আগাম জামিনের বিষয়ে বিদ্যমান নীতিমালা পুরোপুরি অনুসরণ না করা দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট নিপুণ রায়ের আগাম জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানিতে এ মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের একটি বেঞ্চ। শুনানি শেষে নিপুণ রায়কে দেওয়া হাইকোর্টের আগাম জামিন বহাল রাখেন সর্বোচ্চ আদালত।
শুনানিতে আপিল বিভাগের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম মামলার নথি দেখে নিপুণ রায়ের আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, ‘জামিনযোগ্য ধারায় যদি হাইকোর্টে জামিন চান, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট থাকার তো প্রয়োজন নেই। এসব মামলায় তো ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট জামিন দিতে পারেন। আপনাদের মতো সিনিয়র আইনজীবীরা যখন এসব মামলা নিয়ে হাইকোর্টে যান, তখন হাইকোর্টও এসব মামলা নিয়ে মজা করে। এটা খুব দুঃখজনক। হাইকোর্টের আগাম জামিন নিয়ে আপিল বিভাগের গাইডলাইন সঠিকভাবে অনুসরণ করছেন না।’
নিপুণ রায় সম্পর্কে আদালত বলেন, ‘তাকে তো লাঠি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এখন তো ফেসবুকের যুগ। বীরত্ব দেখিয়ে সেটা আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।’ এ সময় নিপুণের আইনজীবীরা বলেন, নিপুণের লাঠি হাতের ছবি অনেক আগের।
নিপুণের আইনজীবী ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল বলেন, ‘প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলার ঘটনা নিন্দনীয়। এতে যে বা যারাই জড়িত, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। তবে নিপুণ রায়ের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে হয়রানির জন্য তাকে মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।
শুনানির একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেন, ‘প্রধান বিচারপতিসহ বিচারকদের নিয়ে ক্রমাগত বিষোদ্গার করা হচ্ছে, যা নিয়ে একপক্ষ নিন্দা জানাচ্ছে, আরেক পক্ষ ষড়যন্ত্র খুঁজছে। বিএনপির আইনজীবীরা যদি আদালত ও বিচারপতি নিয়ে বক্তব্যে সতর্ক না হন, তাহলে তো অন্যরাও একই পথ অনুসরণ করবেন।
বিচারপতিদের ও আদালতের সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব সব আইনজীবীর। সম্মিলিত আইনজীবী সমাজকে আদালত ও বিচারপতিদের মর্যাদা রক্ষার জন্য ভূমিকা রাখতে হবে।’
প্রসঙ্গত, প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলাসহ নাশকতার ৮ মামলায় ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরীকে গত ৪ ডিসেম্বর আগাম জামিন দেন হাইকোর্ট। এরপর চার মামলায় জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।