আধুনিক ইরানের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনীতিক ও ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনি। তিন দশকেরও বেশি সময় ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালনকালে হয়ে ওঠেন প্রজাতন্ত্রের নীতি-নির্ধারণের কেন্দ্রবিন্দু।
ভারতে বসে রাজনৈতিক মন্তব্য করা থেকে শেখ হাসিনাকে বিরত থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় নিজ সরকারি বাসভবন থেকে ভারতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন নোবেলজয়ী এ অর্থনীতিবিদ।
ড. ইউনূস বলেন, ভারতে বসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক মন্তব্য করা একটি ‘অবন্ধুত্বসুলভ’ আচরণ। তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের কাছে ঢাকা শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের আবেদন করার আগ পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে অস্বস্তি এড়াতে শেখ হাসিনাকে চুপ থাকতে হবে।’
ড. ইউনূস বলেন, ‘কেউই ভারতে তার অবস্থান নিয়ে সন্তুষ্ট না। কারণ আমরা তাকে ফিরিয়ে এনে বিচার করতে চাই। কিন্তু তিনি ভারতে অবস্থান করছেন এবং বিভিন্ন সময় নানা ধরনের কথা বলছেন, যা আসলে সমস্যা তৈরি করছে। তিনি যদি চুপ থাকতেন, আমরা হয়তো ভুলে যেতাম, মানুষ হয়তো ভুলে যেত, কারণ তিনি তার জগতে থাকতেন। কিন্তু ভারতে বসে তিনি কথা বলছেন এবং নির্দেশনা দিচ্ছেন। কেউই তা পছন্দ করছে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘সবাই এটি বোঝেন। আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে বলছি, তার চুপ থাকা উচিত। তার এসব কথাবার্তা ও নির্দেশনা আমাদের প্রতি অবন্ধুসুলভ আচরণ। তাকে সেখানে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে এবং তিনি সেখানে থেকে প্রচার চালাচ্ছেন। বিষয়টি এমন নয় যে সেখানে একটি স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে গেছেন তিনি। গণ-অভ্যুত্থান ও জনরোষের মুখে তিনি পালিয়েছেন।’
প্রসঙ্গত, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালান শেখ হাসিনা। তিনি ভারতে আশ্রয় নেন। বর্তমানে দিল্লির কাছে অজ্ঞাত স্থানে অবস্থান করছেন। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন অধ্যাপক ইউনূস।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার তাকে ফেরত চাওয়ার আগ পর্যন্ত যদি ভারত তাকে ধরে রাখতে চায়, শর্ত হবে যে তাকে চুপ থাকতে হবে।’
শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনা ও বিচার প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, ‘হ্যাঁ, তাকে ফেরত আনতে হবে, না হলে বাংলাদেশের জনগণ শান্তিতে থাকবেন না। যে ধরনের নিষ্ঠুরতা তিনি দেখিয়েছেন, তাতে এখানে প্রত্যেকের সামনে তার বিচার করা প্রয়োজন।’
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার অভিযোগ এবং এ ঘটনায় ভারতের উদ্বেগ প্রকাশ সম্পর্কে ড. ইউনূস বলেন, ‘এটি শুধুই একটি অজুহাত। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অবস্থাকে এভাবে বড় করে দেখানোর চেষ্টার বিষয়টি একটা অজুহাত।’
ভারত প্রসঙ্গেও কথা বলেন ড. ইউনূস। তিনি বলেন, ‘তবে দিল্লিকে আওয়ামী লীগ ছাড়া সব রাজনৈতিক দলকেই ইসলামপন্থি হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতা এবং শেখ হাসিনা ছাড়া দেশটি আফগানিস্তানে পরিণত হবে- এমন ধারণা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।’
পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয়।’ সূত্র: পিটিআই, ইকোনমিক টাইমস