ঢাকা ২২ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
মাশরাফি-রুবেলকে ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড নাহিদ রানার গৌরীপুরে ১০ দিনে ৩ খুন: জনমনে আতঙ্ক অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর প্রস্তুতি চলছে: ইসি মাছউদ King Lear and Three Daughters বিষয়ক Story Writing নিয়ে আলোচনা, ৯ম পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ১ম পত্র চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের ঝুঁকি, বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ চলমান সংকট রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করতে হবে বিশ্ববাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম রাবিতে ১০ লাখ টাকা বৃত্তি দেওয়ার আশ্বাস ভূমিমন্ত্রীর হোটেল আমারি ঢাকায় শুরু হলো ইন্টারন্যাশনাল লাঞ্চ বুফে নোয়াখালীতে শিশু ধর্ষণ-হত্যা মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড জার্সির পেছনে কার নাম লিখে খেলছেন হালান্ড? বাংলা কিউআর প্রচারে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের র‌্যালি শেরপুরে শাশুড়ির ভরসায় পরীক্ষা দিলেন পুত্রবধূ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজের সুযোগ স্ত্রীকে হত্যা করে থানায় জিডি করতে গেলেন স্বামী, তারপর... দারাজে ৭.৭ সুপার সেভিংস সেল: বিশাল ছাড়, জ্যাকপট পুরস্কার ও কেনাকাটার দারুণ সুযোগ হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু সাঙ্গু নদীর উজানে ভ্রমণে সতর্কতা, আটকা দেড় শতাধিক পর্যটক নিম্নচাপের প্রভাবে হাতিয়ায় ফিরেছে শত শত মাছ ধরার ট্রলার পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ অধ্যায়ের ১৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, এইচএসসির ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র আজ বিশ্ব চুমু দিবস মেঘদূতের বার্তা নিয়ে আসে কদম চাঁদপুরে শর্টগান ও ১২ রাউন্ড গুলি জব্দ ঈশ্বরদীতে র‍্যাবের অভিযানে দেশি-বিদেশি অস্ত্র জব্দ, গ্রেপ্তার ৪ প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ যুবরাজের ক্রিশ্চিয়ান সার্ভিস সোসাইটিতে চাকরির সুযোগ, পদ ৩৫০ ঈশ্বরগঞ্জে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপিত শেখ হাসিনার দেশে ফিরতে আইনি বাধা নেই: রুমিন ফারহানা গাজায় যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েলের হামলা, নিহত ৪ ইয়ামাল জানালেন তার কঠিন প্রতিপক্ষের নাম

মিরসরাইয়ে সালিশ বৈঠকে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা

প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম
আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৯ এএম
মিরসরাইয়ে সালিশ বৈঠকে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা
পিতার জন্য সন্তান আরফাতের আহাজারি। ছবি: খবরের কাগজ

মিরসরাইয়ে সালিশ বৈঠকে মো. শফিউল আলম (৫৫) নামে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় খৈইয়াছড়া ইউনিয়নের উত্তর আমবাড়িয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে নিহত শফিউল আলমের ভাতিজা প্রতিবন্ধী ফকির আহমদকে মেরে রক্তাক্ত করে একই এলাকার রিক্কু, রিফন ও রিজভী। এ ঘটনার প্রতিবাদে এলাকার লোকজন নিয়ে শুক্রবার সালিশ বৈঠকে বসলে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে নিহত শফিউল আলমের উপর হামলা করে। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করে।

নিহতের ছেলে মো. আরাফাত হোসেন বলেন, 'এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করছে রিক্কু, রিফন ও রিজভী। প্রতিদিন মাদক সেবন করে এলাকায় নানা অপরাধ করছে। মঙ্গলবার বিকেলে আমার চাচাতো ভাই প্রতিবন্ধী ফকির আহমদকে মেরে রক্তাক্ত করেছে। শুক্রবার অপরাধীদের বিরুদ্ধে সালিশ বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই বৈঠকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার পিতার উপর অতর্কিত হামলা করে। পরে এলাকার মানুষকে ভয় দেখিয়ে তারা পালিয়ে যায়। আমি পিতার হত্যার বিচার চাই।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মাহমুদা আক্তার বলেন, নিহতের শরীর বেশ কয়েক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মাথায় কোপের আঘাত পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার আগে তার মৃত্যু হয়েছে। 

মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

ইকবাল হোসেন জীবন/এসএন

স্ত্রীকে হত্যা করে থানায় জিডি করতে গেলেন স্বামী, তারপর...

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৪ পিএম
আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৪ পিএম
স্ত্রীকে হত্যা করে থানায় জিডি করতে গেলেন স্বামী, তারপর...
ছবি: খবরের কাগজ

মৌলভীবাজারের রাজনগরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ মাটিচাপা দিয়ে নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গিয়ে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন ঘাতক স্বামী আলমগীর হোসেন।

সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলার মুন্সীবাজার ইউনিয়নের করিমপুর গ্রামে আলমগীরের নিজ বাড়ির উঠান খুঁড়ে তার স্ত্রী জাহেদা বেগমের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ জুন রাত আনুমানিক ৯টার দিকে পারিবারিক কলহের জেরে আলমগীর হোসেন তার স্ত্রী জাহেদা বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। হত্যার পর ঘটনাটি গোপন করতে গভীর রাতে বসতবাড়ির উঠানের একপাশে গর্ত খুঁড়ে মরদেহ মাটিচাপা দেন তিনি।

ঘটনার কয়েকদিন পর সন্দেহ এড়াতে কৌশল নেন আলমগীর। তিনি নিজেই রাজনগর থানায় গিয়ে স্ত্রী নিখোঁজ হওয়ার কথা জানিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে চান। একই সঙ্গে পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে দাবি করেন, তার স্ত্রী কাউকে না জানিয়ে গোপনে বিদেশে চলে গেছেন।

তবে জিডি করার সময় আলমগীরের অসংলগ্ন কথাবার্তা ও সন্দেহজনক আচরণে পুলিশের সন্দেহ হয়। পরে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে একপর্যায়ে তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন এবং মরদেহ মাটিচাপা দেওয়ার বর্ণনা দেন।

পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার দুপুরে রাজনগর থানা পুলিশ আলমগীরের বাড়ির উঠান খুঁড়ে জাহেদা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে।

রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ উদ্দিন আহমদ ভুঁইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযুক্ত আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।

পুলক পুরকায়স্থ/নাঈম

নওগাঁয় ছেলের হাতে বাবা খুন

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০২:৪০ পিএম
আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৬ পিএম
নওগাঁয় ছেলের হাতে বাবা খুন
ছবি: খবরের কাগজ

নওগাঁয় ছেলে সুমনের (৩২) হাতে বাবা মাহতাব উদ্দিন (৫৮) খুন হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ জানায়, নিহত মাহতাব একজন রিকশাচালক। তার একমাত্র ছেলে সুমন নেশাগ্রস্ত। মাঝেমধ্যেই বাবার সঙ্গে টাকাপয়সা নিয়ে ঝামেলা হতো।

সোমবার (৬ জুলাই) ভোরে নওগাঁ শহরের বনানীপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ আরও জানায়, রবিবার রাতে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে বাবাকে বাড়ির উঠানে এনে মাথায় ইট ও কাঠ দিয়ে আঘাত করে সুমন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত মাহতাব উদ্দিনের বড় ভাই আক্তার আলী সরদার জানান, কয়েক দিন আগেই ছেলেকে বিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু মাদক সেবন করায় তার স্ত্রী ঢাকায় চলে যায়। এরপর থেকেই অস্থিরতা বাড়ে সংসারে।

এ ছাড়াও বিভিন্ন সময় বাড়ির জিনিসপত্র বিক্রি করে নেশার টাকা যোগাড় করত সুমন। এর আগেও কয়েকবার বাবাকে মারধর করেছে সে।

নওগাঁ সদর থানার ওসি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান খবরের কাগজকে বলেন, বাবাকে মারধরের পর থেকে সুমন পলাতক। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আক্তার আলী বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেছেন।

হারুন চৌধুরী/থিওটোনিয়াস/

শিশু বলাৎকার ও যৌন হয়রানির অভিযোগে গ্রেপ্তার ২

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪২ এএম
আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪২ এএম
শিশু বলাৎকার ও যৌন হয়রানির অভিযোগে গ্রেপ্তার ২
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরের শেওড়াপাড়ায় ও গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার পাটগাতী এলাকায় শিশু বলাৎকার ও যৌন হয়রানির অভিযোগে এক মাদ্রাসার শিক্ষকসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত শনিবার পৃথক সময়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে অভিযোগ পাওয়ার পর স্থানীয় পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করেছে। 

জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ এর গণমাধ্যম ও জনসংযোগ কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ার সাত্তার গতকাল রবিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গত শনিবার বিকেলে মিরপুর থানার শেওড়াপাড়া থেকে একজন ব্যক্তি ‘জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯’ ফোন করে জানান, তাদের এলাকার একজন মাদ্রাসার শিক্ষক ১২ বছরের এক ছাত্রকে জোরপূর্বক বলাৎকার করেছেন। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি মিরপুর থানাকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। পরে মিরপুর থানার একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় অভিযুক্ত মোশারফ হোসেন মেহেদীকে গ্রেপ্তার করে। মেহেদী শেওড়াপাড়া এলাকায় একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন। তার গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের ধনবাড়ি থানার নিজবর্নী পলাশতলায়। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

পৃথক ঘটনা সম্পর্কে গতকাল পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ার সাত্তার জানান, শেওড়াপাড়ার ওই ঘটনার আগে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার পাটগাতি থেকেও এক ব্যক্তি ‘৯৯৯’ নম্বরে ফোন করে অভিযোগ করেন, তার শিশু ভাগনিকে স্থানীয় এক ব্যক্তি ধর্ষণের চেষ্টা ও যৌন হয়রানি করেছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে টুঙ্গিপাড়া থানাকে জানানো হলে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় অভিযুক্ত জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার ব্যক্তি ওই গ্রামের সর্দারপাড়ার বাসিন্দা। এ ঘটনায় টুঙ্গিপাড়া থানায় একটি মামলা হয়েছে।

ছিনতাইয়ের অভিযোগ, মসজিদের মাইকে ঘোষণার পর গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম
ছিনতাইয়ের অভিযোগ, মসজিদের মাইকে ঘোষণার পর গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু
ফতুল্লায় ছিনতাইয়ের অভিযোগে সিজান নামে এক যুবককে গণপিটুনি। ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ছিনতাইয়ের অভিযোগে সিজান নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার(৫ জুলাই) রাতে পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ সদর জেনারেল হাসপাতালে মর্গে পাঠায়৷

নিহত সিজান (২৫) পশ্চিম মাসদাইর এলাকার ইউনুছ ওরফে ইন্নু মিয়ার ছেলে।

পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে সিজান মাদক সেবন ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত। প্রায় রাতে এলাকার লোকজনকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি নগদ অর্থ ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয় জিসানসহ তার সহযোগীরা। শনিবার রাতে সিজানসহ তার এক সহযোগী এক যুবকের মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনতাই করলে ওই যুবক এলাকার মাদক-সন্ত্রাসবিরোধী একটি সামাজিক সংগঠনের কাছে নালিশ দেয়। পরে কমিটির লোকজন সহ স্থানীয়রা একত্রিত হয়ে সিজানসহ তার সহযোগীকে ধরে এনে মারধর করে৷ এক পর্যায়ে জিসান অচেতন হয়ে পড়লে ওই অবস্থায় তাকে পরিবারের লোকজনের মাধ্যমে শহরের খানপুর ৩শ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ সদর জেনারেল হাসপাতালে মর্গে পাঠায়।

এদিকে মাসদাইর মোড়ে সিজানকে নির্যাতনের সময় একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে সিজান ও তার সহযোগী যুবককে পিটিয়ে ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়। অপরপাশে মাসদাইর মসজিদের ইমাম কাউসার আহমেদের মাইকে ঘোষণা করছে অপরাধকে মারছে জনগণ। জনগণ মারলে কোন মামলা নেই। যখনি মাইকে ঘোষণা করা হবে সবাইকে এই ভাবে একত্রিত হতে হবে।

এলাকাবাসী জানায়, চলতি বছর পশ্চিম মাসদাইর মসজিদের ইমাম কাউসার আহমেদের সভাপতিত্বে এলাকার যুবকদের নিয়ে আল ফালাহ কল্যাণ সংগঠন নামে মাদক-সন্ত্রাসবিরোধী একটি সামাজিক সংগঠন গঠন করেন। এই কমিটির লোকজন কয়েকমাস আগে সিজানকে সব অপকর্ম থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে বলার পরও সে ছিনতাইসহ নানা অপকর্ম ছাড়েনি। এতে তার উপর ক্ষিপ্ত ছিলো সংগঠনের সদস্যরা।

নিহতের বাবা ইউনুছ মিয়ার অভিযোগ, শনিবার রাত ১০টার দিকে মসজিদের ইমাম কাউসারের নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৪০ জন সদস্য সিজানের বিরুদ্ধে মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের অভিযোগে তাকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে যান। এরপর তাকে বেধড়ক পিছিয়ে অচেতন অবস্থা পরিবারের লোকজনের তাছে সিজানকে তুলে দেয়। পরে জিসানকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সিজানকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি পরিবারের।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে মসজিদের ইমাম ও আল ফালাহ কল্যাণ সংগঠনের নেতা কাওসার আহমেদ দাবি করেন, সিজানের বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে এলাকাবাসি ক্ষিপ্ত হয়ে মারধর করেছে, তিনি নিজে মারধর করেনি বলে দাবি করেন। তবে মাইকে ঘোষণার বিষয়ে কোন উত্তর না দিয়ে ফোন বন্ধ করে দেন।

নির্যাতনের কারনেই জিসানের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম। তিনি জানান, সিজানের বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে৷ নিহত সিজানের মরদেহ দাফনের পর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হবে। ইতোমধ্যে মামলার প্রস্তুতি চলছে। পুলিশ মাসদাইর এলাকায় অভিযান চালিয়েছে৷ যারা হত্যাকান্ডে জড়িত তারা পালিয়েছে। তবে অবশ্যই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এছাড়া আহত আরেক যুবক হাসপাতালে ভর্তি। তার পরিচয় সহ বিস্তারিত এখনো পাওয়া যায়নি।

বিল্লাল হোসাইন/এসএন

জীবনের নতুন অধ্যায় শুরুর আগেই মর্মান্তিক পরিণতি

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম
জীবনের নতুন অধ্যায় শুরুর আগেই মর্মান্তিক পরিণতি
শফি উল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত

শফি উল্লাহর জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হওয়ার আগেই নেমে এলো এক মর্মান্তিক পরিণতি। গত ২৬ জুন তার কাবিন সম্পন্ন হয়েছিল। স্বপ্ন ছিল অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে নতুন সংসার শুরু করবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।

জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সাবরাং ইউনিয়নের পুরান পাড়া এলাকায় দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলার শিকার হন শফি উল্লাহ। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক। যে বাড়িতে বিয়ের আনন্দের প্রস্তুতি চলছিল, সেখানে এখন শুধুই কান্না আর শোকের মাতম। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

শনিবার (৪ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে টেকনাফে মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে। নিহত শফি উল্লাহ (২৫) সাবরাং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পুরানপাড়া এলাকার হাফেজ মুক্তার আহমদের ছেলে। তিনি মঈন উদ্দিন মেমোরিয়াল কলেজের ডিগ্রি ২য় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।

নিহত শফি উল্লাহর বড় ভাই হাবিব উল্লাহ জানান, চলাচলের রাস্তা নিয়ে তাদের সঙ্গে প্রতিপক্ষের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল এবং বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন ছিল। বিচার শেষ হওয়ার আগেই তার চাচা মৌলবি জহির আহমদ এবং তার ছেলে ইসমাইল, ইসহাক, ইদ্রিস, ইলিয়াস ও ওসামাসহ কয়েকজন তাদের ওপর দাঁড়ালো অস্ত্র নিয়ে হামলা করেন। একপর্যায়ে শফি উল্লাহকে বেধড়ক মারধর করার সময় গুরুতর হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার হাসপাতালে প্রেরণ করা হয় এবং শনিবার রাতে তার মৃত্যু হয়।

শফি উল্লাহর পিতা হাফেজ মুক্তার আহমদ করেন, তার ছেলে শফি উল্লাহকে ইদ্রিস লাঠি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেছেন। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

এলাকাবাসী জানান, শফি উল্লাহ শান্ত স্বভাবের একজন যুবক ছিলেন। সম্প্রতি তার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা (কাবিন) সম্পন্ন হয়েছিল। বিয়ের আগেই পরিকল্পিতভাবে তাকে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনার সাথে যারা জড়িত তাঁদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা দাবি করেন। 

কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহত শফি উল্লাহর বোন তার ভাইয়ের হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। তিনি সরকারের ও প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, খুনিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, এ দেশে যেন বিচার নেই। হামলাকারীরা প্রভাবশালী বলেই তারা বারবার এমন নৃশংস হামলা চালানোর সাহস পাচ্ছে। আমার ভাইয়ের ওপরও তারা নির্মমভাবে আঘাত করেছে। আমরা এর ন্যায়বিচার চাই।

টেকনাফ মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শুভ মিত্র জানান, শনিবার রাতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাবরাং পুরান পাড়া এলাকার বাসিন্দা শফি উল্লাহ মারা যান। পরে কক্সবাজার সদর মডেল থানা থেকে বিষয়টি তদন্তের জন্য পাঠানো হয়।

তিনি আরও জানান, রবিবার সকালে ঘটনাস্থল ও নিহতের বাড়িতে গিয়ে প্রাথমিকভাবে জানা যায় বাড়ির পাশের পথ ব্যবহার নিয়ে শফি উল্লাহর সঙ্গে তার চাচাত ভাইদের বিরোধ ছিল। ওই বিরোধের জেরে শফি উল্লাহর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানতে পারি। নিহতের মরদেহ বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় শফি উল্লাহ নিহত হন। তার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মোঃ শাহীন/এসএন