ঢাকা ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক দুর্ঘটনায় শুঁটকি ব্যবসায়ীর মৃত্যু পাসপোর্ট নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়, ব্যাখ্যা দিলেন জয়সওয়াল পড়ে পাওয়া গল্পের ৩টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৯ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বাংলা ট্রাম্প-জাইদি বৈঠক: ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত একটি বাগানের বদলে জান্নাতের বাগান শিক্ষামন্ত্রীর ‘ফার্মের মুরগি’র প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ নরসিংদীতে শিশুর পা ভাঙার অভিযোগে চাচিসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামালা সেমিফাইনালের আগে বাংলাদেশকে কী বললেন স্কালোনি? চট্টগ্রামে সাদিয়াস কিচেনকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা কার্যবণ্টন বিধিমালা সংশোধনে মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে নির্দেশ ইরানে হামলার আশঙ্কায় ধর্মীয় স্থাপনায় সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে পরীক্ষাকেন্দ্র ম্যারাডোনার স্মৃতিতে অনুপ্রাণিত আর্জেন্টিনা ফাইনালে আর্জেন্টিনাকেই চায় স্পেন মোটরসাইকেলে স্কুলে যাওয়ার সময় ট্রাকের ধাক্কায় ২ শিক্ষার্থী আহত খুলনায় সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তদের গুলি দুবাই স্টাইলে নতুন স্বাদে দুটি আইসক্রিম আনল পোলার লোহাগাড়ায় প্রাইভেটকার থেকে ২ এলজি উদ্ধার, যুবদল নেতাসহ গ্রেপ্তার ৩ বরগুনায় প্রাথমিকের বৃত্তিতে আপন ৩ বোনের সাফল্য বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলার হুমকি ট্রাম্পের, মার্কিন অবরোধ পুনর্বহাল ও নতুন করে হামলা গুলিস্তানে সেলুনে এসি বিস্ফোরণে দগ্ধ ১০ আজ দুপুরে ছায়াহীন থাকবে পবিত্র কাবা শরিফ জয়ের পর ইয়ামালের পোস্ট ‘আলহামদুলিল্লাহ’ স্পেনকে হারানোর মতো যোগ্যতা আমাদের ছিল না: দিদিয়ের দেশম স্পেন বিশ্বের সেরা দল: দে লা ফুয়েন্তে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার দাবি চাঁদপুরে ডাকাতির ঘটনায় গৃহবধূ নিহত, আহত আরেক গৃহবধূ ইস্পাহানি কিন্ডারগার্টেন অ্যান্ড প্রাইমারি স্কুলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান স্ত্রী চলে যাওয়ায় হতাশা! সন্তানসহ বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা দুপুরের মধ্যে ৫ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু আজ

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ৪ বছর: বদলে যাওয়া জীবনের গল্প

প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম
আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ৪ বছর: বদলে যাওয়া জীবনের গল্প
যুদ্ধের ময়দানে সহযোদ্ধার মরদেহ নিয়ে যাচ্ছেন ইউক্রেনীয় সেনারা। ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চার পেরিয়ে পাঁচ বছরে গড়িয়েছে। নিহত হয়েছেন হাজার হাজার সাধারণ মানুষ। প্রাণ হারিয়েছেন কয়েক লাখ সেনাও। যুদ্ধের আগ্রাসনে ইউক্রেনের লাখো মানুষ ঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। অন্যদিকে রাশিয়ায় যুদ্ধের বিরোধিতা করা অনেকে গ্রেপ্তারও হয়েছেন। অনেকে আবার দেশ ছেড়েছেন নিপীড়ন এড়াতে।

আজ ২৪ ফেব্রুয়ারি। ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধের চার বছর পূর্তিতে চারজন মানুষের জীবনে যুদ্ধের গভীর প্রভাব তুলে ধরেছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

একটি পরিবার ধ্বংস

কিরার বয়স তখন মাত্র তিন মাস। ২৮ বছরের মা ভ্যালেরিয়া আর ৫৪ বছরের দাদি লিউদমিলা। ২০২২ সালের ২৩ এপ্রিল। ইউক্রেনের ওডেসা শহরে তাদের অ্যাপার্টমেন্টে আঘাত হানে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র। কয়েক সেকেন্ডেই শেষ হয়ে যায় তিন প্রজন্মের জীবন।

কিরার বাবা ইউরি তখন বাজারে ছিলেন। হামলার পরের ভিডিওতে দেখা যায়, স্ত্রীর ও শিশুকন্যার জিনিসপত্র খুঁজতে তিনি ধ্বংসস্তূপে ঘাঁটাঘাঁটি করছেন। পুরোপুরি দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন তিনি।

আইনজীবী ইউরি পরে পেশা বদলে কৃষ্ণসাগর উপকূলের শহরের একটি জনপ্রিয় ক্যাফেতে বেকার (রুটি কারিগর) হিসেবে কাজ শুরু করেন। এক বছর পর তিনি ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর। পূর্বাঞ্চলীয় শহর বাখমুতের কাছে যুদ্ধে প্রাণ হারান হন তিনিও। এটি ছিল দীর্ঘ ফ্রন্টলাইনের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী এলাকাগুলোর একটি।

এ পরিবারটির গল্প এখন ইউক্রেনীয় বেসামরিক মানুষের ভয়াবহ মূল্য চুকানোর প্রতীক হয়ে উঠেছে।

ভ্যালেরিয়ার ঘনিষ্ঠ বন্ধু আল্লা কোরোলিওভা ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এএফপিকে বলেন, ‘এমন শত শত গল্প আছে পুরো দেশে।’

তিনি বলেন, ‘আমার বন্ধু ছিল সূর্যের আলোর মত। ওডেসা, ইউক্রেনীয় সংস্কৃতি, অপেরা-সব ভালোবাসত। তার হাসি ছিল অসাধারণ। তাকে খুব মনে পড়ে।’

মোবাইলে কিরার একটি ছবিও দেখান তিনি। আক্ষেপ নিয়ে বলেন, ‘শিশুটির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সময়ই পেলাম না।’

আবার লড়াইয়ে ফিরতে প্রস্তুত

ভলোদিমিরের ৩২তম জন্মদিনেই রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু করে। চার বছর পরও তিনি সেনাবাহিনীতে ফিরতে অস্থির। যদিও ড্রোন হামলায় হারিয়েছেন এক হাত ও এক পা।

তার ডাকনাম ‘আর্খিপ’। ২০২৪ সালে রাশিয়ার এফপিভি ড্রোন তার ইউনিটের অবস্থানের ওপর আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

এর কয়েক মাস আগে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ অঞ্চলে তার সঙ্গে প্রথম কথা হয় এএফপি প্রতিনিধির। তখন তিনি জানান, ভালো পাইলট হলে ড্রোন ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রেই লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছায়।

এ বছরের জানুয়ারিতে আবারও তিনি এএফপি সাংবাদিকের মুখোমুখি হন। তখন তিনি চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের অভিজ্ঞতাসহ বিভিন্ন ঘটনার কথা বলেন। আবার যুদ্ধে যুক্ত হওয়ার আকাঙ্ক্ষার কথাও জানান।

যুদ্ধে এক পা হারানো আর্খিপ। ছবি: সংগৃহীত

আর্খিপ বলেন, ‘আমি শুয়ে ছিলাম। মাথা তুলে যখন পায়ের দিকে তাকালাম, দেখি লোকটা... আমার পা কেটে ফেলছে।’

এক মাসে তার শরীরে মোট ২১টি অস্ত্রোপচার হয়। তিনি বলেন, ‘প্রায় প্রতিদিন অস্ত্রোপচার হতো। শুধু শনিবার ছাড়া। কারণ অনেক চিকিৎসকের সেদিন ছুটি থাকে।’

তার পরনে সামরিক পোশাক নেই এখন। কালো ট্র্যাকস্যুট পরা; কৃত্রিম অঙ্গ লাগানো। পাভলোগ্রাদ শহরের একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট চলাকালে এসব কথা বলেন তিনি। আহত হওয়ার আগে তিনি সেখানে খেলতেন।

পুনরায় সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার লক্ষ্য স্থির করেছেন আর্খিপ। গত ১৮ মাস ধরে নিচ্ছেন চিকিৎসা ও পুনর্বাসন।

তিনি বলেন, ‘শুরু থেকেই পরিকল্পনা ছিল, সহযোদ্ধাদের কাছে ফিরব।’

তবে এবার পেছনের সারির দায়িত্বে থাকতে চান। তিনি বলেন, ‘কয়েক বছর আগে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতাম, ১৯৯১ সালের সীমান্তে ফিরতে পারব।’ সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর যখন ক্রিমিয়া ও পূর্বাঞ্চলীয় দোনবাস পুরোপুরি কিয়েভের নিয়ন্ত্রণে ছিল, সে সময়ের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

‘কিন্তু এখন সেনাবাহিনীতে থেকে সবকিছু সরাসরি দেখে মনে হয়, ১৯৯১ সালের সীমান্তের মূল্য খুব বেশি হবে।’

যুদ্ধপন্থী কৌতুকশিল্পীর রুপান্তর

রাশিয়ার ৫৯ বছর বয়সি কৌতুকশিল্পী আন্দ্রেই বোচারভ। নব্বইয়ের দশকের একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে অদ্ভুত চরিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পান। ‘মায়ের আদরের ছেলে’ ধরনের সরল টাইপ চরিত্র ছিল তার।

দীর্ঘদিন আড়ালে ছিলেন। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর নিজেকে রূপান্তর করেন যুদ্ধপন্থী কণ্ঠে। পশ্চিমাদের ‘অধঃপতন’ নিয়ে সমালোচনা শুরু করে নিজের স্থবির ক্যারিয়ারে নতুন গতি নিয়ে আসেন।

‘বোচারিক’ নামে পরিচিত সাইবেরিয়ার এই শিল্পী রুশ সংস্কৃতির এক সংক্ষিপ্ত সোনালি সময়ের প্রতিনিধি ছিলেন। ‘৩৩ স্কয়ার মিটার’ নামের জনপ্রিয় ধারাবাহিকে অভিনয় করেছিলেন তিনি। সোভিয়েত ইউনিয়ন পতনের পরবর্তী সময়ে একটি ঘিঞ্জি অ্যাপার্টমেন্টের ছোট ঘরে পারিবারিক জীবন কেমন ছিল, তা-ই হাস্যকরভাবে ফুটিয়ে তোলা হতো সেই ধারাবাহিকটিতে।

তার নিষ্পাপ হাসি ও সহজ অভিব্যক্তি লাখো দর্শককে আকৃষ্ট করত।

কিন্তু ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারির পর তিনি কট্টর পশ্চিমবিরোধী হয়ে ওঠেন। পরিচিতি পান ক্রেমলিনপন্থী হিসেবে।

পডকাস্ট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি সবসময় ‘মাতৃভূমি ও শেকড়’-এর প্রতি অনুগত থাকার কথা বলেন। তিনি যেমন রুশ অভিযানের বিরোধিতাকারীদের নিন্দা জানাচ্ছেন, তেমনি যারা প্রতিবাদ হিসেবে কিংবা যুদ্ধে যাওয়ার ভয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন, সেসব রাশিয়ানদেরও তীব্র ভাষায় বিদ্রুপ করছেন।

রাশিয়ার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনেকের মতই যুদ্ধের আগে ইউরোপ ও পশ্চিমে নিয়মিত যাতায়াত ছিল তার।

এখন তিনি পশ্চিমাদের ‘রাশিয়াবিরোধী’ এজেন্ডা ও অতিরিক্ত উদারনীতির সমালোচনা করেন। ক্রেমলিনের বক্তব্যের প্রতিধ্বনি শোনা যায় তার কথায়। টেলিগ্রাম ও রাশিয়ার সামাজিক মাধ্যম ভিকে-তে তার অনুসারী প্রায় ৪ লাখ।

রাষ্ট্রীয় বেতার স্পুটনিক-এ সাপ্তাহিক অনুষ্ঠানও সঞ্চালনা করেন তিনি।

যুদ্ধের ময়দানে পা হারিয়ে কৃত্তিম পায়ে ভর করছেন রুশ সেনারা। ছবি: সংগৃহীত

সাম্প্রতিক এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘আমরা এক নম্বর। কারণ আমাদের আত্মা আছে, শুধু টাকা নয়। সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেওয়া আমাদের ছেলেরা প্রতিদিন তা প্রমাণ করছে।’

তিনি প্রায়ই বলেন, ‘রাশিয়া সবসময় জেতে। আমরা রাশিয়ান। আর বোরশ্চ আমাদের সঙ্গে আছে!’ বোরশচ একধরনের উজ্জ্বল লাল বিটের স্যুপ- যা ইউক্রেন ও রাশিয়া উভয়েই নিজেদের জাতীয় খাবার বলে দাবি করে- সেটির প্রতিই ইঙ্গিত করেন তিনি।

নীরব বিরোধী

রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা শুরুর দিনই মস্কোতে যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভে যান ভারভারা। পরে আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এক আবেদনে স্বাক্ষর করায় চাকরি হারান।

তিনি এএফপিকে বলেন, ‘গ্রেপ্তার হতে পারি- এ কথা প্রিয়জনদের জানিয়েছিলাম। অতিরিক্ত চাবিও রেখে গিয়েছি। ভেবেছি, আমি না থাকলে আমার বিড়াল না খেয়ে মরবে।’

নিরাপত্তার কারণে নাম পরিবর্তন করে বলা হয়েছে তার গল্প। তিনি বড় আকারের বিক্ষোভ দমন অভিযানে ধরা পড়া থেকে রক্ষা পেয়েছেন। পরবর্তী দিনগুলোতে রাশিয়া কঠোর সামরিক সেন্সর আইন পাস করে। এতে তার অনেক বন্ধু দেশ ছেড়ে যান।

তিনি বলেন, ‘আমারও মনে হয়েছিল, হয়তো আমাকে চলে যেতে হবে। কিন্তু কীভাবে, কোথায়, কী দিয়ে বাঁচব- বুঝতে পারিনি।’

মুখোশধারী পুলিশ যেকোনো সময় দরজায় কড়া নাড়তে পারে- সারাক্ষণ এমন একটি আতঙ্কে থাকতেন। তবে শেষ পর্যন্ত তেমন কিছুই ঘটেনি; বরং একটি অলাভজনক সংস্থায় নতুন চাকরি পেয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, নিজের দেশের চালিয়ে যাওয়া এই যুদ্ধ নিয়ে অপরাধবোধে ভুগতেন তিনি। এসবকিছু ঝেড়ে ফেলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে এবং একটু সুখের দেখা পেতে তার দীর্ঘ দুই বছর সময় লেগেছে।

আগের স্ত্রীর একটি সন্তান রয়েছে-এমন এক পুরুষকে বিয়ে করেছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমি সন্তানের দায়িত্ব নিতে চাই। কিন্তু নিজের এ ধরনের ঝুঁকি নেওয়ার সামর্থ্য আর নেই।’

রাশিয়ায় এখনও থাকা অধিকাংশ যুদ্ধবিরোধী মানুষের কাছে নীরব থাকাই কারাগার এড়ানোর একমাত্র পথ।

তবুও যুদ্ধ তার জীবনের সবখানে প্রভাব ফেলেছে। এমনকি বাবা-মেয়ের সম্পর্কেও। তার বাবা রুশ নিরাপত্তা বাহিনীতে কাজ করেন। ইউক্রেনে যুদ্ধ করেছেন। নিয়মিত আর্থিক সহায়তাও দিতে চান।

তিনি বলেন, ‘তিনি আমার বাবা। আমি তাকে ভালোবাসি। কিন্তু এই টাকা নেওয়া আমার পক্ষে অসম্ভব।’

রাশিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশ হয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে শাসনব্যবস্থা বদলানো সম্ভব বলে মনে করি না। নিচ থেকে যেকোনো প্রতিরোধ দমন করা হবে। আমি শুধু আশা করি, আমরা অন্তত শারীরিকভাবে বেঁচে থাকতে পারব।’

 

ট্রাম্প-জাইদি বৈঠক: ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১২:১৬ পিএম
আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১২:২৬ পিএম
ট্রাম্প-জাইদি বৈঠক: ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত
ইরাকের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাকের সম্পর্ক এবার বড় অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে রূপ নিয়েছে। হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরাকের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদির মধ্যকার এক ঐতিহাসিক বৈঠকে এ প্রতিশ্রুতি উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ওভাল অফিসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উভয় নেতাই দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার এবং ইরাকের তেল উৎপাদন বাড়াতে চুক্তি করেন। এ ছাড়াও আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাকে মোতায়েন প্রায় দুই হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।

বৈঠক শেষে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘তেল এবং অন্যান্য কারণে ইরাকের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। মূলত তেলের কারণেই আমরা অনেক চুক্তি করতে যাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ চুক্তির ফলে আমরা উভয় দেশের জন্য প্রচুর কর্মসংস্থান তৈরি করব এবং প্রচুর তেল উত্তোলন করব।’

এ দিকে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি বলেন, ‘এটি মূলত একটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের সূচনা। মার্কিন-ইরাকি সম্পর্ক এখন সামরিক পর্যায় থেকে পুরোপুরি অর্থনৈতিক পর্যায়ে পরিবর্তিত হচ্ছে।’

থিওটোনিয়াস/

ইরানে হামলার আশঙ্কায় ধর্মীয় স্থাপনায় সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে পরীক্ষাকেন্দ্র

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১১:১৬ এএম
আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১১:২৮ এএম
ইরানে হামলার আশঙ্কায় ধর্মীয় স্থাপনায় সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে পরীক্ষাকেন্দ্র
ছবি: এআই

সম্ভাব্য সামরিক হামলার আশঙ্কায় সংবেদনশীল ও সামরিক স্থাপনার কাছাকাছি থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষাকেন্দ্রগুলো সরিয়ে ধর্মীয় স্থাপনায় স্থানান্তর করছে ইরান। 

বুধবার (১৫ জুলাই) ইরানের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ফার্স নিউজ অ্যাজেন্সি।

ইরানের শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার পরীক্ষাকেন্দ্রগুলো সরিয়ে তুলনামূলক নিরাপদ ও বড় পরিসরের হলে এবং বিভিন্ন ধর্মীয় স্থাপনায় স্থানান্তর করা হচ্ছে।

সম্প্রতি ওই অঞ্চলে বাড়তে থাকা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং আকস্মিক হামলার ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তবে ঠিক কতটি কেন্দ্র স্থানান্তর করা হয়েছে বা কোন কোন নির্দিষ্ট অঞ্চল এর আওতায় পড়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, কেন্দ্র পরিবর্তিত হলেও পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হবে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

থিওটোনিয়াস/

বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলার হুমকি ট্রাম্পের, মার্কিন অবরোধ পুনর্বহাল ও নতুন করে হামলা

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৪১ এএম
বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলার হুমকি ট্রাম্পের, মার্কিন অবরোধ পুনর্বহাল ও নতুন করে হামলা
ছবি: সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সামরিক উত্তেজনা এক নতুন ও মারাত্মক মোড় নিয়েছে। রয়টার্সের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে বড় ধরনের হামলার সরাসরি হুমকি দিয়েছেন।

একই সাথে ওয়াশিংটন ইরানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অবরোধ পুনর্বহাল করেছে এবং নতুন করে বেশ কয়েকটি সামরিক অভিযান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, তেহরান যদি তাদের বৈরি আচরণ বন্ধ না করে, তবে ইরানের প্রধান প্রধান বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এই হুমকি মধ্যপ্রাচ্যে একটি সম্পূর্ণ ব্ল্যাকআউট বা বিদ্যুৎ বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক চাপ উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর সর্বাত্মক অবরোধ বা ব্লকেড পুনরায় জারি করেছে। এর ফলে ইরানের জ্বালানি তেল রপ্তানি এবং সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।

মার্কিন বাহিনী ইতোমধ্যে নতুন করে ইরানের বেশ কয়েকটি কৌশলগত অবস্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা শুরু করেছে। এই পদক্ষেপের ফলে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ বা সংঘাতের মাত্রা তীব্রতর হয়েছে।

এই নতুন উত্তেজনার ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আচমকা বেড়ে গেছে। জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বৈশ্বিক শক্তিগুলো এই যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দুই পক্ষকেই সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছে, তবে ওয়াশিংটন ও তেহরান কেউই তাদের অবস্থান থেকে পিছু হটতে রাজি নয়।

আজহার/

জনমত জরিপে নেতানিয়াহুর চেয়ে এগিয়ে আইজেনকট

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩০ এএম
জনমত জরিপে নেতানিয়াহুর চেয়ে এগিয়ে আইজেনকট
ছবি: খবরের কাগজ

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়ার ইঙ্গিত দিয়েছে নতুন এক জনমত জরিপ। সোমবার (১৩ জুলাই) প্রকাশিত চ্যানেল ১২ এর জরিপে দেখা গেছে, দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান (আইডিএফ) গাদি আইজেনকটকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান ৪৩ শতাংশ ভোটার, যেখানে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর পক্ষে মত দিয়েছেন ৩৪ শতাংশ। ৫০৯ জন অংশগ্রহণকারীর ওপর চ্যানেল ১২ এর জন্য জরিপকারী প্রতিষ্ঠান মিডগাম জরিপটি পরিচালনা করে। আগামী ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় পার্লামেন্ট (নেসেট) নির্বাচনকে সামনে রেখে এই জরিপ চালানো হয়।

জরিপ অনুযায়ী, নেসেটে ১২০ আসনের মধ্যে নেতানিয়াহুবিরোধী জোট পেতে পারে ৫৯টি আসন, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের চেয়ে দুই আসন কম। নেতানিয়াহুপন্থি জোট পেতে পারে ৫১টি আসন। বাকি ১০টি আসন পেতে পারে আরব দলগুলো, যারা সাধারণত সরকারি জোটে থাকে না।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তা কমার পাশাপাশি আইজেনকটের বিরোধী শিবিরের প্রধান মুখ হিসেবে অবস্থান আরও শক্ত হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। আরও কয়েকটি সাম্প্রতিক জরিপেও দেখা গেছে, এখনই নির্বাচন হলে আইজেনকটের দল সবচেয়ে বেশি আসন পেতে পারে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটকে নিয়ে করা পৃথক এক মুখোমুখি জরিপে নেতানিয়াহুর পক্ষে ৩৭ শতাংশ এবং বেনেটের পক্ষে ৩৫ শতাংশ ভোটার মত দেন।

জরিপে দেখা যায়, দলগুলোর মধ্যে আইজেনকটের দল ইয়াশার সবচেয়ে বেশি ২৩টি আসন পেতে পারে । নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি পেতে পারে ২২টি আসন এবং বেনেটের মধ্য-ডানপন্থি দল টুগেদার পেতে পারে ১৬টি আসন। এ ছাড়া নেতানিয়াহুবিরোধী ডেমোক্র্যাটস ও ইসরায়েল বেইতেনু-উভয় দলই পেতে পারে ১০টি করে আসন।

নেতানিয়াহুপন্থি শিবিরে শাস, ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম এবং কট্টর ডানপন্থি ওতজমা ইয়েহুদিত–প্রতিটি দল পেতে পারে ৮টি করে আসন। আর রিলিজিয়াস জায়োনিজম পেতে পারে ৫টি আসন।

আরব দল হাদাশ-তাআল ও রা’আম–উভয় দলই পেতে পারে ৫টি করে আসন। এ ছাড়া কয়েকটি ছোট মধ্য-ডানপন্থি দল নেসেটে যাওয়ার জন্য ন্যূনতম ভোট পাবে না বলেও জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে।

জরিপে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ভোটারদের রাজনৈতিক অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে কি না, তাও জানতে চাওয়া হয়। এতে ৩৮ শতাংশ উত্তরদাতা জানান, ওই ঘটনার পর তারা আরও ডানপন্থি হয়েছেন। ৪৯ শতাংশ বলেন, তাদের রাজনৈতিক অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। আর ৭ শতাংশ জানান, তারা বামপন্থার দিকে ঝুঁকেছেন।

নেতানিয়াহু সরকার হেরেদি (অতি রক্ষণশীল ইহুদি) দলগুলোর সঙ্গে যে সমঝোতা করেছে, সে বিষয়েও জরিপে প্রশ্ন রাখা হয়। সমঝোতা অনুযায়ী, তোরাহ অধ্যয়নকে ‘মৌলিক মূল্যবোধ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, সামরিক খসড়া এড়ানো ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার স্থগিত রাখা এবং এর বিনিময়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের ক্ষমতা কমানোসহ কয়েকটি বিতর্কিত আইন পাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ৬২ শতাংশ উত্তরদাতা সমঝোতার বিরোধিতা করেছেন। ২২ শতাংশ সমর্থন জানিয়েছেন এবং বাকিরা কোনো মত দেননি। সরকারপন্থি ভোটারদের মধ্যে ১৮ শতাংশ এই সমঝোতার বিরোধিতা করলেও বিরোধী শিবিরের ভোটারদের মধ্যে এ হার ৯৫ শতাংশ। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি আইআরজিসি কমান্ডারের

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:১১ এএম
ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি আইআরজিসি কমান্ডারের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সাবেক এক জ্যেষ্ঠ কমান্ডার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি হত্যার হুমকি দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, ‘প্রয়োজন হলে হোয়াইট হাউসের ভেতরেও ট্রাম্পকে লক্ষ্যবস্তু করতে সক্ষম ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান।’

ইরানের সংবাদমাধ্যম ফারারুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির সাবেক কমান্ডার হোসেইন কানানি মোগাদ্দাম বলেন, ‘যদি লক্ষ্য হয় ট্রাম্পকে হত্যা করা, তাহলে ইসলামি প্রজাতন্ত্র খুব সহজেই হোয়াইট হাউসের ভেতরে তা করতে পারে। সেই সক্ষমতা আমাদের রয়েছে।’

এ ক্ষেত্রে তিনি কোনো প্রমাণ বা নির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেননি।

একই সাক্ষাৎকারে তেহরান-ওয়াশিংটন সংলাপ নিয়েও মন্তব্য করেন কানানি মোগাদ্দাম। তিনি বলেন, ইরানের দৃষ্টিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনা কোনো শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য নয়।

তিনি বলেন, ‘আমরা আমেরিকানদের সঙ্গে শান্তির জন্য আলোচনা করছি না। আমরা উত্তেজনা কমানোর জন্য আলোচনা করছি।’

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার উদ্দেশ্য হলো ইরানের দাবি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা এবং ওয়াশিংটনের আনা অভিযোগগুলোর জবাব দেওয়া।

কানানি মোগাদ্দাম বলেন, ‘ট্রাম্প ও তার অপরাধী সহযোগীদের সঙ্গে আমরা শান্তির জন্য আলোচনা করছি না। আলোচনায় আমরা শুধু আমাদের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং যুক্তরাষ্ট্রের আনা অভিযোগের জবাব দিতে চাই। প্রতিশোধ ও পাল্টা জবাবের বিষয়টি জোরালোভাবে আমাদের বিবেচনায় রয়েছে।’ সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর