সুপ্রিয় এসএসসি পরীক্ষার্থী শিক্ষার্থীরা, শুভেচ্ছা নিও। আশা করছি সবাই সুস্থ ও নিরাপদ আছ। এ বছরের এসএসসি পরীক্ষা পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে অনুষ্ঠিত হবে। পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে ভালো ফলাফল করতে যা মনে রাখবে তা হলো-
অনেকেই মনে করে পদার্থবিজ্ঞান একটি খুবই কঠিন বিষয়। আসলে এটা কঠিন বিষয় নয়; একটু ঠাণ্ডা মাথায় বুঝে পড়লে এটা খুবই একটি সহজ বিষয়। শুধু একটু চর্চা দরকার।
পদার্থবিজ্ঞানে অধ্যায় আছে মোট ১৪টি। বহুনির্বাচনি অংশে প্রশ্ন থাকবে মোট ২৫টি। সবগুলোরই উত্তর দিতে হবে। সাধারণত প্রতিটি অধ্যায় থেকেই দুয়েকটি প্রশ্ন আসে। আগে সাধারণত পরীক্ষায় ১১ থেকে ১৪টি গাণিতিক সমস্যাভিত্তিক প্রশ্ন থাকত; কিন্তু গত বছরের পরীক্ষা থেকে বইয়ের ভেতরের বর্ণনা থেকেই বেশি প্রশ্ন এসেছে। তাই বহুনির্বাচনিতে ভালো করার জন্য পাঠ্যবইটি ভালো করে পড়বে। এর সঙ্গে বিগত কয়েক বছরের এসএসসি বোর্ড পরীক্ষায় আসা প্রশ্নগুলোও পড়বে।
পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে সৃজনশীল অংশে ৮টি প্রশ্নের মধ্য থেকে ৫টির উত্তর দিতে হবে। ভালো জানা প্রশ্নের উত্তর আগে লেখা ভালো।
প্রতিটি সৃজনশীল প্রশ্নে জ্ঞান, অনুধাবন, প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতামূলক এই চার ধরনের প্রশ্ন থাকে। জ্ঞানমূলক প্রশ্নের উত্তর সাধারণত এককথায় বা এক বাক্যে দেবে।
এর জন্য নম্বরর থাকে ১। অনুধাবনমূলক প্রশ্নের জন্য নম্বর থাকে ২। এক্ষেত্রে যদি কোনো ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন থাকে তবে উত্তরে ব্যাখ্যা লিখতে হবে।
প্রয়োগমূলক প্রশ্নে সাধারণত কোনো গাণিতিক সমস্যা সমাধান করতে বলা হয়। এ জন্য তোমাদের কী কী তথ্য দেওয়া আছে আর কী বের করতে হবে সেটা শনাক্ত করবে। এরপর কোন সূত্র দিয়ে এই সমস্যা সমাধান করতে হবে তা নির্ণয় করবে। তারপর তা সূত্র অনুযায়ী মান বসিয়ে সমাধানের ফলাফল নির্ণয় করবে।
তাহলে পুরো ৩ নম্বর পাবে। উচ্চতর দক্ষতা অংশে প্রশ্নানুযায়ী কোনো সমস্যার সমাধান করতে বললে সে বিষয়ে অথবা কোনো একটি বিষয়ে নিজস্ব মতামত বিশ্লেষণ করতে হবে। তাহলে পুরো ৪ নম্বর পাবে। তাই পুরো নম্বর পাওয়ার জন্য অবশ্যই বিষয়গুলো লক্ষ রেখে উত্তর লিখবে।
অনুধাবনমূলক প্রশ্নের উত্তর লিখতেও পাঠ্যবই অনুসরণ করতে হবে।
পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গাণিতিক সমস্যাগুলোর সমাধানের কৌশল রপ্ত করতে হবে।
উচ্চতর চিন্তনদক্ষতা অংশেও অনেক ক্ষেত্রে গাণিতিক সমস্যা থাকে। এ ক্ষেত্রে ‘গ’ অংশের গাণিতিক সমস্যার সঙ্গে পার্থক্য কিংবা সাদৃশ্য আছে কি না, তা প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়।
গাণিতিক সমস্যা সমাধানে সঠিক একক লিখতে হবে।
প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে চিত্র আঁকা জরুরি। চিত্র আঁকতে যাতে সময় বেশি ব্যয় না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখবে।
পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে সাধারণত প্রথম, ত্রয়োদশ ও চতুর্দশ অধ্যায় থেকে ১টি; দ্বিতীয় ও তৃতীয় অধ্যায় থেকে ১টি; চতুর্থ অধ্যায় থেকে ১টি; পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম অধ্যায় থেকে ২টি; অষ্টম ও নবম অধ্যায় থেকে ১টি এবং দশম, একাশ ও দ্বাদশ অধ্যায় থেকে ২টি সৃজনশীল প্রশ্ন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে দ্বাদশ অধ্যায়ের সাথে চতুর্থ অথবা দশম বা একাদশ বা ত্রয়োদশ অধ্যায় যুক্ত করেও প্রশ্ন আসতে পারে। তাই প্রস্তুতি নেওয়ার সময় সব অধ্যায়সহ প্রস্তুতি নেবে।
লেখক: প্রভাষক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, ঢাকা
কলি