মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ক্ষমতাসীন ইব্রাহিম মোহাম্মদ সোলিহর বিরুদ্ধে জয়লাভ করেছেন মোহাম্মদ মুইজ্জু।
৪৫ বছর বয়সী মুইজ্জেু চীনপন্থি একটি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন; যেটি চীনা ঋণকে স্বাগত জানিয়েছিল। শেষবার ক্ষমতায় থাকার সময় তারা প্রতিপক্ষের ওপর দমনপীড়ন চালিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের এই জয়লাভকে মালদ্বীপের চীন ও ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মালদ্বীপের নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মুইজ্জু প্রায় ৫৪ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। তাতেই ইব্রাহিম সোলিহর পরাজয় নিশ্চিত হয়।
ইব্রাহিম মুইজ্জুকে অভিনন্দন জানিয়ে টুইট করেছেন এবং নির্বাচনে গণতন্ত্রের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত উপস্থাপনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
আগামী ১৭ নভেম্বর প্রেসিডেন্ট হিসেবে মুইজ্জুর অভিষেক হবে। সেই পর্যন্ত সোলিহ তত্ত্বাবধায়ক প্রেসিডেন্ট হিসেবে থাকবেন।
মুইজ্জু ৮ সেপ্টেম্বর প্রথম ধাপের নির্বাচনে ৪৬ শতাংশ ভোটে এগিয়েছিলেন। কম ভোটারের উপস্থিতি এবং মালদ্বীপের ডেমোক্রেটিক পার্টির মধ্যে বিভেদের কারণে সোলিহ পেয়েছিলেন ৩৯ শতাংশ ভোট।
দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে প্রায় দুই লাখ ৮২ হাজারের বেশি ভোটার ছিলেন যাদের ৮৫ শতাংশ ভোট দিয়েছেন। যা প্রথম ধাপের চেয়ে কিছুটা বেশি।
এদিকে ট্রান্সপারেন্সি মালদ্বীভস নামে একটি পর্যবেক্ষক দল নির্বাচনে কয়েকটি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে বলে উল্লেখ করেছে।
মুইজ্জু বর্তমানে রাজধানী মালের মেয়র। এর আগে তিনি আবাসিক মন্ত্রী ছিলেন এবং আগের সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড আবকাঠামো উদ্যোগের অন্যতম সমর্থক।
গত বছর চীনের সমাজতান্ত্রিক দলের কর্মীদের সঙ্গে এক বৈঠকে মুইজ্জু বলেন, তার দল ক্ষমতায় আসলে দুই দেশের মধ্যে একটি শক্তিশালী সম্পর্ক তৈরি করবে।
মুইজ্জুর এই জয়ের ফলে সাবেক প্রেসিডেন্ট ইয়ামিনের মুক্তির পথ সুগম হলো। ২০১৮ সালে দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগে তাকে ১১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ইয়ামিনের দাবি, তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।