সৌন্দর্যবর্ধন প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাকারী পাহাড় অবাধে কাটা হচ্ছে। পাহাড় কেটে নির্মিত হচ্ছে অবৈধ স্থাপনা। এতে করে পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে নষ্ট হচ্ছে। খবরের কাগজের সরেজমিন তথ্যমতে, চট্টগ্রামের আকবর শাহ থানাধীন শাপলা ছড়াপাড় এলাকায় প্রকাশ্যে কাটা হচ্ছে সরকারি মালিকানাধীন পাহাড়। স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা ৪০ লাখ টাকার কন্ট্রাক্ট নিয়ে এ পাহাড় কাটছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। চক্রটির সঙ্গে আকবর শাহ থানার এক কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার তথ্যও মিলেছে। মূলত প্লট তৈরি করে বিক্রির উদ্দেশ্যে পাহাড় কাটা হচ্ছে।
পাহাড় কাটার সময় প্রতিরোধ করতে গেলে অনেক সময় পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা পাহাড়খেকোদের মারমুখী আচরণের শিকার হচ্ছেন। তথ্যমতে, কিছুদিন ধরে পাহাড়টির চারপাশে কাঁচা ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। কয়েকটি ঘরে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন মানুষ। আবার কিছু ঘর খালি। ঘরগুলো এমনভাবে সাজানো হয়েছে যেন পাহাড়ঘেরা আছে। এর আড়ালে প্রতি রাতে পাহাড় কাটা হয়। কাটা মাটি সরিয়ে নেওয়া হয় দূরে। পাহাড়ের আশপাশে সব সময় সশস্ত্র পাহারা থাকে। অচেনা কেউ গেলে তাকে থামিয়ে নানা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা হয়। স্থানীয়রা জানান, চক্রটির লক্ষ্য আশপাশের আরও তিনটি পাহাড় কেটে সমতল করা। পরে সেসব জমি প্লট আকারে বিক্রি করার জন্য প্রস্তুত করা। প্রতি কাঠা জমি ৮ থেকে ১০ লাখ টাকায় বিক্রি হয়ে যায়। জমির মালিক সরকার হলেও এভাবে বারবার হাতবদল হয়। একসময় সেখানে পাকা দালানও গড়ে ওঠে। পাহাড়খেকোরা তাদের ব্যক্তিস্বার্থে সরকারি খাসমালিকানাধীন পাহাড়গুলো দেদার বেচাকেনার মাধ্যমে রাতারাতি ধনী বনে যাচ্ছেন। আর এভাবেই একে একে উজাড় হচ্ছে চট্টগ্রামের বন ও পাহাড়।
বাংলাদেশের বন গবেষণাবিষয়ক একমাত্র জাতীয় প্রতিষ্ঠান বিএফআরআই। সূত্রমতে, বিএফআরআই প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পাহাড়ের চারপাশে অবৈধ দখলদারের উৎপাত শুরু হয়। ক্রমান্বয়ে পাহাড়ের চারপাশে বহুতল ভবনের সংখ্যা বাড়ছে। পাহাড় কেটে বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য অনেক ডেভেলপার কোম্পানি যেমন আছে, তেমনি আছেন সাবেক মন্ত্রী-এমপির আত্মীয়স্বজনও। অতীতে দেখা গেছে, বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের পাহাড় ধ্বংসের সঙ্গে সংস্থাটির কতিপয় কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন। এদের অনেকেই অবসরে গেছেন। এ কারণে নির্বিঘ্নে পাহাড় কেটে বসতঘর নির্মাণ করতে পেরেছে অবৈধ দখলদাররা। ৫ আগস্টের পর দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হয়েছে এবং বিগত সরকারের নেতা-কর্মীরা দেশছাড়া হয়েছেন বা আত্মগোপনে রয়েছেন। এর পরও থেমে নেই পাহাড় ধ্বংসের কার্যক্রম। বিএফআরআইয়ের পাহাড়ের অবৈধ দখলদাররা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছে। এখনো বিগত সরকারের সময়ের দখলদাররা বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আঁতাত করে সেই দখল বজায় রেখেছেন।
চট্টগ্রামে উজাড় হচ্ছে পাহাড়, যারা এ কাজে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রশাসনও এ ব্যাপারে তেমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না, যে কারণে হরহামেশাই পাহাড় নিধন হচ্ছে। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি থেকে এ দেশকে রক্ষার জন্য পাহাড়ের ধ্বংস ঠেকাতে হবে।