যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের পররাষ্ট্র সম্পর্ক কমিটির চেয়ারম্যান বেন কার্ডিন বলেছেন, মিসর যদি নিজ দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন না ঘটায়, তবে সেখানে সামরিক সহায়তা ও অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করে দিবে যুক্তরাষ্ট্র।
শনিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে কার্ডিন এ হুমকি দেন।
তিনি বলেন, মিসরসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত সব দেশের সরকারের লাগাম টেনে ধরা জরুরি।
এর একদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভের বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক কমিটির প্রতিনিধি গ্রেগরি মিকস মানবাধিকারের মানদণ্ডে মিসরে সামরিক সহায়তা বন্ধের আহবান জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের বৈদেশিক সম্পর্ক কমিটির আগের চেয়ারম্যান ডেমোক্রেটিক সিনেটর বব মেনেনডেজের বিরুদ্ধে ২২ সেপ্টেম্বর অভিযোগ করা হয় যে, তিনি মিসরের সরকারকে সাহায্যে ও তার প্রভাব খাটানোর বিনিময়ে ঘুষ নিয়েছিলেন। তবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন।
ওয়াশিংটনে অবস্থিত মিসর দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে কার্ডিনের বিবৃতি নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
কার্ডিন বলেছেন, মিসরকে অবশ্যই রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে এবং মানবাধিকারের পক্ষের সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও গণমাধ্যমের প্রতি উদার হতে হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে জনবহুল দেশ মিসর। ১৯৭৯ সালে প্রতিবেশী ইসরায়েলের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করে। এরপর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র মিসরকে প্রচুর পরিমাণে সামরিক ও অন্যান্য সহায়তা দিয়ে আসছে।
এদিকে, মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসির অধীনে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে এমন উদ্বেগের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে বেশিরভাগ সহায়তা বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন সেপ্টেম্বর মাসে সাড়ে ২৩ কোটি মার্কিন ডলার সাহায্যের ওপর থেকে মানবাধিকর লঙ্ঘনের বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় সাড়ে ৮ কোটি মার্কিন ডলারের সহায়তা আটকে রেখেছে যেটি প্রতি বছর বরাদ্দ করা ১৩০ কোটি ডলার সহায়তার অংশ।