তোমার পড়ালেখার কৌশল ও রুটিন কী ছিল?
সত্যি কথা বলতে আমি পড়াশোনার জন্য কোনো ধরাবাঁধা রুটিন অনুসরণ করতাম না। আমি সব সময় চেষ্টা করতাম আমার সুবিধাজনক সময়ে পড়তে বসতে। সেটা সকালও হতে পারে কিংবা রাত। এই বিষয়টা একেক শিক্ষার্থীর কাছে একেক রকম। আমি একটা জিনিস পড়লে সেটা ভালোভাবে শেষ করার চেষ্টা করতাম। বাংলা, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, ধর্ম এসব বিষয়ে বেশি বেশি মূল বই পড়তাম। গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন এসব বিষয়ের ক্ষেত্রে বেশি বেশি অনুশীলন করাকে প্রাধান্য দিতাম। মনে রাখার জন্য আমি লিখে শেখাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করতাম।
ভালো ফলাফলের জন্য কোন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ?
ভালো ফলাফলের জন্য সুস্থ থাকা বেশি জরুরি। এটা শুধু আমি না অনেক বিশেষজ্ঞরাও বলে থাকেন। কেননা একজন শিক্ষার্থী যখন শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ এবং স্বাভাবিক থাকবে, তখন সে তার পড়াশোনায় আরও বেশি পরিমাণে মনোযোগ দিতে পারবে। পড়াশোনা ভালোভাবে আয়ত্ত করতে পারবে। এ ছাড়া ধারাবাহিকভাবে পড়া ও নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস রাখাটাও গুরুত্বপূর্ণ।
ভালো ফলাফলের কৌশল কেমন হওয়া উচিত?
এ মুহূর্তে পরীক্ষার্থীদের নতুন করে কোনো কিছু পড়তে যাওয়া উচিত নয়। নবম শ্রেণি থেকে ধারাবাহিকভাবে কেউ পড়াশোনা করে থাকলে বা কেউ যদি দশম শ্রেণিতেও পড়া শুরু করে সে যতটুকু পড়েছে ততটুকুই তার জন্য যথেষ্ট। এখন তাদের
উচিত আগের পড়াগুলোকে বারবার রিভিশন দেওয়া এবং রিভিশনের সময় যদি কোনো ত্রুটি ধরা পড়ে তাহলে তা
সংশোধন করে পড়া।
সৃজনশীল পদ্ধতিতে গণিত, বাংলা, ইংরেজি, বিজ্ঞান বিষয়ে ভালো ফলাফলের কৌশল কেমন হওয়া উচিত?
সৃজনশীল পদ্ধতিতে চার ধরনের প্রশ্ন থাকে, জ্ঞানমূলক, অনুধাবনমূলক, প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতা। গণিতের ক্ষেত্রে তিন ধরনের প্রশ্ন থাকে। বাংলার ক্ষেত্রে আমি বলব বেশি বেশি পাঠ্যবই রিভিশন দেওয়া এবং পাঠ পরিচিতি, লেখক পরিচিতি ইত্যাদি বিষয়বস্তু গুরুত্বসহকারে পড়া। একই সঙ্গে কিছু সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর দেখলে কীভাবে সৃজনশীল উত্তর করলে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া যায় তার একটি ধারণা পাবে। ইংরেজির জন্য মূল বই পড়ার পাশাপাশি নমুনা প্রশ্ন সমাধান করবে।
এটি পরীক্ষায় উত্তর করার দক্ষতা বহুগুণে বৃদ্ধি করবে। গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে গাণিতিক সমস্যাগুলো বারবার অনুশীলন করা জরুরি। গণিতের ক্ষেত্রে মূল বইয়ের সব ধরনের গাণিতিক সমস্যা সমাধানে ভালো দখল রাখতে হবে। পদার্থবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে পদার্থবিজ্ঞানের যে তত্ত্বগুলো রয়েছে সেগুলো সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখলে পদার্থবিজ্ঞানের জ্ঞান, অনুধাবনমূলক প্রশ্নের পাশাপাশি গাণিতিক সমস্যাও সহজে সমাধান করতে পারবে।
পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে তোমার পরামর্শ কী?
তোমার প্রস্তুতি কেমন সেটা তুমি সবচেয়ে ভালোভাবে জানো। নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস রাখো, নিজের সেরাটা দিয়ে চেষ্টা করো। পরীক্ষার আগের রাতে কোনো প্রকার চাপ নেওয়ার দরকার নেই। পরীক্ষার দিন সকালেও কোনো চাপ নেওয়ার দরকার নেই। আত্মবিশ্বাস নিয়ে পরীক্ষা দিতে যাবে। কোনো একটি পরীক্ষা যদি খারাপ হয়েও যায় ঘাবড়ানোর কোনো দরকার নেই, পরবর্তীগুলো ভালোভাবে দেওয়ার চেষ্টা করবে।
সাক্ষাৎকার গ্রহণ: শাকিলা ববি, সিলেট
সুজা আতিফ খান
(হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত। বর্তমানে ঢাকা কলেজে অধ্যয়নরত)
কলি