কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি ও পদোন্নতি-বাণিজ্য এবং প্লট-ফ্ল্যাট বরাদ্দে ঘুষ-দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে কিছুদিন পরপর রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযান চালালেও থেমে নেই তাদের অনিয়ম-দুর্নীতি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এ ধরনের অপকর্ম বেড়েছে। জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের সদস্য (অর্থ ও প্রশাসন) কাজী আতিয়ুর রহমান ও পরিচালক আলমগীর হুছাইনসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে গতকাল শনিবারও একটি লিখিত অভিযোগ দুদকে দাখিল করা হয়েছে। দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা খবরের কাগজকে জানিয়েছেন, এ বিষয়ে শিগগিরই ফের অভিযান চালানো হবে।
অভিযোগে বলা হয়, কাজী আতিয়ুর রহমান তার নিজ জেলায় কুষ্টিয়া হাউজিং এস্টেট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ-বাণিজ্য করছেন। ঘুষের বিনিময়ে নিজের পছন্দের ব্যক্তিদের প্লট পাইয়ে দিচ্ছেন। এসব কাজে তার অন্যতম সহযোগী পরিচালক আলমগীর হুছাইন। তিনি যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি পেয়েও উচ্চ তদবিরের মাধ্যমে গৃহায়ণের পরিচালক হিসেবেই দায়িত্ব পালন করছেন।
বিগত সরকারের দোসরদের ঢাকা থেকে বিভিন্ন জেলায় বদলির ভয় দেখিয়ে জনপ্রতি ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা করে ঘুষ নিয়েছেন। এভাবে তারা বিগত সরকারের দোসরদের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
একইভাবে গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা শাখার উপপরিচালক-১-কে কর্তৃপক্ষ বদলি করলেও ঘুষের বিনিময়ে তাকে রিলিজ করা হয়নি। সম্প্রতি গ্রেডেশন লিস্টের জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে কয়েকজন উপসহকারী প্রকৌশলীকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্লট-ফ্ল্যাট বরাদ্দে ঘুষ-দুর্নীতি এখন একটি নিয়মিত ব্যাপার।
জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে সর্বশেষ অভিযান চালানো হয় চলতি মে মাসের ৮ তারিখ। দুদকের সহকারী পরিচালক আল-আমিনের নেতৃত্বে একটি এনফোর্সমেন্ট টিম এই অভিযান পরিচালনা করে। এর আগে একই ধরনের অভিযোগে গত ১ জানুয়ারি অভিযান পরিচালিত হয়। এসব অভিযানে পাওয়া তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে।