ঢাকা ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
১৩ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১৩ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল প্রথমবার ইংলিশ পরীক্ষা দেবেন মেসি পেলে-ম্যারাডোনার পাশে বেলিংহ্যাম ১৩ জুলাই ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি বিশ্বকাপ আমাকে বদলে দিয়েছে: হালান্ড ফ্রান্স-স্পেন ম্যাচ কে জিতবে, অপ্টার ভবিষ্যদ্বাণী সেমিফাইনালের আগে ফ্রান্সকে নিয়ে মন্তব্য, তোপের মুখে স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাসের সামনে মেসি বিশ্বকাপে বিরল কীর্তি গড়ল সেমিফাইনালের ৪ দল আর্জেন্টিনা নাকি ইংল্যান্ড, ফাইনালে কে উঠবে? জানাল সুপারকম্পিউটার ইংল্যান্ডকে ‘অপূর্ণ কাজ’ শেষ করার আহ্বান হ্যারি কেইনের ২০৩০ বিশ্বকাপে ৬৪ দলের পরিকল্পনা ফিফার স্পেনকে ভয় পায় না ফ্রান্স: ইব্রাহিমা কোনাতে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো মরদেহ ভাসানোর খবর গুজব: ইউএনও ইউএস-বাংলার বহরে যুক্ত হচ্ছে ২১ নতুন বোয়িং, বিনিয়োগ ১৪ হাজার কোটি টাকা সোনারগাঁয়ে বাবা ছেলেকে কুপিয়ে জখম হরমুজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণা ইরানের রাজধানীতে দুর্ঘটনার শিকার জবি শিক্ষকদের বাস, আহত  ৩ নৌবাহিনীর বৃক্ষরোপণ অভিযান উদ্বোধন বরিশাল সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী বাস্তুচ্যুতদের পুনর্বাসনে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগের কথা জানালেন প্রতিমন্ত্রী আগৈলঝাড়া থানায় হামলার প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ৬ বৃষ্টি আর উজানের ঢলে বাড়ছে কাপ্তাই হ্রদের পানি, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত চট্টগ্রামে প্রকাশ্যে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে আহত বিশ্বমঞ্চে ইল্লিয়ীন, ডি-৮ হালাল এক্সপোতে উজ্জ্বল বাংলাদেশের ফ্যাশন ঝিনাইদহে ফি দিতে দেরি, পরীক্ষার হল থেকে বের করে দেওয়া হলো শিক্ষার্থীকে ত্রাণ ও সহায়তা নিয়ে বন্যাদুর্গতদের পাশে যুবদল আনোয়ারায় ত্রাণ বিতরণে নাহিদ, বেড়িবাঁধ নির্মাণে লুটপাটের অভিযোগ জমিরউদ্দিন সরকারকে শেষ শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বঙ্গবন্ধুকে ডক্টর অব ল’জ ডিগ্রি প্রদান

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৩, ১২:০৯ পিএম
আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:৪৬ এএম
বঙ্গবন্ধুকে ডক্টর অব ল’জ ডিগ্রি প্রদান
ফরিদ আহমেদ

বঙ্গবন্ধু একটি জাতির রূপকার, একটি জাতির পিতা। আমাদের চারপাশে অনেকেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শের বুলি আওড়িয়ে অনেক কিছু বাগিয়ে নিয়েছেন বা নিচ্ছেন বটে, তবে তার আদর্শ থেকে যোজন যোজন দূরে থাকছেন নিজেদের কর্মকাণ্ডের বেলায়।

জাতীয় জীবনে বিশেষ অবদানের জন্য, সৃজনশীল প্রতিভার জন্য কিংবা গৌরবময় কর্মকাণ্ডকে বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বিশ্ববিদ্যালয় সম্মানসূচক ডিগ্রি দিয়ে থাকে। সম্মানসূচক ডিগ্রির মধ্যে আছে- স্নাতোকত্তর, ডক্টর অব লিটারেচার, ডক্টর অব ফিলোসফি, ডক্টর অব ল’জ। ইতালির বোলোনিয়া শহরে অবস্থিত একটি গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় বোলোনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়। ইতিহাস থেকে জানা যায়, সেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সম্মানসূচক ডক্টর অব ল’জ ডিগ্রি প্রদান করে। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় লিওনেল উডভিলকে ১৪৭৮/৭৯ সালে দেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়।  লিওনেল উডভিল এক্সেটারের ডিন এবং চতুর্থ এডওয়ার্ডের শ্যালক ছিলেন। তার একটি ব্যাচেলর ডিগ্রি ছিল ক্যানন আইনে। এর পর কেমব্রিজ ১৪৯৩ সালে কবি জন স্কেল্টনের জন্য সম্মানসূচক ডিগ্রি দিয়েছিল, যিনি পাঁচ বছর আগে অক্সফোর্ড থেকে একই সম্মান পেয়েছিলেন। সম্মানসূচক ডক্টরেট লাভ করেছেন যারা, তাদের মধ্যে আছেন- মেরিল স্ট্রিপ, মোহাম্মদ আলী, আরেথা ফ্র্যাঙ্কলিন, ডেনজেল ওয়াশিংটন, অপরাহ উইনফ্রে, বেন অ্যাফ্লেক, কেরি ওয়াশিংটন, হিলারি ক্লিনটন প্রমুখ। ভারতের কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় যাদের সম্মানসূচক ডক্টরেট দিয়েছে তাদের মধ্যে আছেন- দীনেশ চন্দ্র সেন, সত্যেন্দ্র নাথ বোস, সুনীতি কুমার চ্যাটার্জি, হেমন্ত কুমার মুখোপাধ্যায়, অমর্ত্য কুমার সেন, লীলা মজুমদার, মৃণাল সেন, প্রণব মুখার্জি, অভিজিৎ বিনায়ক ব্যানার্জি প্রমুখ। সম্মানসূচক ডিগ্রি দেওয়ার ঐতিহ্য পরবর্তীতে বিশ্বব্যাপী বিস্তার লাভ করলে ১৯৪০ সালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ডক্টরেট অব লিটারেচার সম্মানসূচক ডিগ্রি দেওয়ার জন্য শান্তি নিকেতন একটি বিশেষ সমাবর্তন আয়োজন করেছিল। ইন্দোনেশিয়ার প্রথম রাষ্ট্রপতি সুকর্নোকে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়, বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয়, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, বেলগ্রেড বিশ্ববিদ্যালয়, লোমোনোসভ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২৬টি সম্মানসূচক ডক্টরেট প্রদান করা হয়েছিল। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ১৯৯৭ সালে যুক্তরাজ্যের আলবার্টা ডান্ডি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক সাম্মানিক ডক্টর অব লিবারেল আর্টস, যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটি এবং জাপানের ওয়াসেদা ইউনিভার্সিটি যথাক্রমে সম্মানসূচক ডক্টর অব ল’ উপাধিতে ভূষিত করেছে।  

এবার বঙ্গবন্ধুকে সম্মানসূচক ডক্টর অব ল’জ দেওয়া হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। জানা যায়, এই প্রস্তাবটি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য অধ্যাপক কবি আব্দুস সামাদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮তম উপাচার্য অধ্যাপক মো. আক্তারুজ্জামান এবং ২৯তম উপাচার্য অধ্যাপক মাকসুদ কামাল বিষয়টি আন্তরিকতার সঙ্গে নেওয়ায় সেই স্বপ্ন আজ সত্যি হতে চলেছে। আমি বঙ্গবন্ধুকে তার দুটি গ্রন্থ ‘কারাগারের রোজনামচা’ ও ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র জন্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে ডক্টরেট ডিগ্রি দেওয়ার প্রস্তাব রেখেছিলাম ২০১৯ সালের মার্চে। বিভিন্ন কারণে সেটা আজও সম্ভব হয়নি। এমন একটি মহান কাজের জন্য যে আয়োজন প্রয়োজন সেটা করতে সময় লাগে। হয়তো একদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধুর সৃজনশীল কাজের জন্য ডিগ্রি দিতে সমর্থ হবে।  

দিনটি নিঃসন্দেহে জাতির জীবনে আনন্দের দিন। এই মহৎ কাজটির জন্য কীভাবে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ধন্যবাদ দেব তা বুঝতে পারছি না। আনন্দে মানুষ হাসে এবং কাঁদে।  আজ বলব না কাঁদো বাঙালি কাঁদো। যেমনটি আমরা বলতাম ও কাঁদতাম ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সাল থেকে। আজ বঙ্গবন্ধু এক উচ্চমাত্রায় বাঙালির হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। অনেকেই অনুতপ্ত তাদের অতীত কর্মকাণ্ডের জন্য। জাতিসংঘ মুজিববর্ষ পালন করেছে, বঙ্গবন্ধুর ভাষণকে ইউনেস্কো সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়েছে। তবে দুটি রাষ্ট্র এখনো বঙ্গবন্ধুকে সেই মর্যাদা দিতে ব্যর্থ। একটি যুক্তরাষ্ট্র, অপরটি কানাডা। দিবালোকের মতো স্পষ্ট- ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড ছিল মানবাধিকারের সর্বোচ্চ লঙ্ঘন। সব জেনেও ওই দুই রাষ্ট্র বঙ্গবন্ধুর খুনিদের নিরাপদে জীবনযাপনের সুযোগ দিয়ে আসছে। যারা সেদিন খুনিদের পাশে ছিল আজ তাদের রাজনৈতিক সুরক্ষা দেওয়ার একটি ভ্রান্ত প্রবণতা আমরা দেখতে পাই, যা আমাকে ভীষণ কষ্ট দেয়।  

উন্নয়নশীল অন্য দেশগুলোর মতো কমবেশি বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন সব সময় হয়ে থাকে। এখনো হচ্ছে। তবে সেটার পাশাপাশি কিছু উন্নয়ন হয়েছে। যেমন নারীর অধিকার যেভাবে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে, যেভাবে শিশুদের বেড়ে ওঠার জন্য সরকারি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা অতুলনীয়। দারিদ্র্যবিমোচনের সূচক বিশ্ববাসীকে মোহিত করেছে। যাদের হাতে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে তাদের বিচারের আওতায় আনার সাহস আমাদের অনেকেরই নেই। বঙ্গবন্ধু মানবাধিকারের প্ৰতীক। আজ যে বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডিগ্রি দিচ্ছে সেই বিশ্ববিদ্যালয় একদিন তার ছাত্রত্ব কেড়ে নিয়েছিল। নির্মমতার এই ইতিহাস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অনেকদিন বহন করেছে। আওয়ামী লীগ বা বিএনপির বিভাজন আছে বলে আমরা এখনো তাকে সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখতে পারিনি। কিন্তু সেদিন তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার হয়ে নিজের শিক্ষাজীবনকে জলাঞ্জলি দিয়ে বাঙালির অধিকার রক্ষায় রাজনীতির মাঠে থেকেছেন। 

বঙ্গবন্ধু একটি জাতির রূপকার, একটি জাতির পিতা। আমাদের চারপাশে অনেকেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শের বুলি আওড়িয়ে অনেক কিছু বাগিয়ে নিয়েছেন বা নিচ্ছেন বটে, তবে তার আদর্শ থেকে যোজন যোজন দূরে থাকছেন নিজেদের কর্মকাণ্ডের বেলায়।

এই চাতুরতার রাজনীতি আমাদের জাতিকে ধ্বংসের মুখে নিয়ে গেছে। আমরা দেশ গড়ার পরিবর্তে দেশ থেকে অর্থ পাচার করছি। দেশের সম্পদ সস্তায় বিক্রি করে দিচ্ছি , উচ্চমূল্য দিয়ে ঋণের বোঝা জনগণের মাথায় চাপিয়ে দিয়ে উন্নয়ন করে নিজে ধনবান হচ্ছি। এভাবে প্রতারণা যারা করছে, তাদের ঠেকাবার কেউই নেই। এমন একটি পরিস্থিতিতে আমাদের তরুণ সমাজের মধ্যে হতাশা জন্ম নিচ্ছে।  

সারা দেশের মানুষ যেভাবে ডিজিটাল বাংলাদেশ স্বপ্নে উদ্বেলিত হয়েছিল, আজ সেরকমভাবে জাগরণ সৃষ্টি করতে কেউই পারছে না। কারণটা আমাদের সবার জানা। কিন্তু রুখে দাঁড়াবার চেষ্টা কেউই করছেন না। জনগণ বুঝতে পারছে, সরকার পরিবর্তন হলেও তাদের ভাগ্য পরিবর্তন হবে না বা যে মেধা ও সম্পদ পাচারের ধারা সৃষ্টি হয়েছে সেখান থেকে ফেরার সম্ভাবনা নেই বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।  

এ সময় বুদ্ধিজীবীদের দিকে তাকিয়ে আছে জনগণ। আজ বঙ্গবন্ধুকে কেবল সম্মানসূচক ডিগ্রি দিয়ে বুদ্ধিজীবীরা দায়সারা কাজটি করছেন, তারা তা বুঝতে পারছেন কি? 

বঙ্গবন্ধু সারাজীবন মানবাধিকারের জন্য লড়াই করে জাতিকে মুক্ত করতে চেয়েছেন। আর আমরা বিদেশের কাছে ছুটছি রাজনৈতিক সমাধানের জন্য। দীর্ঘদিন কংগ্রেস ভারত শাসন করেছে কিন্তু তাদের বিরোধী দল তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায়নি বা সেই দাবির জন্য বিদেশিদের শরণাপন্ন হয়নি। আমরা বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা যদি নিয়ে থাকি তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আজ কেন ঘুমিয়ে? সেখানে আমাদের সব দলের শিক্ষক আছেন। তারা বসেন, আলোচনা করেন এবং সরকার ও বিরোধীদলকে একই মঞ্চে নিয়ে আসেন এবং একটি সুস্থ সমাজ গঠনে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে ভূমিকা রাখেন, যেভাবে আমাদের ভাষা আন্দোলন, মুক্তির সংগ্রাম ও স্বাধীনতার যুদ্ধে অবদান রেখেছেন।  

প্রায় একচল্লিশ বছর আগে তারুণ্যের স্বপ্নভুবন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র হয়ে ভর্তি হয়েছিলাম।  সেদিন হলে একটি সিটের জন্য আমাদের তিন বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। একেবারে কুঁকড়ে আমাদের বাঁচতে হয়েছে সিট সংকটের কারণে। সেদিন নতুন বাংলা মানে এরশাদের ছাত্র সংগঠন জোর করে রাজনীতি করতে বাধ্য করত। আমরা চাই আমাদের সন্তানরা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীনভাবে রাজনীতি করবে। সেই রাজনীতির প্রতিবন্ধকতা হলো হলের সিট। আজকের এই শুভক্ষণে মাননীয় প্ৰধানমন্ত্রীর কাছে দাবি- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেভাবে বঙ্গবন্ধু মানবাধিকারের কথা বলেছেন, সেভাবে বুক উঁচু করে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিবন্ধকতা ছাত্রদের আবাসন সমস্যা দূর করতে নতুন হল নির্মাণের অর্থ বরাদ্দ দেবেন। আমার দাবি থাকবে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের দাবি- এটিকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা দেওয়ার, সেটা পূরণ করবেন। যাতে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় বা সান্ধ্যকালীন কোর্সে কিংবা উইকেন্ড প্রোগ্রামে ধাবিত না হয়ে বিবেকবান শিক্ষক হয়ে শিক্ষা দেন এবং জাতির কল্যাণে অবদান রাখেন।  

আমাদের শিক্ষার্থীরা অপুষ্টিতে ভোগে। ফলে ক্লাসে তারা মনোযোগী হয় না। আমার দাবি থাকবে, যেন শিক্ষার্থীদের সবাইকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। যাতে তারা অপুষ্টিতে না ভোগে।  মানবসম্পদের উন্নয়ন হোক আপনার আগামী দিনের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি। আর তাতে জেগে উঠবে তরুণ সমাজ, বাস্তবায়িত হবে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা।  

মা যদি রুগ্ন হয়, তার সন্তান রোগী হয়ে জন্ম নেয়। আর সেই রুগ্ন শিশুকে দিয়ে যেমন সুন্দর স্বপ্ন দেখা যায় না। বিশ্ববিদ্যালয়ও মায়ের মতো। রুগ্ন বিশ্ববিদ্যালয় জাতি গঠনে সফল হয় না। আজকের রাজনীতি হোক মানবসম্পদের উন্নয়নের রাজনীতি, যার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে তরুণ সমাজ। জাতির পিতার রক্তের ঋণ পরিশোধে তারুণ্যের স্বপ্নভুবন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই আয়োজন সফল হোক।

লেখক: অধ্যাপক, দর্শন বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

অনলাইনে প্রকাশ্যে অস্ত্র কেনাবেচা জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১২:২৫ পিএম
জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন

হাত বাড়ালেই এখন অস্ত্র কেনা যাচ্ছে। অনলাইনে প্রকাশ্যেই অস্ত্র কেনাবেচা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন গোপনীয় গ্রুপে এবং প্রকাশ্য ওয়েব পেজে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি কেনাবেচা চলছে। তবে এগুলো অধিকাংশই প্রতিবেশী দেশে বা অন্য দেশে বসে নিয়ন্ত্রণ করা হয়ে থাকে। দেশের ভেতরেও এ ধরনের প্রবণতা লক্ষ করছেন অপরাধ বিশ্লেষকরা। ইদানীং পার্বত্য চট্টগ্রামসহ বেশ কিছু সীমান্ত এলাকায় অনলাইন যোগাযোগে অস্ত্র কেনাবেচার কিছু খবর পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের দোকানে মেটাল বডির হুবহু নকল পিস্তল, রিভলবারও বিক্রি হচ্ছে। অনেক সময় এগুলোকে খেলনা পিস্তল হিসেবে প্রদর্শন করে বিভিন্ন দামসহ ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এই খেলনা পিস্তলের আড়ালে মূলত প্রকৃত পিস্তল বেচাকেনা হচ্ছে কি না, সে বিষয় খতিয়ে দেখা জরুরি। চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে থানাসহ পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং সন্ত্রাসীদের হাতে থাকা অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের কারণে আগামী দিনগুলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা দুষ্কর হয়ে পড়বে।

পুলিশ সদর দপ্তরের সর্বশেষ তথ্য মতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন থানা, ফাঁড়ি ও স্থাপনায় হামলা চালিয়ে পুলিশের ৫ হাজার ৭৬৩টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট করা হয়। লুট হওয়া এসব অস্ত্রের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৪৪৫টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো ১ হাজার ৩১৮টি আগ্নেয়াস্ত্রের কোনো হদিস জানতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এসব মারণাস্ত্র কার হাতে বা কোথায় আছে, তাও অজানা। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বলা হয়েছে, গত ১ মে থেকে সারা দেশে মাদক ও অস্ত্রবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এই বিশেষ অভিযানে গত সোমবার পর্যন্ত ২২টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। অবৈধ অস্ত্রের পাশাপাশি পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারেও সব ইউনিটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পেশাদার সন্ত্রাসী, উগ্রবাদী ও রাজনৈতিক ক্যাডার–এই তিন শ্রেণির হাতে লুট হওয়া অস্ত্র, গোলাবারুদ থাকতে পারে। জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকার এসব অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালালেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। বর্তমান সরকার এখন দৃশ্যমান তেমন কোনো অভিযান পরিচালনা করতে পারেনি। দল-মতনির্বিশেষে নির্মোহভাবে অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে নামতে হবে। সম্মিলিত অভিযান পরিচালনা ছাড়া বিকল্প নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অভিযান দৃশ্যমান করতে হবে।

অপরাধ বিশেষজ্ঞ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক খবরের কাগজকে বলেন, সরকারি বাহিনী বা সংস্থার সদস্যদের বাইরে যে কারও হাতে আগ্নেয়াস্ত্র থাকা মানে সমাজের সাধারণ মানুষের জন্য ভীতিকর বা আতঙ্কের বিষয়। আমরা বিভিন্নভাবে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার ও মহড়া দেখতে পাচ্ছি। সে অনুসারে জোরালো অভিযান চোখে পড়ছে না। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে যেকোনো মূল্যে লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারসহ অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে সরকারকে আরও কঠোর হতে হবে।

অনলাইনে প্রকাশ্যে অস্ত্র কেনাবেচার সঙ্গে জড়িতদের কঠোর নজরদারির আওতায় এনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একটি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক রাখতে হলে এ ধরনের অপতৎপরতা রুখতে সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে আরও সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে হলে এবং সাধারণ মানুষের  জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে অবৈধ অস্ত্রের (অনলাইন অফলাইন) ব্যবহার বন্ধ করা খুবই জরুরি।

প্রকোপ ঠেকাতে সচেতন হওয়া জরুরি দেশজুড়ে ডেঙ্গুর ব্যাপক বিস্তার

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ১২:০৪ পিএম
দেশজুড়ে ডেঙ্গুর ব্যাপক বিস্তার

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গুর বিস্তার আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীর সংখ্যা। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকে। কিন্তু এ সময়টাতে সে অনুযায়ী কার্যকর ও সমন্বিত কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় না। মাঠপর্যায়ের বর্তমান যে চিত্র দেখা যায়, তাতে এ বিষয়টি স্পষ্ট পরিলক্ষিত হয়। খবরের কাগজের সরেজমিন প্রতিবেদনের তথ্যমতে, রাজধানীতে কয়েক দিনের বৃষ্টিতে খাল, নালা, ড্রেন ও পরিত্যক্ত স্থানে পানি জমে রয়েছে। অনেক স্থানে গিয়ে দেখা গেছে, আবর্জনায় ভরা স্থির পানি এডিস মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত ফগিং হলেও লার্ভা ধ্বংস ও জমে থাকা পানি অপসারণে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে।

জানা গেছে, চলতি বছর ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন; বিশেষ করে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে ডেঙ্গু ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এ লক্ষ্যে একটি বিশেষ টাস্কফোর্সও গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির সদস্যরা রাজধানীর বাড়ি বাড়ি গিয়ে এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত ও ধ্বংসে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছেন। ইতোমধ্যে রাজধানীতে বিভিন্ন এলাকায় এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে। সেখানে ডেঙ্গু মোকাবিলায় একাধিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কীটতত্ত্ববিদদের মতে, ঢাকাসহ দেশের অনেক জেলায় এডিস মশার ঘনত্বের সূচক এখন ২০-এর বেশি। বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা এবং রোগীর সংখ্যা বিশ্লেষণ করে তৈরি পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে। এ ছাড়া গত দুই বছরের অভিজ্ঞতাও তেমন সন্তোষজনক পর্যায়ে নেই। ২০২৫ সালে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন, মৃত্যু হয়েছিল ৪১৩ জনের। ২০২৪ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ এবং প্রাণ হারান ৫৭৫ জন। সেই অভিজ্ঞতায় এবার বর্ষার শুরুতেই সতর্ক হওয়ার তাগিদ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। 

চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ায় এবার ডেঙ্গুর প্রকোপও আগেভাগেই দেখা দিয়েছে। কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থার অভাবে ডেঙ্গু এখন আর রাজধানীকেন্দ্রিক নয়, দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগের বিস্তার জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারি সংস্থাগুলোকে নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা, লার্ভা ধ্বংস এবং কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বাড়িয়ে ব্যক্তি ও সামাজিক পর্যায়ে প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ জোরদার করা জরুরি। সময়মতো এসব ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সামনের মাসগুলোতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। 

ডেঙ্গুর প্রকোপ ঠেকাতে সরকারকে মাঠপর্যায়ে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।  ইতোমধ্যেই আমরা জেনেছি, রাজধানীর দক্ষিণ সিটির ২৭টি ওয়ার্ডকে চরম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং উত্তর সিটির ২৪টি ওয়ার্ড উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব স্থানে লার্ভা ধ্বংস ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি। তাই এখন থেকেই  মাঠপর্যায়ে লার্ভি সাইডিং, নিয়মিত ফগিং, খাল-নালা পরিষ্কার এবং আবর্জনা অপসারণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হলে জনসচেতনতা বাড়াতেও পদক্ষেপ নিতে হবে। সরকার দ্রুত এসব উদ্যোগ নিলে মাঠপর্যায়ে ডেঙ্গুর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

চট্টগ্রাম অঞ্চলে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ধস দুর্ভোগ লাঘবে জরুরি ব্যবস্থা নিন

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১২:১৭ পিএম
দুর্ভোগ লাঘবে জরুরি ব্যবস্থা নিন

১৯৮৩ সালের পর ৪৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে। স্মরণকালের সর্বোচ্চ বৃষ্টিতে এবং পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য জেলাগুলোর বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে সড়ক, রেল ও বিমান যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। পাহাড়ি ঢল, বন্যা, দেয়াল ও পাহাড়ধসে বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন। ঝুঁকিতে রয়েছেন সেখানকার লাখো বাসিন্দা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন কয়েক শ আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করেছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে। জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি জেলার গতকালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের সার্বিক পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দুই দিনের অতিভারী বর্ষণে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলজুড়ে পাহাড়ধস, জলাবদ্ধতা, সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, নদীর পানি বাড়ার কারণে জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। টানা বৃষ্টিতে বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগ জানিয়েছে, নালা-খাল পরিষ্কারের কাজ চললেও অতিবৃষ্টি ও জোয়ারের কারণে পানি নামতে সময় লাগছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চসিকের বিশেষ টিম মাঠে কাজ করছে। প্রাণহানি এড়াতে ৯টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন নগরের নিম্নাঞ্চল পরিদর্শন করে বলেছেন, প্লাস্টিকজাতীয় পণ্য আটকে থাকায় খাল-নালা দিয়ে স্বাভাবিক পানি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। প্রবল বৃষ্টির সঙ্গে জোয়ারের পানি যোগ হয়ে অনেক এলাকায় জলজট তৈরি হয়েছে।

২০১৭ সালে উখিয়া ও টেকনাফে বনভূমি উজাড় করে গড়ে তোলা ৩৩টি রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছে। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে অন্তত ১ লাখ মানুষ ভূমিধসের উচ্চঝুঁকিতে রয়েছে। 
বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বন্যা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি বাড়বে। এদিকে ফেনীতে ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার স্মৃতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি ফেনীর মানুষ। সেই ক্ষত না শুকাতেই উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে টানা বর্ষণে জেলার প্রধান নদীগুলোর পানি আবারও বাড়তে শুরু করেছে। এদিকে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বর্তমানে অধিকাংশ নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও আগামী কয়েক দিনে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির কারণে কয়েকটি নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে টানা বর্ষণে জনসাধারণকে বড় ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে নিম্ন আয় ও খেটে খাওয়া মানুষের অসুবিধা চরমে। শুধু পার্বত্য চট্টগ্রামই নয়, এ সময়ে দেশের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল টানা বৃষ্টিতে প্লাবিত হচ্ছে। এ অবস্থায় মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি। সম্ভাব্য পাহাড়ধস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে যাতে সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতি না ঘটে, সে বিষয়ে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলোতে শুধু সতর্কতা জারি করলেই হবে না, তাদের বিকল্প বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। অব্যাহত বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জনসাধারণের ভোগান্তি যাতে আর না বাড়ে, সে জন্য সরকারি সংস্থাগুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আশা করি, সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে এ ব্যাপারে দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।

এইচএসসিতে ঝরে পড়ার হার উদ্বেগজনক অবস্থা উত্তরণে কৌশল নির্ধারণ জরুরি

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৩:১১ পিএম
অবস্থা উত্তরণে কৌশল নির্ধারণ জরুরি

চলতি উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি ও সমমান) পরীক্ষায় এবার অনুপস্থিতি আগের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। বিষয়টি শিক্ষাসংশ্লিষ্টদের কাছে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বছর নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৬ শতাংশ পরীক্ষা দেওয়ার জন্য ফরমই পূরণ করেনি। দুই বছর আগে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করে একাদশ শ্রেণিতে নিবন্ধন করেছিল প্রায় ১৫ লাখ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ শিক্ষার্থী, অর্থাৎ নিয়মিত শিক্ষার্থীদের প্রায় সাড়ে ৫ লাখ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না। প্রথম তিন দিনের অনুপস্থিতির সংখ্যাটি যোগ করলে পরীক্ষা না দেওয়া পরীক্ষার্থীর সংখ্যা আরও বেশি হবে। এমন ব্যাপক অনুপস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষাব্যবস্থার কঙ্কাল বেরিয়ে এসেছে। এখন প্রয়োজন এ সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসার কৌশল দ্রুত নির্ধারণ করা।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উচ্চমাধ্যমিকে অনুপস্থিতির হার ক্রমাগত বাড়ছে। বিভিন্ন বোর্ডের তুলনামূলক অনুপস্থিতির হার দেখলেই তা অনুমান করা যায়। প্রথমত, ১১টি শিক্ষা বোর্ডে ২০২৫ সালের পরীক্ষার প্রথম দিন ১৯ হাজার ৭৫৯ পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। ২০২৪ সালে প্রথম দিনে অনুপস্থিত ছিল ১৫ হাজার ২০৩ পরীক্ষার্থী। এর আগের বছর ২০২৩ সালে আটটি শিক্ষা বোর্ডের অধীন অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল ৫ হাজার ৫২২ জন। ওই বছর বন্যার কারণে চট্টগ্রাম, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা পরে শুরু হয়েছিল।

এইচএসসি পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে বহিষ্কারের সংখ্যাও বেড়েছে। তা ছাড়া বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থী ঝরে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাজারও স্বপ্ন ঝরে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ হারে ঝরে পড়ার কারণ খুঁজে বের করা দরকার। সরকারকে তা বুঝতে হবে। আমরা কতটা যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ দিতে পেরেছি, সেটাও দেখতে হবে। আমাদের শিক্ষক, অভিভাবক- সবাইকে সচেতন হতে হবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটা ধারণা জন্মেছে যে, রাস্তায় নামলেই সবকিছু পেয়ে যাবে। ২০২৪ সালের আন্দোলনের পর শিক্ষার্থীদের দ্রুত ক্লাসে পড়া উচিত ছিল। কিন্তু তা হয়নি। 
সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৬ শতাংশই অংশ না নেওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাব দেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শ্রেণিকক্ষে ঠিকমতো পড়াশোনা হচ্ছে না, অন্যদিকে এখন পরীক্ষা সঠিকভাবে হচ্ছে। সবকিছু মিলিয়ে এবার হয়তো কিছুসংখ্যক ছাত্রছাত্রী চিন্তা করেছে... বিগত দিনের মতো প্রস্তুতি ছাড়া কেউ যেতে (পরীক্ষার হলে) পারছে না। সে জন্য বোধহয় হারটি বেড়েছে। কিন্তু এটি খুব খারাপ ইন্ডিকেটর (সূচক)। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এ জন্য শিক্ষক প্রশিক্ষণের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান খবরের কাগজকে বলেন, সরকারের বর্তমান নকলবিরোধী অবস্থানের কারণে যাদের প্রস্তুতি ভালো নয়, তারা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। সরকারের এ উদ্যোগকে কেউ কেউ সমালোচনা করছে বা ট্রল করছে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে ভালো হয়েছে। নকলবিরোধী অবস্থানের কারণে উপস্থিতি কমেছে, কিন্তু কঙ্কালটা বেরিয়ে এসেছে, শিক্ষাব্যবস্থার চিত্রটা উঠে এসেছে। এই ক্ষত শুকাতে এখন সরকারকে কৌশল নির্ধারণ করতে হবে।

এইচএসসি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশের অনুপস্থিতি মনে করিয়ে দেয় শিক্ষাব্যবস্থার মূলে কিছু পদ্ধতিগত সমস্যা রয়েছে। এ ছাড়া পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও ব্যক্তিগত কারণ থাকতে পারে। এ অবস্থার উত্তরণে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আশঙ্কার বিষয় হবে বিপুলসংখ্যক তরুণ জনগোষ্ঠী আনুষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে এবং তারা অদক্ষ মানবসম্পদে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবে। আশা করছি, সরকার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ কৌশল নির্ধারণ করবে।

নিষ্পত্তি হচ্ছে না রাজস্ব মামলা এনবিআরের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে হবে

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৬ পিএম
এনবিআরের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে হবে

দেশে বহু রাজস্ব মামলা এখনো আদালতে পড়ে আছে। এসব মামলাজট দীর্ঘদিনের বিষয়। ২০১১ সালে মামলাজট কমানোর জন্য বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) পদ্ধতি প্রবর্তন করা হলেও এ পদ্ধতি সফল হতে পারেনি। প্রায় ৩১ হাজার রাজস্ব মামলা অনিষ্পত্তি থাকায় প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার রাজস্ব অনাদায়ি রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নতুন মামলা। ফলে অনাদায়ি রাজস্বের পরিমাণও দিনে দিনে বাড়ছে। রাজস্ব আইন ও বিধির ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা, দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং কর নির্ধারণে মতপার্থক্যের কারণে মামলা বাড়ছে। অর্থনীতির বিশ্লেষকরা রাজস্ব মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দক্ষতা ও সক্ষমতার অভাবকে দায়ী করেছেন।

রাজস্ব মামলা নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হওয়ার বেশ কিছু কারণ রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। এর মধ্যে দায়িত্বরত এনবিআর কর্মকর্তাদের মামলা সম্পর্কে ধারণা কম থাকা, এনবিআরের প্রস্তুতির অভাব, আদালতে সময়মতো তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করতে না পারা, মামলা শেষ হওয়ার আগেই দায়িত্বরত কর্মকর্তার বদলির বিষয়গুলো জড়িত। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অভিজ্ঞ আইনজীবীদের ফি বেশি থাকে। কিন্তু রাজস্ব মামলা পরিচালনায় বাজেট কম থাকে। এত স্বল্প বাজেটে অভিজ্ঞ আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয় না। এমন পরিস্থিতিতে রাজস্ব মামলা পরিচালনায় কম অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আইনজীবী নিয়োগ দিতে বাধ্য হয়। এতে করে মামলা পরিচালনায় দক্ষতার ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়। অনেক সময় এনবিআরের তদন্তেও মামলায় বিপক্ষদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে এনবিআরসংশ্লিষ্টদের মামলায় সময়ক্ষেপণে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। 
এনবিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের আদালতে আয়কর, মূসক ও শুল্ক-সংক্রান্ত মোট মামলার সংখ্যা ৩১ হাজার ৭০০টি। জড়িত অর্থের পরিমাণ ৯৯ লাখ ৭০০ কোটি টাকা। কমপক্ষে ৪ হাজার ৭০০ করসংক্রান্ত মামলার বিপরীতে জড়িত অর্থের পরিমাণ অন্তত ৩৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। মূসকের মামলার সংখ্যা ১১ হাজারের বেশি। জড়িত অর্থের পরিমাণ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বেশি। শুল্কের মামলার সংখ্যা ১৫ হাজারের বেশি। এর মধ্যে শুধু চট্টগ্রামেই ১২ হাজার মামলা চলমান। জড়িত অর্থের পরিমাণ প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা।

তথ্যমতে, সবচেয়ে বেশি মামলা আছে বর্তমানে হাইকোর্ট বিভাগে। হাইকোর্ট বিভাগে শুধু ভ্যাট-সংক্রান্ত মামলা আছে প্রায় ৪ হাজার ৫০০, যেখানে রাজস্ব জড়িত আছে প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা। ভ্যাট অফিস, অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস এবং আদালত একত্রে ক্রাশ প্রোগ্রাম গ্রহণ করে অন্তত সমজাতীয় মামলাগুলো নিষ্পত্তি করা যায় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

অভিযোগ উঠেছে, এনবিআরের অদক্ষতায় নিষ্পত্তি হচ্ছে না রাজস্ব মামলা। তাই রাজস্ব মামলা নিষ্পন্ন করতে হলে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এনবিআরকে ঢেলে সাজিয়ে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে হবে। কর নির্ধারণ, মূল্যায়ন ও রিটার্ন যাচাইয়ের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালু করতে হবে, যাতে ব্যক্তিনির্ভর সিদ্ধান্তের সুযোগ কমে যায়। এতে করদাতা ও কর প্রশাসনের মধ্যে বিরোধ কমে আসবে এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত হবে। এনবিআরসংশ্লিষ্টদের মামলায় সময়ক্ষেপণে জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সর্বোপরি এনবিআরসংশ্লিষ্টদের কৌশলী ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে ও প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে হবে। আশা করি, সরকার দেশের মানুষের হয়রানি কমাতে এবং রাজস্ব বাড়াতে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।