বিশ্বে ১৯৮৮ সাল থেকে এইডসের কারণে মৃত ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা ও আক্রান্তদের প্রতি সমবেদনা জানানোর উদ্দেশ্যে ১ ডিসেম্বর বিশ্ব এইডস দিবস হিসেবে পালন করা হয়। বাংলাদেশেও এ বছর দিবসটি পালিত হয়েছে। কিন্তু এইডস সচেতনতায় কতটুকু ভূমিকা রাখছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো? সম্প্রতি সিরাজগঞ্জ জেলায় অস্বাভাবিকভাবে এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে মর্মে একটি খবর পত্রিকায় উঠে এসেছে।
এইডস প্রোগ্রামের তথ্য অনুসারে প্রতিবছর নতুনভাবে শনাক্ত রোগীদের মধ্যে ২০-২৫ শতাংশ অভিবাসী অথবা তাদের পরিবার। দেশে এইডস রোগীর সংখ্যা ক্রমাগতভাবে বাড়ছে। তবে এ বছর এইডস রোগীর সংখ্যা আগের বছরগুলোর তুলনায় বেশি।
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুসারে ২০২০ সালে নতুন শনাক্ত রোগী ছিল ৬৫৮, ২০২১ সালে ৭২৯ এবং ২০২২ সালে ৯৪৭ জন। এবার এই সংখ্যা সর্বোচ্চ ১ হাজারের ওপর উঠেছে। দেশের এইচআইভি পজিটিভদের মধ্যে ২৫-৪৯ বছরের মানুষ সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া পুরুষ ৭০ দশমিক ৫ শতাংশ, নারী ২৮ শতাংশ এবং তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ। তবে এ বছর সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন সমকামীরা।
সরকারের এইডস/এসটিডি প্রোগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, দেশে আনুমানিক ১৪ হাজার ৫০০ এইচআইভি আক্রান্ত রয়েছেন। যাদের মধ্যে ১৯৮৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ৯ হাজার ৭০৮ জনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। প্রায় ৭ হাজার রোগী দেশের ১৩ হাসপাতালের মাধ্যমে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এসডিজির এইচআইভিবিষয়ক ৩.৩-এর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশ জাতিসংঘের ৯৫-৯৫-৯৫ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করছে। যার অর্থ ৯৫ শতাংশ সম্ভাব্য পজিটিভ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা, ৯৫ শতাংশ সংক্রমিত
ব্যক্তিকে চিকিৎসার আওতায় আনা ও ৯৫ শতাংশ চিকিৎসা গ্রহণকারী ভাইরাল রোগ নিয়ন্ত্রিত রাখা।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ভাইরোলজির অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘মানুষকে এখনো পর্যাপ্ত হারে এইচআইভি টেস্টের আওতায় আনা যাচ্ছে না। ফলে আড়ালে থাকা অনেকেই ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। লোকলজ্জার ভয়ে অনেকেই পরীক্ষা করাতে চান না। সরকারের উচিত মানুষকে আরও সচেতন করে তোলার জন্য ব্যাপক কার্যক্রম চালানো। পরীক্ষা পদ্ধতি এখন আগের চেয়ে উন্নত। স্ট্রিপ দিয়েই দ্রুততম সময়ে রেজাল্ট পাওয়া যায়।’
মধ্যপ্রাচ্যসহ কয়েকটি দেশে প্রবেশের আগেই এইচআইভি পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিন্তু আক্রান্ত হয়ে দেশে ফেরত আসার পর তাদের শনাক্ত করা যাচ্ছে না। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা জরুরি। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় বিএমএটিসহ কয়েকটি বিভাগের সঙ্গে যুগপৎ কার্যক্রম বাস্তবায়ন না করতে পারলে অচিরেই এ খাতে আয়/কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে পড়বে। সুই-সিরিঞ্জের অযাচিত ব্যবহার করে মাদকসেবীরা আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি করছে। এ জন্য সবার আগে দরকার প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। চিকিৎসায় অন্তর্ভুক্ত থাকলে এবং নিয়মিত ওষুধ খেলে একজন আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ থাকে। এই সুস্থ ব্যক্তির কাছ থেকে অন্যজনের মধ্যে এইচআইভি ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে না। তাই আক্রান্ত ব্যক্তিকে সবার আগেই চিকিৎসায় অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।
এইচআইভি প্রতিরোধে এই রোগ সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা দূর করতে হবে। সেবার পরিধি বাড়াতে হবে। সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে ব্যাপক প্রচারের উদ্যোগ নিতে হবে।