এসএসসি পরীক্ষার্থীরা আশা করি তোমাদের পরীক্ষার প্রস্তুতি প্রায় শেষ। তারপরও শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি বলে একটা কথা থাকে। সাধারণত তিন ধরনের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে তিন ধরনের প্রস্তুতি দেখতে পাই।
যারা মেধাবী ও ভালো ছাত্রছাত্রী তাদের ইতোমধ্যে সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়া হয়ে গেছে। এখন তোমাদের সেভাবে প্রস্তুতি নেওয়া দরকার, যাতে তোমরা বিশেষ কিছু প্রশ্নের উত্তর, সাজিয়ে-গুছিয়ে নিখুঁতভাবে লিখতে পারো।
আর যারা মোটামুটি ধরনের শিক্ষার্থী, তাদের সবগুলো পাঠ্যবই বারবার রিভিশন দিতে হবে। যদি জ্ঞান ভালো থাকে তাহলে তারা ভালোভাবে
উত্তর লিখতে পারবে। আর যারা দুর্বল শিক্ষার্থী তারা যেটুকু পড়েছে সেটুকু ভালোমতো রিভিশন দিলে পরীক্ষায় ভালো করবে। এখন তোমাদের নতুন করে কোনো প্রশ্নের উত্তর পড়ার দরকার নেই।
গণিতে সাধারণত শিক্ষার্থীরা খারাপ করে, তাই প্রতিদিনের অনুশীলনে অঙ্কের চর্চা রাখবে। প্রতিদিন রুটিনমাফিক লেখাপড়া করতে হবে। যে সময়টুকু আছে সেই সময়টুকুতে অভিভাবকরা মোবাইল ফোন নিয়ন্ত্রণে রাখবেন। এ মুহূর্তে শিক্ষার্থীরা যেন মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না পারে সেই ব্যবস্থা করা উচিত। পরীক্ষার আগের এ সময় ছাত্রছাত্রীদের মানসিকভাবে শক্তিশালী থাকতে হবে। এটা ছাত্রছাত্রীদের প্রথম পরীক্ষা। অনেক শিক্ষার্থী ভয় পায়। পরীক্ষার্থীদের বিষয়টা সাধারণ ঘটনা হিসেবে নিতে হবে, চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেওয়া ঠিক নয়। পরীক্ষা নিয়ে অতিরিক্ত টেনশন করাও উচিত নয়।
বিজ্ঞান বিষয়ের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর লেখা একজন শিক্ষার্থীর নলেজের বিষয়। সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর লেখার আগেই বুঝে তা কয়েকবার পড়বে। আগের যে অর্জিত জ্ঞান সে অনুযায়ী প্রশ্নের উত্তর লিখতে হবে। বিজ্ঞানের প্রশ্নে চিত্রের চাহিদা থাকলে উত্তরে চিত্র দিলে অবশ্যই ভালো নম্বর পাবে। মানবিকের শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবই গুরুত্ব দিয়ে বুঝে পড়তে হবে।
তাহলে শিক্ষার্থীরা সব প্রশ্নের উত্তর লিখতে পারবে। ছাত্রছাত্রীদের সামর্থ্যের ওপর ভিত্তি করে পড়ালেখা করা উচিত। পরীক্ষার আগের রাতে বেশিক্ষণ জাগা ঠিক নয়।
অভিভাবকদের এই মুহূর্তে সন্তানদের প্রতি উৎসাহমূলক বক্তব্য দেওয়া উচিত। সন্তানরা যেভাবে পড়তে চায় সেই মতো পড়তে উৎসাহ দেওয়া উচিত।
• পরীক্ষার হলে পরীক্ষার্থী যে কটি অতিরিক্ত খাতা বা পৃষ্ঠা নেবে সেই কটি পৃষ্ঠা নম্বর কভার পৃষ্ঠায় লিখে দেবে।
• শিক্ষার্থীরা যেসব বিষয় পড়াশোনা করেছে সেই পঠিত পড়াগুলো বারবার রিভিশন দেবে।
• পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থীদের সময় বিভাজন করে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর লিখতে হবে।
• কোনো প্রশ্ন বাদ দিয়ে আসবে না।
• প্রশ্নের উত্তর সুন্দর হাতের লেখায় লিখতে হবে।
• প্রশ্নের যথাযথ ও প্রাসঙ্গিক উত্তর লিখতে হবে।
• বহুনির্বাচনি প্রশ্নে ভালো করার জন্য পাঠ্যবই ভালো করে পড়বে এবং নিজেকে যাচাই করার জন্য বোর্ড এবং দেশের সেরা স্কুলগুলোর টেস্ট পরীক্ষার প্রশ্নগুলো সমাধান করে নিজেকে যাচাই করে নেবে।
লেখক: অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত)
আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল, ঢাকা
অনুলিখন: মাহমুদ কবীর
জাহ্নবী