দেশে চলতি মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। অন্যান্য মাসের তুলনায় এ মাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা অনেক বেশি। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এবারের ভয়াবহতা ২০১৯ সালের মতো হতে পারে। এখনই এডিস মশার বিস্তার রোধ করতে না পারলে এ পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। চলতি বছরে ডেঙ্গু রোগী বাড়তে শুরু করে জুন থেকে। থেমে থেমে বৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে যায়। রাস্তায় কিংবা বাসাবাড়ির আনাচে-কানাচে পড়ে থাকা পলিথিন, বিভিন্ন খাবারের প্যাকেট, ডাবের খোসাসহ বিভিন্ন স্থানে পানি জমে এডিস মশা বিস্তার লাভ করে। আর এডিস মশা ডেঙ্গু ভাইরাসের একমাত্র বাহক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রোদ এই বৃষ্টি, এমন আবহাওয়া এডিস মশা বিস্তারে খুবই সহায়ক। মাঝে ডেঙ্গুর প্রকোপ ছিল কম। বৃষ্টির কারণে এখন বাড়ছে। অক্টোবরেও বাড়বে। বৃষ্টি বাড়ার কারণে মশাবাহিত রোগের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
এ সময় মশা তাড়ানোর ওষুধ ব্যবহার প্রতিরক্ষামূলক পোশাক বা মশারির ব্যবহার ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনায় সব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং বিশেষায়িত হাসপাতালের পরিচালক, জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক, সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের জরুরি ১২ নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে তাদের তিনজন রাজশাহী বিভাগের হাসপাতালগুলোয় এবং দুজন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে মারা গেছেন। নতুন আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ৬৪ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৬ শতাংশ নারী। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণরাই সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় এ বয়সসীমার মধ্যে প্রায় ২০০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এতে স্পষ্ট হয় যে, অপেক্ষাকৃত তরুণরা সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৯ সালে ১ লাখ ১ হাজার ৩৭৪ জন আক্রান্তের মধ্যে ১৬৪ জনের মৃত্যু হয়। চলতি বছরের এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৯ হাজার ৮৪১ জন। মৃত্যু হয়েছে ১৬১ জনের। এবার ২০১৯ সালের মতো আক্রান্ত না হলেও এবছরের সাড়ে ৯ মাসে মৃত্যু প্রায় তখনকার সমান। এবার যদি ২০১৯ সালের মতো আক্রান্তের সংখ্যা হয়, তাহলে মৃত্যুর সংখ্যা ২ থেকে ৩ গুণ বেশি হওয়ার আশঙ্কা জনস্বাস্থ্যবিদদের। জনস্বাস্থ্যবিদ মুশতাক হোসেন বলেন, এখন যে হারে মৃত্যু হচ্ছে তা সত্যিই আতঙ্কজনক। আগে থেকে সচেতন হলে এই মৃত্যু ঠেকানো যেত। কিন্তু স্বাস্থ্য পরিসেবার বিকেন্দ্রীকরণ না হওয়ার কারণে সেবা ঢাকার বাইরে দোরগোড়া পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে না।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার ১২টি নির্দেশনা দিয়েছে। এটির যথাযথ বাস্তবায়ন করতে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রধান উপায় এডিস মশার নিয়ন্ত্রণ। এ জন্য বাসাবাড়ির আশপাশে যাতে পানি জমে এডিস মশা বংশবিস্তার না করতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য জনসচেতনতা বাড়াতে লিফলেট বিতরণসহ সরকারকে আরও বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। সর্বোপরি এডিস মশার বিস্তার ঠেকাতে প্রতিরোধব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।