ঢাকা ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
পানিবন্দি ৫ শতাধিক পরিবার হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের ভালোবাসার জবাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা ঢাকা ও দিল্লির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর বরিশাল যাত্রা, শুভেচ্ছা জানালেন ফরিদপুরের হাজারো নেতাকর্মী প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে মাওয়া প্রান্তে জনতার ঢল অপরূপা প্রজাপতি নীল পুনম শিল্প-শিক্ষা সহযোগিতা জোরদার করতে একসঙ্গে কাজ করবে ইউসিবিডি ও কারমো গ্রুপ ইউসিটিসিতে ‘ফ্রেশারস মিট অ্যান্ড গ্রিট’ অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে চার দৈত্য আদালতের রায়ে আইনি সংকটে মমতা ২৫ বছর পূর্ণের আগে পদত্যাগে মিলবে না পেনশন সুবিধা জয়পুরহাটে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু দ. চীন সাগরে চীনের দাবিকে অবৈধ বলল ১৪ দেশ ও ইইউ শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে জেলে যেতে হবে: চিফ প্রসিকিউটর বরিশালে বিএনপির পৃথক মিছিল, স্পষ্ট বিভাজন! টানা বর্ষণের ক্ষত সড়কে বরিশালের পথে প্রধানমন্ত্রী দেশজুড়ে অব্যাহত থাকবে ভারী বর্ষণ ১৩ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১৩ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল প্রথমবার ইংলিশ পরীক্ষা দেবেন মেসি পেলে-ম্যারাডোনার পাশে বেলিংহ্যাম ১৩ জুলাই ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি বিশ্বকাপ আমাকে বদলে দিয়েছে: হালান্ড ফ্রান্স-স্পেন ম্যাচ কে জিতবে, অপ্টার ভবিষ্যদ্বাণী সেমিফাইনালের আগে ফ্রান্সকে নিয়ে মন্তব্য, তোপের মুখে স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাসের সামনে মেসি বিশ্বকাপে বিরল কীর্তি গড়ল সেমিফাইনালের ৪ দল আর্জেন্টিনা নাকি ইংল্যান্ড, ফাইনালে কে উঠবে? জানাল সুপারকম্পিউটার ইংল্যান্ডকে ‘অপূর্ণ কাজ’ শেষ করার আহ্বান হ্যারি কেইনের

গাপ্পি মাছের খামার বদলে দিল রাকিবের জীবন

প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৫, ১১:১৯ এএম
আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৫, ১১:২১ এএম
গাপ্পি মাছের খামার বদলে দিল রাকিবের জীবন
মাছের খামার পরিচর্যা করছেন ইয়াছিন আলী রাকিব। ছবি: খবরের কাগজ

দিনাজপুরের কর্ণাই হাজীপাড়ার যুবক ইয়াছিন আলী রাকিব শখের ছয়টি গাপ্পি মাছ দিয়ে শুরু করেছিলেন ছোট্ট অ্যাকোয়ারিয়াম। আজ তা পরিণত হয়েছে দেশের ৬৪ জেলায় মাছ সরবরাহকারী সফল খামারে। রাকিবের খামারে আছে ১৮ প্রজাতির রঙিন মাছ। তার উদ্যোগে স্থানীয় শিক্ষার্থীরাও অনলাইনে মাছ বিক্রি করে পড়াশোনার খরচ চালাচ্ছেন। স্ত্রীসহ খামার পরিচালনা করছেন তিনি। স্বপ্ন, সাহস ও অধ্যবসায়ের সঙ্গে ছোট শখও হতে পারে সাফল্যের গল্প। রাকিব তা প্রমাণ করেছেন।

২০১৯ সালের শেষ দিকে মাত্র ৩০০ টাকায় ছয়টি গাপ্পি মাছ ও ৬০ টাকায় একটি খাবারের প্যাকেট কিনে রাকিব শুরু করেছিলেন শখের মাছ পালন। প্রথমে বাজারজাত করার কোনো চিন্তা ছিল না। কিন্তু মাছগুলো বড় হতে হতে বাচ্চা দিতে শুরু করলে নতুন স্বপ্নের আলো জ্বলে ওঠে। সেই স্বপ্নই আজ রূপ নিয়েছে ‘ইয়াছিন অ্যাকুয়া ফার্ম’ নামের সফল উদ্যোগে।

রাকিব বলেন, ‘শুরুর দিকে শুধু শখের জন্য মাছ রাখি। কিন্তু যখন মাছ বাচ্চা দিতে শুরু করল, তখন মনে হলো, এর মাধ্যমে কিছু করা সম্ভব।’

এক সময় তিনি দুটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। পরে চাকরি ছেড়ে সম্পূর্ণ মনোযোগ দিলেন মাছ চাষে। আজ ওই সিদ্ধান্তই বদলে দিয়েছে তার জীবন।

বর্তমানে তার খামারে ১৮ প্রজাতির মাছ রয়েছে- গাপ্পি, মলি, প্লাটি, সরটেইল, জেব্রা, কই কার্প, কমেট, গোড়ামী, অ্যাঞ্জেল, টাইগার বার্ব, টেট্রা, ব্ল্যাকমর, রেড কেপ, গোল্ড ফিশ, পেরোট ও এলগি মাছসহ নানা বৈচিত্র্য। বাঁশ ও জালে ঘেরা ছোট ছোট চৌবাচ্চায় সাজানো এসব মাছ এখন তার খামারের পরিচয়।

রঙিন মাছ চাষে রাকিবের খামার থেকে দেশের ৬৪ জেলায় মাছ বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে ১৭ থেকে ১৮ প্রজাতির মাছ বাজারে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ থেকে ছয়জন শিক্ষার্থী তার কাছ থেকে মাছ সংগ্রহ করে খুচরা বিক্রি করে নিজের পড়াশোনার খরচ চালাচ্ছেন।

রাকিব বলেন, ‘আমার খামারে এখন ১৮ প্রজাতির মাছ আছে। দেশের সব জেলায় মাছ যাচ্ছে। মাসে সব খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ৩০ হাজার টাকা লাভ হয়। আগে চাকরি করতাম, কিন্তু এখন নিজের কিছু গড়ে তোলার আনন্দ আলাদা।’ তিনি আরও জানান, তার স্ত্রী সার্বিক সহযোগিতা করছেন। মাছের খাদ্য দেওয়া, পরিচর্যা ও বিক্রির সময়ও তার স্ত্রী সাহায্য করেন। আস্তে আস্তে খামার বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আগামীতে আরও কয়েকজনের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

‘ইয়াছিন অ্যাকুয়া ফার্ম’ এখন একটি খামার স্বপ্ন, সাহস ও আত্মনির্ভরতার প্রতীক। রাকিবের উদাহরণ প্রমাণ করে, সামান্য শখও পরিণত হতে পারে সাফল্যের গল্পে, যদি থাকে অধ্যবসায় ও বিশ্বাস।

দিনাজপুর শহরের বাসিন্দা রুবেল হাসান বলেন, ‘রাকিব ভাইয়ের খামারের মাছের রং আর স্বাস্থ্য দেখে অবাক হয়েছি। মাছগুলো টেকসই ও মানসম্মত। কিনে অ্যাকোয়ারিয়াম সাজাতে দারুণ আনন্দ লাগে।’

হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহিমা আক্তার বলেন, ‘আমি ও আমার বন্ধুরা রাকিব ভাইয়ের খামার থেকে মাছ নিয়ে অনলাইনে বিক্রি করি। এতে পড়াশোনার খরচ চলে। তিনি সব সময় সাহায্য করেন, কোন মাছের চাহিদা বেশি তা শেখান।’

রঙিন মাছপ্রেমী আবুল কাশেম বলেন, ‘আগে এসব মাছ ঢাকাসহ বড় শহর থেকে আনতে হতো, এখন এখানেই পাই। রাকিবের খামারের মাছ সুন্দর, দামও হাতের নাগালে। সত্যিই তিনি দিনাজপুরে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।’

সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শারমিন আখতার বলেন, ‘তরুণ উদ্যোক্তা ইয়াছিন আলী রাকিব সত্যিই অনুকরণীয়। বাড়ির আঙিনায় ছোট ছোট হাউসে রঙিন মাছ চাষ করে তিনি সফলতা অর্জন করেছেন। আমরা নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দিই। তার সাফল্য দেখে এখন অনেক তরুণ আগ্রহী হচ্ছেন রঙিন মাছের খামার গড়তে।’

দেশের তৈরি পোশাক খাতের সংকট বাড়ছে

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৬ এএম
আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৮ এএম
দেশের তৈরি পোশাক খাতের সংকট বাড়ছে
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফ

বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম খাত তৈরি পোশাকশিল্প। বছর দুয়েক থেকে এ খাত বহুমুখী সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা এবং প্রধান বাজারগুলোতে উচ্চ মূল্যস্ফীতির ফলে এখাতের সংকট বেড়ে মহাসংকটে রূপ নিয়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সবশেষ তথ্যানুসারে, তৈরি পোশাক খাত (আরএমজি) থেকে দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে। এ শিল্প ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩৮ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে, যা আগের অর্থবছরের ৩৯ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার থেকে ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ কম। এর মধ্যে নিট পোশাক রপ্তানি ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার এবং ওভেন পোশাক রপ্তানি শূণ্য দশমিক ৬১ শতাংশ কমে হয়েছে ১৮ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। তবে জুন মাসে আরএমজি খাতের রপ্তানি আয় ২১ দশমিক ৫২ শতাংশ বেড়ে ৩ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ-এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম খবরের কাগজকে বলেন, বিশ্ববাণিজ্যে তৈরি পোশাক খাতের বেশির ভাগ বাজারে উচ্চ মূল্যস্ফীতি চলছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি।

আন্তর্জাতিক বাজারে পোশাকের চাহিদা কমছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের রপ্তানিতে। এই পরিস্থিতির কবে উন্নয়ন ঘটবে তা বলা যাচ্ছে না। বিগত সরকারের সময়ে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। অনেক কারখানা বন্ধের পথে। অনেকে কাজ হারিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে দেশের অর্থনীতিতে। বন্ধ কারখানা চালু করতে সরকারের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, একদিকে দেশে জ্বালানিসংকটের কারণে উৎপাদন খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনে প্রধান বাজারগুলোতে কমছে ক্রয়াদেশ (অর্ডার)। এই দ্বিমুখী সংকটে পড়ে অনেক পোশাক কারখানা এখন অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই করছে।

তৈরি পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ পোশাক কারখানা সরাসরি বিদেশি অর্ডারের ওপর নির্ভরশীল। এসব কারখানার পুঁজির সংকট থাকে। অর্ডার কমে গেলে চলমান খরচ চালিয়ে নিতে হিমশিম খেতে হয়।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরি খবরের কাগজকে বলেন, নিজস্ব ব্র্যান্ড তৈরি কিংবা সরাসরি বিদেশি খুচরা বাজারে প্রবেশের সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় নতুন বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের দাপট বাড়তে সময় লাগছে। এরই মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দেশের পোশাক রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিশ্ববাজারে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় তারা পোশাকের পেছনে খরচ কমিয়ে দিয়েছেন।

বিকেএমইএ-এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের পোশাক খাতের সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও অভ্যন্তরীণ জ্বালানিসংকটের কারণে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার জেরে লোহিত সাগর রুট দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে জাহাজগুলোকে এখন আফ্রিকা ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। এতে কাঁচামাল আমদানি ও তৈরি পোশাক বিদেশে পাঠাতে আগের চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগছে।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ পথ ব্যবহারের কারণে আন্তর্জাতিক রুটে জাহাজ ও কনটেইনারের ভাড়াও ঊর্ধ্বমুখী, যা ক্রেতা ও উৎপাদক উভয় পক্ষকেই বড় আর্থিক লোকসানে ফেলেছে।

উৎপাদন খরচ বেড়েছে

দেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। কারখানাগুলোতে দৈনিক কয়েক ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কারণে জেনারেটর চালাতে অতিরিক্ত জ্বালানি লাগছে। ফলে উৎপাদন খরচ প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশের এই অভ্যন্তরীণ সমস্যা ও বৈশ্বিক চাপের সুযোগ নিচ্ছে ভিয়েতনাম, ভারত ও পাকিস্তানের মতো প্রতিযোগী দেশগুলো। উন্নত বাণিজ্য, কূটনীতি ও স্থিতিশীল সরবরাহ চেইনের কারণে কিছু বড় আন্তর্জাতিক গ্রাহক বাংলাদেশ থেকে অর্ডার সরিয়ে এসব দেশে নিয়ে যাচ্ছে, বিশেষ করে দেশের এই সংকটের সময়ে শক্তিশালী প্রতিযোগী হিসেবে অবস্থান শক্ত করেছে ভিয়েতনাম।

প্রযুক্তিগত উৎপাদন, উচ্চতর কর্মক্ষমতা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণে দেশটি অনেক ক্রেতার কাছে বিশ্বস্ত হয়ে উঠেছে। এ ছাড়া ইইউর সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তিসহ (এফটিএ) বিভিন্ন বাণিজ্য জোটে থাকায় ভিয়েতনাম বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে।

এলডিসি উত্তরণ ও বন্ড অডিট শিথিল

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক উত্তরণের পর পর ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে এতদিন পেয়ে আসা শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা (জিএসপি) হারানোর বড় ঝুঁকি রয়েছে। তাই এখন থেকেই এটি কাটিয়ে উঠতে তৈরি পোশাক খাতের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।

ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করার উদ্দেশ্যে শতভাগ কমপ্লায়েন্ট পোশাকশিল্প প্রতিষ্ঠানে প্রতিবছর বন্ড অডিটের বাধ্যবাধকতা রহিত করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে শতভাগ রপ্তানিমুখী ও নিয়ম মেনে চলা কারখানার জন্য প্রতিবছর বন্ড অডিটের বাধ্যবাধকতা উঠে যাবে, যা কিছুটা স্বস্তি দেবে।

শুল্কনীতি ও অভ্যন্তরীণ সংকট

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতির কারণে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে তৈরি পোশাকশিল্প।

তিনি আরও বলেন, ইইউ ভবিষ্যতে আমাদের পোশাকশিল্পের ওপর কার্বন ট্যাক্স আরোপ করতে পারে। উন্নত দেশগুলোর বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা হারানোর বড় ঝুঁকি তো রয়েছেই। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এলডিসি থেকে উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে দেশের পোশাকশিল্পকে তীব্র বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হবে। শুধু আন্তর্জাতিক রুটেই নয়, অভ্যন্তরীণ রুটেও পরিবহন খরচ আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। এর ফলেও মালিকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে তিনি জানান।

বিজিএমইএ-এর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান খবরের কাগজকে বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আগেও আমরা ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদ নিয়ে সংকটে ছিলাম। এরপর ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার ফলে প্রথমে জ্বালানিসংকট এবং এর প্রভাবে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ল। সব মিলিয়ে দেশের পোশাকশিল্প চরম সংকটে রয়েছে। এসব সমস্যার সমাধানে আমরা সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছি।’

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ খবরের কাগজকে বলেন, তৈরি পোশাকশিল্প বর্তমানে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি একাধিক কাঠামোগত ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানিসংকট, উচ্চ সুদের হার এবং ডলারসংকট এগুলোর মধ্যে অন্যতম।

তিনি আরও বলেন, ‘গ্যাস ও বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহ উৎপাদন ব্যাহত করছে, আর কাঁচামাল ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। একই সঙ্গে পরিবেশগত মান, শ্রমমান ও কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত বিনিয়োগের প্রয়োজন হচ্ছে। তাই শিল্পটির টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে জ্বালানি নিরাপত্তা, নীতিগত স্থিতিশীলতা, ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় হ্রাস এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া প্রয়োজন।’

বেনাপোল বন্দরে জলাবদ্ধতায় শত কোটি টাকার পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০১:১৬ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ০২:১৩ পিএম
বেনাপোল বন্দরে জলাবদ্ধতায় শত কোটি টাকার পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত
ছবি: খবরের কাগজ

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে টানা দুই দিনের বৃষ্টিতে বিভিন্ন শেডে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় শত কোটি টাকার আমদানি করা পণ্য পানিতে ভাসছে। 

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকাল থেকেই বিরামহীনভাবে বৃষ্টি হচ্ছে এ অঞ্চলে। টানা বৃষ্টিতে বেনাপোল বন্দরের ৩নং গেটের সামনে পাঁচটি শেডে বিভিন্ন ধরনের আমদানি করা মালামাল পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও হাঁটুপানি জমে গেছে। পানি পাম্প দিয়ে বের করার চেষ্টা চলছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বন্দর ব্যবহারকারীরা এসব এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, দেশের সর্ববৃহৎ এই স্থলবন্দরে শেড ইয়ার্ডসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মিত হলেও নাজুক ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সামান্য বৃষ্টি হলেই পানিতে তলিয়ে আমদানি করা মালামাল।

স্থানীয় বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে নানা অব্যবস্থাপনার কথা বললেও বন্দর কর্তৃপক্ষ কোনো কথা আমলে না নেওয়ায় প্রায় শতাধিক আমদানিকারকের সব হারিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে।

বিমা না থাকায় বন্দর কর্তৃপক্ষ কোনো ক্ষতিপূরণও দেয় না। পানি নিষ্কাশনের বিষয়ে কমিটি করা হলেও তার কোনো কার্যকারিতা নেই। গত বছরের বর্ষার সময় কমিটির লোকজনের তৎপরতা ২-১ দিন দেখা গেলেও পরে এ নিয়ে আর কোনো পরিকল্পনা করা হয়নি।

বেনাপোল বন্দরের ব্যবসায়ী বাবলুর রহমান বলেন, ‘বন্দরে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় চলাচলে মারাত্মক অসুবিধা হচ্ছে। কয়েকটি পণ্যাগারে পানি ঢুকে অনেক আমদানিকারকের লাখ লাখ টাকার মালামাল ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। বন্দরের ভাড়া প্রতিবছর বাড়লেও তারা বন্দরের উন্নয়নে কোনো ভূমিকা নিচ্ছে না। অধিকাংশ অবকাঠামো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া তৈরি হওয়ায় বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। বারবার আশ্বাস দিলেও স্থায়ী সমাধান করা হচ্ছে না।’

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মহসিন মিলন জানান, দেশের সর্ববৃহৎ বেনাপোল স্থলবন্দরে অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সরকার এই বন্দরের কাস্টমসের মাধ্যমে বছরে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ১০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করে থাকে। এত বড় বাণিজ্যিক স্থাপনায় বছরের পর বছর এই দুর্দশা চললেও সরকারের কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া দুর্ভাগ্যজনক। বৃষ্টির পানি পণ্যাগারে ঢুকে মালামাল ভিজে নষ্ট হলে লোকসানের শিকার হতে হয় ব্যবসায়ীদের। এ নিয়ে ব্যবসায়ীরা একাধিকবার বন্দরের কাছে অভিযোগ করলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন বলেন, ‘টানা বৃষ্টিতে বেশকিছু শেডে পানিতে মালামাল ভিজেছে। পাওয়ার পাম্প দিয়ে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা চলছে। তবে অবিরাম বৃষ্টি হওয়ায় কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে।’

বৃষ্টি বন্ধ হলে সমস্যা সমাধান হওয়ার আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

 নজরুল ইসলাম/খাদিজা রুমি/

২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বাড়ল স্বর্ণের দাম

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ১১:২৯ এএম
২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বাড়ল স্বর্ণের দাম
ছবি: সংগৃহীত

দেশের বাজারে টানা দুই দফা কমার পর ফের বেড়েছে স্বর্ণের দাম। এবার ভরিতে ২ হাজার ২১৭ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। 

নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভরিতে ৩ হাজার ৩২৫ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৯২৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

অন্তরা/ 

বাংলাদেশের অর্থনীতি চ্যালেঞ্জের মধ্যেও স্থিতিশীল: এডিবি

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০১:৫২ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০২:০৩ পিএম
বাংলাদেশের অর্থনীতি চ্যালেঞ্জের মধ্যেও স্থিতিশীল: এডিবি
ছবি: সংগৃহীত

নানামুখী চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ ও সেবাখাতের প্রবৃদ্ধিতে বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রকাশিত এডিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ২০২৭ অর্থবছরে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে।

ধারাবাহিক সংস্কার ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি দেশের প্রবৃদ্ধির গতি শক্তিশালী করবে বলে প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় ।

এডিবির বাংলাদেশ আবাসিক মিশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান আকিরা মাতসুনাগা বলেন, ‘কঠিন বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিবেশের মধ্যেও শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ ও সেবাখাতের স্থিতিশীল কার্যক্রমের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদার, বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন, আর্থিক খাতের সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং জ্বালানি ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করতে ধারাবাহিক সংস্কার একটি শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব সংস্কার বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনীতির স্থিতিশীলতা জোরদারেও সহায়ক হবে।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, কঠোর সামষ্টিক আর্থিক পরিবেশ সত্ত্বেও শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ, সেবা খাতের ধারাবাহিক সম্প্রসারণ ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতে লক্ষ্যভিত্তিক ঋণ সহায়তার কারণে ২০২৬ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি সমর্থন পাবে।

এতে আরও বলা হয়, ২০২৬ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ০ শতাংশে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে ২০২৭ অর্থবছরে তা ধীরে ধীরে কমে ৮ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে আসবে।

এডিবি’র মতে, মাঝারি পর্যায়ের মূল্যস্ফীতি, ব্যবসা পরিচালনার বিধি-বিধান সহজীকরণ, সুশাসনের উন্নয়ন, কর প্রশাসন সংস্কার ও রেমিট্যান্সে প্রণোদনা অব্যাহত থাকলে ২০২৭ অর্থবছরে বেসরকারি ভোগব্যয় ও বিনিয়োগ আরও শক্তিশালী হবে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সেবাখাত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে থাকবে। একই সঙ্গে চলমান সংস্কার কার্যক্রম ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করবে এবং মধ্যমেয়াদে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াবে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রবৃদ্ধি টেকসই রাখা, প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বহিরাগত অভিঘাত মোকাবিলায় বাংলাদেশের স্থিতিস্থাপকতা আরও জোরদার করতে ধারাবাহিক নীতিগত সংস্কার এবং বিচক্ষণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য।

খাদিজা রুমি/

স্বর্ণের দামে ফের বড় পতন

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১১:১১ এএম
স্বর্ণের দামে ফের বড় পতন
ছবি: সংগৃহীত

দেশের বাজারে আরেক দফা স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভ্যাটসহ স্বর্ণালঙ্কারের দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৩২৩ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। একই সঙ্গে রুপার দামও কমানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে নতুন এ মূল্য কার্যকর হয়েছে।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সকাল ৯টায় বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে এই নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, এখন ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালঙ্কারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা। গতকাল পর্যন্ত এর দাম ছিল ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৩ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরির দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বর্ণের সঙ্গে কমানো হয়েছে রুপার দামও। 

নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৬০৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৩ হাজার ৭৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৮৫৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অন্তরা/