ঢাকা ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
হলুদের ফাঁদে ১৮ তারকা ফ্রান্স-মরক্কো লড়াই অনলাইনে দেখবেন যেভাবে কেন গুগলে নিজের নাম সার্চ দিতে বললেন আর্লিং হালান্ড? দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ ইংলিশ ডিফেন্ডার মাশহাদে সমাহিত হলেন খামেনি ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচে কার জয়ের সম্ভাবনা কত, জানাল সুপারকম্পিউটার ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৯০ হামে মৃত্যু ৭৪৭, এক দিনেই শনাক্ত ৯৪৬ মুক্তাগাছায় প্রতিবন্ধী শিশুদের মধ্যে হুইলচেয়ারসহ সহায়ক উপকরণ বিতরণ হঠাৎ দিক হারিয়ে সিরিজ হারল বাংলাদেশ মুনিরের সঙ্গে আরাঘচির ফোনালাপ, মার্কিন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা সাঙ্গু নদীতে কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে যুবদল কর্মী নিখোঁজ সিলেটের নতুন ডিসি আব্দুল্লাহ আল মামুন রাষ্ট্রীয় শোকযাত্রা শেষে মাশহাদে খামেনির মরদেহ সিএফমোটো ও ব্রেম্বোর নতুন অধ্যায় শুরু রাঙামাটিতে পাহাড়ধসের মধ্যেই বন্যার আশঙ্কা উখিয়ার পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে দুর্যোগ সচিব গোপালগঞ্জে ভিমরুলের কামড়ে শিশুর মৃত্যু আসামির মৃত্যুর গুজবে আগৈলঝাড়া থানায় হামলা, পুলিশসহ আহত ১২ দুই দিন পর ফিরলেন সাজেকে আটকে পড়া ১৫০ পর্যটক চীনে জুতা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২৮ সাতকানিয়ায় পানিবন্দি ৮ নারী ও শিশুকে উদ্ধার করলেন এসিল্যান্ড ইরান হামলা না থামালে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা আরও ভয়ানক হবে: ট্রাম্প চট্টগ্রাম-২ আসনের এমপি হলেন সরোয়ার আলমগীর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরাম, ঢাকার সভাপতি মোবারক, সম্পাদক সবুজ মাছ ধরতে গিয়ে তলিয়ে যাওয়া নিখোঁজ তরুণের মরদেহ উদ্ধার জঙ্গি সন্দেহে সিঙ্গাপুর ফেরত ২ জন রিমান্ডে লাল কার্ডের রাজা এবার ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচের রেফারি গঙ্গা চুক্তি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত, আশাবাদ ব্যক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ‘মদ ও জুয়া নিষিদ্ধকরণ’ বিলসহ সংসদে দুইটি বিল প্রত্যাহার

যৌক্তিক সময়ে কমবে মূল্যস্ফীতি : অর্থ উপদেষ্টা

প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৪, ১০:৫৯ এএম
যৌক্তিক সময়ে কমবে মূল্যস্ফীতি : অর্থ উপদেষ্টা
অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ

অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘মূল্যস্ফীতি চট করে কমবে না। এটা ঘোড়ার মতো নয় যে মাথা নিচু করে দৌড় দেবে, তারপরে ছুটে চলবে। কিছুদিন সময় লাগবে। তবে যুগ যুগ লাগবে না। আমরা যত দ্রুত সম্ভব যৌক্তিক সময়ের মধ্যে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনব। এরই মধ্যে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে।’

খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনা হবে বলে জানান তিনি। 

বুধবার (১৪ আগস্ট) সচিবালয়ে মূল্যস্ফীতি ও খাদ্য সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন অর্থ উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, মূলস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফলে দ্রুত এটি কমে আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে। কাউকে ধরা বা মারা- এসব এজেন্ডা নেই। একটাই এজেন্ডা, মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনা, যাতে সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘব হয়। সে লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি, মন্তব্য করেন ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ। 

গত জুলাই মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১৪ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। এটি এক যুগের মধ্যে সর্বোচ্চ। গত দুই বছর ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাপনকে কষ্টের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করাই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। 

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, মূল্যস্ফীতির ওপর বিদেশি বিনিয়োগ নির্ভর করে। যারা এ দেশে বিনিয়োগ করবেন, তারা মূল্যস্ফীতির সূচক দেখেন। কারণ এখানে মুনাফার ব্যাপার আছে। সুতরাং ব্যবসা-বাণিজ্যের দিক থেকে সেটা দেশি হোক আর বিদেশি হোক, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে উপদেষ্টা পরিষদে সিদ্ধান্ত হয়েছে। সে জন্য এটিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে- সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ‘উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কৃষিপণ্য উৎপাদনের ওপর বেশি নজর দেওয়া হবে। বিভিন্ন কারণে বাজারে সরবরাহের ব্যাঘাত ঘটে। আমরা কারণগুলো শনাক্ত করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলেছি সংশ্লিষ্টদের।’ 

সিন্ডিকেটের কারণে বাজার অস্থির হয়। তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেবেন-এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘সিন্ডিকেটের বিষয়টি আমাদের নজরে আনা হয়েছে।’ 

ছাগলকাণ্ডের মতিউর রহমানসহ সাম্প্রতিক সময়ে যেসব দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো ধামাচাপা পড়ে যাবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, না না, ধামাচাপা পড়বে না। এগুলোর কার্যক্রম যথারীতি চলমান থাকবে। তিনি বলেন, কাউকে শাস্তি দিতে হলে সঠিক তথ্য-প্রমাণ লাগবে। তা না হলে আইনি প্রক্রিয়ায় বিচার করা কঠিন হয়ে পড়বে। 

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কী নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে- একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উৎপাদন বাড়াতে কৃষি উপকরণসহ যা কিছু দরকার, সেগুলোর প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরবরাহব্যবস্থা যাতে কিছুতেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে নজর রাখার কথা বলা হয়েছে। 

আরেক প্রশ্নের জবাবে ড. সালেহউদ্দিন বলেন, ‘যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর বাস্তবায়ন হলে আমি আশা করছি শিগগিরই জিনিসপত্রের দাম কমে আসবে। মানুষ স্বস্তি পাবে। তাই বলে কালই দাম কমে যাবে, তা ঠিক নয়। এর জন্য একটু সময় লাগবে। আমরা বাস্তবায়নকে বেশি প্রাধান্য দেব।’ 

উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সরবরাহব্যবস্থা ঠিক করা হবে, সমন্বয় করা হবে মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির। সবকিছুই উন্মুক্ত থাকবে। কিছুই গোপন করা হবে না, আগে যেটা করা হতো। তবে অর্থের অপচয় রোধ করতে হবে। পাশাপাশি অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। বৈঠকে উপস্থিত সবাইকে ভয়ভীতিমুক্ত হয়ে কথা বলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বলেছেন, তোয়াজ করার দরকার নেই। এমনকি তিনি এও বলেছেন, উপদেষ্টা ভালো মানুষ, এসব কথাও বলার দরকার নেই।

মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে গভর্নর যা বললেন: বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে সরবরাহ ঠিক রেখে উৎপাদনের চাকা সচল রাখা। এটা নিশ্চিত করতে পারলে বাজারে দামের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে হলে আরেকটি বিষয়ে কাজ করতে হবে। সেটা হলো চাঁদাবাজি বন্ধ এবং চাহিদার বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে হলে এসব বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। বিষয়গুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি এবং সংশ্লিষ্টদের কাজ করতে বলা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে। আরও পর্যালোচনা করা হবে, নতুন কিছু করা যায় কি না।’ 

গভর্নর আহসান মনসুর বলেন, আগামী পাঁচ থেকে ছয় মাসের মধ্যে মূল্যস্ফীতি গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে নেমে আসবে। রিজার্ভসংকট রাতারাতি যাবে না- এর হিসাব করতে হবে। আমদানিতে কোথায় কতটুকু ডলার দেওয়া যায়, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গেও আলাপ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ব্যাংকিং কমিশন গঠনবিষয়ক এক প্রশ্নের জবাবে নতুন গভর্নর বলেন, এ বিষয়ে আলোচনা হয়নি।

বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর, অর্থসচিব মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার, বাণিজ্যসচিব মো. সেলিম উদ্দিন, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, শিল্পসচিব জাকিয়া সুলতানা, খাদ্যসচিব ইসমাইল হোসেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের দুই ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান ও নুরুন নাহার উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের অর্থনীতি চ্যালেঞ্জের মধ্যেও স্থিতিশীল: এডিবি

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০১:৫২ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০২:০৩ পিএম
বাংলাদেশের অর্থনীতি চ্যালেঞ্জের মধ্যেও স্থিতিশীল: এডিবি
ছবি: সংগৃহীত

নানামুখী চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ ও সেবাখাতের প্রবৃদ্ধিতে বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রকাশিত এডিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ২০২৭ অর্থবছরে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে।

ধারাবাহিক সংস্কার ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি দেশের প্রবৃদ্ধির গতি শক্তিশালী করবে বলে প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় ।

এডিবির বাংলাদেশ আবাসিক মিশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান আকিরা মাতসুনাগা বলেন, ‘কঠিন বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিবেশের মধ্যেও শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ ও সেবাখাতের স্থিতিশীল কার্যক্রমের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদার, বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন, আর্থিক খাতের সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং জ্বালানি ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করতে ধারাবাহিক সংস্কার একটি শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব সংস্কার বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনীতির স্থিতিশীলতা জোরদারেও সহায়ক হবে।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, কঠোর সামষ্টিক আর্থিক পরিবেশ সত্ত্বেও শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ, সেবা খাতের ধারাবাহিক সম্প্রসারণ ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতে লক্ষ্যভিত্তিক ঋণ সহায়তার কারণে ২০২৬ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি সমর্থন পাবে।

এতে আরও বলা হয়, ২০২৬ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ০ শতাংশে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে ২০২৭ অর্থবছরে তা ধীরে ধীরে কমে ৮ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে আসবে।

এডিবি’র মতে, মাঝারি পর্যায়ের মূল্যস্ফীতি, ব্যবসা পরিচালনার বিধি-বিধান সহজীকরণ, সুশাসনের উন্নয়ন, কর প্রশাসন সংস্কার ও রেমিট্যান্সে প্রণোদনা অব্যাহত থাকলে ২০২৭ অর্থবছরে বেসরকারি ভোগব্যয় ও বিনিয়োগ আরও শক্তিশালী হবে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সেবাখাত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে থাকবে। একই সঙ্গে চলমান সংস্কার কার্যক্রম ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করবে এবং মধ্যমেয়াদে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াবে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রবৃদ্ধি টেকসই রাখা, প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বহিরাগত অভিঘাত মোকাবিলায় বাংলাদেশের স্থিতিস্থাপকতা আরও জোরদার করতে ধারাবাহিক নীতিগত সংস্কার এবং বিচক্ষণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য।

খাদিজা রুমি/

স্বর্ণের দামে ফের বড় পতন

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১১:১১ এএম
স্বর্ণের দামে ফের বড় পতন
ছবি: সংগৃহীত

দেশের বাজারে আরেক দফা স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভ্যাটসহ স্বর্ণালঙ্কারের দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৩২৩ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। একই সঙ্গে রুপার দামও কমানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে নতুন এ মূল্য কার্যকর হয়েছে।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সকাল ৯টায় বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে এই নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, এখন ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালঙ্কারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা। গতকাল পর্যন্ত এর দাম ছিল ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৩ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরির দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বর্ণের সঙ্গে কমানো হয়েছে রুপার দামও। 

নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৬০৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৩ হাজার ৭৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৮৫৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অন্তরা/

বৈদ্যুতিক যান আমদানি ও উৎপাদনে নীতিমালা হচ্ছে

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৫ এএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
বৈদ্যুতিক যান আমদানি ও উৎপাদনে নীতিমালা হচ্ছে
ছবি: খবরের কাগজ

বর্তমান সরকার দেশে প্লাগ-ইন হাইব্রিডসহ বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি) চলাচলে গুরুত্ব বাড়িয়েছে। এসব যানবাহন আমদানি ও উৎপাদনে খসড়া নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) শিল্প মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে খসড়া নীতিমালায় কোন বিষয়গুলো আনা হবে, তা নিয়ে আন্তমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। শিল্প মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। 

এ বিষয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (আইসিটি, ইনোভেশন ও পিআরজিআইএম) এ কে এম বেনজামিন রিয়াজী খবরের কাগজকে বলেন, পরিবেশবান্ধব প্লাগ-ইন হাইব্রিডসহ ইভি চলাচলে গুরুত্ব বাড়িয়েছে সরকার। প্রাথমিকভাবে এ বিষয়ে খসড়া নীতিমালা করা হবে। আর এর জন্য আগামীকাল (আজ) আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকে নীতিমালা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। কোন বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দেওয়া হবে, তা নিয়েও সবার মত চাওয়া হবে।  

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিল্প মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা খবরের কাগজকে বলেন, আগামীকালের (আজ) আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকে বৈদ্যুতিক যানবাহন চলাচল বাড়ানোর ক্ষেত্রে চলমান সমস্যাগুলো কী, তা নিয়েও আলোচনা হবে। এসব সমস্যার সমাধানে করণীয় কী, তা জানতে চাওয়া হবে। চলতি বাজেটে সরকারের দেওয়া সুবিধাগুলো কিভাবে দ্রুত কাজে লাগানো যায়, তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হবে।  
   
গাড়ি আমদানিকারক ও পরিবেশকরা বলছেন, বিকল্প জ্বালানিচালিত গাড়ির চাহিদা ধীরে ধীরে বাড়ছে। আগামীতে বাংলাদেশের অটোমোবাইল বাজারে তা আধিপত্য বিস্তার করবে। 

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্পষ্ট নীতিমালা, কর-সুবিধা, সহজ অর্থায়ন এবং চার্জিং অবকাঠামোর দ্রুত সম্প্রসারণ নিশ্চিত করা গেলে আগামী কয়েক বছরে দেশে প্লাগ-ইন হাইব্রিডসহ বৈদ্যুতিক যানবাহনের (ইভি) চাহিদা বাড়বে। সরকারকে এ বিষয়ে গুরুত্ব বাড়িয়ে বিভিন্ন সুবিধা দিতে হবে। এতে পরিবহন খাত আরও টেকসই ও পরিবেশবান্ধব হবে।

বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস্ ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) সাবেক সভাপতি মো. হাবিবউল্লাহ ডন খবরের কাগজকে বলেন, পরিবেশবান্ধব যাতায়াতব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং দেশ থেকে কার্বন নিঃসরণ কমানোর জন্য বর্তমান সরকার কাজ করছে। এ জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ইভি ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্য নিয়ে সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আধুনিক এই যানগুলোকে স্বাগত জানানোর সময় এসেছে। কারণ আগামী ১৫ বছরের মধ্যে পুরো বিশ্ব জীবাশ্ম জ্বালানিতে চলা গাড়ির ব্যবহার ও উৎপাদন পর্যায়ক্রমে শেষ করবে। চলতি বাজেটেও বৈদ্যুতিক যানবাহন আমদানি ও উৎপাদনে গুরুত্ব দিয়ে শুল্ক-করে ছাড় দেওয়া হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ীরা উৎসাহিত হবেন। 
 
ব্যবসায়ী এই নেতা আরও বলেন, বৈদ্যুতিক যান সংযোজন ও যন্ত্রাংশ উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি হলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। শিল্প মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট যানবাহনের অন্তত ৩০ শতাংশ বৈদ্যুতিক গাড়িতে রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির নিবন্ধন দেওয়া শুরু হয় ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে। এরপর থেকে টেসলা ও পোর্শের মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের প্রায় ২০টি বৈদ্যুতিক গাড়ির নিবন্ধন করা হয়েছে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটিতে (বিআরটিএ)। বর্তমানে দেশে আমদানি হওয়ায় মোট যাত্রীবাহী গাড়ির প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশই প্লাগ-ইন হাইব্রিড কিংবা হাইব্রিড গাড়ি। 

সূত্র জানায়, ইভি হলো এমন যানবাহন, যা পেট্রোল বা ডিজেলের পরিবর্তে ব্যাটারিতে সঞ্চিত বিদ্যুৎচালিত মোটরের মাধ্যমে চলে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, পেট্রোল ও ডিজেলচালিত গাড়ি আমদানি নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। এবার এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৬০০ সিসি ক্ষমতার পেট্রোল ও ডিজেলচালিত কিছু আমদানি করা গাড়ির ওপর করভার বাড়ানো হয়েছে।

দেশের অন্যতম ব্যবসায়ী সংগঠন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) এক গবেষণা প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বৈদ্যুতিক যান জনপ্রিয় করার সবচেয়ে বড় বাধা চার্জিং স্টেশনের অভাব। এ ছাড়া উচ্চ মূল্য, অপর্যাপ্ত বাস ডিপো, দুর্বল ব্যাটারি নিরাপত্তা ও পুনর্ব্যবহার এবং বিনিয়োগ ফেরত আসায় অনিশ্চয়তাও এই খাতের অন্যতম প্রতিবন্ধকতা। 

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা, চার্জিং অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং প্রয়োজনীয় কর-নীতিতে সহায়তা দেওয়ার বিষয়গুলোতে সরকার কাজ করা শুরু করেছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বৈদ্যুতিক গাড়ি, প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ি এবং চার্জিং স্টেশন-সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক-কর কমানো হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী খবরের কাগজকে বলেন, প্লাগ-ইন হাইব্রিডসহ বৈদ্যুতিক যানবাহন চলাচলে উৎসাহিত করা হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দেশব্যাপী চার্জিং নেটওয়ার্ক তৈরি করতে চার্জার এবং চার্জিং স্টেশনের যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে মোট করভার ৩৯.৭৫% থেকে কমিয়ে একদম শূন্য শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। সৌর বিদ্যুৎ খাতের ওপর ২০৩৫ সাল পর্যন্ত শূন্য কর হার সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যাতে নবায়নযোগ্য শক্তি দিয়ে এই চার্জিং স্টেশনগুলো চালানো যাবে।

সূত্র আরও জানায়, ইভি চার্জারের আমদানি শুল্ক ৩৯.৭৫% থেকে ১%-এ হ্রাস, ইভি নিবন্ধনে অগ্রিম আয়কর কমানো, ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়ির জন্য অটো ঋণের সীমা ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি এবং স্থানীয়ভাবে সংযোজিত ইভির ওপর ভ্যাট মওকুফের মেয়াদ ২০৩১ সাল পর্যন্ত বাড়ানো অন্তর্ভুক্ত।

এদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলারে বলা হয়, দেশে পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বাড়াতে অটো লোনে নতুন সুবিধা দেওয়া হয়েছে।  বৈদ্যুতিক এবং হাইব্রিড গাড়ি কিনতে গ্রাহকরা ব্যাংক থেকে সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন।    

৮ জুলাই মুদ্রা বাজার: বেড়েছে কানাডিয়ান ডলার, ইন্ডিয়ান রুপির দাম

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৮ এএম
৮ জুলাই মুদ্রা বাজার: বেড়েছে কানাডিয়ান ডলার, ইন্ডিয়ান রুপির দাম
ছবি: সংগৃহীত

দিন দিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হচ্ছে। এ ছাড়াও পড়াশোনা, চিকিৎসা, ভ্রমণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রয়োজনে বিদেশি মুদ্রার সঙ্গে আমাদের দেশের মুদ্রা বিনিময় করতে হয়।

একটা বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন, মুদ্রার বিনিময় হার প্রতিদিন পরিবর্তিত হয়। আমরা প্রতিদিন সর্বশেষ বিনিময় হার তুলে ধরছি। আরও বিস্তারিত জানতে স্থানীয় ব্যাংক বা বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা বা তাদের ওয়েবসাইট পরিদর্শন করা যেতে পারে।

মুদ্রা ক্রয় (টাকা) বিক্রয় (টাকা) বাড়ল/কমল
ইউএস ডলার     122.75 (ব্যাংক নির্ধারিত) 122.75 (ব্যাংক নির্ধারিত) --
ইউরো     140.18 140.22 -0.35
ব্রিটেন পাউন্ড     164.02 164.12 -0.42
অস্ট্রেলিয়ান ডলার     85.11 85.12 -0.29
জাপানি ইয়েন 0.7578 0.7579 -0.0001
কানাডিয়ান ডলার 86.50 86.52 +0.04
সুইস ক্রোনা 12.66 12.67 -0.1
সিঙ্গাপুর ডলার 94.99 95.07 -0.01
চায়না ইউয়ান     18.0558 18.0569 -0.0247
ইন্ডিয়ান রুপি     1.2934 1.2937 +0.0058
সৌদি রিয়াল 32.66 32.96 -0.01
আরব আমিরাত দিরহাম 33.40 33.68 -0.01

সূত্র: (বাংলাদেশ ব্যাংক)

রিফাত/

বড় মূলধনি শেয়ারে পতন, কমেছে সূচক ও লেনদেন

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৮ এএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
বড় মূলধনি শেয়ারে পতন, কমেছে সূচক ও লেনদেন
ছবি: খবরের কাগজ

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে বড় মূলধনি ও ভালো মানের কোম্পানির শেয়ারের দাম কমায় মূল্যসূচকের পতন হয়েছে। সূচকের পাশাপাশি বাজারটিতে কমেছে লেনদেনের পরিমাণও। তবে প্রধান শেয়ারবাজারে মন্দাভাব থাকলেও ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই)। সেখানে সূচক ও লেনদেন বাড়ার পাশাপাশি অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ডিএসইতে লেনদেনের শুরুতে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ায় সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। তবে লেনদেনের শেষভাগে এসে চিত্র বদলে যায়। বড় মূলধনের বেশির ভাগ ভালো কোম্পানির শেয়ারের বিক্রির চাপ বাড়ায় শেষ পর্যন্ত দরপতনের তালিকাটিই দীর্ঘ হয়, যার চূড়ান্ত প্রভাব পড়ে সূচকে।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলিয়ে ১৬০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৮০টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর। বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাছাই করা ভালো ৩০টি কোম্পানির মধ্যে মাত্র ৭টির দাম বেড়েছে, বিপরীতে ২১টির দাম কমেছে এবং ২টি অপরিবর্তিত ছিল। মূলত এই ভালো কোম্পানিগুলোর দরপতনই সূচককে টেনে নিচে নামিয়েছে।

ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ১৮ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৭৮১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ভালো ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ১০ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৮১ পয়েন্টে নেমেছে। তবে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৮৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

সূচকের পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কিছুটা কমেছে। গতকাল বাজারটিতে মোট ১ হাজার ৩৮৮ কোটি ৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের (১ হাজার ৪১৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা) চেয়ে ২৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা কম।

গতকাল ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে ছিল বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস। কোম্পানিটির মোট ৫০ কোটি ২৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে থাকা মালেক স্পিনিং ও ব্র্যাক ব্যাংকের লেনদেন হয়েছে যথাক্রমে ৪৬ কোটি ৩৪ লাখ ও ৪৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। লেনদেনের শীর্ষ ১০-এ থাকা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো অ্যাপেক্স স্পিনিং, আইটি কনসালট্যান্টস, সিমটেক্স, ড্রাগন সোয়েটার, বেক্সিমকো, আইপিডিসি ফাইন্যান্স ও সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট।

এদিন ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষে ছিল এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড। ফান্ডটির শেয়ারের দাম ১০ শতাংশ বা ৪ পয়সা বেড়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজের দাম বেড়েছে ৯ দশমিক ৮১ শতাংশ এবং পপুলার লাইফ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বেড়েছে ৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ। সামগ্রিকভাবে মিউচুয়াল ফান্ড খাত গতকাল বেশ চাঙা ছিল; তালিকাভুক্ত ফান্ডগুলোর মধ্যে ৩২টির দাম বেড়েছে এবং কমেছে মাত্র ১টির।

অন্যদিকে দরপতনের শীর্ষে ছিল ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিসেস লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ারের দর ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ বা ১ পয়সা কমেছে। সমান ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ দর হারিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিল ফিনিক্স ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড। এ ছাড়া এফএএস ফাইন্যান্স ও ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের শেয়ারের দর কমেছে ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ।

এদিকে দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৪২ পয়েন্ট বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৫০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২৯টির দাম বেড়েছে, ১০০টির কমেছে এবং ২১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দিন শেষে সিএসইতে মোট ৩০ কোটি ৭৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে।