ঢাকা ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
ইউল্যাবে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অস্ট্রেলিয়ার নতুন ভরসা অধিনায়ক হ্যারি সাউটার রোনালদো–মদ্রিচ নয়, মিডফিল্ডের লড়াইয়েই চোখ ক্রোয়েশিয়া কোচের মৃত্যু দাঁড়িয়ে ছিল গুহার মুখে সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের লম্বা ছুটির সুযোগ ২২ আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে উত্তরা ইউনিভার্সিটির সমঝোতা আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরানের পথে স্পিকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে জটিলতা কাটল নরসিংদীতে পুলিশের কাছ থেকে এক ডজন মামলার আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির ডিজিটাল নজরদারিতে আসছে ‘ট্রি মনিটরিং অ্যাপ’ ঢাকাসহ দেশের ১৬ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির আভাস আদাবরে ‘বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে দ্বন্দ্বে’ বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা লক্ষ্মীপুরের ২ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনসার নিয়োগ পঞ্চগড়ে ইউএনওর বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করা নারীর বিরুদ্ধে মামলা পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়ার ম্যাচকে ‘দ্বিতীয় বিশ্বকাপের’ মতো দেখবেন মার্টিনেজ ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে রমরমা বাণিজ্য মুখোমুখি রোনালদো-মদ্রিচ: বিদায় নেবেন কে? মেসির কাঁধে এমবাপ্পের গরম নিশ্বাস স্পেনের হয়ে পুরো ম্যাচ খেলার মতো ফিট ইয়ামাল: দে লা ফুয়েন্তে বেরোবিতে জুলাই শহিদদের স্মরণে ছাত্রদলের মোমবাতি প্রজ্বালন দোহায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক: তেহরানের দুই টার্গেট এনসিপি নেতা ভূমি অফিসের দালালকে ছাড়াতে ম্যাজিস্ট্রেটকে ফোন, অডিও ভাইরাল সিলেটে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ: ১৪ বছর পর দুজনের মৃত্যুদণ্ড ক্রিপ্টো থেকেই বছরে ট্রাম্পের আয় ১৪০ কোটি ডলার বিলুপ্তির পথে ‘জীবন্ত জীবাশ্ম’ গিটারফিশ ফ্রি কিকে গোল, কে এই মার্কিন গোলস্কোরার? বাজেট পাস: চূড়ান্ত বাজেটে কী বদলাল, কী বদলাল না? নকশাদার উল্কি গান্ধিপোকা মঙ্গোলিয়ার ‘নাদাম ফেস্টিভ্যালে’ সিলেটের রাজীব চৌধুরী আগামীতেও  পথ দেখাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

উমরা নিয়ে যা না জানলেই নয়

প্রকাশ: ০৪ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৯:৪৪ এএম
আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:৪১ এএম
উমরা নিয়ে যা না জানলেই নয়
ইহরামের শুভ্র পোশাকে আল্লাহর মেহমানদের ছুটে চলা। ইন্টারনেট

উমরা আরবি শব্দ। অর্থ হলো ভ্রমণ করা, আবাদ করা ও ইচ্ছা করা। ইসলামি পরিভাষায় উমরা বলা হয়—নিয়ত করে ইহরাম বেঁধে আল্লাহর ঘর (কাবা শরিফ) সাতবার তাওয়াফ (চারপাশে চক্কর দেওয়া) করা, সাফা-মারওয়া পাহাড়ের মাঝখানে সাতবার সাঈ করা এবং মাথা মুণ্ডানো কিংবা চুল ছোট করা।’ (আল-বাহরুল আমিক, ৪/২০০৯)

 

ফজিলত: উমরা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে মানুষকে উমরা করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি এরশাদ করেন, ‘তোমরা আল্লাহর জন্য হজ ও উমরা পালন করো।’ (সুরা বাকারা, ১৯৬)

 

হাদিসে উমরার অনেক ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। তার কয়েকটি হলো—

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত; তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা একাধারে হজ ও উমরা করতে থাকো। কারণ, হজ-উমরা ঠিক সেভাবে দারিদ্র্য বিমোচন ও গুনাহ দূর করে দেয়; যেভাবে হাঁপরের আগুন লোহা, স্বর্ণ ও রুপা থেকে ময়লা দূর করে দেয়।’ (তিরমিজি, ৮১০)

 

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি উমরার উদ্দেশ্যে বের হয়ে মারা যাবে, তার জন্য কিয়ামত পর্যন্ত উমরার সওয়াব লেখা হবে।’ (তারগিব, ১১১৪)

 

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘উমরা করার দ্বারা এক উমরা থেকে পরবর্তী উমরা পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ (সগিরা) মাফ হয়ে যায়।’ (বুখারি, ১৮৬৩, ১৭৭৩)  

 

নিয়ত শুদ্ধকরণ, তওফিক লাভ এবং সফর সহজ ও কবুল হওয়ার দোয়া করা: উমরা সফরের শুরুতে নিয়ত বিশুদ্ধকরণ, তওফিক লাভ করা এবং সফর সহজ ও কবুল হওয়ার জন্য দোয়া করাসহ মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। প্রাথমিক কথাগুলো তুলে ধরা হলো—

 

নিয়ত: ইসলামের দৃষ্টিতে সব আমল ও আমলের প্রতিদান নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সব আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।’ (বুখারি, ১) 

 

তওফিক লাভের দোয়া: আল্লাহর কাছে উমরা পালনের তওফিক লাভের দোয়া করতে হবে। কারণ আল্লাহর ডাক না পেলে, তিনি তওফিক না দিলে—কারও পক্ষে উমরা পালন করা সম্ভব নয়। (সুরা মুমিন, ৬০) 

 

সফর সহজ ও কবুল হওয়ার দোয়া: উমরার সফর সহজ ও কবুল হওয়ার জন্য দোয়া করতে হবে। কারণ রাসুলুল্লাহ (সা.) উমরার গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোতে এ আমলের সহজতা ও কবুল হওয়ার জন্য দোয়া করেছেন।    

 

মানসিক প্রস্তুতি: পবিত্র এ সফর শুরু করার আগে কিছু মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণ জরুরি। যেমন—ঋণ থাকলে পরিশোধ করা, কারও কোনো হক ঝুলন্ত থাকলে তা সমাধান করা, গুনাহ থেকে তওবা করা, পরিবারের খরচ বাবদ পর্যাপ্ত অর্থ রেখে যাওয়া। অনেক আলেম বলেছেন, সফরে যাওয়ার সময় সম্ভব হলে অসিয়তনামা লিখে যাওয়া উচিত।

 

উত্তম সময় কোনটি? ৯ জিলহজ থেকে ১৩ জিলহজ পর্যন্ত সময় ছাড়া বছরের যেকোনো সময় উমরা পালন করা যায়। হজের ৫ দিন উমরা করা মাকরুহ। (আল-বাহরুল আমিক, ৪/২০২১) 

 

রমজান মাস উমরা পালনের সেরা সময়। বাংলাদেশ থেকে ইংরেজি বছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে তুলনামূলক বেশিসংখ্যক মানুষ উমরা পালনে গিয়ে থাকেন। কারণ ডিসেম্বর মাসে অনেক ছুটিছাটা থাকে এবং অনেকের সন্তান-সন্ততির বিদ্যালয় ছুটি থাকে। রমজান মাস হলো উমরার হ্যাভি পিক সিজন। ডিসেম্বর-জানুয়ারি হলো পিক সিজন আর বাকি সময়টা অফ পিক সিজন।

 

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর উমরা: রাসুলুল্লাহ (সা.) গোটা জীবদ্দশায় চারবার উমরা করেছেন। প্রথমটি জিলকদ মাসে। এটি হুদায়বিয়ার উমরা নামে পরিচিত, যা ষষ্ঠ হিজরিতে সম্পন্ন হয়েছে। কাফেরদের প্রতিরোধের কারণে বায়তুল্লাহ শরিফে সে বছর যাওয়া হয়নি। হুদায়বিয়াতেই ইহরাম ত্যাগ করেছিলেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। দ্বিতীয় উমরা পালন করেছেন পরবর্তী বছর অর্থাৎ সপ্তম হিজরিতে। এটি কাজা উমরা নামে পরিচিত। তৃতীয়টি উমরাতুল জিরানা নামে পরিচিত। হুনাইন থেকে ফেরার পথে জিরানা থেকে ইহরাম বেঁধেছিলেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। চতুর্থটি আদায় করেছেন বিদায় হজের সঙ্গে। রাসুলুল্লাহ (সা.) উমরার উদ্দেশে হেরেমের সীমানার বাইরে বের হয়ে উমরা করেছেন বলে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। (জাদুল মায়াদ, ২/৯২-৯৫)

 

খরচ কেমন লাগে? উমরা পালনের সময় ও সার্ভিসের ওপর নির্ভর করে খরচ কম-বেশি হতে পারে। বর্তমানে আনুমানিক ১ লাখ ২০ হাজার থেকে শুরু করে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার মধ্যে উমরার সফর (ভিসা, যাওয়া-আসার বিমান টিকিট, হোটেলে থাকা-খাওয়া এবং মক্কা-মদিনায় জিয়ারত) সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। 

 

হুকুমআহকাম: প্রাপ্তবয়স্ক ও সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলিম নারী-পুরুষের ওপর জীবনে একবার উমরা পালন করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা। (আল-বাহরুল আমিক, ৪/২০১৫) 

 

শর্ত হলো ইহরাম বাঁধা আর রোকন হলো তাওয়াফ করা। তাওয়াফের চার চক্কর দেওয়া ফরজ, বাকি তিন চক্কর দেওয়া ওয়াজিব। অনেক ফকিহ সাফা-মারওয়া সাঈ করাকেও রোকন বলেছেন। অনেকে বলেছেন, এটা ওয়াজিব। মূল কথা হলো, উমরার মূল কাজ চারটি—১. ইহরাম বাঁধা (ফরজ)। ২. তাওয়াফ করা (ফরজ)। ৩. সাফা-মারওয়া সাঈ করা (ওয়াজিব)। ৪. হলক বা কসর করা (ওয়াজিব)। (দুররে মুখতার, ৩/৪৭৬)

 

ওয়াজিব কাজ আটটি—১. মিকাত থেকে ইহরাম বাঁধা। ২. প্রথম চার চক্করের পর বাকি তিন চক্কর দিয়ে তাওয়াফ শেষ করা। ৩. অজুসহ তাওয়াফ করা। ৪. কোনো সমস্যা না থাকলে হেঁটে তাওয়াফ করা। ৫. তাওয়াফ শেষে দুই রাকাত নামাজ আদায় করা। ৬. সাফা-মারওয়া সাঈ করা। ৭. কোনো সমস্যা না থাকলে হেঁটে সাঈ করা। ৮. মাথা মুণ্ডানো বা চুল ছোট করা। (কিবাতুল মাসায়েল, ৩/৪৫৩)

 

সুন্নত কাজগুলো হলো—১. ইহরাম বাঁধার আগে অজু ও গোসল করা। ২. তালবিয়া পাঠ করা। পুরুষের জন্য উচ্চৈঃস্বরে আর নারীদের জন্য নিম্নস্বরে। ৩. তাওয়াফের সময় শরীর ও কাপড় পবিত্র থাকা। ৪. হাজরে আসওয়াদ থেকে তাওয়াফ শুরু করা। ৫. তাওয়াফ শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে তালবিয়া পাঠ বন্ধ করা। অনেকে তাওয়াফের সময়ও তালবিয়া পাঠ করেন, এটা সুন্নাহ পরিপন্থি আমল। ৬. সাফা-মারওয়া সাঈ করার সময় সবুজ বাতির নিচে পুরুষের দৌড়ানো। নারীরা স্বাভাবিকভাবে চলবেন। (বাদায়েউস সানায়ে, ২/৪৮০)  

 

লেখক: সম্পাদক, আওয়ারইসলাম২৪.কম

 

সাহাবিদের গল্প-০১ মৃত্যু দাঁড়িয়ে ছিল গুহার মুখে

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১১:২২ এএম
মৃত্যু দাঁড়িয়ে ছিল গুহার মুখে
ছবি: সংগৃহীত

রাতের অন্ধকারে সাওর পাহাড়ের খাড়া পথ বেয়ে উঠছেন দুজন মানুষ। পেছনে মক্কা নগরীযেখানে ঘোষণা হয়ে গেছে; যে এই দুজনের সন্ধান দেবে, তার জন্য ১০০ উটের পুরস্কার। সামনে অনিশ্চিত মরুপথ। একজন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, অন্যজন তার পরম বন্ধু আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু।

গুহার অন্ধকারে দুজন আশ্রয় নিলেন। ওদিকে রক্তের নেশায় উন্মত্ত কুরাইশ খুঁজতে খুঁজতে পৌঁছে গেল গুহার একেবারে মুখে। এত কাছেপায়ের শব্দ শোনা যায়, কথার আওয়াজ ভেসে আসে। আবু বকরের বুক কেঁপে উঠল; নিজের জন্য নয়, প্রিয় নবিজির জন্য। তিনি ফিসফিস করে বললেন, ‘ওদের কেউ যদি নিজের পায়ের দিকে তাকায়, আমাদের দেখে ফেলবে!’

জবাবে ভেসে এল ইতিহাসের সবচেয়ে প্রশান্ত কণ্ঠস্বর, ‘হে আবু বকর! সেই দুজন সম্পর্কে তোমার ধারণা কী, যাদের তৃতীয়জন স্বয়ং আল্লাহ?’ (সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৬৫৩)

আল্লাহতায়ালা কোরআনে এই মুহূর্তটি অমর করে রেখেছেন, ‘তিনি তার সঙ্গীকে বলছিলেন, চিন্তা করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন। অতঃপর আল্লাহ তার ওপর নিজের প্রশান্তি নাজিল করলেন।’ (সুরা তাওবা, ৪০)

ভেবে দেখুন, পৃথিবীর সব হিসাব বলছিল ধরা পড়া অনিবার্য। কিন্তু যার অন্তরে আল্লাহর ওপর ভরসা পূর্ণতা পেয়েছে, তার অভিধানে ‘অনিবার্য বিপদ’ বলে কিছু নেই। কুরাইশরা গুহার মুখ পর্যন্ত এসেও ফিরে গেল।

আজ আমরা কত তুচ্ছ কারণে ভেঙে পড়ি! চাকরি হারানোর ভয়, পরীক্ষার ফল, ব্যবসার লোকসান, সংসারের টানাপোড়েনমনে হয় সব শেষ। অথচ গুহার সেই রাত আমাদের শেখায়, হিসাবের সব দরজা বন্ধ হয়ে গেলেও আল্লাহর দরজা খোলা থাকে। ‘লা তাহজান, ইন্নাল্লাহা মাআনা’চিন্তা করো না, আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন এই একটি বাক্যই মুমিনের সারা জীবনের পাথেয়।

হে আল্লাহ! জীবনের প্রতিটি অন্ধকার গুহায় আমাদের অন্তরে সেই প্রশান্তি দান করুন, যা আপনি আপনার নবি ও সিদ্দিকের অন্তরে দিয়েছিলেন। আমিন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

২ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ এএম
২ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুলাই, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুলাইর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুলাইর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ২ জুলাই ২০২৬, বৃহস্পতিবার ঢাকা পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০ মিনিট

আসর

৪.৪২ মিনিট

মাগরিব

৬.৪ মিনিট

এশা

৮.২০ মিনিট

ফজর (৩ জুলাই)

.৪৯ মিনিট

 

 

 

 

 

 

 

 

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগ করতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: মিনিট

সিলেট: মিনিট

যোগ

খুলনা: মিনিট

রাজশাহী: মিনিট

রংপুর: মিনিট

বরিশাল: মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

 

যেভাবে চিনবেন একজন অহংকারী মানুষকে

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
যেভাবে চিনবেন একজন অহংকারী মানুষকে
ছবি: সংগৃহীত

সকালের চায়ের টেবিলে বসে কিংবা ফেসবুকের নিউজফিড স্ক্রল করতে করতে আমরা প্রায়ই ভাবি, সমাজটা এত অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে কেন? আসলে এই অসহিষ্ণুতার শেকড় লুকিয়ে আছে এক অদৃশ্য ব্যাধিতে—যার নাম অহংকার। আমরা ভাবি অহংকার মানেই হয়তো কোটি টাকার দম্ভ। কিন্তু প্রতিদিনের যাপনে, আমাদের খুব চেনা মানুষের আচরণে, এমনকি নিজের অজান্তেই এই আত্মগর্বের বিষবাষ্প ছড়িয়ে পড়ছে।

ইসলামি পরিভাষায় একে কিবির, তাকাব্বুর বা ইস্তিকবার বলা হয়। ইমাম রাগিব আল-আসবাহানির মতে, অহংকার হলো নিজের প্রতি এমন এক মুগ্ধতা, যা মানুষকে অন্যদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ভাবায়। আর এর চূড়ান্ত রূপ হলো সত্যকে অস্বীকার করে স্রষ্টার অবাধ্য হওয়া। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) খুব চমৎকারভাবে বলেছেন, মানুষের সব নিন্দনীয় চরিত্রের মূল উৎসই হলো অহংকার ও হীনতা।

বাস্তব জীবনে একটু লক্ষ্য করলেই অহংকারের নানা রূপ আমাদের চোখে পড়বে। এর সবচেয়ে বড় লক্ষণ হলো সত্যকে মেনে না নেওয়া। পবিত্র কোরআনে সুরা আন-নামলের ১৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, মানুষ অন্যায় ও অহংকারবশত সত্যকে অস্বীকার করে। আবার সমাজে অনেকে নিজের ক্ষমতা, পদবি বা শক্তির দম্ভ দেখান, যেমনটা করেছিল প্রাচীন আদ জাতি (সুরা ফুসসিলাত: ১৫)। এছাড়া অন্যের সাফল্যে হিংসা করা, অবজ্ঞাভরে পথ চলা (সুরা আল-ইসরা: ৩৭) কিংবা নিজের আমলকে সবসময় শ্রেষ্ঠ মনে করাও অহংকারের স্পষ্ট রূপ। এমনকি রাসুলুল্লাহ (সা.) সতর্ক করেছেন, কেউ যদি নিজের সম্মানে অন্যদের দাঁড়িয়ে থাকা পছন্দ করে, সে যেন জাহান্নামে নিজের আসন অবধারিত করে নেয় (আবু দাউদ, ৫২২৯)।

কিন্তু যাপিত জীবনে একজন অহংকারী মানুষকে আপনি চিনবেন কীভাবে? মনস্তাত্ত্বিক ও আচরণগত কিছু চেনার উপায় নিচে দেওয়া হলো:

জনসমক্ষে একা চলতে অপছন্দ করা এবং সবসময় পেছনে অনুসারী বা চামচাবৃত দল রাখতে চাওয়া।

গরিব বা সাধারণ মানুষের দাওয়াত এড়িয়ে চলা এবং সমমানের না হলে অন্যের বাড়িতে যেতে অস্বস্তি বোধ করা।

অসুস্থ, দুর্বল বা নিম্নবিত্ত মানুষের পাশে বসলে নিজের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার ভয় পাওয়া।

তর্কে নিজের ভুল প্রমাণিত হওয়ার পরও তা মেনে না নেওয়া এবং ভুল ধরিয়ে দেওয়া ব্যক্তিকে শত্রু মনে করা।

নিজের সাধারণ কাজ বা বাজার নিজে বহন করতে লজ্জাবোধ করা।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, অহংকার হলো এক প্রকার মিথ্যা শ্রেষ্ঠত্বের মরিচীকা, যা মানুষকে মানুষের থেকে এবং পরিশেষে স্রষ্টার রহমত থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। এর একমাত্র প্রতিষেধক হলো—নিজের ক্ষুদ্রতা অনুধাবন করা, বিনয়ী হওয়া এবং সত্যকে অবলীলায় মেনে নেওয়ার মানসিকতা তৈরি করা।

 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

কবরের ৩ পরীক্ষা ছাড়াই পার পেয়ে যাবেন যারা

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
কবরের ৩ পরীক্ষা ছাড়াই পার পেয়ে যাবেন যারা
ছবি: সংগৃহীত

পরীক্ষার হলে বসার আগেই যদি জানা যায় কিছু বিশেষ কারণে পুরো প্রশ্নপত্রই মাফ হয়ে গেছে, তবে কেমন লাগবে? দুনিয়ার পরীক্ষায় এমনটা না ঘটলেও, পরকালের প্রথম স্টেশন ‘কবর’-এর চূড়ান্ত পরীক্ষায় কিন্তু এই সুযোগ রয়েছে। ইসলামি আকিদা অনুযায়ী, অন্ধকার কবরে প্রত্যেক মানুষকে তার রব, দীন ও নবী সম্পর্কে তিনটি মৌলিক প্রশ্ন করা হবে। যার উত্তর মিললে কবর হবে জান্নাতের বাগান, নতুবা জাহান্নামের গর্ত।

ব্যস্ত এই নাগরিক জীবনে আমরা কতশত পরীক্ষার প্রস্তুতি নিই। কিন্তু মাটির নিচের সেই অনিবার্য পরীক্ষার প্রস্তুতি কতটুকু? তবে আনন্দের কথা হলো, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস অনুযায়ী এমন কিছু সৌভাগ্যবান মানুষ রয়েছেন, যাদের কবরে এই কঠিন জেরার মুখোমুখি হতেই হবে না।
রেফারেন্সসহ দেখে নেওয়া যাক সেই মহান ব্যক্তিদের তালিকা:

১. নবি-রাসুলগণ: বিখ্যাত ইসলামিক স্কলার ইবনুল কায়্যিম জাওজি (রহ.) তার 'আর-রুহ' কিতাবের ১১০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন, অধিকাংশ আলেমের মতে, নবি-রাসুলদের কবরে কোনো প্রশ্ন করা হবে না। কারণ তাঁরা নিজেই ছিলেন দুনিয়াতে আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষক।

২. জীবন উৎসর্গকারী শহিদ: যারা আল্লাহর জমিনে দ্বিন প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে শহিদ হন, তাঁদের কোনো প্রশ্ন করা হবে না। সুনানে নাসায়ির ২০৫৩ নম্বর হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে এর কারণ জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, যুদ্ধের মাঠে শহীদের মাথার ওপর তরবারির ঝলকানিই কবরের পরীক্ষা থেকে নিরাপদ থাকার জন্য যথেষ্ট।

৩. দেশের সীমান্ত প্রহরী: দেশের বা ইসলামি রাষ্ট্রের সীমানা পাহারা দেওয়া অবস্থায় যাদের মৃত্যু হয়, তাঁরাও এই দায় থেকে মুক্ত। সুনানে নাসায়ির ৩১৬৭ নম্বর হাদিস অনুযায়ী, সীমান্ত পাহারা দেওয়া অবস্থায় মৃত ব্যক্তি কবরের যাবতীয় ফিতনা ও জিজ্ঞাসাবাদ থেকে সুরক্ষিত থাকবেন।

৪. জুমার দিনে মৃত্যু: সপ্তাহের সেরা দিন জুমার বার। এই দিনে বা রাতে কোনো মুসলিম মারা গেলে তিনি বিশেষ সুবিধা পান। সুনানে তিরমিজির ১০৭৪ নম্বর হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, জুমার দিনে বা রাতে কোনো মুসলিম মারা গেলে আল্লাহ তাকে কবরের আজাব ও ফিতনা থেকে রক্ষা করেন। কবর হলো অনন্তকালের প্রবেশদ্বার। দুনিয়ার সাময়িক জীবনের আমলই নির্ধারণ করবে এই প্রবেশদ্বারটি আমাদের জন্য শান্তির হবে নাকি শাস্তির।

৫. পেটের পীড়ায় মৃত্যু: শুনতে অবাক লাগলেও পেটের অসুখে ভুগে মারা যাওয়া ব্যক্তিও এই ছাড় পাবেন। মুসনাদে আহমদের ১৮৩১০ নম্বর হাদিসে নবীজি (সা.) স্পষ্ট করেছেন যে, যাকে পেটের রোগ হত্যা করেছে, কবরে তাকে শাস্তি বা জেরার মুখোমুখি হতে হবে না।

৬. সুরা মুলকের নিয়মিত পাঠক: যারা প্রতি রাতে নিয়ম করে সুরা মুলক তিলাওয়াত করেন, এই সুরাটি স্বয়ং কবরে এসে তাদের পাহারা দেবে। সুনানে তিরমিজির ২৮৯০ নম্বর হাদিসে এই সুরাটিকে ‘নাজাত দানকারী’ বা মুক্তিদাতা বলা হয়েছে, যা পাঠককে কবরের আজাব থেকে বাঁচায়।

মৃত্যু চিরন্তন সত্য। তবে আমরা যদি সুরা মুলক তিলাওয়াতের মতো আমলগুলো জীবনে নিয়মিত করতে পারি, তবে কবরের সেই অন্ধকার প্রকোষ্ঠেও মিলতে পারে পরম মুক্তি। আল্লাহ আমাদের সেই তাওফিক দিন। আমিন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

বিয়ের রাতে সবচেয়ে বড় অবিচার হয় যে কাজে

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ১০:১৬ এএম
বিয়ের রাতে সবচেয়ে বড় অবিচার হয় যে কাজে
ছবি: সংগৃহীত

বিয়ের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ। কাবিননামায় লেখা হলো কয়েক লাখ টাকার দেনমোহর। কিন্তু এর পরই শুরু হয় এক অদ্ভুত বাস্তবতা–কেউ বলেন, এই টাকা মেয়ের বাবার কাছে থাকবে; কেউ বলেন, সংসারের প্রয়োজনে স্বামীই ব্যবহার করবে; আবার কোথাও মেয়েটি নিজেই জানে না, এই টাকার প্রকৃত মালিক আসলে কে!

অথচ ইসলাম আজ থেকে চৌদ্দ শত বছর আগেই এ প্রশ্নের সুস্পষ্ট উত্তর দিয়ে দিয়েছে। দেনমোহর কোনো পারিবারিক উপহার নয়, এটি একজন নারীর সম্মান, নিরাপত্তা এবং তার ব্যক্তিগত অধিকার। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, ‘সুতরাং তাদের মধ্যে তোমরা যাদেরকে বিবাহ করেছ, তাদের নির্ধারিত মোহর তাদেরকে প্রদান করো।’ (সুরা আন-নিসা, ২৪)

এ আয়াতে তাদেরকে শব্দটি সরাসরি স্ত্রীদের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থাৎ, দেনমোহরের মালিক স্ত্রী নিজেই। তার বাবা-মা, ভাই-বোন কিংবা অন্য কোনো আত্মীয়ের এতে কোনো স্বত্ব নেই, যদি না স্ত্রী স্বেচ্ছায় কাউকে তা প্রদান করেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনেও এই সৌন্দর্যময় নীতি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি নারীর আর্থিক স্বাধীনতাকে সম্মান করতেন এবং কখনো দেনমোহরকে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কোনো প্রথা চালু করেননি। বরং দেনমোহর ছিল নারীর প্রতি সম্মান ও ভালোবাসার প্রতীক।

এ কারণেই আল্লাহতায়ালা আরও বলেন, তোমরা তাদেরকে যা প্রদান করেছ, তার কোনো অংশ ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য তাদেরকে বাধ্য করো না। (সুরা আন-নিসা, ১৯)
এই আয়াত প্রমাণ করে, একবার দেনমোহর স্ত্রীর হাতে পৌঁছে গেলে সেটি তার ব্যক্তিগত সম্পদে পরিণত হয়। স্বামী চাইলে জোর করে তা ফেরত নিতে পারেন না, এমনকি স্ত্রীর পরিবারও তার অনুমতি ছাড়া এর ওপর কোনো দাবি করতে পারে না।

বর্তমান সমাজে অনেক নারী নিজের অধিকার সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে দেনমোহরের টাকা থেকে বঞ্চিত হন। কেউ সামাজিক চাপে তা বাবা-মায়ের হাতে তুলে দেন, আবার কেউ স্বামীর প্রয়োজনে দিয়ে পরে আর ফেরত পান না। অথচ ইসলামের দৃষ্টিতে দেনমোহর নারীর অর্থনৈতিক মর্যাদার এক অনন্য স্বীকৃতি।

বিয়ে শুধু দুটি হৃদয়ের বন্ধন নয়; এটি অধিকার ও দায়িত্বেরও চুক্তি। আর সেই চুক্তির সবচেয়ে সুন্দর দিকগুলোর একটি হলো–ইসলাম একজন নারীকে বিয়ের মুহূর্তেই এমন একটি সম্পদের মালিক বানিয়েছে, যার ওপর তার একচ্ছত্র অধিকার প্রতিষ্ঠিত। এই অধিকার রক্ষা করাই সুন্নাহ, আর তা অস্বীকার করা অন্যায়।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক