আজ ২৬ মার্চ। বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবস। ১৯৭২ সাল থেকে প্রতিবছর দিনটি উদযাপিত হয় জাতীয় দিবস হিসেবে। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে নিরীহ ঘুমন্ত ঢাকাবাসীর ওপর নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালায় পাকিস্তানি বাহিনী। ঢাকার বিভিন্ন স্থানে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চলতে থাকে। এমতাবস্থায় বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন উদ্দীপ্ত হয়ে ওঠে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় বাঙালি জাতি। বাঙালি জাতিকে মুক্তির বীজ বপন করে দিয়েছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
বাংলা ভাষার দাবিতে ’৫২-এ রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের পথ ধরে আসে স্বাধিকার আদায়ের আন্দোলন। বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতির স্বাধিকার আদায়ের দাবিতে ১৯৬৬ সালে ছয় দফা ঘোষণা করেন। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আসে ’৬৯-এর গণ অভ্যুত্থান এবং ’৭০-এর ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচন। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। কিন্তু আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা করে স্বৈরশাসক ইয়াহিয়া খান। আলোচনার নামে প্রহসন ও সময়ক্ষেপণ করে পাক শাসকগোষ্ঠী। অতঃপর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব।
বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’। এই ভাষণই ছিল বাঙালি জাতির দীর্ঘদিনের শোষণ-বঞ্চনা আর অবহেলা থেকে মুক্তির ধারাবাহিক আন্দোলনের চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা। ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর গণহত্যা শুরু করলে ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের চূড়ান্ত মুহূর্ত।
পরাধীনতার নরক থেকে মুক্তি হলো স্বাধীনতা। স্বাধীনতা দিবস নতুন প্রজন্মের প্রেরণার উৎস। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধকরণের জন্য এক সুমহান শক্তি। একটি জাতি মাথা তুলে দাঁড়ানোর দুর্নিবার শক্তি অর্জন করেছিল মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে। এই স্বাধীনতা রক্ষায় সবাইকে তৎপর হতে হবে। ১৯৭১ সালে দীর্ঘ ৯ মাসের যুদ্ধে ৩০ লাখ শহিদের রক্ত এবং ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। অনেক বছরের লাঞ্ছনা-বঞ্চনার পর পৃথিবীর বুকে লাল-সবুজের পতাকার একটি দেশ বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশ ঘটে। স্বাধীনতার বীজমন্ত্র মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাথা ইতিহাস বাঙালি জাতি আজও উপলব্ধি করতে পারে দিবসটিকে স্মরণ করে।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ পরিচালনার পাশাপাশি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে এই চেতনা ছড়িয়ে দিতে হবে। তাহলেই এই দেশে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন সার্থক হবে। ইতিহাসের এই মহান ধ্রুব সত্যটি হৃদয়ের মণিকোঠায় স্থান করে দিতে হবে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে।