আজারবাইজানের সামরিক বাহিনী গত সপ্তাহে নাগার্নো-কারাবাখে অভিযান চালানোর পর অঞ্চলটি থেকে এক লাখেরও বেশি আর্মেনীয় পালিয়ে গেছেন। আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র নাজেলি বাগদাসারিয়ান এ তথ্য জানিয়েছেন।
আর্মেনীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজারবাইজানের সেনাদের রোষানলে পড়ার ভয়েই বাসিন্দারা অঞ্চলটি ছেড়েছেন।
অঞ্চলটির এক লাখ ২০ হাজার বাসিন্দার মধ্যে আনুমানিক এক লাখ ৪১৭ জন আর্মেনিয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন নাজেলি।
এদিকে কারাবাখের সাবেক বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকর্তা আর্তাক বেগলারিয়ান জানিয়েছেন, তার অঞ্চলের সবশেষ দলটি ৩০ সেপ্টেম্বর আর্মেনিয়া পৌঁছেছে। এখনও সেখানে কয়েকশ আর্মেনীয় বাসিন্দা রয়ে গেছেন। যাদের বেশিরভাগই অঞ্চলটির কর্মকর্তা, জরুরি সেবা বিভাগের কর্মী, স্বেচ্ছাসেবক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর বলছে, পালিয়ে আসা এ শরণার্থীদের অনেকেই ক্ষুধার্ত ও ক্লান্ত। তাদের জরুরি সহায়তা দরকার।
আজারবাইজান কর্তৃপক্ষ বলেছে, তারা নাগার্নো-কারাবাখ অঞ্চলটিকে পুনরায় একত্রিত করতে চান এবং আর্মেনীয়সহ সব বাসিন্দাকে একই দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখতে চান। যদিও আর্মেনীয় একজন মুখপাত্র আজারবাইজান কর্তৃপক্ষের এই ঘোষণাকে স্রেফ মিথ্যা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
এর আগে আজারবাইজানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, আর্মেনীয় সেনা স্নাইপার এক আজারবাইজানি সেনাকে গুলি করে হত্যার জেরে এই অভিযান শুরু করে। যদিও আর্মেনীয় কর্তৃপক্ষ আজারবাইজানি সেনা হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
চলতি ঘটনার আগ পর্যন্ত তিন দশক ধরে অঞ্চলটি জাতিগতভাবে আর্মেনীয়রাই চালিয়ে আসছে এবং তারাই এতদিন সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিলেন। যদিও দক্ষিণ ককেশাসের এই পাহাড়ি অঞ্চলটি আন্তর্জাতিকভাবে আজারবাইজানের বলে স্বীকৃত।
গত সপ্তাহে আজারবাইজানের সেনারা অভিযান শুরু করলে ২০০ জন আর্মেনীয় ও বেশ কয়েকজন আজারবাইজানি সেনা নিহত হন। এ ছাড়া রাশিয়ার শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্যও নিহত হয়েছেন। তবে রুশ সেনাদের হতাহতের সংখ্যা এবং এর জন্য কোন পক্ষ দায়ী তা এখনও জানা যায়নি।