আধুনিক ইরানের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনীতিক ও ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনি। তিন দশকেরও বেশি সময় ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালনকালে হয়ে ওঠেন প্রজাতন্ত্রের নীতি-নির্ধারণের কেন্দ্রবিন্দু।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে চলেছেন বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে তিনি শেখ হাসিনাকে ‘চুপ’ রাখতে বলেছিলেন। কিন্তু জবাবে মোদি বলেছেন, তিনি এটি পারবেন না। কারণ ভারতে সবাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে। এটি সবার জন্য উন্মুক্ত।
আল-জাজিরায় দেওয়া প্রধান উপদেষ্টার সাক্ষাৎকারটি রবিবার (২৭ এপ্রিল) প্রকাশ করা হয়েছে। সাক্ষাৎকারে আল-জাজিরার সাংবাদিক নিয়েভ বার্কার শেখ হাসিনাকে নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। তখন শেখ হাসিনার বিভিন্ন বক্তব্য ও বিবৃতি দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে।
ড. ইউনূস বলেন, ‘আমি সম্প্রতি ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বিমসটেক সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করি। সেখানে আমি তাকে অনুরোধ করি, যেহেতু শেখ হাসিনা এখন ভারতে অবস্থান করছেন, অন্তত যেন তিনি চুপ থাকেন। তার বক্তব্য আমাদের দেশের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে তুলছে।’
তবে মোদির জবাবে তিনি হতাশ হয়েছেন বলেও জানান ড. ইউনূস। মোদি তাকে বলেন, ‘ভারত একটি গণতান্ত্রিক দেশ। এখানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কে কী বলছে, তা সরকার নিয়ন্ত্রণ করে না। ফলে শেখ হাসিনা যদি কিছু বলেন, সেটি থামানো আমার পক্ষে সম্ভব নয়।’
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম ভারত এ বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্যের ফলে বাংলাদেশের মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ছে। তিনি যে অবস্থানে আছেন, সেখান থেকে বারবার নিজেকে বৈধ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দাবি করে যাচ্ছেন, যা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।’
এদিকে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত শেষে শিগগিরই শেখ হাসিনার বিচার শুরু হবে বলে জানিয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি আরও বলেন, সংস্কারের জন্য অনেকগুলো কমিশন গঠন করা হয়েছে। তারা তাদের সুপারিশ দিয়েছে। এখন আমাদের কাজ হলো, এই সুপারিশগুলোর মধ্যে কোনগুলো জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য তা দেখা। নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার সব থেকে সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা করবে।
আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কি না- এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এটা আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত। দলটি এখনো কোনো ঘোষণা দেয়নি। রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে তিনি বলেন, এটা নিশ্চিত করতে হবে যে রোহিঙ্গারা নিরাপদে সেখানে ফিরতে পারে।