি। ছবি: খবরের কাগজ

পাবনার ঈশ্বরদীতে অভিযান চালিয়ে বিদেশি পিস্তল, বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

সোমবার (৬ জুলাই) ভোর সোয়া ৪টার দিকে পাকশী ইউনিয়নের চররূপপুর এলাকায় অভিযান চালানো হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন, সুপ্ত ইসলাম জীবন (২৬), মো. বাঁধন ইসলাম (২৩), মো. শাকিল হোসেন (৩০) ও চঞ্চল ইসলাম নিরব (২৬)।

এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ৫ রাউন্ড কার্তুজ, তিনটি ম্যাগজিন, ৫টি ব্যারেল, তিনটি স্লুইচ গিয়ার চাকু, একটি হাত চাপ ব্লেড, একটি ইলেকট্রিক সুটার, ৯টি মোবাইল ফোন, ১১টি সিমকার্ড, ১০০ এয়ারগান কার্তুজ এবং তাদের ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

র‍্যাব-১২ পাবনার কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার মো. ওয়াহিদুজ্জামান খবরের কাগজকে জানান, জব্দ বিদেশি পিস্তল, কার্তুজ, অস্ত্রের ব্যারেল, ম্যাগজিন, বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র, এয়ারগান কার্তুজ, মোটরসাইকেল ও গ্রেপ্তার ৪ আসামিকে ঈশ্বরদী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান খবরের কাগজকে জানান, গ্রেপ্তার চারজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করে তাদের পাবনা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

জাহাঙ্গীর হোসেন/থিওটোনিয়াস/

ঈশ্বরগঞ্জে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপিত

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৬ পিএম
ঈশ্বরগঞ্জে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপিত
ছবি: খবরের কাগজ

‘উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যে সারাদেশের ন্যায় ঈশ্বরগঞ্জে প্রথমবারের মতো যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত  হয়েছে ‘জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬’।

সোমবার (৬ জুলাই) বেলা ১১টায় বর্ণাঢ্য র‌্যালির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হয়।

র‌্যালি শেষে উপজেলা পরিষদ হলরুমে আলোচনা সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা রহমানের সভাপতিত্বে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক, সামাজিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আতিকুর রাজ্জাক ভূঁইয়া হিরা, আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা তানিয়া তাসমিন এবং উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নন্দন কুমার দেবনাথ। এছাড়াও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রিজভী আহাম্মেদ, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ আহমেদ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আবুল কায়সার তালুকদার এবং সমবায় অফিসার শফিকুল ইসলাম আকন্দসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

আলোচনা সভা শেষে পল্লী উন্নয়নে বিশেষ অবদান ও সহায়তার অংশ হিসেবে ঋণ বিতরণ এবং পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে উৎসাহিত করতে গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

ফয়সল আহমেদ/অন্তরা/