ঢাকা ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
শিশুশিক্ষায় প্রয়োজন জলবায়ু সহনশীল শিক্ষাব্যবস্থা বিয়ে করতে এসে শ্রীঘরে শিক্ষার্থীদের সফট স্কিল বাড়াতে প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালুর উদ্যোগ ইউজিসির টানা বৃষ্টিতে কেরানীহাট-বান্দরবান মহাসড়ক পানির নিচে সীতাকুণ্ডে শিশু ইরা হত্যা: পাঁচ মাস পর বাবু শেখের মৃত্যুদণ্ড রক্ত পরীক্ষায় ভয় নয় দেশজুড়ে ফ্লেক্সিবল ডেলিভারি অপশন নিয়ে এলো পাঠাও পার্সেল সিলেট সীমান্তে বিএসএফের অবৈধ পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ, সতর্ক বিজিবি দুর্গত মানুষের নিরাপত্তা ও ত্রাণ সহায়তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি: ত্রাণমন্ত্রী মুখ দেখালেই বোর্ডিং পাস আইস্ক্রিনে ফুটবলের সেরা দুই সিনেমা ‘দামাল’ ও ‘জাগো’ রাজবাড়ীতে কোরআন পোড়ানোর অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার শেরপুরে বাসচাপায় নিহত ১, আটক ২ উর্মি খানের নতুন গান ‘ভাবনার মিছিল’ দেশের বাজারে ভিভোর নতুন স্মার্টফোন বাবার মামলায় ছেলের জেল, হাজতেই আত্মহত্যা মাদক ও বিচারহীনতার বিষবৃক্ষ সন্দ্বীপে টর্নেডোয় ব্যাপক ক্ষতি বিশ্ব পরিবেশ দিবসে টেকসই ভবিষ্যতের ছয় দিকনির্দেশনা নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে আমদানি সহজীকরণসহ বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার রাজনীতির পালাবদলে বদলে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ চুয়েট সাংবাদিক সমিতির নেতৃত্বে গালিব ও ফাইয়াজ খবরের কাগজের সংবাদের পর মেট্রোরেল স্টেশনে উচ্ছেদ অভিযান চালায় ডিএমটিসিএল ‘বাঘে ধরলে ছাড়ে, কিন্তু আমি ধরলে ছাড়ি না’ সাংবাদিকদের বিএনপি নেতার হুমকি হাতিয়ায় জোয়ার-বৃষ্টিতে জনদুর্ভোগ, ৫ হাজার পরিবার পেল খাদ্যসহায়তা প্রবল স্রোতে বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ, দুর্ভোগে হাতিয়ার লক্ষাধিক মানুষ বাঁশখালীতে বিদ্যুৎ বিপর্যয়, পানিবন্দি অর্ধলক্ষাধিক মানুষ নড়িয়ায় মেয়েকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বাবা আটক ৫ বছরে ১ কোটি দক্ষ কর্মী বিদেশে পাঠাবে সরকার স্মার্টফোন থেকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে ‘ক্লড কোওয়ার্ক’

প্রধান উপদেষ্টার সফর চীনকে আরও বিনিয়োগের আহ্বান জানাবে বাংলাদেশ

প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৫, ১২:১৫ পিএম
আপডেট: ২৭ মার্চ ২০২৫, ১২:২০ পিএম
চীনকে আরও বিনিয়োগের আহ্বান জানাবে বাংলাদেশ
ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং-এর সঙ্গে বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানাবেন। 

বৈঠকে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রকল্পে চীনের বিনিয়োগ ও ঋণ পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানোর অনুরোধ জানাবেন। ঋণের সুদের হার কমিয়ে আনার আহ্বানও জানাবেন। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ রয়েছে।  

প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বেরিয়ে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যাওয়ার পর ২০২৬ সালের নভেম্বর থেকে চীনের বাজারে বাংলাদেশের ৯৮ শতাংশ পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে না। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস চীনের প্রেসিডেন্টের কাছে শুল্কমুক্ত সুবিধা না থাকলেও বাংলাদেশ-চীনের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক বাড়ানোর ক্ষেত্রে কী পদক্ষেপ নেওয়া যায় তা নিয়ে আলোচনা করবেন। বিশেষভাবে চীন থেকে শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানি ও বাংলাদেশ থেকে রপ্তানির ক্ষেত্রে কী সুবিধা দেওয়া যায় তা নিয়েও আলোচনা করবেন। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনা বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে তাদের কারখানা স্থানান্তর করার আহ্বান জানাবেন ড. ইউনূস। বৈঠকে বাংলাদেশের শ্রমিকের কম মজুরি, বিনিয়োগ বাড়াতে বর্তমান সরকারের দেওয়া বিভিন্ন সুবিধার কথাও তুলে ধরবেন।  

গত মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি চার দিনের সফরে চীন যাচ্ছি। প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের সঙ্গে আমার বৈঠক হবে। চীনের বড় বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সিইওদের সঙ্গেও বৈঠক করব। পৃথিবীর সর্ববৃহৎ চাইনিজ সোলার প্যানেল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লংজি বাংলাদেশে কারখানা স্থাপনের আগ্রহ জানিয়েছে। আমি তাদের সঙ্গে বৈঠক করব। এ ছাড়া প্রযুক্তিগত সহায়তা, মেডিকেল সহায়তা, স্বল্পমূল্যে চিকিৎসাসহ অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা হবে। তারা আমাদের দেশ থেকে আম, কাঁঠাল ও পেয়ারা আমদানি করতে চায়। এটা খুব দ্রুতই শুরু হবে।’

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম খবরের কাগজকে বলেন, এই সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিল্প-বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদার হবে। বাংলাদেশ হবে চীনের বিনিয়োগের জন্য উপযুক্ত দেশ। বাংলাদেশের বর্তমান সরকার চীনের বিনিয়োগকারীদের জন্য সব ধরনের সুবিধা নিশ্চিত করবে। প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সেভাবেই প্রস্তুতি নিয়েছে।  

চীন থেকে বাংলাদেশের আমদানি করা পণ্যের মধ্যে মূলধনি যন্ত্রপাতিই বেশি। বাংলাদেশ অন্যতম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ আর পোশাক তৈরির বেশির ভাগ কাঁচামাল আসে চীন থেকে। এ ছাড়া বয়লার, তুলা, ইলেকট্রিক্যাল যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ, প্লাস্টিক, সুতা, লৌহ, ইস্পাত ইত্যাদি পণ্যও আমদানি করা হয় চীন থেকে। চীন থেকে মোবাইল ফোন, উন্নতমানের পোশাক, ইলেকট্রনিক্স, খেলনা, ডায়াপার, খাদ্যদ্রব্য, কাঁচামাল, প্রসাধনী, ঘরের আসবাবপত্র, রাসায়নিক, বিভিন্ন ধরনের যন্ত্র, জামাকাপড়, জুতা, ব্যাগ, শুকনো খাবার, ঘর সাজানোর বিভিন্ন সামগ্রীসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্যসামগ্রী বেশি আমদানি করা হয়। বিভিন্ন ধরনের গৃহসামগ্রীর মধ্যে রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার, ওয়াশিং মেশিন, রান্নাঘরে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী আমদানি হয়। বাংলাদেশের স্বল্পমূল্যে আকর্ষণীয় মোবাইল ফোনের কেস উৎপাদনের ব্যবস্থা না থাকায় চীন থেকেই বেশি আমদানি হয়। নিজস্ব ব্যবহারের জন্য অথবা ব্যবসার উদ্দেশ্যে ছোট-বড় বিভিন্ন আকর্ষণীয় মজবুত আসবাবপত্রও চীন থেকে বাংলাদেশে আমদানি করা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের শুকনো খাদ্যদ্রব্য যেমন বাদাম, খেজুর, বিভিন্ন ধরনের স্ন্যাকস এবং ফ্রোজেন খাদ্যসামগ্রী, সয়াবিন তেল, পাম অয়েল, গম ইত্যাদি আজকাল চায়না থেকে আমদানি করা হচ্ছে। 

প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চীন বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম বাণিজ্যিক অংশীদার। বর্তমানে চীন বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ১০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি অনেক বেশি। বাংলাদেশে চীন থেকে ৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্যসামগ্রী আমদানির বিপরীতে মাত্র ১ বিলিয়ন ডলারের পণ্যসামগ্রী রপ্তানি করে।

এরই মধ্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত দুই দেশের বাণিজ্য ব্যবধান কমিয়ে আনতে কী পদক্ষেপ নেওয়া যায় তা নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন। বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের সঙ্গে বৈঠকে চীনের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ থেকে আম, পাট ও পাটজাত পণ্য আর চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য বেশি পরিমাণে আমদানি করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার অহ্বান করেছে। বাংলাদেশে চীনের পণ্য প্রদর্শনীর আয়োজন করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বাণিজ্য প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতা চান। এসব বৈঠকে চীনের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। এফটিএ হলে দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলেও এসব বৈঠকের 

আলোচনায় উঠে এসেছে। জানা গেছে, বিশ্বের ২৯টি দেশের সঙ্গে ২২টি এফটিএ করেছে চীন, যার মধ্যে উন্নয়নশীল ও উন্নত দুই ধরনের দেশই আছে। 
২০২০ সালে ৯৭ শতাংশ বাংলাদেশি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেয় চীন। ২০২২ সালে তা বেড়ে হয় ৯৮ শতাংশ।  আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশের জন্য শতভাগ শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা চালু করবে দেশটি। 

বাণিজ্য উপদেষ্টা খবরের কাগজকে বলেন, আমাদের দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও মানুষের জন্য কাজের সুযোগ তৈরি করেছে চীন। এর মাধ্যমে চীনের সঙ্গে এ দেশের সম্পর্কে অনন্য মাত্রা যোগ হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার এই সফরের মধ্য দিয়ে চীনের সঙ্গে শিল্প ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। 

দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু খবরের কাগজকে বলেন, বাংলাদেশ চীন বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে পদক্ষেপ নিতে হবে। এবারের সফরে আশা করছি দেশের জন্য ভালো হবে। চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে পদক্ষেপ নেওয়া হলে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। 

বাংলাদেশের প্রাপ্ত শুল্কমুক্ত সুবিধায় চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো সম্ভব মনে করেন অর্থনীতিবিদ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান।

তিনি বলেন, চীন যেসব পণ্য আমদানি করে- আমাদের সেসব পণ্যের উৎপাদন বাড়াতে হবে। আমাদের চীন থেকে বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করা উচিত।

বাংলাদেশের অর্থনীতি চ্যালেঞ্জের মধ্যেও স্থিতিশীল: এডিবি

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০১:৫২ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০২:০৩ পিএম
বাংলাদেশের অর্থনীতি চ্যালেঞ্জের মধ্যেও স্থিতিশীল: এডিবি
ছবি: সংগৃহীত

নানামুখী চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ ও সেবাখাতের প্রবৃদ্ধিতে বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রকাশিত এডিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ২০২৭ অর্থবছরে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে।

ধারাবাহিক সংস্কার ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি দেশের প্রবৃদ্ধির গতি শক্তিশালী করবে বলে প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় ।

এডিবির বাংলাদেশ আবাসিক মিশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান আকিরা মাতসুনাগা বলেন, ‘কঠিন বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিবেশের মধ্যেও শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ ও সেবাখাতের স্থিতিশীল কার্যক্রমের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদার, বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন, আর্থিক খাতের সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং জ্বালানি ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করতে ধারাবাহিক সংস্কার একটি শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব সংস্কার বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনীতির স্থিতিশীলতা জোরদারেও সহায়ক হবে।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, কঠোর সামষ্টিক আর্থিক পরিবেশ সত্ত্বেও শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ, সেবা খাতের ধারাবাহিক সম্প্রসারণ ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতে লক্ষ্যভিত্তিক ঋণ সহায়তার কারণে ২০২৬ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি সমর্থন পাবে।

এতে আরও বলা হয়, ২০২৬ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ০ শতাংশে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে ২০২৭ অর্থবছরে তা ধীরে ধীরে কমে ৮ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে আসবে।

এডিবি’র মতে, মাঝারি পর্যায়ের মূল্যস্ফীতি, ব্যবসা পরিচালনার বিধি-বিধান সহজীকরণ, সুশাসনের উন্নয়ন, কর প্রশাসন সংস্কার ও রেমিট্যান্সে প্রণোদনা অব্যাহত থাকলে ২০২৭ অর্থবছরে বেসরকারি ভোগব্যয় ও বিনিয়োগ আরও শক্তিশালী হবে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সেবাখাত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে থাকবে। একই সঙ্গে চলমান সংস্কার কার্যক্রম ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করবে এবং মধ্যমেয়াদে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াবে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রবৃদ্ধি টেকসই রাখা, প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বহিরাগত অভিঘাত মোকাবিলায় বাংলাদেশের স্থিতিস্থাপকতা আরও জোরদার করতে ধারাবাহিক নীতিগত সংস্কার এবং বিচক্ষণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য।

খাদিজা রুমি/

স্বর্ণের দামে ফের বড় পতন

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১১:১১ এএম
স্বর্ণের দামে ফের বড় পতন
ছবি: সংগৃহীত

দেশের বাজারে আরেক দফা স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভ্যাটসহ স্বর্ণালঙ্কারের দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৩২৩ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। একই সঙ্গে রুপার দামও কমানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে নতুন এ মূল্য কার্যকর হয়েছে।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সকাল ৯টায় বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে এই নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, এখন ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালঙ্কারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা। গতকাল পর্যন্ত এর দাম ছিল ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৩ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরির দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বর্ণের সঙ্গে কমানো হয়েছে রুপার দামও। 

নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৬০৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৩ হাজার ৭৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৮৫৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অন্তরা/

বৈদ্যুতিক যান আমদানি ও উৎপাদনে নীতিমালা হচ্ছে

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৫ এএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
বৈদ্যুতিক যান আমদানি ও উৎপাদনে নীতিমালা হচ্ছে
ছবি: খবরের কাগজ

বর্তমান সরকার দেশে প্লাগ-ইন হাইব্রিডসহ বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি) চলাচলে গুরুত্ব বাড়িয়েছে। এসব যানবাহন আমদানি ও উৎপাদনে খসড়া নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) শিল্প মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে খসড়া নীতিমালায় কোন বিষয়গুলো আনা হবে, তা নিয়ে আন্তমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। শিল্প মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। 

এ বিষয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (আইসিটি, ইনোভেশন ও পিআরজিআইএম) এ কে এম বেনজামিন রিয়াজী খবরের কাগজকে বলেন, পরিবেশবান্ধব প্লাগ-ইন হাইব্রিডসহ ইভি চলাচলে গুরুত্ব বাড়িয়েছে সরকার। প্রাথমিকভাবে এ বিষয়ে খসড়া নীতিমালা করা হবে। আর এর জন্য আগামীকাল (আজ) আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকে নীতিমালা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। কোন বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দেওয়া হবে, তা নিয়েও সবার মত চাওয়া হবে।  

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিল্প মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা খবরের কাগজকে বলেন, আগামীকালের (আজ) আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকে বৈদ্যুতিক যানবাহন চলাচল বাড়ানোর ক্ষেত্রে চলমান সমস্যাগুলো কী, তা নিয়েও আলোচনা হবে। এসব সমস্যার সমাধানে করণীয় কী, তা জানতে চাওয়া হবে। চলতি বাজেটে সরকারের দেওয়া সুবিধাগুলো কিভাবে দ্রুত কাজে লাগানো যায়, তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হবে।  
   
গাড়ি আমদানিকারক ও পরিবেশকরা বলছেন, বিকল্প জ্বালানিচালিত গাড়ির চাহিদা ধীরে ধীরে বাড়ছে। আগামীতে বাংলাদেশের অটোমোবাইল বাজারে তা আধিপত্য বিস্তার করবে। 

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্পষ্ট নীতিমালা, কর-সুবিধা, সহজ অর্থায়ন এবং চার্জিং অবকাঠামোর দ্রুত সম্প্রসারণ নিশ্চিত করা গেলে আগামী কয়েক বছরে দেশে প্লাগ-ইন হাইব্রিডসহ বৈদ্যুতিক যানবাহনের (ইভি) চাহিদা বাড়বে। সরকারকে এ বিষয়ে গুরুত্ব বাড়িয়ে বিভিন্ন সুবিধা দিতে হবে। এতে পরিবহন খাত আরও টেকসই ও পরিবেশবান্ধব হবে।

বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস্ ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) সাবেক সভাপতি মো. হাবিবউল্লাহ ডন খবরের কাগজকে বলেন, পরিবেশবান্ধব যাতায়াতব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং দেশ থেকে কার্বন নিঃসরণ কমানোর জন্য বর্তমান সরকার কাজ করছে। এ জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ইভি ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্য নিয়ে সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আধুনিক এই যানগুলোকে স্বাগত জানানোর সময় এসেছে। কারণ আগামী ১৫ বছরের মধ্যে পুরো বিশ্ব জীবাশ্ম জ্বালানিতে চলা গাড়ির ব্যবহার ও উৎপাদন পর্যায়ক্রমে শেষ করবে। চলতি বাজেটেও বৈদ্যুতিক যানবাহন আমদানি ও উৎপাদনে গুরুত্ব দিয়ে শুল্ক-করে ছাড় দেওয়া হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ীরা উৎসাহিত হবেন। 
 
ব্যবসায়ী এই নেতা আরও বলেন, বৈদ্যুতিক যান সংযোজন ও যন্ত্রাংশ উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি হলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। শিল্প মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট যানবাহনের অন্তত ৩০ শতাংশ বৈদ্যুতিক গাড়িতে রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির নিবন্ধন দেওয়া শুরু হয় ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে। এরপর থেকে টেসলা ও পোর্শের মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের প্রায় ২০টি বৈদ্যুতিক গাড়ির নিবন্ধন করা হয়েছে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটিতে (বিআরটিএ)। বর্তমানে দেশে আমদানি হওয়ায় মোট যাত্রীবাহী গাড়ির প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশই প্লাগ-ইন হাইব্রিড কিংবা হাইব্রিড গাড়ি। 

সূত্র জানায়, ইভি হলো এমন যানবাহন, যা পেট্রোল বা ডিজেলের পরিবর্তে ব্যাটারিতে সঞ্চিত বিদ্যুৎচালিত মোটরের মাধ্যমে চলে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, পেট্রোল ও ডিজেলচালিত গাড়ি আমদানি নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। এবার এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৬০০ সিসি ক্ষমতার পেট্রোল ও ডিজেলচালিত কিছু আমদানি করা গাড়ির ওপর করভার বাড়ানো হয়েছে।

দেশের অন্যতম ব্যবসায়ী সংগঠন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) এক গবেষণা প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বৈদ্যুতিক যান জনপ্রিয় করার সবচেয়ে বড় বাধা চার্জিং স্টেশনের অভাব। এ ছাড়া উচ্চ মূল্য, অপর্যাপ্ত বাস ডিপো, দুর্বল ব্যাটারি নিরাপত্তা ও পুনর্ব্যবহার এবং বিনিয়োগ ফেরত আসায় অনিশ্চয়তাও এই খাতের অন্যতম প্রতিবন্ধকতা। 

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা, চার্জিং অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং প্রয়োজনীয় কর-নীতিতে সহায়তা দেওয়ার বিষয়গুলোতে সরকার কাজ করা শুরু করেছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বৈদ্যুতিক গাড়ি, প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ি এবং চার্জিং স্টেশন-সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক-কর কমানো হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী খবরের কাগজকে বলেন, প্লাগ-ইন হাইব্রিডসহ বৈদ্যুতিক যানবাহন চলাচলে উৎসাহিত করা হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দেশব্যাপী চার্জিং নেটওয়ার্ক তৈরি করতে চার্জার এবং চার্জিং স্টেশনের যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে মোট করভার ৩৯.৭৫% থেকে কমিয়ে একদম শূন্য শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। সৌর বিদ্যুৎ খাতের ওপর ২০৩৫ সাল পর্যন্ত শূন্য কর হার সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যাতে নবায়নযোগ্য শক্তি দিয়ে এই চার্জিং স্টেশনগুলো চালানো যাবে।

সূত্র আরও জানায়, ইভি চার্জারের আমদানি শুল্ক ৩৯.৭৫% থেকে ১%-এ হ্রাস, ইভি নিবন্ধনে অগ্রিম আয়কর কমানো, ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়ির জন্য অটো ঋণের সীমা ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি এবং স্থানীয়ভাবে সংযোজিত ইভির ওপর ভ্যাট মওকুফের মেয়াদ ২০৩১ সাল পর্যন্ত বাড়ানো অন্তর্ভুক্ত।

এদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলারে বলা হয়, দেশে পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বাড়াতে অটো লোনে নতুন সুবিধা দেওয়া হয়েছে।  বৈদ্যুতিক এবং হাইব্রিড গাড়ি কিনতে গ্রাহকরা ব্যাংক থেকে সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন।    

৮ জুলাই মুদ্রা বাজার: বেড়েছে কানাডিয়ান ডলার, ইন্ডিয়ান রুপির দাম

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৮ এএম
৮ জুলাই মুদ্রা বাজার: বেড়েছে কানাডিয়ান ডলার, ইন্ডিয়ান রুপির দাম
ছবি: সংগৃহীত

দিন দিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হচ্ছে। এ ছাড়াও পড়াশোনা, চিকিৎসা, ভ্রমণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রয়োজনে বিদেশি মুদ্রার সঙ্গে আমাদের দেশের মুদ্রা বিনিময় করতে হয়।

একটা বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন, মুদ্রার বিনিময় হার প্রতিদিন পরিবর্তিত হয়। আমরা প্রতিদিন সর্বশেষ বিনিময় হার তুলে ধরছি। আরও বিস্তারিত জানতে স্থানীয় ব্যাংক বা বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা বা তাদের ওয়েবসাইট পরিদর্শন করা যেতে পারে।

মুদ্রা ক্রয় (টাকা) বিক্রয় (টাকা) বাড়ল/কমল
ইউএস ডলার     122.75 (ব্যাংক নির্ধারিত) 122.75 (ব্যাংক নির্ধারিত) --
ইউরো     140.18 140.22 -0.35
ব্রিটেন পাউন্ড     164.02 164.12 -0.42
অস্ট্রেলিয়ান ডলার     85.11 85.12 -0.29
জাপানি ইয়েন 0.7578 0.7579 -0.0001
কানাডিয়ান ডলার 86.50 86.52 +0.04
সুইস ক্রোনা 12.66 12.67 -0.1
সিঙ্গাপুর ডলার 94.99 95.07 -0.01
চায়না ইউয়ান     18.0558 18.0569 -0.0247
ইন্ডিয়ান রুপি     1.2934 1.2937 +0.0058
সৌদি রিয়াল 32.66 32.96 -0.01
আরব আমিরাত দিরহাম 33.40 33.68 -0.01

সূত্র: (বাংলাদেশ ব্যাংক)

রিফাত/

বড় মূলধনি শেয়ারে পতন, কমেছে সূচক ও লেনদেন

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৮ এএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
বড় মূলধনি শেয়ারে পতন, কমেছে সূচক ও লেনদেন
ছবি: খবরের কাগজ

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে বড় মূলধনি ও ভালো মানের কোম্পানির শেয়ারের দাম কমায় মূল্যসূচকের পতন হয়েছে। সূচকের পাশাপাশি বাজারটিতে কমেছে লেনদেনের পরিমাণও। তবে প্রধান শেয়ারবাজারে মন্দাভাব থাকলেও ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই)। সেখানে সূচক ও লেনদেন বাড়ার পাশাপাশি অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ডিএসইতে লেনদেনের শুরুতে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ায় সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। তবে লেনদেনের শেষভাগে এসে চিত্র বদলে যায়। বড় মূলধনের বেশির ভাগ ভালো কোম্পানির শেয়ারের বিক্রির চাপ বাড়ায় শেষ পর্যন্ত দরপতনের তালিকাটিই দীর্ঘ হয়, যার চূড়ান্ত প্রভাব পড়ে সূচকে।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলিয়ে ১৬০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৮০টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর। বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাছাই করা ভালো ৩০টি কোম্পানির মধ্যে মাত্র ৭টির দাম বেড়েছে, বিপরীতে ২১টির দাম কমেছে এবং ২টি অপরিবর্তিত ছিল। মূলত এই ভালো কোম্পানিগুলোর দরপতনই সূচককে টেনে নিচে নামিয়েছে।

ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ১৮ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৭৮১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ভালো ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ১০ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৮১ পয়েন্টে নেমেছে। তবে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৮৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

সূচকের পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কিছুটা কমেছে। গতকাল বাজারটিতে মোট ১ হাজার ৩৮৮ কোটি ৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের (১ হাজার ৪১৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা) চেয়ে ২৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা কম।

গতকাল ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে ছিল বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস। কোম্পানিটির মোট ৫০ কোটি ২৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে থাকা মালেক স্পিনিং ও ব্র্যাক ব্যাংকের লেনদেন হয়েছে যথাক্রমে ৪৬ কোটি ৩৪ লাখ ও ৪৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। লেনদেনের শীর্ষ ১০-এ থাকা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো অ্যাপেক্স স্পিনিং, আইটি কনসালট্যান্টস, সিমটেক্স, ড্রাগন সোয়েটার, বেক্সিমকো, আইপিডিসি ফাইন্যান্স ও সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট।

এদিন ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষে ছিল এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড। ফান্ডটির শেয়ারের দাম ১০ শতাংশ বা ৪ পয়সা বেড়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজের দাম বেড়েছে ৯ দশমিক ৮১ শতাংশ এবং পপুলার লাইফ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বেড়েছে ৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ। সামগ্রিকভাবে মিউচুয়াল ফান্ড খাত গতকাল বেশ চাঙা ছিল; তালিকাভুক্ত ফান্ডগুলোর মধ্যে ৩২টির দাম বেড়েছে এবং কমেছে মাত্র ১টির।

অন্যদিকে দরপতনের শীর্ষে ছিল ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিসেস লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ারের দর ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ বা ১ পয়সা কমেছে। সমান ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ দর হারিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিল ফিনিক্স ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড। এ ছাড়া এফএএস ফাইন্যান্স ও ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের শেয়ারের দর কমেছে ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ।

এদিকে দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৪২ পয়েন্ট বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৫০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২৯টির দাম বেড়েছে, ১০০টির কমেছে এবং ২১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দিন শেষে সিএসইতে মোট ৩০ কোটি ৭৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে।