নওগাঁয় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ের (র্যাব) হেফাজতে ভূমি অফিসের সহকারী সুলতানা জেসমিনের মৃত্যুতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি যে প্রতিবেদন দিয়েছে, তাতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। হাইকোর্ট বলেছেন, প্রতিবেদনটি অস্পষ্ট। প্রতিবেদনে সুলতানা জেসমিনকে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি। তাকে গ্রেপ্তারের পর আত্মীয়স্বজনকে জানানো হয়েছিল কি না, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। এ কারণে এ প্রতিবেদনে আদালত সন্তুষ্ট নয়।
রবিবার (১৫ অক্টোবর) প্রতিবেদনের ওপর শুনানিতে হাইকোর্টের বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলামের বেঞ্চ অসন্তোষ প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে প্রতিবেদনে অস্পষ্টতার কারণ জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়। রুল শুনানির জন্য আগামী ২৯ নভেম্বর দিন ধার্য করেন আদালত।
প্রতিবেদনের পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস। রিটের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মনোজ কুমার ভৌমিক।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার শাখার সচিবের নেতৃত্বে গঠিত আট সদস্যের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটির দেওয়া ৩০২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন গত ১৪ আগস্ট হাইকোর্টে দাখিল করা হয়। সুলতানা জেসমিনের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে উচ্চ পর্যায়ের কমিটিকে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চেয়ে গত ১৩ জুন আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।
গত ২২ মার্চ সকাল সাড়ে ১০টায় নওগাঁ শহরের নওজোয়ান মাঠের সামনে থেকে সুলতানা জেসমিনকে আটক করে র্যাব। র্যাবের হেফাজতে থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে তাকে নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ২৪ মার্চ সকালে রামেক হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
এ ঘটনায় একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারকের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনা চেয়ে জনস্বার্থে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনোজ কুমার ভৌমিক। এতে স্বরাষ্ট্র সচিব, র্যাবের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়। রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ এপ্রিল এক আদেশে ঘটনা তদন্তে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়। কমিটিতে জেলা জজ পদ মর্যাদার একজন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা এবং চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে রাখতে বলা হয়। তদন্ত সম্পন্ন করে কমিটিকে ৬০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দাখিল করতে বলা হয়। একই সঙ্গে ওই ঘটনায় জড়িত র্যাব সদস্যদের দায়িত্ব থেকে আপাতত সরিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া মামলা ছাড়াই সুলতানা জেসমিনকে তুলে নেওয়া ও গ্রেপ্তার কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।